সংস্কারে দলগুলোর ব্যর্থতাই আমার মূল উদ্বেগঃ মইন

Saturday, September 24, 2011

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ১৬ মাস পর হতাশা প্রকাশ করে তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ বলেছিলেন, এত দিন পরও নিজেদের সংস্কারে রাজনৈতিক দলগুলোর ‘ব্যর্থতাই’ তাঁর মূল উদ্বেগ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দুর্নীতি ও অন্যান্য অভিযোগে ইতিমধ্যে আদালতে দোষী সাব্যস্ত ৫৪ জন নেতাকে দলগুলো কেন বহিষ্কার করছে না।
২০০৮ সালের ৬ মে ঢাকায় নিযুক্ত তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টির সঙ্গে বৈঠকে সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ এসব কথা বলেছিলেন বলে উইকিলিকসের ফাঁস করা তারবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে। ৭ মে ওয়াশিংটনে এ কূটনৈতিক তারবার্তাটি পাঠান রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টি।

তারবার্তার ভাষ্যমতে, সেনাপ্রধান মইন রাজনৈতিক দলের প্রত্যাশিত সংস্কার না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করলেও মরিয়ার্টিকে বলেন, কোনো অবস্থাতেই নির্বাচন নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করবে না।
ঢাকাসহ সারা বিশ্বের মার্কিন দূতাবাসের পাঠানো আড়াই লাখ তারবার্তা গত ৩০ আগস্ট ফাঁস করে দিয়েছে ওয়েবসাইট উইকিলিকস।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত সেনাপ্রধানকে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অনেক সংস্কার কার্যক্রম সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে এবং তা রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর কিছুটা চাপ সৃষ্টি করেছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কারের জন্য সময় লাগবে, তবে এটা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোকেও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করতে হবে।
সেনাপ্রধান জানান, রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের আগে ওই দিনই তিনি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে দলগুলোকে সংস্কারে রাজি করানোর জন্য তাঁদের উৎসাহিত করেছেন। কেননা বাংলাদেশ আবার সেই এক-এগারোর আগের অবস্থায় ফিরতে পারে না।
মইন উ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ‘প্রতিবেশী দেশের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়েছে’ এবং তাদের পথ অনুসরণ করতে চায় না। সেনাবাহিনী বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করেনি উল্লেখ করে মইন জানান, এমনকি তিনি নিজেও কোনো মন্ত্রণালয়ে যাননি যাতে কেউ এ কথা না বলতে পারে যে তিনি হস্তক্ষেপ করছেন।
জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, পরাজিত দল যাতে পরে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে, সে জন্য এটা প্রয়োজন।
মইন উ আহমেদ বলেন, প্রধান উপদেষ্টা শিগগিরই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। এ ছাড়া তিনি জরুরি অবস্থা পর্যায়ক্রমে শিথিল করারও ঘোষণা দেবেন।
মইন উ আহমেদ রাষ্ট্রদূতকে বলেন, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন। ‘কোনো পরিস্থিতিতেই’ নির্বাচন এ সময়সীমা অতিক্রম করবে না।
সেনাপ্রধান আরও বলেন, আসন্ন রাজনৈতিক সংলাপে সেনাবাহিনীকেও অংশ নেওয়ার জন্য বিভিন্ন পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে কিন্তু তা সত্ত্বেও সেনাবাহিনী এ প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে না। এটা বেসামরিক উপদেষ্টাদের কাজ।

পুলিশ ছিল মারমুখো

Monday, June 13, 2011

বিএনপি-জামায়াতের টানা ৩৬ ঘণ্টা হরতালের প্রথম দিনে পুলিশ ছিল মারমুখো। ব্যাপক ধরপাকড়, পুলিশি অ্যাকশন আর ভ্রাম্যমাণ আদালতের ত্বরিত সাজার মধ্যে আতঙ্ক ছিল সর্বত্র। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মারমুখো অবস্থানের কারণে রাস্তাতেই নামতে পারেনি হরতালকারীরা। বিভিন্ন স্থানে হরতালের পক্ষে বিক্ষিপ্ত মিছিল-সমাবেশ ও পিকেটিং হলেও পুলিশি অ্যাকশনে নাজেহাল হতে হয়েছে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের। রাজধানীতে পিকেটিং করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন বিএনপির দুই ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ।


