Home » , , , » ৬৫ হাজার মেট্রিক টন ভোজ্য তেলের মজুদ গোপনের তথ্য ফাঁস

৬৫ হাজার মেট্রিক টন ভোজ্য তেলের মজুদ গোপনের তথ্য ফাঁস

Written By Unknown on Wednesday, January 12, 2011 | 11:13 PM

সংকটকে দায়ী করে দাম যখন লাগামছাড়া, তখনই ৬৫ হাজার মেট্রিক টন ভোজ্য তেলের মজুদ গোপন করার ঘটনা ধরা পড়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও শুল্ক কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্তে এ জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

গত ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের আমদানিকারক রিফাইনারিগুলো সরকারকে এক লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন অপরিশোধিত ভোজ্য তেল মজুদ থাকার কথা জানালেও একই সময়ে চট্টগ্রামের তেল মজুদকারী টার্মিনালগুলোতে ট্যারিফ কমিশনের সদস্যদের উপস্থিতিতে পরিচালিত তদন্তে এর মজুদ ধরা পড়ে এক লাখ ৮৯ হাজার ৩৭২ মেট্রিক টন। এর ফলে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ৬৫ হাজার টন ভোজ্য তেল মজুদের তথ্য গোপন করা হয়েছে সরকারের কাছে। গতকাল বাণিজ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তদন্ত প্রতিবেদনটি সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া ভোজ্য তেলের মজুদসংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সরকারের নির্দেশমতো ভোজ্য তেলের ট্যাংকে মজুদ তেল মেপে ওই প্রতিবেদন তৈরি করেছি।
আমরা মনে করি, যে তথ্য আমরা সরেজমিন তদন্তে পেয়েছি সেটাই সঠিক। তা ছাড়া ভোজ্য তেল মজুদ সংকট ও আমদানি হচ্ছে না বলে আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে যে কথা উঠেছে সে প্রসঙ্গে কাস্টমস কমিশনার বলেন, ভোজ্য তেলের আমদানি স্বাভাবিক রয়েছে।
ভোজ্য তেলের দাম সরকারিভাবে নির্দিষ্ট করে দেওয়ার পরও এর দাম তো কমেইনি বরং অব্যাহতভাবে বেড়েই চলেছে। অজুহাত হিসেবে ভোজ্য তেল আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়া ও দেশে পর্যাপ্ত মজুদ না থাকাকে দায়ী করেন। এ অবস্থায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চট্টগ্রাম শুল্ক কর্তৃপক্ষকে মজুদ পরিস্থিতি জানাতে নির্দেশ দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় শুল্ক কর্তৃপক্ষ ঢাকা থেকে যাওয়া ট্যারিফ কমিশনের সদস্যদের উপস্থিতিতে পর্যবেক্ষণ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রতিবেদনটির আলোকে করণীয় নির্ধারণ করতে গতকাল তা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে জরুরি ফ্যাক্স করে পাঠায়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভোজ্য তেল পরিশোধনকারী সমিতি সরকারকে জানিয়েছে চট্টগ্রামের ছয়টি ট্যাংক টার্মিনালে মোট অপরিশোধিত সয়াবিন তেল মজুদ রয়েছে ৬৩ হাজার টন আর অপরিশোধিত পাম-অয়েল রয়েছে ৬১ হাজার টন। সব মিলিয়ে অপরিশোধিত ভোজ্য তেলের মজুদ দেখানো হয়েছে এক লাখ ২৪ হাজার টন। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের একজন শুল্ক কর্মকর্তা গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, যে পরিমাণ ভোজ্য তেল মজুদের তথ্য গোপন করা হয়েছে, বার্ষিক চাহিদার গড় হিসাবে তা সারা দেশের প্রায় ১৫ দিনের তেলের চাহিদার সমান। বাজারে ভোজ্য তেলের মজুদ থাকা সত্ত্বেও সংকট দেখিয়ে দাম বাড়ানোর একটি অপচেষ্টা হতে পারে এটি।
