Home » , , » নগরী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে 'আনন্দ প্রেক্ষাগৃহ' by আপেল মাহমুদ

নগরী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে 'আনন্দ প্রেক্ষাগৃহ' by আপেল মাহমুদ

Written By Unknown on Wednesday, January 12, 2011 | 2:04 AM

০ বছর বয়সী অবাঙালি খায়রুল আনাম ফার্মগেটের আনন্দ প্রেক্ষাগৃহের সামনে বসে পান-সিগারেট বিক্রি করছিলেন। গত দুই মাস আগে প্রেক্ষাগৃহটি মালিকপক্ষ লে-অফ ঘোষণা করার পর চাকরি চলে গেলেও হলের মায়া ত্যাগ করতে পারেননি।

এ কারণে পান-সিগারেটের ডালা নিয়ে সেখানে বসেছেন। তিনি আনন্দ প্রেক্ষাগৃহে যন্ত্রচালক হিসেবে প্রায় ৩০ বছর চাকরি করেন। তাঁর মতো আরো প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর এমনই পরিণতি হয়েছে। সংসার কিভাবে চলবে, তা নিয়েও তাঁদের চিন্তার অন্ত নেই। অচিরেই সেখানে বহুতল আধুনিক বিপণিবিতান নির্মাণকাজ শুরু হবে।
জানা যায়, বর্তমান মালিকপক্ষ প্রেক্ষাগৃহের চেয়ে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণকে লাভজনক মনে করছে। কেউ কেউ বলছেন, প্রেক্ষাগৃহ ভেঙে সেখানে বিপণিবিতান গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ কারণে ইতিমধ্যে প্রেক্ষাগৃহে কর্মরত ৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর দেনা-পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে। কর্মচারী মো. সৈয়দ জানান, তাঁরা কয়েকজন বর্তমানে প্রেক্ষাগৃহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে রয়েছেন। ব্যবস্থাপক শামসুল আলম প্রেক্ষাগৃহটি পুনরায় চালুর কথা জানালেও কখন চালু হবে সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।
চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নগরীর কেন্দ্রস্থল ফার্মগেটে অবস্থিত আনন্দ প্রেক্ষাগৃহটি বন্ধ হয়ে গেলে নগরবাসীর বিনোদনের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়বে। ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত আনন্দ প্রেক্ষাগৃহ দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে চলচ্চিত্র প্রদর্শন করে দর্শকদের মনে স্থান করে নিয়েছিল। অনেক কালজয়ী ও ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র ওই প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন করা হয়। পাক ফিল্ম করপোরেশন নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার জাহেদ আসগর চৌধুরী এবং রাশেদ আসগর চৌধুরীর প্রচেষ্টায় ঊনসত্তর সালের গণআন্দোলনের সময় আনন্দ প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ করেন। আনন্দ প্রেক্ষাগৃহের রমরমা ব্যবসায়িক অবস্থার কারণে পরবর্তী সময়ে একই ভবনে ছন্দ নামে আরেকটি প্রেক্ষাগৃহ সংযোজন করা হয়। দুই প্রেক্ষাগৃহই তখন রাজধানীবাসীর কাছে বেশ জনপ্রিয়তা পায়। তবে আনন্দ প্রেক্ষাগৃহের সঙ্গে ছন্দ সংযোজনের বিষয়টি ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সত্য সাহার সুপারহিট চলচ্চিত্র 'অশিক্ষিত' মুক্তির মাধ্যমে ছন্দ প্রেক্ষাগৃহের জমজমাট উদ্বোধন হয়েছিল।
জানা যায়, চট্টগ্রামের জাহেদ আসগর চৌধুরী এবং রাশেদ আসগর চৌধুরীর চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রদর্শন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। চট্টগ্রামে খুরশীদ মহল ও নূপুর প্রেক্ষাগৃহের পাশাপাশি তাঁরা ঢাকায় প্রথমে আনন্দ পরে ছন্দ প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ করেন। পাক ফিল্ম করপোরেশন নামে একটি প্রোডাক্টশন হাউসের মাধ্যমে তাঁরা 'পালাবদল', 'পিতাপুত্র' ও 'অভিশাপ' নামে কয়েকটি চলচ্চিত্রও নির্মাণ করেন। কিন্তু নানা কারণে তাঁরা চলচ্চিত্রাঙ্গন থেকে ধীরে ধীরে দূরে চলে যান। প্রায় ২০ বছর আগে তাঁরা চলচ্চিত্র ব্যবসা থেকে নিজেদের গুটিয়ে গার্মেন্ট ব্যবসা শুরু করেন।
তৎকালীন লিকার ব্যবসায়ী সম্রাট শাহজাহান ও শফিউল্লাহ রানা তাঁদের কাছ থেকে আনন্দ প্রেক্ষাগৃহ কিনে নেন। পরে সম্রাট শাহজাহান তাঁর অংশ বিক্রি করে চলে যান। শফিউল্লাহ রানা বর্তমানে দেশ-বিদেশে নানা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এ অবস্থায় তিনি প্রেক্ষাগৃহকে আর লাভজনক মনে করছেন না। বেশ কিছু দিন ধরেই তাঁর মালিকানার আনন্দ প্রেক্ষাগৃহের প্রায় ১৭ কাঠা জমি বিক্রির চেষ্টা চলছিল। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা। নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন সম্প্রতি কিনে নিয়েছেন বলে তাঁর একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে। তবে প্রেক্ষাগৃহের মালিকপক্ষ এ কথা অস্বীকার করে জানিয়েছে, প্রথমে আনন্দ প্রেক্ষাগৃহের জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সে সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছে। চলচ্চিত্র গবেষক অনুপম হায়াৎ বলেন, রাজধানী থেকে ধীরে ধীরে প্রেক্ষাগৃহের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ঢাকার প্রথম প্রেক্ষাগৃহ শাবিস্তান থেকে শুরু করে লায়ন, রূপমহল, নাগর মহল, তাজমহল, গুলিস্তান, নাজ ও শ্যামলী ভেঙে সেখানে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। আরো কিছু প্রাচীন প্রেক্ষাগৃহ ভাঙার পরিকল্পনায় রয়েছে। একের পর এক প্রেক্ষাগৃহ হারিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিয়া আলাউদ্দিন বলেন, 'চলচ্চিত্র ব্যবসার মন্দা ও জমির মূল্য অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় ঢাকাসহ সারা দেশের অনেক প্রেক্ষাগৃহ হারিয়ে যাচ্ছে।

0 comments:

Post a Comment

 
Support : Dhumketo ধূমকেতু | NewsCtg.Com | KUTUBDIA @ কুতুবদিয়া | eBlog
Copyright © 2013. News 2 Blog 24 - All Rights Reserved
Template Created by Nejam Kutubi Published by Darianagar Publications
Proudly powered by Dhumketo ধূমকেতু