এ ছাড়াও হরতাল চলাকালে সাবেক দুই এমপি আবুল হোসেন খান ও কাজী সেকান্দার আলী ডালিম, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সভানেত্রী নুরে আরা সাফা, বিএনপির গবেষণা সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, যুবদল কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আবদুস সালাম আজাদ, মাহবুবুল ইসলাম স্বপন ও কৃষকদল নেতা শাহজাহান মিয়া সম্রাটসহ সারাদেশে ৭ শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার ও অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয়ার অভিযোগ করেছে বিএনপি।
হরতালে পিকেটিং করতে গিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জে বরেণ্য সাংস্কৃতিক কর্মী গাজী মাযহারুল আনোয়ার, আবু সালেহ, মনির খান, রিজিয়া পারভিন, বেবি নাজনীনসহ সারাদেশে আহত হয়েছেন কয়েক শ। রাজধানীর রাজপথ ছিল অনেকটাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দখলে। সেই সঙ্গে নগরীর অলি-গলিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। টানা হরতালে গতকাল রাজধানীতে সীমিত সংখ্যক যান চলাচল করলেও ছাড়েনি কোন দূরপাল্লার বাস। ঢাকার রাস্তায় বিআরটিসিসহ গণপরিবহনের দু’একটি বাস চললেও তাতে যাত্রী সংখ্যা ছিল কম। হরতালে ট্রেন, লঞ্চ ও বিমান চলাচল ছিল স্বাভাবিক। তবে লঞ্চ এবং ট্রেনে যাত্রী ছিল কম। অফিস-আদালতে কার্যক্রম চললেও উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের স্থলবন্দরগুলোতে পণ্য খালাস হলেও ট্রাক না চলায় অধিকাংশ বন্দর থেকেই পণ্য বের করা যায়নি। গতকাল রাজধানীতে তেমন কোন সহিংস ঘটনা না ঘটলেও মিরপুরে দুটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
আলতাফ চৌধুরী ও মেজর (অব.) হাফিজ গ্রেপ্তার : সকাল ১০টার দিকে মহাখালীতে গ্রেপ্তার হন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও পানিসম্পদ মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম। পিকেটিংয়ের সময় মহাখালীতে এ দুই নেতার পাশাপাশি আরও ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গুলশান থানার ওসি শাহ আলম জানান, যান চলাচলে বাধা দেয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সকাল থেকে ওই এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীরা পিকেটিংয়ের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। দুপুর পর্যন্ত এ এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে।
মিরপুরে ২ গাড়িতে অগ্নিসংযোগ: গতকাল সকালেই মিরপুরে কে বা কারা দুটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এ ছাড়া হরতাল চলাকালে ওই এলাকায় ৪টি বোমা এবং একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তি দেয়া হয় ৬ জামায়াত কর্মীকে। জানা যায়, পল্লবীর ৬ নম্বর সেকশনের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক মোড়ে বেলা আড়াইটার দিকে রাস্তার খালি জায়গায় ৪টি বোমা বিস্ফোরিত হয়। এতে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রুবেল এবং শামীম নামে ২ জনকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে সকাল ৮টার দিকে পল্লবী থানা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি মিরপুর সাড়ে ১১ তে অনিক প্লাজার সামনে এলে পুলিশ মিছিলে বাধা দেয়। শুরু হয় দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৬ জামায়াত কর্মীকে আটক করে। এরা হলেন- আমিরুল মুমেনিন, আল ফাত্তাহ হাবিবুল্লাহ, জাহাঙ্গীর আলম, হুসেইন আহমেদ, জামাল উদ্দিন এবং নূরুল আমিন। পল্লবী থানার ওসি শাহাবুদ্দিন খলিফা জানান, পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ার আভিযোগে ৬ জামায়াত কর্মীকে গ্রেপ্তার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। মিরপুর ১৩ নম্বর সেকশনস্থ আয়ুর্বেদিক কলেজের পাশে পার্কিংরত মাই লাইনের ঢাকা মেট্টো ব ১১-২৮২৫ নম্বরের গাড়িতে ভোর ৫টার দিকে আগুন দেয় কে বা কারা। ফায়ার সার্ভিস মিরপুর ইউনিটের একটি গাড়ি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। গাড়ির মালিক ফরিদ উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে কাফরুল থানায় একটি মামলা করেছেন। একই সময়ে অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা অয়ুর্বেদিক কলেজের পাশে একটি গাড়িতে আগুন দেয়। গাড়ি নম্বর ঢাকা মেট্টো ব ১৪-০৭৭৩। গাড়িটি কৃষি ব্যাংক মতিঝিল শাখার স্টাফ বহনকারী। এ বিষয়ে গাড়ির মালিক আব্দুল কাদের বাদী হয়ে কাফরুল থানায় একটি মামলা করেছেন। দারুস সালাম থানা পুলিশ জানান, ১ নম্বর সেকশনের চাইনিজ রেস্টুরেন্টের সামনে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কে বা কারা একটি ককটেল নিক্ষেপ করে। এতে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
