বাজেট ভাবনা by এম আর খায়রুল উমাম

Monday, June 13, 2011

কটা দেশের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের সম্ভাব্য হিসাব জাতীয় বাজেট। জাতীয় উন্নয়নকে সামনে রেখে সরকার তার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য বাজেটে বিভিন্ন খাতে অর্থ বরাদ্দ করে এবং সে মতো সারাবছর ব্যয় করে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের অর্থের সীমাবদ্ধতা আছে। প্রাধিকার নিরূপণ করেই ব্যয়ের খাত নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। অতীতে জনগণের অজান্তেই বাজেট প্রক্রিয়াকে রাখা হতো, জন অংশগ্রহণের কোন সুযোগ ছিল না।

সরকার বাজেট ঘোষণা করলে সারাদেশে সরকারি দল তাকে গণমুখী বলে এবং বিরোধী দল গণবিরোধী বলে মিছিল করেই দায়িত্ব শেষ করত। কিন্তু বর্তমানে অনেকেই বাজেট বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠছে। দেশের সব শ্রেণীর নাগরিকের জন্য অত্যন্ত জরুরি এই বাজেটের প্রতি আগ্রহ খুব গুরুত্বপূর্ণ। সরকার ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে জনঅংশগ্রহণের পরিবেশ সৃষ্টিতে এগিয়ে এসেছে। এখন বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সরকার যেমন বিভিন্ন শ্রেণীপেশার সঙ্গে মতামতের সুযোগ সৃষ্টি করেছে আবার বিপরীতে সাধারণ মানুষও এগিয়ে এসেছে বাজেট তারা কেমন দেখতে চায়, তা জানাতে। এতে বাজেটের ব্যর্থতার অংশ কমে যাবে এবং সাফল্যের অংশ বৃদ্ধি পাবে, তা জোর দিয়ে বলা যায়। এখন সরকারের দায়িত্ব জনগণের মতামতের মূল্যায়ন করা।
'মানুষ কোনদিন কোন যথার্থ হিতকে ভিক্ষারূপে গ্রহণ করিবে না, ঋণরূপেও না, কেবল প্রাপ্য বলিয়াই গ্রহণ করিতে পারিবে।' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রাপ্য কথাটার মধ্যে অধিকারের বিষয়টা পরিষ্কার। জাতীয় বাজেট প্রণয়নে 'অধিকার' কথা তুললে অনেকেই আঞ্চলিকতা দোষে দুষ্ট করতে পারে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য পিছু ছাড়ে না, তাই অধিকারের প্রশ্ন তুলতে হয়। বর্তমান সরকার জেলাভিত্তিক বাজেট প্রণয়নের ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু এখন মনে হয় সরকার তার ঘোষণা থেকে সরে এসেছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই জেলাভিত্তিক বাজেট প্রণয়ন সম্ভব নয়। কারণ আমাদের নীতিনির্ধারকরা তাদের বাড়িটাই বাংলাদেশ মনে করে। যার যতটুকু ক্ষমতা আছে তিনি তার বাংলাদেশের জন্য সবটাই নিবেদন করে থাকেন। এমন নীতি হওয়ার ফলে জাতীয় বাজেটে সুষম বণ্টন লক্ষ করা যায় না। যশোরে কোন মন্ত্রী নেই, কুষ্টিয়ায় কোন মন্ত্রী নেই, সাতক্ষীরায় একজন মন্ত্রী ও খুলনায় একজন প্রতিমন্ত্রী আছে। সারা খুলনা বিভাগের ভাগে মাত্র দেড়জন (মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী)। এই দেড়জন খুলনা বিভাগের উন্নয়নের জন্য কতটা ভূমিকা রাখতে পারবেন। ৬০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দেশে খুলনা বিভাগ অবহেলিত থেকে যাবে। ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় যশোরসহ খুলনা বিভাগ বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে বছরের পর বছর। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস লাইন প্রকল্প বন্ধ করে বরাদ্দকৃত অর্থ সিলেটের প্রকল্পে নিয়ে নিতে কোন সমস্যা হয় না। মাঝে আমরা কয়েকটা জেলার মানুষ মাসে ২৪ ঘণ্টা দু'বার্নারের চুলো জ্বালিয়ে ৩৫০ টাকার রান্না করার সুযোগ থেকে এখনো বঞ্চিত আছি। মাসে দু-আড়াই হাজার টাকার গ্যাস পুড়িয়ে রান্না করতে হচ্ছে। তারপর আজ মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা হলে কাল পাশের জেলার ক্ষমতাধর তা নিজের বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য টানাটানি শুরু করে দেন। এমন ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক। তাই আঞ্চলিকতার দোষ মাথায় নিয়ে প্রাপ্যটি বুঝে পেতে চাই। নেতার গুণে নয়, সুনির্দিষ্ট নীতির ভিত্তিতে প্রাপ্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন। সেটা দারিদ্র্য বিবেচনায় হতে পারে, আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় হতে পারে, জনসংখ্যা বিবেচনায় হতে পারে, তবে কোন অবস্থায় ব্যক্তি প্রাধান্য পেতে পারে না।
বাংলাদেশে ১ লাখ ৪৪ হাজার বর্গকিলোমিটারে ১৬ কোটি লোকের বাস। এখন দেশে মৃত্যুহার প্রতি হাজারে সাড়ে ৯ জন এবং জন্মহার প্রতি হাজারে ২৫ জন। মৃত্যুহারের তুলনায় জন্মহার বেশি হওয়ায় জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেতেই থাকবে। জনসংখ্যার চাপে দেশ এখনই ন্যুব্জ। তার ওপর বর্তমান জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি শিশু ও কিশোর। বৃদ্ধ ও যুব মানুষের তুলনায় শিশু কিশোরের সংখ্যা বেশি হলে আগামীতে জনসংখ্যার চাপ আরও বাড়বে। এ অবস্থায় জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করে বিদেশে রপ্তানি করে রক্ষা পাওয়া যাবে না। স্বাধীনতার ৪০ বছরে জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। ১৬ কোটি লোকের মাত্র ১ কোটি মানুষ বিদেশে শ্রম বিক্রি করার সুযোগ পেয়েছে। বাকিদের দেশেই বেঁচে থাকার সংগ্রাম করতে হচ্ছে। সরকার যত ভালো জনশক্তি তৈরি করুক না কেন একটা নির্দিষ্ট অঙ্কের বাইরে তা রপ্তানি করতে পারবে না। তাই জনশক্তি রপ্তানির ভরসায় জনসংখ্যাকে নিয়ন্ত্রণহীন করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। সরকার জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রমে ভাটা দেয়ার সাধারণ মানুষের দারিদ্র্য বেড়ে চলেছে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারছে না। বস্তির সংখ্যা বেড়ে চলেছে। কৃষিজমি কমে যাচ্ছে। খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষা করা যাচ্ছে না। মৌলিক অধিকার সোনার হরিণ হয়ে পড়েছে। কর্মসংস্থান না হওয়ায় বেকার সমস্যা বাড়ছে। এমন হাজার সমস্যার মধ্যে দেশের সব পরিকল্পনা ভুল হয়ে যাচ্ছে। তাই দেশকে রক্ষা করতে হলে, মানুষকে রক্ষা করতে হলে জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি জোরদার করতে হবে। সরকারের সামনে এক নম্বর চ্যালেঞ্জ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ। এই কার্যক্রমের শতভাগ সাফল্যের জন্য বাজেট বরাদ্দ থাকা জরুরি।
সমাজ এখন ধনবৈষম্যের নিরিখে পুরোপুরি বিভক্ত। ধনীর অর্থে যে দারিদ্র্য সৃষ্টির প্রধানতম হাতিয়ার তা ধনবাজরা বুঝতে চায় না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়, 'আমাদের ভদ্র সমাজ আরামে আছে, কেননা আমাদের লোক সাধারণ নিজেকে বোঝে নাই। এই জন্যই জমিদার তাহাদিগকে মারিতেছে, মহাজন তাহাদিগকে ধরিতেছে, মনিব তাহাদিগকে গালি দিতেছে, পুলিশ তাহাদিগকে শুষিতেছে, গুরু ঠাকুর তাহাদের গাঁট কাটিতেছে, আর তাহারা কেবল সেই অদৃষ্টের নামে নালিশ করিতেছে যাহার নামে সমন জারি করিবার জো নাই। আমরা বড়জোর ধর্মের দোহাই দিয়া জমিদারকে বলি তোমার কর্তব্য করো, মহাজনকে বলি তোমার সুদ কমাও, পুলিশকে বলি তুমি অন্যায় করিয়ো না_ এমন করিয়া নিতান্ত দুর্বলভাবে কতদিন কতদিক ঠেকাইব। চালুনিতে করিয়া জল আনাইব আর বাহককে বলিব যতটা পারো তোমার হাত দিয়া ছিদ্র সামলাও_ সে হয় না; তাহাতে কোন এক সময়ে এক মুহূর্তের কাজ চলে কিন্তু চিরকালের এ ব্যবস্থা নয়। সমাজে দয়ার চেয়ে দায়ের জোর বেশি।'
