সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন হোক

Monday, June 13, 2011

দেশের ছয়শ' বিদ্যালয়ের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা শনিবার সরাসরি ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেছে। এর ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গণতন্ত্রের বিধিবিধানের প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং সৃষ্টি হবে সহিষ্ণুতার মনোভাব। রোববার সমকালে 'হাতে-কলমে গণতন্ত্রের পাঠ' শিরোনামের খবরে বলা হয়, ছাত্রছাত্রীরা বিপুল উৎসাহ নিয়ে ভোট দিয়ে তিনটি শ্রেণীতে ৭ জন করে প্রার্থী নির্বাচন করেছে।
এদের মধ্য থেকে একজন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবে এবং নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হবে। এ উদ্যোগ উৎসাহব্যঞ্জক। ওপরের শ্রেণীগুলোতেও একই চর্চা করা সম্ভব। নির্বাচিতদের যেন তাদের বয়স অনুযায়ী কাজের সুযোগ থাকে, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। তবে কর্তৃপক্ষের কাজে যদি গণতন্ত্র অনুশীলন না হয় তা হলে কিন্তু সমস্যা সৃষ্টি হবে। শিশুরা যদি দেখে যে তাদের বিদ্যালয়ের কর্মকাণ্ড সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে তাহলে নিজেদের কাজেও তারা উৎসাহিত হবে। অন্যথায় শুরুতেই এ মহতী উদ্যোগ হোঁচট খাবে। একই সঙ্গে আরেকটি বিষয়ের প্রতিও আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন কার্যত অনুপস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ রয়েছে। কলেজগুলোর চিত্রও অভিন্ন। ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে সহিষ্ণুতার অভাবই এর প্রধান কারণ। এর ফলে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের প্রতিষ্ঠানে গণতন্ত্রের অনুশীলন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যেসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীরা প্রতিনিধি নির্বাচন করেছে তারা যদি প্রশ্ন করে যে, বড় ভাই ও বোনেরা কেন একই কাজ করছে না, তার কোনো জবাব কারও কাছেই নেই। ছাত্ররাজনীতি চলা উচিত কি উচিত নয়, সে প্রশ্নে তর্ক চলতেই পারে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ থাকাই উচিত এবং তার আয়োজন হতে হবে নিয়মিত। এ নির্বাচন দলগতভাবে হবে নাকি নির্দলীয় হবে, সেটা আলোচনাসাপেক্ষ। কিন্তু যা চলছে, তার যত দ্রুত অবসান ঘটে শিক্ষাঙ্গনের জন্য ততই মঙ্গল। ছাত্র সংগঠনগুলোকেও এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে হবে। বছরের পর বছর যে নির্বাচন হচ্ছে না তার প্রধান দায় কিন্তু তাদের ওপরেই বর্তায়।

শিক্ষার হার ও মান দুই-ই বাড়াতে হবে by মাহমুদুল বাসার

Saturday, January 22, 2011

০১১ সালের প্রথম মাসের প্রথম সপ্তাহেই সরকার শিক্ষাথর্ীদের হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যবই তুলে দিয়েছেন। ১৯৭২ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত শুধু প্রাইমারি স্কুলে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত বিনামূল্যে বই দেয়া হত। এবার দেয়া হলো নবম শ্রেণী পর্যন্ত।

নবম শ্রেণীর বই বিতরণ করা মানে এসএসসি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়ার বই সরকার ছাত্রছাত্রীদের বুঝিয়ে দিলেন। নতুন বই বিনামূল্যে হাতে পেয়ে ছেলে-মেয়েরা কতটা খুশি এবং উলস্নসিত হয়েছে, তা নিজের চোখে দেখেছি। এই চিন্তাটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মাথায় ছিলো। একজন বিজ্ঞ কলাম লেখক বলেছেন, ১৯৯২ সাল থেকে পদক্ষেপটি নেয়া হয়েছে। না, মোটেও নয়। ১৯৯২ সাল থেকে মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা এবং উপবৃত্তি প্রদান শুরু হয়, একথা সত্য। ক্রমে তা সম্প্রসারিত হয়। কোনো সরকারই শিক্ষার এই কল্যাণকর নীতিমালাকে সংকুচিত করেনি। এজন্য আমরা সব সরকারকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