সারাদেশে গ্রেপ্তার ৭ শতাধিক: মতিঝিলে সাবেক এমপি আবুল হোসেনসহ ৭ জন, হাইকোর্ট এলাকায় এডভোকেট শরিফউদ্দিন ও নয়ন বাঙালিসহ ১৭ জন, নয়াপল্টনে ১৬ জন, রামপুরায় জাসাস নেতা সোহেলসহ ১১ জন, গুলিস্তানে যুবদল নেতা বেলালসহ ৬ জন, সবুজবাগে ৮ জন, লালবাগে ১৪ জন, শাহ আলীতে ১৩ জন, খিলক্ষেতে স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা সুজনসহ ১৭ জন, পল্লবীতে আজাদ হোসেনসহ ১১ জন, শেরে বাংলায় ১৫ জন, গুলশানে ৬ জন, মহাখালীতে ১৯ জন, সেগুনবাগিচায় বিএনপি নেতা আমির হোসেনসহ ১৭ জন, কেরানীগঞ্জে যুবদল নেতা আরিফ খানসহ ২৫ জন, খুলনা মহানগরে সাবেক এমপি কাজী সেকান্দার আলী ডালিম ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদিসহ ৩০ জন, চট্টগ্রাম মহানগরে মহিলা দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী জেলী চৌধুরীসহ ৩১ জন, হবিগঞ্জে ছাত্রদল নেতা হারিছ চৌধুরীসহ ৯ জন, নীলফামারীতে যুবদল নেতা আতাউর রহমান পাপ্পুসহ ১৩ জন, ময়মনসিংহে ১৬ জন, কিশোরগঞ্জে ৯ জন, বগুড়ায় ১৫ জন, বরিশালে ১৫ জন, পটুয়াখালীতে ১৩ জন, চট্টগ্রাম উত্তরে ১২ জন, কুমিল্লা দক্ষিণে ১১ জন, পিরোজপুরে ১৯ জন, মাদারীপুরে ১৭ জন, বরগুনায় ১৩ জন ও জয়পুরহাটে ৬ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া র‌্যাবের হামলায় হবিগঞ্জে কৃষক দলনেতা ইলিয়াস ও শহীদ মিয়াসহ ৪০ জন আহত হয়েছে।
লাঠিচার্জে আহত একঝাঁক সাংস্কৃতিক তারকা: হরতালের সমর্থনে মিছিল করার সময় পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হয়েছেন একঝাঁক সাংস্কৃতিক তারকা। রাজধানীর এফডিসি এলাকায় পুলিশের লাঠিচার্জে বিএনপির সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক কাজী মাযহারুল আনোয়ার, জাসাস সভাপতি এমএ মালেক, সাধারণ সম্পাদক কণ্ঠশিল্পী মনির খান, বাংলা একাডেমী পুরস্কারপ্রাপ্ত ছড়াকার আবু সালেহ, কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভিন, চিত্রনায়ক অমিত হাসানসহ প্রায় ৪০ জন সাংস্কৃতিক কর্মী আহত হন। এর মধ্যে গুরুতর আহত আবু সালেহকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় লাঠিচার্জের দৃশ্যধারণ করতে গিয়ে লাঠিচার্জের শিকার হয়েছেন বাংলাভিশনের একজন ক্যামেরাম্যান।
অবরুদ্ধ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়: ৩৬ ঘণ্টা হরতালের প্রথম প্রহর থেকে অবরুদ্ধ ছিল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়। র‌্যাব-পুলিশের মারমুখো অবস্থানে কোণঠাসা ছিল বিএনপির নেতাকর্মীরা। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা সবাই দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন। আগে থেকেই কার্যালয়ে ছিলেন দপ্তর সম্পাদকসহ আরও কয়েকজন নেতা। তবে পরবর্তীতে বাইরে থেকে কোন নেতাকর্মীকে কার্যালয়ে ঢুকতে বা বেরোতে দেয়া হয়নি। পুলিশ আশপাশের এলাকা থেকে বিএনপি কর্মী সন্দেহে দিনভর অন্তত ৩৫ জনকে আটক করে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, মহিলা দলের সভাপতি নুরী আরা সাফা, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম আজাদ ও কৃষক দলের শাহজাহান মিয়া সম্রাট। এর আগে সকাল ৬টার পর মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দিনের প্রথম মিছিল বের করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। বাগবিতণ্ডা থামাতে গিয়ে মির্জা ফখরুল মাটিতে পড়ে যান এবং ডান হাতে ব্যথা পান। পুলিশ এ সময় সেখান থেকে ৮ নেতাকর্মীকে আটক করে। এর কিছু সময় পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মিছিলে বাধা ও গ্রেপ্তার অব্যাহত থাকলে লাগাতার হরতালের হুমকি দিয়ে বলেন, পুলিশ যেভাবে আমাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে, তা চলতে থাকলে প্রয়োজনে আমরা ৭২ ঘণ্টা ও ৭ দিনের হরতাল দিতে বাধ্য হব। তিনি বলেন, কোন ধরনের পিকেটিং ছাড়াই জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনে হরতাল পালিত হচ্ছে। সকাল ৯টার দিকে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের একজন ম্যাজিস্ট্রেট। পৌনে ১১টার দিকে মহিলা দলের সভাপতি নুরী আরা সাফা দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করতে চাইলে তাকে আটক করে পুলিশ। তাকে টেনে-হিঁচড়ে গাড়িতে তোলার দৃশ্যের ছবি তোলার সময় সাংবাদিকদের বাধা দেয় সাদা পোশাকধারী পুলিশ। এ সময় বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ। এ নিয়ে প্রতিবাদ করেন সাংবাদিকরা। পুরো দিনে বিএনপি কার্যালয়ের আশপাশে ৬টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। সকাল সোয়া ৮টায় ফকিরাপুল মোড়ের কাছে ৩টি, সোয়া ১১টার দিকে মহানগর কার্যালয়ের ছাদে দু’টি ও দুপুর সোয়া ১টায় পার্টি অফিসের সামনে ফের আরেকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এদিকে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কাকরাইল মোড় থেকে যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের করার চেষ্টা করে যুবদল।