সমাজের দায় নিশ্চিত করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন প্রাথমিক শিক্ষা। দেশের মানুষের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে একটা যোগাযোগের মাধ্যমে গড়ে উঠবে। যা তাকে দেশকে জানতে আগ্রহী করে তুলবে। মানুষ দেশকে জানলেই অন্তরে শক্তি সৃষ্টি হবে। দেশকে ভালোবাসতে শিখবে। একজন সাধারণ মানুষ অন্যের কথা শুনবে এবং অন্যকে নিজের কথা বলে নিজেদের অধিকারের গ-ির বিস্তার ঘটাবে। স্বাধীনতার ৪০ বছরে আমাদের প্রাথমিক শিক্ষার প্রয়োজনীয় প্রসার ঘটেনি। তাই মানসম্পন্ন প্রাথমিক শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে পেঁৗছানোর উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন। সাধারণ মানুষকে অধিকারসচেতন করতে পারলেই উন্নয়নকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
বর্তমান সমাজে শিক্ষা এখন অধিকার নয়, বাণিজ্যিক পণ্য। নানা ধরনের শিক্ষাব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশ কয়েক ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। গুণগত মানের নৈতিক ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রাথমিক একধারার শিক্ষা নিশ্চিত করেই দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। দেশের পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোকে প্রীতির বন্ধনে বাঁধতে জাতীয় বাজেটে শিক্ষাব্যবস্থার প্রথম সোপান প্রাথমিক শিক্ষা গুরুত্ব পাবে। আগামীর জন্য জাতির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে সবাইকে লিখতে-পড়তে পারার মতো প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে বাজেট বরাদ্দ রাখার আবেদন জানাই। সঙ্গে সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন শ্রেণীপেশার বৃত্তিমুখী শিক্ষার বিস্তার ঘটানোর উদ্যোগ প্রয়োজন।
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮(১) অনুচ্ছেদে জনস্বাস্থ্যের উন্নতিসাধনকে সরকারের দায়িত্ব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্বাধীনতার ৪০ বছরে আমাদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে একজন ডাক্তারের বিপরীতে দশমিক ৫৪ জন নার্স এবং দশমিক ২৭ জন স্বাস্থ্য সহকারীর ব্যবস্থা করতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে একজন ডাক্তারের বিপরীতে ৩ জন নার্স ও ৫ জন স্বাস্থ্য সহকারীর একটি দলের প্রয়োজন পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের সার্বিক চিকিৎসার কথা না বলে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কি সম্ভব? স্বাস্থ্যসেবার অব্যবস্থার কারণে সাধারণ রোগের চিকিৎসায় প্রতিবছর ব্যাপকসংখ্যক লোকজন বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে এবং এতে বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে। অপরিকল্পিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার কারণে দেশের অধিকাংশ মানুষই এখনো নূ্যনতম স্বাস্থ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। দেশে এখন প্রায় ৮৫ শতাংশ মায়েরা সন্তান প্রসবকালে হাসপাতালে আসে না, ৭০ শতাংশ গর্ভবতী মেয়েরা রক্তশূন্যতায় ভুগছে, ৬০ শতাংশ শিশু জন্মকালে কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। দেশের আগামী প্রজন্মের চিত্র যদি এমন করুণ হয় তবে উন্নয়নের চিত্রটা কী হতে পারে তা বিবেচনার দাবি রাখে। সরকার স্বাস্থ্যনীতির খসড়া তৈরি করলেও গড়িমসির কারণে আজও চূড়ান্ত করতে পারেনি।
তাই জনগণের মতামতের ভিত্তিতে খসড়াকৃত স্বাস্থ্যনীতি অবিলম্বে চূড়ান্ত করে সে ভিত্তিতে স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। দেশের সাধারণ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ রাখতে হবে। এই বাজেটে প্রয়োজনীয় নার্স ও স্বাস্থ্য সহকারীর সংখ্যা বাড়ানোর ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।
মানুষের উদ্দেশ্যহীন যাত্রা কোনদিন লক্ষ্যে পেঁৗছতে সাহায্য করে না। দেশও তাই। লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগিয়ে চললে সাফল্য একদিন আসবে। বাংলাদেশের লক্ষ্যহীন যাত্রা তাকে রসাতলের দিকে নিয়ে চলেছে। আমরা আশু সমস্যার আশু সমাধানের পথে চলতে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কোন ভাবনা আমাদের মধ্যে নেই। সরকার পাঁচসালা বা দশসালা পরিকল্পনা করে এগিয়ে চলার কথা ভুলেই গেছে। বর্তমান সরকার জনগণের সামনে ভিশন-২০২১ রেখেছে। এই ভিশন অর্জনের কোন সুষ্ঠু পরিকল্পনা জনগণ পেয়েছে বলে মনে হয় না। তাই লক্ষ্য অর্জনে জনগণের যে পরিমাণ সম্পৃক্ততার প্রয়োজন তা লক্ষ করা যাচ্ছে না। জনগণের হার্দিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা না গেলে কি লক্ষ্যে পেঁৗছানো সম্ভব হবে? তার ওপর এই ভিশন একটা দলের। এটাকে দেশের বা জনগণের ভিশনে রূপান্তর করা যায়নি। ফলে সরকার পরিবর্তন হলে এই ভিশনের অবস্থা কী হবে, তা আমাদের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলেই অনুমান করতে পারি।
তাই সব জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই দেশের লক্ষ্য নির্ধারণ করার উদ্যোগ প্রয়োজন। তারপর লক্ষ্যকে সামনে রেখে সরকার এগিয়ে চলবে। এমন মহা পরিকল্পনা ছাড়া উন্নয়নকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া সম্ভব নয়। আবার সরকার পাঁচসালা বা দশসালা পরিকল্পনা করেই তাদের উদ্দেশ্যহীন যাত্রাকে সঠিক পথে নিয়ে আসা জরুরি। এতে পথের ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু লক্ষ্যচ্যুতির কোন সুযোগ থাকবে না। সাধারণ মানুষ জানতে ও বুঝতে পারবে, আগামী ২০ বছর বা ৫০ বছর পর তাদের অবস্থান কোথায় থাকবে। বিশ্বে তাদের মূল্যায়ন কেমন হবে।
অতীতের ধারাবাহিকতায় আমরা দেখে থাকি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে এডিপি'র ৪০-৪৫ শতাংশ সর্বোচ্চ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়। বাকি অংশ মাত্র ৩ মাসে তড়িঘড়ি বাস্তবায়ন করা হয়ে থাকে। এ ভিন্ন এডিপি'র অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হয় না। এর ফলে রাষ্ট্রীয় অর্থের ব্যাপক অংশ দুর্নীতির কবলে পড়ে। এডিপি দ্রুত বাস্তবায়নের নামে তড়িঘড়ি করে খরচ দেখিয়ে জাতির কি উপকার হয়? সংশ্লিষ্ট কিছু লোককে জনগণের অর্থের দেদার লুটের সুযোগ সৃষ্টি ছাড়া ভিন্ন কোন উপকার হয় বলে বিশ্বাস করা কঠিন। তাই ১. বাজেট প্রক্রিয়া ঢেলে সাজাতে হবে। ২. বাজেটে সব শ্রেণীর মানুষের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। ৩. শিক্ষার মান উন্নয়নকল্পে প্রাথমিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। ৪. স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করে প্রাথমিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হবে। ৫. পিছিয়ে পড়া মানুষের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। সর্বোপরি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