তবে বিনামূল্যে বই বিতরণ শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর সরকারের আমলে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত। বর্তমান মহাজোট সরকারের আমলে শুরু হলো নবম শ্রেণী পর্যন্ত বিনামূল্যে পাঠ্যবই দেয়া। ভবিষ্যতে এই পদক্ষেপ আরো সম্প্রসারিত হবে, আশা করতে পারি আমরা। বর্তমান সরকার চেষ্টা চালাচ্ছেন শিক্ষাকে আধুনিক, গণমুখী এবং কর্মমুখী করার জন্য। ইংরেজ সরকার চালু করেছিলো কেরানি তৈরির শিক্ষা ব্যবস্থা। একথা দুঃখের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন। সৈয়দ মুজতবা আলী বলেছেন, ইংরেজ চেয়েছিলো আমাদের মাছি মারা কেরানি বানাতে। পাকিস্তান সরকার যা চেয়েছিলো তা আর বলে লাভ নেই, আমাদের রক্তঝরা আন্দোলনের ইতিহাসে সে সব লেখা আছে।

সরকার চাচ্ছেন শিক্ষাকে মুখস্থ নির্ভরতা বাতিল করতে। রবীন্দ্রনাথই বলেছেন, পরীক্ষার হলে পেটে করে নেয়া আর পকেটে করে নেয়া একই কথা। দুটোই নকল। তাই ছাত্র-ছাত্রীরা বুঝে উপলব্ধি করে, আয়ত্ত করে, বার বার রিডিং পড়ে গভীরভাবে ধারণা নিয়ে নিজস্ব ক্ষমতা দিয়ে প্রশ্নের উত্তর লিখবে। তাই আমাদের বিদ্বান এবং শিক্ষানীতির চিন্তকরা চেষ্টা করছেন মুখস্থবিদ্যাকে নিশ্চিহ্ন করতে।

বর্তমান সরকার যে মাধ্যমিক পর্যন্ত পরীক্ষার তিনটি স্তরের চূড়ান্ত ব্যবস্থা করেছেন, এটা একটা কাজের কাজ করেছেন। এতে শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত মানোন্নয়ন ঘটবে। অতীতে এই সিস্টেম না থাকাতে গোঁজামিল দিয়ে, ফাঁকি দিয়ে, চৌর্যবৃত্তির মাধ্যমে জাতি ভুয়া এসএসসি উত্তীর্ণ প্রজন্ম পেয়েছে। এই সিস্টেমে ৫ম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষায় উন্মোচন ঘটবে একজন শিক্ষাথর্ীর সার্বিক অবস্থান। ৫ম শ্রেণী ঠিকমত পার হলে, ৮ম শ্রেণীও ঠিকমত পার হতে পারবে, মাধ্যমিকে যেয়ে আরো পরিপক্ব হয়ে উত্তীর্ণ হবে। উচ্চ মাধ্যমিকে যেয়ে একজন শিক্ষাথর্ী পরিপূর্ণ মেধাবী হয়ে উঠবে সহজভাবে। কিন্তু এই তিনটি স্তরের চূড়ান্ত পরীক্ষা না থাকলে শিক্ষাথর্ীর ভেতরে আধাসেদ্ধ মাংসের মত আধাশিক্ষার গোঁজামিল থেকে যেতো। আমরা চাই, শিক্ষিত মুর্খ, ফাঁকিবাজরা ৫ম শ্রেণীতে ঝরে যাক। একটি জাতীয় পত্রিকায় দেখলাম, 'উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে ১৯ প্রকল্পে অর্থায়ন করবে সরকার'। এই প্রতিবেদনে পেলাম, দেশের উচ্চ শিক্ষার মানোন্নয়নে ৬৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯১টি প্রকল্পভিত্তিক গবেষণা করবে সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, শিক্ষার মানোন্নয়নে গবেষণার বিকল্প নেই। শিক্ষা নিয়ে অনেক ভাবনার বিষয় আছে। শিক্ষা নিয়ে ভেবেছেন রাজা রামমোহন রায়, বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ, প্রমথ চৌধুরী, মনীষী মোতাহের হোসেন চৌধুরী প্রমুখ বাঙালি। তাদের ভাবনাগুলো আমাদের সামনে থাকলে ভালো হয়। তারা তাদের সময়ে যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা চেয়েছিলেন। আমরাও চাই যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা।