পুরান ঢাকার চিত্র: ৩৬ ঘণ্টা হরতালের প্রথম দিনে রাজধানীর পুরান ঢাকার আদালতপাড়া ও সদরঘাট এলাকায় হরতালের পক্ষে-বিপক্ষে কয়েকটি মিছিল ছাড়া উল্লেখযোগ্য তেমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে দুপুরে জজকোর্টের পূর্ব পাশের মূল গেটে দু’টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। রাস্তায় যানবাহন চলাচল করলেও সংখ্যায় ছিল অনেক কম। সকালে হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল বের করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। আদালতের ভেতর থেকে তারা মিছিল নিয়ে রাস্তায় বের হতে চাইলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এ ছাড়া হরতালের পক্ষে কোন পিকেটারকেও রাস্তায় দেখা যায়নি। পুরো এলাকার মোড়ে মোড়ে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন ছিল। সকাল ১১টায় সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে জাতীয় ঘাট শ্রমিক লীগ হরতালের বিপক্ষে একটি মিছিল বের করে। তাদের এক ঘণ্টা পরে হরতালের পক্ষে আরেকটি মিছিল বের করে জাতীয়তাবাদী ঘাট শ্রমিক দল। তবে পুলিশি বাধার মুখে টার্মিনালের গেটেই তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। দুপুর ১২টায় হরতালের বিপক্ষে একটি মিছিল বের করে সরকারি কবি নজরুল কলেজ শাখা ছাত্রলীগ। সাড়ে ১২টায় আদালতের ভেতরে হরতালের সমর্থনে পুনরায় মিছিল বের করেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আইনজীবিরা। দুপুর ১টায় জজকোর্টের মেইন গেটের পূর্ব পাশে ন্যাশনাল হাসপাতালের গেটে হঠাৎ করে দু’টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এতে কেউ আহত হয়নি। কোতোয়ালি জোনের (এসি) কামরুজ্জামান বলেন, নাশকতা ঘটানোর উদ্দেশ্যে পিকেটাররা দুটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এদিকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানের উদ্দেশ্যে যথারীতি লঞ্চ চলাচল করেছে। তবে রাস্তায় যানবাহন কম থাকায় নৌ যাত্রীর সংখ্যাও অনেক কম ছিল। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের ৩ নং গেটে টিকিট বিক্রেতা আবুল খায়ের জানান, অন্যান্য দিনের তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা খুবই কম। চার ভাগের এশ ভাগ যাত্রীও নেই। ঘাটের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মাহফুজ মিয়া বলেন, কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে যাত্রী না থাকায় অনেক রুটে কোন লঞ্চ-স্টিমার ছাড়েনি।
হাইকোর্ট এলাকায় মিছিল সমাবেশ: হরতালের প্রথম দিন হাইকোর্ট এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা। হরতাল হওয়ায় আদালতের বিচারিক কার্যক্রমও চলেনি। হরতালের সমর্থনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ও ইসলামিক ল’ইয়ার্স কাউন্সিল বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে সুপ্রিম কোর্টের বাইরে যেতে চাইলে প্রধান গেটের সামনে পুলিশ বাধা দেয়। এতে পুলিশের সঙ্গে আইনজীবীদের বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের এডিসি (রমনা) নুরুল ইসলাম বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবীকে গুলি করে হত্যা ও গায়ের চামড়া খুলে নেয়ার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। পরে আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার সভাপতিত্বে আইনজীবীরা প্রধান গেটের পাশে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, জয়নুল আবেদীন প্রমুখ। ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, সরকারের অন্যায় ও দেশবিরোধী কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বা হরতাল পালন করা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু সরকার আমাদের সেই সাংবিধানিক অধিকার হরণ করছে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সরকারের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে তারা পুলিশি রাষ্ট্র কায়েম করেছে। হরতালে বাধা দিয়ে আমাদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হয়রানি ও নির্যাতন করছে। মিছিল সমাবেশ করার সময় হাইকোর্ট এলাকা থেকে তিন আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরা হলেন শরিফ ইউ আহমেদ, তাজুল ইসলাম মামীম ও নয়ন বাঙালি।