অতঃপর দেশে দুটি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দল সৃষ্টি হবে by মুনীরুজ্জামান

'এ স্বাধীনতা শহীদের রক্ত দিয়ে লেখা। শাসনতন্ত্র ছাড়া, মৌলিক অধিকার ছাড়া দেশের অবস্থা হয় মাঝিবিহীন নৌকার মতো। ৪টা স্তম্ভের ওপর এ শাসনতন্ত্র রচিত হয়েছে। এ যে ৪টা স্তম্ভের ওপর শাসনতন্ত্র রচনা করা হলো, এর মধ্যে জনগণের মৌলিক অধিকার হচ্ছে_ একটা মূলবিধি। মূল ৪টা স্তম্ভ জনগণ ভোটের মাধ্যমে তা প্রমাণ করে দিয়েছে। জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে বাঙালি জাতি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল চরম মরণ সংগ্রামে। জাতীয়তাবাদ নাহলে কোন জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। আমি বাঙালি, বাঙালি জাতীয়তাবাদ।

দ্বিতীয় কথা, আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। গণতন্ত্র সেই গণতন্ত্র, যা সাধারণ মানুষের কল্যাণ সাধন করে। তৃতীয়ত, সমাজতন্ত্র। তারপরে আসছে ধর্মনিরপেক্ষতা। স্পিকার, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। বাংলার সাড়ে ৭ কোটি মানুষের ধর্মকর্ম করার অধিকার থাকবে। আমরা আইন করে ধর্মকে বন্ধ করতে চাই না। আমাদের শুধু আপত্তি হলো, ধর্মকে কেউ রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না। ২৫ বছর আমরা দেখেছি, ধর্মের নামে জুয়াচুরি, ধর্মের নামে শোষণ, ধর্মের নামে বেইমানি, ধর্মের নামে অত্যাচার, ধর্মের নামে ঘুষ, ধর্মের নামে ব্যভিচার_ এ বাংলাদেশের মাটিতে এসব চলেছে।
ধর্ম অতি পবিত্র জিনিস। পবিত্র ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা চলবে না। যদি কেউ বলে যে, ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হয়েছে, আমি বলব ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হয়নি। সাড়ে ৭ কোটি মানুষের ধর্মীয় অধিকার রক্ষা করার ব্যবস্থা করেছি। আমরা ৪টি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে শাসনতন্ত্র দিয়েছি। শাসনতন্ত্রে মানুষের মৌলিক অধিকার দেয়া হয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদের গ্যারান্টি দেয়া হয়েছে। এটা জনতার শাসনতন্ত্র। ভবিষ্যৎ বংশধররা যদি সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ এবং ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিতে শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারেন, তাহলে আমার জীবন সার্থক হবে, শহীদের রক্তদান সার্থক হবে।'
_বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
বাংলাদেশ গণপরিষদ,
ঢাকা, শনিবার
৪ অক্টোবর ১৯৭২
সূত্র : শেখ হাসিনা ও বেবী মওদুদ
সম্পাদিত 'বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।'
আগামী প্রকাশনী (পৃ. ২১৬-২২৩)
মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশের যে সংবিধানটি গণপরিষদে গৃহীত হয় সেটি '৭২-এর সংবিধান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে সংবিধানটি উত্থাপন করেন তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সংবিধান উত্থাপনকল্পে বঙ্গবন্ধু গণপরিষদে একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। ঐতিহাসিক এ কারণে যে, বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে শুধু সংবিধানের রূপরেখাই বর্ণনা করেননি। তিনি এর ব্যাখ্যা করেছেন, ঐতিহাসিক পটভূমি, সংবিধানে রাষ্ট্রীয় ৪ মূলনীতি, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা, কেন এ রাষ্ট্রীয় ৪ মূলনীতি তার পটভূমি ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেছেন এবং ১৯৪৭ সাল থেকে বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম, রক্তদানই যে ৪ রাষ্ট্রীয় মূলনীতির ভিত্তিতে বাংলাদেশের সংবিধানকে ঐতিহাসিকভাবে কোন বিকল্প ছাড়াই অপরিহার্য করেছে তারও ব্যাখ্যা তিনি তার ঐতিহাসিক এ ভাষণটিতে প্রদান করেছেন। সে জন্যই তিনি বিনা দ্বিধায় অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, এ শাসনতন্ত্র শহীদের রক্তে লেখা। ধর্ম কেউ রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না। পবিত্র ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা চলবে না।
বস্তুত গোটা পাকিস্তান আমলে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ যে রাজনৈতিক লড়াই করেছে তার মূল বই হচ্ছে_ ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারের বিরোধিতা। আমাদের মনে রাখতে হবে স্বৈরাচারী শাসন, রাজনীতিতে সেনা কর্তৃত্ব এবং ইসলামী জঙ্গিবাদের কারণে পাকিস্তান আজ যে অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে তার মূলেই রয়েছে ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার বা রাজনীতিতে ধর্মের অপব্যবহার। এবং পাকিস্তানি রাজনীতির এ মৌল ভিত্তির বিরুদ্ধেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। সেই কারণেই '৭২-এর সংবিধানে সনি্নবেশিত হয়েছিল ধর্মনিরপেক্ষতা, নিষিদ্ধ হয়েছিল সাম্প্রদায়িকতা এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও রাজনৈতিক দল। আর এ কারণেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার পর মোশতাক-জিয়া গং প্রথম যে কাজটি করেছিল তা হচ্ছে_ সংবিধানে বিসমিল্লাহ বসিয়েছিল। সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দিয়ে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশে পাকিস্তানি রাজনীতির বা পাকিস্তানি চেতনাকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আরেক সামরিক-স্বৈরাচার এরশাদ সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ঢুকিয়েছিল। বস্তুত বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল এ কারণে। মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত পাকিস্তানি শক্তির দেশীয় প্রতিনিধি মোশতাক-জিয়া যেন বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিলুপ্ত করে পাকিস্তানি চেতনা পুনঃস্থাপিত করতে পারে। যার সূচনা তারা করেছিল সংবিধানে 'বিসমিল্লাহ' বসিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতা উঠিয়ে। বঙ্গবন্ধু তার বক্তৃতায় বলেছিলেন 'এই সংবিধান শহীদের রক্তে লেখা।' বস্তুত শহীদের রক্তে লেখা সংবিধান মোশতাক-জিয়া-এরশাদ '৭৫ পরবর্তী সময়ে ঁহফড় করেছিল বঙ্গবন্ধুর রক্তে।
আদালতের আদেশে অর্থাৎ ৫ম সংশোধনী বাতিল করায় আবার সুযোগ এসেছে সংবিধান থেকে পাকিস্তানি স্বৈরাচারী সাম্প্রদায়িক ধর্মব্যবসায়ী রাজনীতির ধারা মুছে ফেলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ফিরিয়ে আনার। সুযোগ এসেছে সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরিয়ে এনে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার। সুযোগ এসেছে সংবিধান থেকে অপ্রয়োজনীয় বিসমিল্লাহ অবলোপন করার।
কিন্তু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ কমিটি যে রিপোর্ট ৯ম জাতীয় সংসদে পেশ করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে_ সংবিধানে বিসমিল্লাহ থাকছে, রাষ্ট্রধর্ম থাকছে আবার প্রস্তাবনায় ধর্মনিরপেক্ষতা রাখা হলেও, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল বা ধর্মকে নিয়ে রাজনীতি করা সরাসরি নিষিদ্ধ করা হয়নি যেটা করা হয়েছিল '৭২-এর সংবিধানে।