বিদ্যাসাগর শাস্ত্র নির্ভর শিক্ষা চাননি, রবীন্দ্রনাথ চাননি ইংরেজি নির্ভর শিক্ষা, মোতাহের হোসেন চৌধুরী চাননি অমানবিক শিক্ষা। এসব দৃষ্টিভঙ্গিতো আমরা উপেক্ষা করতে পারি না। শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন যে, ৫ম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষা নিয়ে বুঝতে পারলাম, গ্রামেও মেধা আছে। তাদের বিকাশের সুযোগ করে দিতে হবে। এটা পারে শুধু বৈষম্যহীন শিক্ষানীতি। সরকার মনে-প্রাণে চাচ্ছেন না যে, শিক্ষাকে পণ্যের মত বাজার থেকে কিনে নিয়ে যাক বিত্তবানরা।

বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীকে ভাবতে হবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই যাতে শিক্ষকরা শিক্ষাথর্ীদের পড়া আদায় করে নেন একজন ধাত্রীর মত। একটি গরিব পরিবারের সন্তানকে গণিত, জ্যামিতি, ইংরেজি, বাংলা, ব্যাকরণ, বানান কৌশল শেখাবে? তার মা, বাবা, বড় ভাই যদি হয় নিরেট নিরক্ষর; যদি তার প্রাইভেট টিউটর রাখার সামর্থ্য না থাকে, তাহলে ঐসব টেকনিক্যাল বিষয়গুলো। হাতে ধরে কে শেখাবে? এই প্রশ্ন মাথায় রেখে, যারা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করছেন সরকারি অর্থায়নে, তাদের সমাধানের পথ বাতলে দিতে হবে। ব্যবস্থা করতে হবে গরিবের সন্তান যেনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষাটা পায়। তাতেই দেশ উপকৃত হবে। মনে রাখা দরকার : শিক্ষার মান যেমন বাড়াতে হবে, তেমনি শিক্ষার হারও বাড়াতে হবে। দেশের প্রতিটি নাগরিক যদি সুশিক্ষিত হয়, দক্ষ জনশক্তি হয়, তাহলেই দেশের উন্নতি হবে। সুসাহিত্যিক ডাঃ লুৎফর রহমান বলেছেন, শতকরা ৫ জন উচ্চশিক্ষিত হয়ে লাভ কী দেশের? কথাটা মনে রাখা জরুরি।

বখাটের মোটরসাইকেল চাপা দিল ছাত্রীকে: বাঁ পায়ের দুই হাড় ভেঙে গেছে

Thursday, January 20, 2011

ঝোরে কাঁদছে আমেনা। এ কান্না পা ভাঙার অসহ্য ব্যথার জন্য নয়। হতদরিদ্র পরিবারের সংগ্রামী এ মেয়েটির এমন কান্না তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়। আমেনার মর্মন্তুদ এ কান্নায় চোখ ভিজছে সহপাঠীসহ হাসপাতালে কর্তব্যরতদেরও।