ঢাবি এলাকা: হরতাল চলকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মাজারের সামনে দুপুরে ২টি ককটেল বোমা বিস্ফোরিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশ এলাকায় বলতে গেলে শান্তিপূর্ণভাবেই হরতাল পালিত হয়েছে। ক্যাম্পাসসহ নীলক্ষেত, ঢাকা কলেজ, কাঁটাবন ও শাহবাগ এলাকায় হরতালের পক্ষে কোন মিছিল হয়নি। ছাত্রদলের কাউকেই ওইসব এলাকায় দেখা যায়নি। অথচ কেন্দ্রীয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার স্পট ছিল যথাক্রমে শাহবাগ এবং ক্যাম্পাস। তবে হরতালের বিপক্ষে দু’টি মিছিল হয়েছে। একটি বের করে কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ যৌথভাবে। অন্যটি বের করে ইডেন শাখা ছাত্রলীগ। এছাড়া হরতালের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন পরীক্ষা হয়নি। নিজস্ব পরিবহন চলেনি। তবে অফিস ও লাইব্রেরি খোলা থাকলেও তাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। হরতালের বিপক্ষে দুপুরের দিকে প্রথম মিছিলটি বের হয় নীলক্ষেত এলাকায়। ইডেন কলেজের ছাত্রলীগ আহ্বায়ক নিঝুমের নেতৃত্বে ওই মিছিল আশপাশ এলাকা প্রদক্ষিণ করে।
শতাধিক জামায়াত-শিবির কর্মী গ্রেপ্তার
৩৬ ঘণ্টা লাগাতার হরতাল পালনের প্রথম দিন গতকাল রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষিপ্ত মিছিল সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। এতে পুলিশ শতাধিক জামায়াত-শিবির কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ ও সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের হামলায় প্রায় অর্ধশত শিবির কর্মী আহত হয়েছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৮ শিবির কর্মীকে তাৎক্ষণিক সাজা দিয়েছে। গতকাল বিকালে বড় মগবাজার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, স্বৈরাচার আইয়ুব খানকে অনুসরণ করে শেখ হাসিনা সরকারবিরোধী দলের নেতাকর্মীদের দমন-পীড়ন করছে। আতংক সৃষ্টির জন্য বিরোধী দলীয় কর্মীদের গ্রেপ্তার করে সঙ্গে সঙ্গে সাজা দিচ্ছে। এতে অনেক নিরীহ লোক বা পথচারীও হয়রানির শিকার হচ্ছে। যা আইনের শাসনের পরিপন্থি। তিনি বলেন, কোন গণতান্ত্রিক দেশে এ ধরনের আদালত ও সাজা প্রদান গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। গতকাল সকালে রাজধানীর ধোলাইরপাড় এলাকায় জামায়াতের একটি বিক্ষোভ মিছিলে যুবলীগের হামলায় ৯ জন আহত হয় দাবি করে আজহার বলেন, পুলিশের ছত্রছায়ায় তারা হামলা চালিয়ে আহত করার পরও জামায়াতের ২ কর্মীকে আটক করা হয়। তিনি বলেন, যতই নির্যাতন-নিপীড়ন চালাক গণবিস্ফোরণে এ সরকারের পতন হবে। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুল ইসলাম, প্রচার সেক্রেটারি অধ্যাপক তাসনীম আলম, ঢাকা মহানগর আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সহকারী সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম বুলবুল, শিবিরের সাবেক সভাপতি ড. রেজাউল করিম সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ।
এদিকে হরতাল চলাকালে গতকাল রাজধানীর কমপক্ষে ১২টি স্পটে বিক্ষিপ্ত মিছিল সমাবেশ করেছে জামায়াত। তবে পুলিশ ও প্রতিপক্ষের হামলার ভয়ে এসব মিছিল সমাবেশের স্থায়িত্ব ছিল কয়েক মিনিট। সকালে শ্যামপুর থানার উদ্যোগে হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন থানা আমীর আ জ ম রুহুল কুদ্দুস, কদমতলী থানা কর্মপরিষদ সদস্য মনির হোসাইন। মিছিলটি যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা থেকে শুরু হয়ে ধোলাইরপাড় যাওয়ার পথে ছাত্রলীগ নামধারী একদল যুবক মিছিলে হামলা চালায়। এতে থানা আমীর আ জ ম রুহুল কুদ্দুসসহ ৮ জন নেতাকর্মী আহত হন। ছাত্রলীগের কর্মীরা দু’জামায়াত নেতা-কর্মীকে ধরে নিয়ে প্রচণ্ড মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায় একই সময় পল্টন থানার উদ্যোগে হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন থানা আমীর অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন, শাহবাগ থানা আমীর এডভোকেট হেলাল উদ্দিন, পল্টন থানা সেক্রেটারি সাখাওয়াত হোসাইন। মিছিলটি ফকিরাপুল পানির ট্যাংকি থেকে শুরু হয়ে দৈনিক বাংলা হয়ে ফকিরাপুল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় পুলিশ বা প্রতিপক্ষ কোন কর্মী ধারে কাছে না থাকায় কোন অঘটন ঘটেনি। বংশাল থানার উদ্যোগে হরতালের সমর্থনে গুলিস্তানে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন ঢাকা মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম ভূইয়া ও বংশাল থানা আমীর এস এম রুহুল আমীন। মিছিলটি ফুলবাড়িয়া থেকে শুরু করে প্‌বার্শবর্তী সড়কে গিয়ে শেষ হয়। হাজারীবাগ থানা আমীর শেখ শরীফ উদ্দিন আহমদ, সেক্রেটারি আবদুল বারী আকন্দ, শিবিরের থানা সভাপতি নজরুল ইসালমের নেতৃত্বে হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি ট্যানারি মোড় তল্লাবাগ থেকে টালি অফিস রোড, বাংলা সড়ক, রায়েরবাজার হাইস্কুল, ১৫ নং স্টাফ কোয়ার্টার হয়ে ধানমন্ডি ১৫নং বাসস্টান্ডে গিয়ে শেষ হয়। গুলশান থানার উদ্যোগে হরতালের সমর্থনে মহাখালীতে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন গুলশান থানা আমীর এ আর এম মনির, থানা কর্মপরিষদ সদস্য সাইফুল ইসলাম ও জামায়াত নেতা নেছারউদ্দিন, মহানগরী উত্তর শিবির নেতা মিজানুর রহমান খান, গুশলান থানা শিবির সভাপতি মিজানুর রহমান, তিতুমীর কলেজ সভাপতি মো. রাসেল ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি হাচান মো. ইউসুফ। মিছিলটি মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে রেলগেট দিয়ে মহাখালী দক্ষিণ গেটে গিয়ে শেষ হয়। সূত্রাপুর থানার উদ্যোগে হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন থানা কর্মপরিষদ সদস্য রেজাউর রহমান খান, মো. কামরুল আহসান হাসান, ছাত্রশিবির মহানগরী দক্ষিণ সেক্রেটারি শাহ মু. মাহফুজুল হক, ছাত্রনেতা সাদেক বিল্লাহ, মিজানুর রহমান, মু. আবু ইউসুফ, শিহাব উদ্দিন, ইমতিয়াজ হোসেন, জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ মাহমুদ বাবুল, মাওলানা রফিকুল ইসলাম, নূরুল ইসলাম, আব্দুর রশিদ প্রমুখ। রমনা থানা আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, থানা সেক্রেটারি ড. মু. রেজাউল করিম, রমনা থানা শিবির সভাপতি রওশন আহমেদের নেতৃত্বে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বেইলি রোড থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হয়। মীরপুর ও কাফরুল থানার যৌথ উদ্যোগে হরতালের সমর্থনে ১০ নম্বর গোলচত্বরে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন কাফরুল থানা আমীর লস্কর মোহাম্মদ তাসলীম, থানা সেক্রেটারি অধ্যাপক আনোয়ারুল করিম, মিরপুর পূর্ব থানা সেক্রেটারি মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ, জামায়াত নেতা আলাউদ্দিন মোল্লা ও আবদুল মতিন খান, শিবির নেতা সোহেল। মিছিলটি মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে শুরু হয়ে কাজীপাড়া গিয়ে শেষ হয়। যাত্রাবাড়ী থানার উদ্যোগে হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন যাত্রাবাড়ী থানা আমীর আবদুস সবুর ফকির, থানা সেক্রেটারি মাহমুদ হোসাইন, জামায়াত নেতা নাজির আহমেদ ভূঁইয়া ও সিরাজুল ইসলাম, শিবির মহানগরী দক্ষিনের সভাপতি হাফেজ জহির উদ্দিন ও সেক্রেটারি শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, যাত্রাবাড়ী থানা সভাপতি মাঈন উদ্দিন প্রমুখ। মিছিলটি শহীদ ফারুক সড়ক থেকে শুরু হয়ে দয়াগঞ্জ দিয়ে ধোলাইরপাড় গিয়ে শেষ হয়। আদাবর ও মোহাম্মদপুর থানার যৌথ উদ্যোগে হরতালের সমর্থনে শ্যামলীতে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন মোহাম্মদপুর থানা আমীর মাওলানা রফিক আহমদ, আদাবর থানা আমীর দেলোয়ার হোসাইন, সেক্রেটারী আ ন ম হাসান নোমান, মহানগরী পশ্চিম সেক্রেটারি সাজ্জাদ হোসাইন ও জামায়াত নেতা আলী আকরাম মোহাম্মদ ওজায়ের প্রমুখ। মিছিলটি তাজমহল রোড থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। খিলগাঁও থানার উদ্যোগে হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য কবির আহমদ, খিলগাঁও থানা সেক্রেটারি সগির বিন সাঈদ, শিবির নেতা আবদুল কাদের ও আশরাফুল ইসলাম। মিছিলটি খিলগাঁও তিলপাপাড়া থেকে শুরু হয়ে সিটি করপোরেশন অফিসের কাছে গিয়ে শেষ হয়। পল্লবী থানার উদ্যোগে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করতে গেলে পুলিশ মিছিলকারীদের ব্যানার ছিনিয়ে নেয় এবং ৬ জন জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- জাহাঙ্গীর আলম, নুরুল আমীন, জামালউদ্দিন, হাবিবুল্লাহ, হাফেজ হোসাইন মাহমুদ ও আমিরুল মুমিনিন।

রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব কোন্দল ৫ মাসে ১৫শ' খুন

রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-কোন্দল আর প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। গত ৫ মাসেই সারাদেশে খুন হয়েছেন ১৫'শ জন। ঘটেছে একাধিক রাজনৈতিক সহিংস ঘটনাও। এসব ঘটনায় জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে এসব ঘটনা পুলিশকে জানাতে গিয়েও হয়রানির শিকার হচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। ফলে অভিযোগ ও মামলা করতে এক ধরনের অনীহা দেখা দিয়েছে অনেকের মধ্যেই। এ তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

তবে পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার সংবাদ'কে জানিয়েছেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইউপি নির্বাচনে ২/১টি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে। এখন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়েও ভালো বলে মন্তব্য বরেছেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মে মাসে সারাদেশে ৩২৫ জন খুন হয়েছেন। এরমধ্যে রাজধানীতে ২৩, চট্টগ্রাম শহরে ৫, খুলনা শহরে ৩, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট শহরে ১, ঢাকা বিভাগে ৯৫, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৫, সিলেট বিভাগে ২৬, খুলনায় ৩৪, রাজশাহী বিভাগে ৩৮ রয়েছে। এছাড়াও মে মাসে বড় ধরনের ডাকাতির ঘটনা ৫১, দস্যুতা ৮৭, অপহরণ ৬৫, চুরি সাড়ে ৭শ', অন্য অপরাধ ৭ হাজার ১শ৩৫, চোরাচালানী ৪শ'র বেশি। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এপ্রিল মাসে সারাদেশে ৩২৭ খুনের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ঢাকায় (শহরে) ২২, চট্টগ্রাম শহরে ৮, খুলনা, রাজশাহী বরিশালে ৬, সিলেটে ৩, ঢাকা বিভাগে ১০৭, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৬, সিলেট বিভাগে ১৯ জন, খুলনা বিভাগে ৩৯, রাজশাহী বিভাগে ৬৩ রয়েছে। সূত্রমতে, এপ্রিল মাসে ৩৬ বড় ধরনের ডাকাতি ও ৯০ দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও আরও অনেক ডাকাতি ও দস্যুতার ঘটনা ঘটলেও ঝামেলা এড়াতে অনেকেই থানায় অভিযোগ করেনি। ডাকাতি ছাড়াও অপহরণ ৮২, পুলিশ নির্যাতনের ঘটনা ৭৪ ঘটেছে বলে পুলিশ জানায়। মার্চ মাসে সারাদেশে ৩১৬ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রাজধানীতে ২৬, চট্টগ্রামে ১০, চট্টগ্রাম রেঞ্জে (বিভাগ) ৪৪, সিলেট রেঞ্জে (বিভাগ) ৩০, খুলনা রেঞ্জে ৩১, রাজশাহী রেঞ্জে ৫৯ ঘটনা ঘটছে। সবচেয়ে বেশি খুনের ঘটনা রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ঘটেছে। এছাড়াও মার্চ মাসে ৬২ ডাকাতি, ৮৪ দস্যুতার ঘটনা ঘটছে। এমন আরও অনেক ঘটনা রয়েছে তার অভিযোগ থানায় পেঁৗছেনি। আবার কেউ পুলিশি হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে ডাকাতির পর আবার মামলা করতে বা পুলিশকে জানালে লাভ হবে না বলে মামলা করতে অস্বীকার করে। এ কারণে ডাকাতির অনেক মামলা ধামাচাপা পড়ে যায়।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে সারাদেশে ২৮০ খুনের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ঢাকা ২১, ঢাকা বিভাগে ৬৫, চট্টগ্রামে ৭, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৫, রাজশাহী বিভাগে ৬১ খুনের ঘটনা ঘটেছে। একই মাসে সারাদেশে ৬৩ ডাকাতি, ৯৯ দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে। শিশুসহ অপহরণের ঘটনা ৬৩।
গত জানুয়ারি মাসে সারাদেশে ২শ' ৭৮ খুনের ঘটনা ঘটছে। এরমধ্যে রাজধানীতে ২৬ ও ঢাকা বিভাগে ৮৫, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৫, রাজশাহী বিভাগে ৫৩ খুনের ঘটনা ঘটছে। এছাড়াও ডাকাতি ৬৯ ও দস্যুতা ৯৩।