দেখা যাচ্ছে_ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার আরও পরিষ্কারভাবে বললে বলতে হয় আওয়ামী লীগ ধর্ম এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রশ্নে সংবিধানে মোশতাক-জিয়া-এরশাদের নীতিই গ্রহণ করেছে। মুক্তিযুদ্ধের মৌলিক চেতনা বিসর্জন দিয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ (বাংলাদেশ + পাকিস্তানি রাজনীতির চেতনা) গ্রহণ করছে। অর্থাৎ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যে উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল সেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যটিকে সংবিধান সংশোধন করে পাকাপোক্তভাবে বহফড়ৎংব করতে যাচ্ছে খোদ আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে আবার একই সঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষতা এবং বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম রেখে বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে 'সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িকতা' বিলোপ করার কথাও বলা হয়েছে প্রস্তাবে।
তামাশা আর কাকে বলে? এ যেন দাঁড়িপাল্লায় ওজন করে রাষ্ট্রীয় মৌলনীতি ঠিক করা। এক পাল্লায় ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সাম্প্রদায়িকতা বিলোপ করার কথা, আরেক পাল্লায় বিসমিল্লাহ, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং পরোক্ষভাবে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল। অর্থাৎ এক পাল্লায় বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ আরেক পাল্লায় পাকিস্তানি রাজনীতি। এরপর কি আর মুক্তিযুদ্ধ থাকে যা বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের নীতি ও আদর্শে মুক্তিযুদ্ধ বলে কিছু থাকে? বিএনপির জাতীয় পার্টির সঙ্গে নীতি ও আদর্শে আওয়ামী লীগের কোন পার্থক্য থাকে?
প্রশ্ন হলো কেন এভাবে মুক্তিযুদ্ধ-মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিসর্জন? সেই দলের যে দলটি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিল। সেই দলের এ আপসকামিতা যেন যে দল ১৯৭২ সালে শহীদের রক্তে শাসনতন্ত্র লিখেছিল। প্রশ্নটি অনেকের কাছে করেছি কেউই সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে কয়েকটি মত পাওয়া গেছে। একজনকে প্রশ্ন করেছিলাম মুক্তিযুদ্ধ এবং বাঙালি চেতনায় আওয়ামী লীগ বিএনপি-জাতীয় পার্টির বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ গ্রহণ করছে কেন? মুক্তিযুদ্ধ ছেড়ে পাকিস্তান ধরছে কেন? জবাবে তিনি বললেন চড়ষরঃরপং ড়ভ পড়হাবহরবহপব, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ হলে একদিকে ধর্মের প্রশ্নে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ঢাল হয় আরেকদিকে বিএনপির একটি প্রধান অস্ত্র কেড়ে নেয়া হয়। আরেকজন বললেন, এখানে আমেরিকার একটা পলিসি আছে। আমেরিকা বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নয়, মডারেট মুসলিম দেশ হিসেবে দেখতে চায়। এতে আমেরিকার ভারি সুবিধা, বিশেষ করে মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে বাংলাদেশের মডারেট মুসলিম দেশের ইমেজ বিক্রি করতে তাদের সুবিধা হয়। অন্যদিকে আমেরিকা বোধহয় হিসেব করছে যে, বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে জামায়াতে ইসলামের মতো দলগুলোকে মেইন স্ট্রিম রাজনীতিতে ধরে না রাখলে দলুগুলো ইসলামী জঙ্গিবাদের সঙ্গে হাত মেলাবে অথবা ইসলামী জঙ্গিবাদের উৎস হিসেবে কাজ করবে। সুতরাং গ্লোবস স্ট্র্যাজেডি থেকে আমেরিকা চাইছে বাংলাদেশ একটি মডারেট ইসলামিক দেশই থাকুক এবং ক্ষমতার বিবেচনায় আওয়ামী লীগ তার অতীতকে বিসর্জন দিয়ে এ লাইনেই অগ্রসর হচ্ছে।
এখন প্রশ্ন হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিসর্জন দিয়ে এ ঈড়সঢ়ৎড়সরংব কি বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে ক্ষমতার প্রশ্নে, ক্ষমতার প্লেয়ারদের ম্যানেজ করার প্রশ্নে আওয়ামী লীগকে ফরারফবহফ দেবে কি? অর্থাৎ ধর্ম এবং অন্য প্রশ্নে যারা আওয়ামী লীগ বিরোধী তারা কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিসর্জন দিয়ে বিএনপি-জামায়াতের বাংলাদেশি অর্থাৎ পাকিস্তানপন্থি আদর্শ গ্রহণ করলে আওয়ামী লীগ সমর্থন করবে। বা আওয়ামী লীগের গেম-মেকার হবে? কোনদিন হবে না। এটা শেখার জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ারও কোন প্রয়োজন নেই তেমনি আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা হওয়ারও দরকার নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিসর্জন দেয়া যে ক্ষমতার রাজনীতির একটি চাল এটা না বোঝার মতো কেউই নেই। সুতরাং যা মৌলিকভাবে বাংলাদেশই জাতীয়তাবাদের পক্ষে তারা কোন দুঃখে দুই নম্বরী 'বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে' সমর্থন করতে যাবে বা নির্বাচনের সময় ভোট দিতে যাবে। বরং আওয়ামী লীগের এ পদক্ষেপটি অর্থাৎ 'বাঙালি জাতীয়তাবাদ' ছেড়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ গ্রহণের রাজনীতিকে মোনাফেকী হিসেবেই চিহ্নিত হবে। বস্তুত আওয়ামী লীগ যদি একেবারে মওদুদী মার্কা ইসলাম ও তাদের নীতি আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেও তবুও মোল্লাতন্ত্রে বিশ্বাসীরা কখনোই তাদের রাজনৈতিকভাবে বিশ্বাস করবে না, তাদের ওপর আস্থা রাখবে না। নীতি-আদর্শের অবস্থানটি ত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধের প্রতিপক্ষের আদর্শ ধারণ করে ভেক হয়তো ধরা যেতে পারে কিন্তু তাতে কারও বিশ্বাস অর্জন করা যায় না। এটা আমাদের দেশেই আরেক রাজনীতিতে ইতোমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু কিন্তু নীতি ও আদর্শের জায়গায় আপস করেননি। আপস করলে তিনি পাকিস্তানেরই প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রয়োজন হতো না আর সংবিধানও রক্তে লিখতে হতো না। এবং আপস করেননি বলেই তিনি বঙ্গবন্ধু হতে পেরেছিলেন শেখ মুজিব থেকে। রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের যা কিছু অর্জন সেটা জনগণকে নিয়ে লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নিজেদের আদর্শ ও নীতির একটি অবস্থান তৈরি করার ফলেই হয়েছে। কারও দয়ায় হয়নি, নীতি ও আদর্শ বিসর্জন দেয়ার জন্যও হয়নি।
আমি বলছি না আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে বেইমানি করছে। তবে আওয়ামী লীগ যে বিএনপি'র রাজনীতি গ্রহণ করল, বিএনপির রাজনীতির কাছে হেরে গেল সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ভূমিধস-পরাজয়ে পরাজিত হলেও বিএনপি-জামায়াত জোট ২০১১-তে এসে রাজনীতিতে বিজয়ী হয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের কাছে। বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাবার বিএনপি-জামায়াতের স্বপ্ন বাস্তবায়নের বড় বাধাটি আওয়ামী লীগ নিজ দায়িত্বে অপসারণ করছে।
আওয়ামী লীগ কী করবে সেটা আওয়ামী লীগের ব্যাপার। কিন্তু আওয়ামী লীগ যে নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার চৎবসরংব থেকে সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সে সম্পর্কে আর সন্দেহের অবকাশ থাকল না। এরপর রাজনৈতিক আশ্বাসের প্রশ্নে বিএনপি-জাপা'র সঙ্গে আওয়ামী লীগের মৌলিক কোন তফাৎ থাকবে না সেটাও বলা যায়। অতঃপর ভবিষ্যৎ ঐতিহাসিকেরা সহজেই বলতে পারবেন একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকের শুরুতেই জাতীয় নির্বাচনে দুুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে বিজয়ী হয়েও মহাজোট সরকারের প্রধান দল আওয়ামী লীগ তাদের প্রধান রাজনীতি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিসর্জন দিয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী আওয়ামী লীগে পরিণত হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ আওয়ামী লীগ নামে দেশে দুটো বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দলের অস্তিত্ব দেখা যায়।

