Home » , » বিদ্যুতের দুঃসময় শুরু হবে বোরোর মৌসুম দিয়ে by অরুণ কর্মকার

বিদ্যুতের দুঃসময় শুরু হবে বোরোর মৌসুম দিয়ে by অরুণ কর্মকার

Written By Unknown on Sunday, December 26, 2010 | 4:39 PM

সারা দেশে বিদ্যুতের গ্রাহকদের জন্য আরেকটি দুঃসময় এগিয়ে আসছে। আগামী জানুয়ারি মাসের শেষার্ধ থেকে বোরো চাষে পুরোদমে সেচ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে এই দুঃসময় শুরু হবে। ফেব্রুয়ারির শেষার্ধ থেকে এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত অবস্থা হবে দুঃসহ। সরকারের পরিকল্পিত প্রায় ৩৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র এ সময় (নভেম্বর-ডিসেম্বর) চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। ফলে সেচ মৌসুমে সংকট বাড়বে। এ ছাড়া, আগামী মার্চ-এপ্রিল মাস থেকে নতুন নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন শুরুর আশা করা হলেও একই সময় গ্রীষ্মকালীন বাড়তি চাহিদা যোগ হওয়ায় বিদ্যুৎ-সংকট তীব্রই থাকবে।
অবশ্য বিদ্যুৎ খাত উন্নয়নে সরকারের মহাপরিকল্পনায় বেসরকারি খাতে (আইপিপি) এক হাজার ৩০০ মেগাওয়াটের আরও পাঁচটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কার্যক্রম যুক্ত করা হয়েছে। ২০১৪ সালের মধ্যে সাত হাজার মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে পরিকল্পনা ছিল, এ উদ্যোগ তার বাইরে।
তবে চলমান শীত মৌসুমেও চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ঘাটতি থাকায় এখনো ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) হিসাব অনুযায়ী প্রায় চার হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে এখন দৈনিক উৎপাদন তিন হাজার ৭০০ মেগাওয়াটের মতো। বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ কম এবং মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বেশ কয়েকটি কেন্দ্র বন্ধ থাকাই এর কারণ।
পিডিবির সূত্র জানায়, বর্তমানে গ্যাসস্বল্পতার কারণে ৫১৪ মেগাওয়াট এবং মেরামত-রক্ষণাবেক্ষণের কারণে এক হাজার ১৩২ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র চলছে না। পুরোনো অনেক কেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়ে হঠাৎ বন্ধ (ফোর্সড আউটেজ) হয়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে এসব কেন্দ্র মেরামত-রক্ষণাবেক্ষণে নিতে হচ্ছে। এ অবস্থার কারণে গত বছর নভেম্বর মাসের তুলনায় এ বছর নভেম্বর মাসে গড় উৎপাদন কম হয়েছে।
জানতে চাইলে বিদ্যুৎসচিব মো. আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আসন্ন সেচ মৌসুম ও আগামী গ্রীষ্মটাই বিদ্যুতের শেষ কষ্টের সময় হবে বলে আমরা মনে করছি। আগামী মার্চ-এপ্রিল থেকে বছরের শেষ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে পরিস্থিতি স্থিতিশীল ও সহনীয় পর্যায়ে আসবে।’ তিনি বলেন, নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে যেসব কেন্দ্র চালু হওয়ার কথা ছিল, তার মধ্যে ভেড়ামারা ১১৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রটিতে গতকাল রোববার সকাল থেকে উৎপাদন শুরু হয়েছে। অন্য দুটি কেন্দ্রে উৎপাদন শুরু হতে আরও কিছুদিন লাগবে।
প্রসঙ্গত, বর্তমান সরকারের গত প্রায় দুই বছরে এক হাজার ১৩৬ মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ভেড়ামারা কেন্দ্রটিসহ বর্তমান সরকারের পরিকল্পিত উৎপাদন হচ্ছে ৪১৫ মেগাওয়াট।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের উৎপাদন-ক্ষমতায় ঘাটতি প্রায় ৪০ শতাংশ। আগামী বছর তা ১৭ শতাংশে নেমে আসবে। ২০১২ সালে তা হবে চার শতাংশ। এরপরের বছর চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।
লোড-ব্যবস্থাপনা করে সেচ: বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে অন্যান্য বছরের মতো এবারও লোড-ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেচ মৌসুম সামাল দেওয়ার চেষ্টা করবে সরকার। এর অংশ হিসেবে সন্ধ্যায় সর্বোচ্চ চাহিদার সময় পানির পাম্পসহ কোনো ভারী যন্ত্র চালানো যাবে না। প্রতিদিন রাত ১১টা থেকে সকাল সাতটা পর্যন্ত সেচের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। প্রয়োজন হলে মার্চ মাসে সারকারখানায় গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হবে। গতকাল বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে এক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় বিতরণ কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, এ বছর সেচের জন্য দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ দরকার হবে। পিডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেচ মৌসুমে বিদ্যুতের গড় উৎপাদন চার হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের কিছু বেশি থাকবে।
প্রসঙ্গত, সেচের জন্য সারা দেশে প্রায় ২৫ হাজার নতুন সংযোগ চেয়ে আবেদন করেছেন গ্রাহকেরা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাঁদের বোঝাতে চেষ্টা করছে, নতুন সংযোগ ছাড়াই গত বছর যিনি যে ব্যবস্থাপনায় চাষ করেছিলেন এবারও সেভাবেই করতে।
অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ বন্ধ: ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র নতুন বাহন হিসেবে চালু হওয়া ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যানগুলোর ব্যাটারি চার্জ করার জন্য গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দিয়েছে বলে জানা যায়।
ভাড়াভিত্তিক আর নয়: সরকার আর কোনো ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন নাও করতে পারে। অন্তত অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত এ রকমই। গত সপ্তাহে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়কে লেখা অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনামূলক চিঠিতে এই মত জানানো হয়েছে। কারণ হিসেবে ভাড়াভিত্তিক কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনতে অতিরিক্ত ব্যয় এবং এই কেন্দ্রগুলো সময়মতো চালু না হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই অভিমত সম্পর্কে জানতে চাইলে বিদ্যুৎসচিব বলেন, এখন পর্যন্ত কত ক্ষমতার ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং সামগ্রিক পরিকল্পনা অনুযায়ী কতটা করতে হবে, তা হিসাব-নিকাশ করে এবং প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আরও পাঁচটি আইপিপি: বিদ্যুৎ খাত উন্নয়নে সরকারের মহাপরিকল্পনায় বেসরকারি খাতে (আইপিপি) আরও পাঁচটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কার্যক্রম যুক্ত করা হয়েছে। এই পাঁচটির মোট ক্ষমতা হবে এক হাজার ৩০০ মেগাওয়াট। এর আগে ২০১৪ সালের মধ্যে সাত হাজার মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে মহাপরিকল্পনা ছিল, এই পাঁচটি তার বাইরে।
সরকারি সূত্র জানায়, ২০১৪ সাল নাগাদ নতুন বিদ্যুৎ দরকার হবে নয় হাজার মেগাওয়াট। তাই নতুন পাঁচটি আইপিপি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় প্রতিনিধিদল আসছে: বাগেরহাটের রামপালে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে যৌথ উদ্যোগের চুক্তি (জেভিএ) স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে ভারতের ন্যাশনাল থারমাল পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি) এবং পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব ইন্ডিয়া লিমিটেডের (পিজিসিআইএল) একটি প্রতিনিধিদল আজ সোমবার ঢাকা আসছে। পাঁচ সদস্যের এই প্রতিনিধিদলটি জানুয়ারি মাসের মধ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সঙ্গে জেভিএ স্বাক্ষরের লক্ষ্যে আলোচনা করবে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ও দুই দেশের মধ্যে গ্রিড সংযুক্তির ব্যাপারেও এবারের বৈঠকে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।
বিদ্যুৎসচিব বলেন, আগামী মার্চ মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফরের সময় যাতে রামপালের কেন্দ্রটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা যায়, সে লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।

0 comments:

Post a Comment

 
Support : Dhumketo ধূমকেতু | NewsCtg.Com | KUTUBDIA @ কুতুবদিয়া | eBlog
Copyright © 2013. News 2 Blog 24 - All Rights Reserved
Template Created by Nejam Kutubi Published by Darianagar Publications
Proudly powered by Dhumketo ধূমকেতু