কখনো নানিকে আবার কখনো প্রিয় বান্ধবীদের জড়িয়ে ধরে কাঁদছে আমেনা আর বারবার চিৎকার করে বলে উঠছে-‘আমার পা ব্যান্ডেজ করে দেন, আমার সামনে ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা। আমি ঢাকায় যাব না...।’
কিন্তু আশঙ্কাজনক শারীরিক অবস্থার কারণে চিকিৎসকদের কাছে হার মানল মেয়েটির নিদারুণ এ আকুতি। তাকে পাঠানো হলো ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে। পড়ালেখা করে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ছিল আমেনার। কিন্তু বখাটের মোটরসাইকেলে আমেনার সঙ্গে চাপা পড়ল তার সেই স্বপ্নও।
দারিদ্র্যের কারণে ঘর ছেড়ে নানা-নানির কাছে আশ্রয় নিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছিল আমেনা আক্তার। কিন্তু তার এ সংগ্রামে বাধা হয়ে দাঁড়াল বখাটের উৎপাত। গতকাল বুধবার বখাটের মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আমেনার বাম পায়ের দুটি হাড় ভেঙে ও লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে। বড় ধরনের ও ব্যয়বহুল একটি অস্ত্রোপচারের জন্য আমেনাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু হতদরিদ্র আমেনার চিকিৎসার খরচ কিভাবে জোগাড় হবে, এ নিয়েও দেখা দিয়েছে সংশয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, লেখাপড়ার প্রতি ঝোঁক থাকায় আমেনা ছোটবেলা থেকেই নানা-নানির কাছে থাকে। দরিদ্র নানা-নানির সংসারে থেকেই গত বছর আমেনা এসএসসিতে ৪.৭০ পেয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলার নুরুল আমিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের একাদশ শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী আমেনা আক্তার (১৭) সহপাঠীদের সঙ্গে পাশের ভদ্রাসন জিসি একাডেমির সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যাচ্ছিল। তারা গুহবাড়ি এলাকায় পৌঁছলে মিজান আকনসহ তিন বখাটে ইচ্ছাকৃতভাবে আমেনাদের ওপর তাদের মোটরসাইকেল তুলে দেয়। এতে আমেনাসহ তিন ছাত্রী সড়কের পাশে পড়ে যায়। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত আমেনাকে উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে কলেজের ছাত্ররা তাৎক্ষণিক মিজানকে আটক করে। খবর পেয়ে বখাটেদের পরিচিত লোকজন এসে ছাত্রদের ওপর হামলা চালিয়ে মিজানকে মোটরসাইকেলসহ জোর করে নিয়ে যায়। এ সময় বখাটেদের আক্রমণে আমেনার সহপাঠী হাবিবুর, শাওন, নাসির, জসিমসহ ১০ ছাত্র আহত হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা নুরুল আমিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সামনে গাছ ফেলে শিবচর-শরীয়তপুর সড়ক অবরোধ করে। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তরিকুল ইসলাম ও শিবচর থানা পুলিশ এসে এক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বখাটে মিজান পাশের জাজিরা উপজেলার সেনেরচরের ডেঙ্গর আকনের ছেলে। আমেনার বাবা হারুন মোল্লা ঢাকায় বাসের হেলপার ও মা পারভীন গার্মেন্টকর্মী।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আমেনা বলে, ‘বন্ধু-বান্ধব মিলে পাশের একটি স্কুলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে ওর (মিজান) গাড়ি চালানো দেখে আমরা সড়কটির এক পাশে চলে যাই। এরপরও ও হেলেদুলে চালাতে চালাতে হাসতে হাসতে আমাদের ওপর মোটরসাইকেল তুলে দেয়। সামনে আমার ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা। আমি মনে হয় আর পড়তে পারব না। শিক্ষক হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু স্বপ্নের শিক্ষক হওয়া আর হলো না আমার।’ আমেনার নানি জয়গুন্নেছা বলেন, ‘আমেনার ছোড সময় থিকাই পড়াশোনার ওপর ঝোঁক। তাই অনেক কষ্টের মধ্যেও আমার কাছেই রাইখা পড়াশোনা করাইতাছি। কী দিয়া ওর চিকিৎসা করামু?’
প্রত্যক্ষদর্শী আমেনার সহপাঠী রোকসানা, সাথী, রোকন, জাহিদ বলেন, ‘কলেজে যাওয়া-আসার সময় সব সময়ই বাইরের ছেলেরা মোটরসাইকেল নিয়ে ছাত্রীদের বিরক্ত করে। আজ মিজানসহ তিন বখাটে খালি সড়কে সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃতভাবে ছাত্রীদের ওপর মোটরসাইকেল উঠিয়ে দিয়েছে। এরপর মিজানকে মোটরসাইকেলসহ আটক করলে প্রায় ২০-২৫ বখাটে আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে ওকে ছিনিয়ে নেয়। হামলায় আমাদের ১০ ছাত্র আহত হয়েছে। অবরোধকারী ছাত্ররা অভিযোগ করে, একদিকে ইভ টিজিং করল, এরপর প্রতিবাদ করায় আমাদের ওপর হামলা করল। আমেনা সম্পূর্ণ সুস্থ ও উপযুক্ত বিচার না হলে আমরা সামনে কঠোর আন্দোলনে নামব।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অশোক কুমার ভৌমিক বলেন, ‘মেয়েটির বাম পায়ের দুটি লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে ও হাড় ভেঙে গেছে। দ্রুত উন্নত চিকিৎসা করাতে না পারলে মেয়েটি পঙ্গু হয়ে যেতে পারে।’ নুরুল আমিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘এত বড় একটি ঘটনা ঘটার পর আবার ছাত্রদের ওপর হামলা করেছে ওরা। শিক্ষার্থীদের আপাতত আশ্বাস দিয়ে অবরোধ তুলেছি। কিন্তু এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও আমেনার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা না হলে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হতে পারে।’ তদন্তকারী কর্মকর্তা শিবচর থানার এসআই মো. সালাহউদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাটি ইভ টিজিংয়ের চেয়েও ভয়াবহ। মিজানসহ বখাটেরা সম্পূর্ণ ইচ্ছা করেই ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি।’