লিচু চাষ করে গাড়ি বাড়ির মালিক

মেধা, শ্রম আর কাজের প্রতি আন্তরিকতা থাকলে যে কোন কাজেই সফল হওয়া যায়। সেটা প্রমাণ করেছেন ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের এক সময়ের দিনমজুর আবুল হোসেন। তিনি আজ থেকে ১৮ বছর আগে দিনমজুরের কাজ শেষে বিকেলে নানা রকম মৌসুমি ফল কিনে কালীগঞ্জ শহরের রাস্তার পাশে বসে বিক্রি করতেন। তখন থেকে তার আশা ছিল জীবনে সুযোগ পেলে নিজে একটা লিচুর বাগান করবেন।

তিনি করেছেনও তাই। আবুল হোসেন প্রথমে অন্যের ও পরে নিজের জমিতে ১৮ বছর ধরে লিচু চাষ করে অভাবনীয় সফলতা অর্জন করে এখন হয়েছেন গাড়ি-বাড়ির মালিক। তার অতীতের অভাব অনটনের দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে ৫০ ঊর্ধ্ব বয়সী আবুল হোসেন জানান, ৫ ভাইবোনের অভাবের সংসারে তিনি সবার বড়। তাই অনেক অল্প বয়সেই তার ওপর সংসারের ভার এসে পড়ে। তাছাড়া ভূমিহীন বাবার পরিবারে অর্থ সংকটের কারণে কোন দিন স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। দরিদ্র পরিবারের মা-বাবাসহ ভাইবোনদের মুখে হাসি ফোটানোর মহাদায়িত্ব কাঁধে নিয়ে দিনের পর দিন তিনি পরের জমিতে কামলার কাজ করে সংসারের খরচ জুগিয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে বিকেলে আশপাশের গ্রাম থেকে লিচুসহ বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি ফল কিনে কালীগঞ্জ শহরে রাস্তার পাশে বসে বিক্রি করতেন। এ ব্যবসায় ভালো লাভ পেয়ে দিনমজুরি ছেড়ে শুধু ফলের ব্যবসা করার চিন্তা মাথায় আসে তার। অল্পদিনের মধ্যে মায়ের একটি ছাগল বিক্রি করে কিছু পুঁজি জোগাড় করেন তিনি। উপজেলার ষাইটবাড়িয়া, মথনপুর, সাতগাছিয়া, অনুপমপুরসহ প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ঝুড়িভর্তি লিচু কিনে মাথায় করে কালীগঞ্জ শহরে হাটচাঁদনির পাশে রাস্তায় বসে বিক্রি করতেন। সঙ্গে সঙ্গে নিজের কোন জায়গা জমি না থাকলেও সবসময় ভাবতেন কিভাবে নিজে একটি লিচু বাগানের মালিক হবেন। প্রায় ৪-৫ বছর এভাবে ব্যবসা করে কিছু টাকার জোগাড় করে তার গ্রামের আবদুল লতিফের কাছ থেকে মোট ১৩ হাজার টাকা দিয়ে ১ একর ৩৭ শতক জমি বন্ধক রাখেন। পরে ২ বছর এ জমিতে অন্য ফসলের চাষ করে কিছু আয় করেন এবং ব্যবসা থেকে রোজগারের টাকা দিয়ে ১৯৯২ সালে ৭০ হাজার টাকা দিয়ে ওই জমিটিই কিনে নেন। এরপর ১৯৯৩ সালে জমিটিতে মোট ৯৯টি লিচুর চারা রোপণ করেন। ২ বছর পরই তার বাগানে লিচু ধরা শুরু হয়। ১৯৯৫ সালে তিনি চারা গাছ থেকেই খরচ বাদে ১১ হাজার টাকার লিচু বিক্রি করেন। পরের বছর ১৯৯৬ সালে লিচু বাগান থেকে লাভ আসে ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। ১৯৯৭ সালে খরচ বাদে লাভ পান ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এভাবে প্রতিবছর ক্রমে বাড়তে থাকে তার লাভের পরিমাণ। লিচু চাষের পাশাপাশি লাভের টাকা দিয়ে বড় ছেলে বাবুল আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে কালীগঞ্জ শহরে কাঁচাবাজারে শুরু করেন আড়তদারি ব্যবসা। আবার প্রতিবছর লিচু বাগান থেকে আসতে থাকে বাড়তি টাকা। তিনি গত বছরেও প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার লিচু বিক্রি করেছিলেন। এ বছর ইতোমধ্যে ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকার লিচু বিক্রি করেছেন। গাছে এখনো তার অনুমান মতে প্রায় ৩ লাখ টাকার লিচু আছে। মাত্র ১৮ বছরের ব্যবধানে তিনি মাঠে ৯ বিঘা জমি, ২টি ট্রাক ও একটি সুন্দর বাড়ি করেছেন।
লিচু চাষে সফলতা অর্জনকারী আবুল হোসেন জানান, তিনি নতুন করে আরও ৩৭ শতক জমিতে লিচুর চারা এবং ৫১ শতক জমিতে আমের চারা রোপণ করেছেন।
লিচু চাষ সম্পর্কে কালীগঞ্জ কৃষি কর্মকর্তা আলীমুজ্জামান জানান, এ উপজেলায় যোগদানের পর লিচু চাষ করে সফলতা অর্জনকারী আবুল হোসেনের গল্প তিনি শুনেছেন। তিনি দিনমজুর থেকে লিচু চাষ করে এখন হয়েছেন গাড়ি-বাড়ির মালিক। লাভজনক লিচু চাষের মাধ্যমে তার সফলতা দেখে অনেকে এখন ঝুঁকে পড়ছেন এ চাষে।

রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব কোন্দল ৫ মাসে ১৫শ' খুন

রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-কোন্দল আর প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। গত ৫ মাসেই সারাদেশে খুন হয়েছেন ১৫'শ জন। ঘটেছে একাধিক রাজনৈতিক সহিংস ঘটনাও। এসব ঘটনায় জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে এসব ঘটনা পুলিশকে জানাতে গিয়েও হয়রানির শিকার হচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। ফলে অভিযোগ ও মামলা করতে এক ধরনের অনীহা দেখা দিয়েছে অনেকের মধ্যেই। এ তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