অথচ তদন্তে ওই ছয় অয়েল ট্যাংক টার্মিনালে ভোজ্য তেলের মজুদ পাওয়া গেছে এক লাখ ৮৯ হাজার ৩৭২ টন। ইলিয়াছ ব্রাদার্স লিমিটেডের টার্মিনালে মোট ভোজ্য তেল মজুদ রয়েছে ৩১ হাজার ৪২৩ টন। অথচ সরকারকে এ টার্মিনালে মজুদের পরিমাণ জানানো হয়েছে ২৪ হাজার ৫০০ টনের। কম দেখানো হয়েছে ছয় হাজার ৪২৩ টন। এ টার্মিনালে সরকারি তদন্তে যে মজুদ পাওয়া গেছে তা হলোÑমেরিন ভেজিটেবল অয়েলের ১৯ হাজার ৯২৬ টন, এস আলম সুপার এডিবল অয়েলের চার হাজার ৮২৩ টন ও ইলিয়াছ ব্রাদার্সের ছয় হাজার ৬৬৩ টন। ভ্যান ওমেরনি ট্যাংক টার্মিনাল ও ইন্টারন্যাশনাল অয়েল টার্মিনালে মজুদ দেখানো হয়েছে তার সঙ্গে সরকারি তদন্তে পাওয়া মজুদের মিল রয়েছে। ভ্যান ওমেরনি টার্মিনালে অপরিশোধিত ভোজ্য তেলের মজুদ ৩৯ হাজার ৭৫৭ টন। এর মধ্যে ইউনাইটেড এডিবল অয়েলের পাঁচ হাজার ৪০৭ টন, এস আলমের আট হাজার ৮০১ টন, এম এম ভেজিটেবলের ৩৭ টন, সুপার অয়েলের তিন টন, দীপা ফুডের পাঁচ হাজার ৬৭৬ টন, বে ফিশিংয়ের পাঁচ হাজার ৯৬৬ টন, উত্তম অয়েলের এক হাজার ১৩৪ টন, ডিউটিটি অয়েলে এক হাজার ৩৮২ টন, শবনম ভেজিটেবলের চার হাজার ৯৮৭ টন, জাসমির ভেজিটেবলের পাঁচ হাজার ১৫৬ টন, ফারজানা অয়েলের এক হাজার ১৯৩ টন ও রুবাইয়া ভেজিটেবলের ১৪ টন তেল রয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল অয়েল মিলস লিমিটেড ট্যাংক টার্মিনালে মোট মজুদ রয়েছে ২১ হাজার ৭২৪ টন। এর মধ্যে এস আলম অয়েলের এক হাজার ২৪২ টন, সুপার অয়েলের ছয় হাজার ৮৯০ টন, ফারজানা অয়েলের তিন হাজার ৯৬৩ টন, দীপা ফুডের পাঁচ হাজার ২৭৪ টন ও রুবাইয়া ভেজিটেবলের চার হাজার ৩৫৪ টন তেল আছে।
পরিশোধনকারীদের পক্ষ থেকে বে ফিশিং করপোরেশন টার্মিনালে কোনো মজুদ নেই বলে জানানো হলেও সেই ট্যাংক টার্মিনালে সরকারি তদন্তে মজুদ ভোজ্য তেল পাওয়া গেছে ২৬ হাজার ৩২১ টন। এর মধ্যে শবনম ভেজিটেবলের ১১ হাজার ৪৯৪ টন ও বে ফিশিং করপোরেশনের ১৪ হাজার ৮২৬ টন তেল আছে।
পরিশোধনকারীদের পক্ষে সাউথ ইন্টারন্যাশনাল ট্যাংক টার্মিনালে মজুদ ভোজ্য তেলের পরিমাণ জানানো হয়েছিল ২৩ হাজার টন। অথচ তদন্তে মজুদ ভোজ্য তেল পাওয়া গেছে ৫৬ হাজার ৯৬ টন। এর মধ্যে এস আলমের ২২ হাজার ৬১০ টন, বাংলাদেশ এডিবল অয়েলের তিন হাজার ৩০০ টন, সামান্নাজ সুপার অয়েলের ১২ হাজার ৯৩১ টন, এসজি অয়েলের দুই হাজার ৩৫৩ টন, ইউনাইটেড এডিবল অয়েলের সাত হাজার ৪৪০ টন ও তানভীর অয়েলের সাত হাজার ৪৫৬ টন তেল রয়েছে।
ইস্টার্ন ফিশারিজ ট্যাংক টার্মিনালে মজুদ ভোজ্য তেল পাওয়া গেছে ১৪ হাজার ৪৯ টন। সরকারকে জানানো হয়েছে ১৪ হাজার টনের তথ্য। গোপন করা হয়েছে ৪৯ টনের তথ্য। তদন্তে পাওয়া মুজদের মধ্যে এস আলমের দুই হাজার ৩১৩ টন, এম এম ভেজিটেবলের সাত হাজার ৭৫৭ টন, মারিন ভেজিটেবলের তিন হাজার ৯৭৮ টন ও রুবাইয়া ভেজিটেবল অয়েলের এক মেট্রিক টন অপরিশোধিত ভোজ্য তেলের মজুদ রয়েছে।

0 comments:

Post a Comment

 
Support : Dhumketo ধূমকেতু | NewsCtg.Com | KUTUBDIA @ কুতুবদিয়া | eBlog
Copyright © 2013. News 2 Blog 24 - All Rights Reserved
Template Created by Nejam Kutubi Published by Darianagar Publications
Proudly powered by Dhumketo ধূমকেতু