স্কুলযাত্রায় অন্য আনন্দ by মানসুরা হোসাইন

Tuesday, January 18, 2011

বাসে উঠতে-নামতে নেই হুড়োহুড়ি। ভেতরেও নেই সিট নিয়ে ঝগড়াঝাটি। নির্দিষ্ট জায়গায় নামার সময়ও বাসের চালক ও সহকারীরা নিচ্ছেন বাড়তি যত্ন। ঢাকা নগরে এমন বাসের অস্তিত্ব আছে, ভাবতে বেশ অবাকই লাগে। তবে নতুন চালু হওয়া স্কুলবাসে এমন দৃশ্যই দেখা যাচ্ছে।

ফলে যাতায়াতের সমস্যায় পীড়িত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা খুব খুশি। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ভাবছেন, সাতসকালে নিত্যদিনের অন্তত একটি ভোগান্তির তো অবসান হলো।
গতকাল সোমবার ঘড়িতে সকাল সাড়ে সাতটা। শ্যামলীতে এসে থামল একটি স্কুলবাস। অপেক্ষমাণ মা ও মেয়ে ধীরে-সুস্থে বাসে ওঠার পর বাসটি আবার চলতে শুরু করল। প্রথম আলোর পক্ষ থেকে প্রতিবেদক বাসের চালক ও হেলপারের অনুমতি নিয়ে বাসটিতে উঠলে তীব্র প্রতিবাদ জনালেন অভিভাবকেরা। তাঁদের সোজা কথা, ‘শিক্ষার্থী ও অভিভাবক ছাড়া অন্য কেউ এই বাসে উঠতে পারবেন না।’ তাঁরা অবশ্য শান্ত হলেন, স্কুলবাসের হালহকিকত কেমন তা জানতেই বাসে ওঠার বিষটি জানানোর পর। সক্ষোভে তাঁরা বললেন, আগে লোকাল বাসে স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের তোলা হতো না। অনেক সময় এমনও হয়েছে যে শিক্ষার্থীর এক পা বাসে, অন্য পা মাটিতে, তখন বাসটি চলা শুরু করে দিয়েছে। নামার সময়ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নামতে হতো। নতুন এই স্কুলবাস চালু হওয়ায় সেই অবস্থা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। এটি যেন চালু থাকে, সেই দাবি সবার।
গত রোববার থেকে ১৪টি স্কুলবাস নেমেছে রাজধানীর পথে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থার (বিআরটিসি) তত্ত্বাবধানে পল্লবী থেকে টেকনিক্যাল হয়ে আজিমপুর পর্যন্ত চলছে বাসগুলো। প্র্রতি ১০ মিনিট পর পর সকাল ছয়টা (শীতে সাড়ে ছয়টা) থেকে নয়টা, আবার বেলা ১১টা থেকে তিনটা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়া করছে বাসগুলো। থামছে মোট ৩৩টি নির্দিষ্ট স্থানে। নগরের ২৬টি স্কুল এই বাসের সেবা পাচ্ছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মুখে হাসি: এই বাস সার্ভিস চালুর মূল উদ্দেশ্য নগরের যানজট কমানো। তবে ব্যক্তিগত গাড়িটি বাসায় রেখে সন্তানকে বাসে করে স্কুলে পৌঁছে দিচ্ছেন তেমন একজন অভিভাবককেও পাওয়া গেলো না বাস চালুর দ্বিতীয় দিনটিতে। বিভিন্ন বাসে যাতায়াতকারীরাই সেবাটি নিতে এসেছেন। ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকদের এ ব্যাপারে উৎসাহিত করা প্রয়োজন বলে অভিভাবকেরা অভিমত ব্যক্ত করলেন। তবে যাঁরা এই সেবা নিচ্ছেন, তাঁরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন।
মিরপুর ১১ নম্বরের বাসিন্দা রায়হানা পারভীনের দুই সন্তান পড়ে গভর্নমেন্ট বয়েজ ও সেন্ট জোসেফ স্কুলে। আগের তিক্ত অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বললেন, ‘সিট তো পাওয়াই যেত না, ভাড়াও বেশি ছিল। সবচেয়ে মুশকিল ছিল বাসে নিতেই চাইত না। এসব ঝঞ্ঝাট থেকে মুক্তি পেলাম বলেই মনে হচ্ছে।’
বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত সবুর খন্দকারের মেয়ে ভিকারুননিসা নুন স্কুলের আজিমপুর শাখায় পড়ে। তিনি বললেন, ‘লোকাল বাসে মেয়েকে একা ছাড়তে পারতাম না। কিন্তু এই বাসের পরিবেশ দেখে মনে হচ্ছে, মেয়ে একাই স্কুলে যাতায়াত করতে পারবে।’
তবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা সকালে ১০ মিনিটের বদলে পাঁচ মিনিট পর পর বাসগুলো চালুর দাবি জানান। কোনো কারণে একটি বাস ধরতে না পারলে পরের বাসের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে স্কুলে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া থামার জায়গাগুলোও কিছুটা ভিন্নভাবে নির্ধারণ করলে ভালো হবে বলে তাঁদের মন্তব্য।
বাস নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে থামলেই বাসের কর্তব্যরত তত্ত্বাবধায়ক (সুপারভাইজার) ওয়াসিমুল হক সহকারীকে সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, ‘বাচ্চাটাকে সাবধানে নামাও।’ শিক্ষার্থীদের বলছেন, ‘তাড়াহুড়ো করবে না। বাস থামার পর ধীরে ধীরে নামবে। আগে আগে বাম পা দেবে।’ তিনি জানালেন, অন্য বাসে কাজ করার সময় এ ধরনের সতর্কতা কখনোই মেনে চলতেন না।
বাসের চালক শামসুল হক জানালেন, বাস চালানোর ক্ষেত্রে তিনি আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন হয়েছেন।
নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর সঙ্গে একজন অভিভাবকও স্কুলবাসে যাতায়াত করতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ টাকা থেকে ১৮ টাকা পর্যন্ত।
তবে অনেক অভিভাবকই এখনো স্কুলবাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না। পথে যেখানে যেখানে বাস থামছে, সেখানে এসে অনেকে সময়সূচি জেনে নিচ্ছিলেন। তবে অন্য এলাকার অভিভাবকেরা যখন জানলেন যে এই সেবা তাঁদের কাজে লাগবে না, তখন তাঁরা কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেন প্রথম আলোর কাছে।
কিছু কাজ বাকি: বাসে প্রশিক্ষিত নারী কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়নি। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্যও বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেই। বিআরটিসির পরিচালক (কারিগরি) কর্নেল আকতার কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ২৬টি স্কুলে টিকিট পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যে কেউ ১৫ দিন বা এক মাস বা বিভিন্ন মেয়াদের টিকিট নিয়ে রাখতে পারবেন। এর বাইরে যেকোনো স্কুল কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করলে টিকিট দেওয়ার ব্যবস্থা করবে বিআরটিসি। কোনো নির্দিষ্ট স্থান থেকে কেউ উঠতে চাইলে নির্দিষ্ট ভাড়া দিয়েও উঠতে পারবেন। যে কাজগুলো এখনো বাকি আছে, সেগুলো দ্রুত করারও আশ্বাস দেন এই কর্মকর্তা। তিনি এই সেবা চালু রাখতে সহায়তা করার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান।
 
Support : Dhumketo ধূমকেতু | NewsCtg.Com | KUTUBDIA @ কুতুবদিয়া | eBlog
Copyright © 2013. News 2 Blog 24 - All Rights Reserved
Template Created by Nejam Kutubi Published by Darianagar Publications
Proudly powered by Dhumketo ধূমকেতু