তবে পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার সংবাদ'কে জানিয়েছেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইউপি নির্বাচনে ২/১টি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে। এখন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়েও ভালো বলে মন্তব্য বরেছেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মে মাসে সারাদেশে ৩২৫ জন খুন হয়েছেন। এরমধ্যে রাজধানীতে ২৩, চট্টগ্রাম শহরে ৫, খুলনা শহরে ৩, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট শহরে ১, ঢাকা বিভাগে ৯৫, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৫, সিলেট বিভাগে ২৬, খুলনায় ৩৪, রাজশাহী বিভাগে ৩৮ রয়েছে। এছাড়াও মে মাসে বড় ধরনের ডাকাতির ঘটনা ৫১, দস্যুতা ৮৭, অপহরণ ৬৫, চুরি সাড়ে ৭শ', অন্য অপরাধ ৭ হাজার ১শ৩৫, চোরাচালানী ৪শ'র বেশি। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এপ্রিল মাসে সারাদেশে ৩২৭ খুনের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ঢাকায় (শহরে) ২২, চট্টগ্রাম শহরে ৮, খুলনা, রাজশাহী বরিশালে ৬, সিলেটে ৩, ঢাকা বিভাগে ১০৭, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৬, সিলেট বিভাগে ১৯ জন, খুলনা বিভাগে ৩৯, রাজশাহী বিভাগে ৬৩ রয়েছে। সূত্রমতে, এপ্রিল মাসে ৩৬ বড় ধরনের ডাকাতি ও ৯০ দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও আরও অনেক ডাকাতি ও দস্যুতার ঘটনা ঘটলেও ঝামেলা এড়াতে অনেকেই থানায় অভিযোগ করেনি। ডাকাতি ছাড়াও অপহরণ ৮২, পুলিশ নির্যাতনের ঘটনা ৭৪ ঘটেছে বলে পুলিশ জানায়। মার্চ মাসে সারাদেশে ৩১৬ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রাজধানীতে ২৬, চট্টগ্রামে ১০, চট্টগ্রাম রেঞ্জে (বিভাগ) ৪৪, সিলেট রেঞ্জে (বিভাগ) ৩০, খুলনা রেঞ্জে ৩১, রাজশাহী রেঞ্জে ৫৯ ঘটনা ঘটছে। সবচেয়ে বেশি খুনের ঘটনা রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ঘটেছে। এছাড়াও মার্চ মাসে ৬২ ডাকাতি, ৮৪ দস্যুতার ঘটনা ঘটছে। এমন আরও অনেক ঘটনা রয়েছে তার অভিযোগ থানায় পেঁৗছেনি। আবার কেউ পুলিশি হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে ডাকাতির পর আবার মামলা করতে বা পুলিশকে জানালে লাভ হবে না বলে মামলা করতে অস্বীকার করে। এ কারণে ডাকাতির অনেক মামলা ধামাচাপা পড়ে যায়।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে সারাদেশে ২৮০ খুনের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ঢাকা ২১, ঢাকা বিভাগে ৬৫, চট্টগ্রামে ৭, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৫, রাজশাহী বিভাগে ৬১ খুনের ঘটনা ঘটেছে। একই মাসে সারাদেশে ৬৩ ডাকাতি, ৯৯ দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে। শিশুসহ অপহরণের ঘটনা ৬৩।
গত জানুয়ারি মাসে সারাদেশে ২শ' ৭৮ খুনের ঘটনা ঘটছে। এরমধ্যে রাজধানীতে ২৬ ও ঢাকা বিভাগে ৮৫, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৫, রাজশাহী বিভাগে ৫৩ খুনের ঘটনা ঘটছে। এছাড়াও ডাকাতি ৬৯ ও দস্যুতা ৯৩।
সূত্র জানায়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কারণে বিভিন্ন ইউনিয়নের আধিপত্যের বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সহিংস ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার কারণে সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর, নরসিংদীর বিভিন্ন জেলায় একাধিক রাজনৈতি সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রতিপক্ষের হাতে খুনের ঘটনা ঘটেছে। অন্য জেলাগুলোতে রাজনৈতিক সহিংস ঘটনা বাড়ছে। নির্বাচন নিয়ে প্রতিদিন ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে উত্তেজনা বিরাজ করছে। একপক্ষের ওপর অন্যপক্ষ হামলা করছে। এতে রাজনৈতিক ও আধিপত্যের সংঘাত বাড়ছে। এসব ঘটনার মামলা হয় না। এতে নিরীহ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। আবার পুলিশ আগের চেয়ে বেপরোয়া হয়ে গেছে। যার কারণে জনগণ থানায় গিয়ে আগের মতো সেবা পাচ্ছেন না। পদে পদে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে লক্ষ্মীপুরের দত্তপাড়া ইউনিয়নে নির্বাচনকে সামনে রেখে আনোয়ার বাহিনীর প্রধান আনোয়ার খুন হয়েছে। খুনের ঘটনায় ৩/৪ জন জড়িত বলে স্থানীয় লোকজন ধারণা করছে। কিন্তু নির্বাচন উপলক্ষে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে প্রতিহিংসার কারণে নিরপরাধী অনেককেই আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবার লক্ষ্মীপুর শহরে ইউপি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় মারপিটের ঘটনায় পুলিশ শামীম বাহিনীর প্রধান শামীমকে গ্রেফতার করেছে। ওই ঘটনার সময় শামীমের সঙ্গে একটি অটোরিকশায় ৩-৪ জন ছিল। অথচ সেই মামলায় নিরপরাধী অনেককেই আসামি করা হয়েছে। যারা ঘটনার সময় দেশেও ছিল না। এমন অভিযোগ রয়েছে। এভাবে দেশের বিভিন্ন জেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে নির্বাচনী সহিংস ঘটনা বাড়ছে। এছাড়াও রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সম্ভব্য ওয়ার্ড কমিশনার প্রার্থীরা আতংকে আছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক হত্যাকা- ছাড়াও পারিবারিক কলহসহ নানা কারণে খুনের ঘটনা ঘটছে। ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি থেমে নেই।
গত মঙ্গলবার দিনদুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ব্যবসায়ীকে গুলি করে ১৫ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। এছাড়াও রাজধানীর বিজয়নগর, উত্তরা, গুলশান, যাত্রাবাড়িতে একাধিক ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
এ ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ২-১টি ঘটনা ঘয়েছে। এছাড়াও নির্বাচনের এক প্রার্থীর লোকজন অন্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করে। মোটরসাইকেলে মহড়া চলে। তবে নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনকারীরর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়। ছিনতাই ও খুনের ঘটনায় থানায় মামলা হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান সংবাদকে জানান, অপরাধ এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। অপরাধিদের ধরার জন্য পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত আছে। মাঝে মধ্যে ২-১টি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলে ও তার ক্লু উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।

ইউপি নির্বাচনে সহিংসতাঃ গুলিতে নিহত ২, তিন শতাধিক আহত

উনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হামলা ভাঙচুর গুলি অগি্নসংযোগ ও হতাহতের ঘটনা ঘটেই চলছে। সারাদেশে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত দুইজন, আহত তিন শতাধিক। আটক আটজন। ঝিনাইদহে সংঘর্ষে গুলিবর্ষণ হয়েছে, আহত হয়েছে বিশজন, আটক দুজন। কুড়িগ্রামে ব্যালট পেপার ছিনতাইকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত শতাধিক, আটক পাঁচজন। সরাইলে (ব্রাক্ষণবাড়িয়া) সংঘর্ষে নিহত দুজন, আহত দশজন।

নবীনগরে (ব্রাক্ষণবাড়িয়া) আহত একজন এবং আটক একজন। মুক্তাগাছায় (ময়মনসিংহ) প্রতিপক্ষের বাড়িতে অগি্নসংযোগ করা হয়। সংঘর্ষে আহত হয় সাতজন। দুপক্ষ থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছে। বিরামপুরে (দিনাজপুর) প্রিজাইডিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ করেছে চারজন প্রার্থী। নির্বাচনী সহিংসতায় ও পুলিশের অস্ত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলার গ্রেফতার এড়াতে সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) বর্তমানে পুরুষ শূন্য। ময়মনসিংহে হামলার ঘটনায় দু চেয়ারম্যান প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি মামলা। মুন্সীগঞ্জে দফায় দফায় সংঘর্ষ হামলা ও পাল্টা হামলায় আহত শতাধিক। যশোরের অভয়নগর উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউপি নির্বাচনে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ করেছেন ইউনিয়নের এক চেয়ারম্যান প্রার্থী। দেশের নানা স্থান থেকে আমাদের সংবাদদাতা ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
ঝিনাহদহ : শৈলকুপায় ইউপি নির্বাচনে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু'গ্রুপের সংঘর্ষে বিশজন আহত হয়েছে। এ সময় গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ দুই চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীকে আটক করেছে। সূত্র জানায়, উপজেলার ১১ নং আবাইপুর ইউনিয়নে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান থানা আওয়ামী লীগের সদস্য মোক্তার হোসেন মৃধা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এবং চেয়ারম্যান প্রার্থী আমজাদ হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ দু'গ্রুপে দ্বন্দ্ব রয়েছে। সূত্র জানায়, শনিবার রাতে যুগনী-বাঘিনী গ্রামে আমজাদ হোসেন মোল্লার মিটিংয়ের ওপর প্রতিপক্ষ হামলা চালালে ছয়জন আহত হয়। এর জের ধরে গতকাল সকালে মোল্লার লোকজন হাটফাজিলপুর বাজারে মৃধার নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালালে দুপক্ষে সংঘর্ষ লেগে যায়। এক পর্যায়ে মৃধা একটি বিল্ডিংয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে তিনি লাইলেন্স করা শটগান দিয়ে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গোলা বর্ষণ, ইটপাটকেল ও ঢাল-সড়কির শব্দে বাজার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় আহত হয় বিশজন। আহতের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় দুজনকে ঝিনাইদহ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সংঘর্ষ চলাকালে হাটফাজিলপুর ক্যাম্পের পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। পরে শৈলকুপা থানা ও ঝিনাইদহ থেকে অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ ঘটনাস্থলে পেঁৗছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। শৈলকুপা থানার ওসি ছগির মিয়া জানান, আমজাদ হোসেন মোল্লা ও মোক্তার হোসেন মৃধাকে আটক করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকরা প্রিজাইডিং অফিসারের গতি রোধ করে ব্যালট পেপার ছিনতাই, আনসার সদস্যদের সঙ্গে হাতাহাতি এবং বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকদের মারধর করে। ছিনতাই হয় ব্যালট পেপারের বস্তাসহ তিনটি মোটরসাইকেল। এ সময় পুলিশ ও আনসার সদস্যসহ উভয় পক্ষের শতাধিক আহত হয়। পুলিশ পাঁচজনকে আটক করে। গুরুতর আহত অবস্থায় একজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়।
সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : সরাইলে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় শনিবার উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাইসহ দুজন নিহত ও দশজন আহত হয়েছে। সূত্র জানায়, নির্বাচনের পরাজিত প্রার্থী মো. মনির উদ্দিনের লোকজন সকাল সাড়ে দশটায় উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকউদ্দিন ঠাকুরের বাড়িতে হামলা করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং বাড়ি ও কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করে। হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঠাকুরের ভাই আনিস ঠাকুরকে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত লিলু মিয়া জেলা সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান।
নবীনগর (ব্রাক্ষণবাড়িয়া) : নবীনগর উপজেলার শ্রীরামপুরে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আজহার হোসেন জামালের সহকর্মী নুরু মিয়াকে দা ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। জানা গেছে, শনিবার রাতে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর সহকর্মী নুরু মিয়া মেয়ের বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে শিবির নামক স্থানে পৌঁছলে একই গ্রামের লিজনের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত দা ও চাপাতি দিয়ে তার হাত পা কেটে দেয়। স্থানীয় লোকজন নুরু মিয়াকে নবীনগর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করে। বর্তমানে সে পঙ্গু হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। এই ঘটনায় থানায় মামলা হলে পুলিশ গতকাল জসিম মিয়া নামে একজনকে আটক করেছে।
মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) : মুক্তাগাছার পাঁচ বাশাটী ইউনিয়নে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও প্রার্থীর বাড়িতে অগি্নসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই গ্রুপের সাতজন আহত হয়। থানায় পাল্ট-পাল্টি মামলা হয়েছে। সূত্র জানায়, দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম আকন্দ ও আব্দুল বারী সরকারের সমর্থকদের মধ্যে শনিবার ভোট নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হলে সন্ধ্যায় আকন্দের এক কর্মীকে প্রতিপক্ষের লোকজন মারধর করে। আকন্দের সমর্থকরা শনিবার রাতে প্রতিবাদ মিছিল বের করলে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। উভয়পক্ষের মধ্যে রাত দেড়টা পর্যন্ত বাঁশের লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষের সাতজন আহত হয় এবং বারী সরকারের বাড়িতে অগি্নসংযোগের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মুক্তাগাছা থেকে ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনী গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দুপক্ষ থানায় পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছে।
বিরামপুর (দিনাজপুর) : বিরামপুর উপজেলার চার নং দিওড় ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ করছে চারজন পরাজিত সদস্য পদপ্রার্থী। অভিযোগে বলা হয়, ৫ জুন অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে চার নং দিওড় ইউনিয়নের এক নং ওয়ার্ড রঘুনাথপুর ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সদস্য পদের প্রতিদ্বন্দ্বী মো. সুলতান মাহমুদ মিন্টুর যোগসাজশে ভোট গণনার আগে আমাদের এজেন্টকে হুমকি দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে মিন্টুকে বিজয়ী ঘোষণা করে। প্রতিবাদ করতে সে পুলিশকে দিয়ে আমাদের হুমকি দেয়। যে কারণে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এজেন্টদের স্বাক্ষর ছাড়াই ফলাফল শিট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেন।
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) : সুন্দরগঞ্জে নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় পুলিশের অস্ত্র ছিনতাইয়ের পর অস্ত্র উদ্ধার ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত দুজনকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও দায়েরকৃত মামলায় চলি্লশজন আসামি থাকায় গ্রেফতার আতংকে পুরো একটি গ্রাম এখনও পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। সরজমিনে উপজেলার বজরা কঞ্চিবাড়ীর গয়েসপাড়া এলাকায় দেখা গেছে, প্রতিটি বাড়িতে তালা। মহিলারা জানায়, ৫ জুন পুলিশ ও আনসারদের আহত করে কে বা কারা রাইফেল ছিনতাই করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক চেয়ারম্যানপ্রার্থীসহ দুজনকে আটক করা হলেও এজাহারে নাম অজ্ঞাত থাকায় গ্রামটির পুরুষরা এলাকায় ফিরছে না।
ময়মনসিংহ : ফুলবাড়িয়া উপজেলায় গতকাল ভোরে উপজেলার বালিয়ান ইউনিয়নে আ'লীগ চেয়ারম্যান প্রার্থীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করেছে আ'লীগের অপর চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর চারটার দিকে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মফিজ উদ্দিন ম-ল নির্বাচনী কার্যক্রম শেষে তেলিগ্রাম বাজারে আসার পথে চামার বাজাইল মোড়ে এসে পেঁৗছলে অপর আ'লীগের প্রার্থী মোতালেব সরকারের সমর্থকরা তাকে লাঞ্ছিত করে। এর তিন ঘণ্টা পর ম-লের সমর্থকরা মোতালেব সরকারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। মোতালেব সরকার বাদী হয়ে ফুলবাড়িয়া থানায় সত্তরজনের নামে মামলা দায়ের করেন। অপরদিকে মফিজ উদ্দিন ম-ল বাদী হয়ে আশিজনের নামে মামলা করেন।
মুন্সীগঞ্জ : মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের রাজারচর, সামারচর ও খাসকান্দি এলাকায় রিপন পাটোয়ারী ও শাহ আলম মলি্লকের সমর্থকদের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষ হামলা ও পাল্টা হামলায় আহত হয়েছে শতাধিক। জানা গেছে, ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলা পাল্টা হামলা এখনো অব্যাহত আছে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।
অভয়নগর (যশোর) : অভয়নগর উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউপি নির্বাচনে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লংঘনের লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী বিএম নজরুল ইসলাম। অভিযোগে জানা যায়, অভয়নগর থানার এএসআই জাহাঙ্গীর আলম ওই ইউনিয়নে একজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে সরাসরি নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন। যারা তার কথায় কাজ করতে রাজি হচ্ছেন না, তাদের গালি-গালাজ, হুমকি-ধমকি ও মারপিট করছেন। জাহাঙ্গীর আলম ১০ জুন অপ্রাপ্ত বয়স্ক ইমরান হোসেনকে চশমা প্রতীকের পোস্টার লাগাতে বললে ইমরান অপারগতা প্রকাশ করায় তাকে বেদম মারপিট করে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
 
Support : Dhumketo ধূমকেতু | NewsCtg.Com | KUTUBDIA @ কুতুবদিয়া | eBlog
Copyright © 2013. News 2 Blog 24 - All Rights Reserved
Template Created by Nejam Kutubi Published by Darianagar Publications
Proudly powered by Dhumketo ধূমকেতু