সূত্র জানায়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কারণে বিভিন্ন ইউনিয়নের আধিপত্যের বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সহিংস ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার কারণে সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর, নরসিংদীর বিভিন্ন জেলায় একাধিক রাজনৈতি সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রতিপক্ষের হাতে খুনের ঘটনা ঘটেছে। অন্য জেলাগুলোতে রাজনৈতিক সহিংস ঘটনা বাড়ছে। নির্বাচন নিয়ে প্রতিদিন ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে উত্তেজনা বিরাজ করছে। একপক্ষের ওপর অন্যপক্ষ হামলা করছে। এতে রাজনৈতিক ও আধিপত্যের সংঘাত বাড়ছে। এসব ঘটনার মামলা হয় না। এতে নিরীহ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। আবার পুলিশ আগের চেয়ে বেপরোয়া হয়ে গেছে। যার কারণে জনগণ থানায় গিয়ে আগের মতো সেবা পাচ্ছেন না। পদে পদে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে লক্ষ্মীপুরের দত্তপাড়া ইউনিয়নে নির্বাচনকে সামনে রেখে আনোয়ার বাহিনীর প্রধান আনোয়ার খুন হয়েছে। খুনের ঘটনায় ৩/৪ জন জড়িত বলে স্থানীয় লোকজন ধারণা করছে। কিন্তু নির্বাচন উপলক্ষে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে প্রতিহিংসার কারণে নিরপরাধী অনেককেই আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবার লক্ষ্মীপুর শহরে ইউপি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় মারপিটের ঘটনায় পুলিশ শামীম বাহিনীর প্রধান শামীমকে গ্রেফতার করেছে। ওই ঘটনার সময় শামীমের সঙ্গে একটি অটোরিকশায় ৩-৪ জন ছিল। অথচ সেই মামলায় নিরপরাধী অনেককেই আসামি করা হয়েছে। যারা ঘটনার সময় দেশেও ছিল না। এমন অভিযোগ রয়েছে। এভাবে দেশের বিভিন্ন জেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে নির্বাচনী সহিংস ঘটনা বাড়ছে। এছাড়াও রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সম্ভব্য ওয়ার্ড কমিশনার প্রার্থীরা আতংকে আছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক হত্যাকা- ছাড়াও পারিবারিক কলহসহ নানা কারণে খুনের ঘটনা ঘটছে। ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি থেমে নেই।
গত মঙ্গলবার দিনদুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ব্যবসায়ীকে গুলি করে ১৫ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। এছাড়াও রাজধানীর বিজয়নগর, উত্তরা, গুলশান, যাত্রাবাড়িতে একাধিক ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
এ ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ২-১টি ঘটনা ঘয়েছে। এছাড়াও নির্বাচনের এক প্রার্থীর লোকজন অন্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করে। মোটরসাইকেলে মহড়া চলে। তবে নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনকারীরর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়। ছিনতাই ও খুনের ঘটনায় থানায় মামলা হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান সংবাদকে জানান, অপরাধ এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। অপরাধিদের ধরার জন্য পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত আছে। মাঝে মধ্যে ২-১টি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলে ও তার ক্লু উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।

আলতাফ ও হাফিজ গ্রেপ্তার, অসহায় মানুষ, আতঙ্কে হরতালকারীরা

Sunday, June 12, 2011

বিএনপি ও জামায়াতের খুব বেশি নেতা-কর্মী রাজপথে ছিলেন না। কারণ, ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয়। যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা স্বাভাবিকভাবে মিছিল-পিকেটিং করতে পারেননি। কারণ, র্যাব-পুলিশের অবস্থান ছিল কঠোর। রাজধানী ঢাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল ছিল না। দোকানপাট ছিল বন্ধ। তবে রিকশা, কিছুসংখ্যক অটোরিকশা, হিউম্যান হলার, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাস চলাচল করেছে।

বিএনপি-জামায়াতের ডাকে ৩৬ ঘণ্টার টানা হরতালের প্রথম দিন গতকাল রোববারের সংক্ষিপ্ত চিত্র ছিল এমনই। আজ সোমবার সন্ধ্যা ছয়টায় এ কর্মসূচি শেষ হবে।
এরই মধ্যে চিকিৎসা, ব্যক্তিগত বা পেশাগত জরুরি কাজে যাঁদের বাইরে বেরোতে হয়েছে, তাঁদের দুর্ভোগের কোনো সীমা ছিল না। পরিবহনের অভাবে দীর্ঘ সময় বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে তাঁদের। অনেকে বেশি ভাড়া দিয়ে রিকশা বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাতায়াত করেছেন।
হরতালের প্রথম দিনে গতকাল পুলিশ ও হরতাল-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে শতাধিক আহত হয়েছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে ৫৮ জনের। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির দুই ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ রয়েছেন। গাড়ি পোড়ানোর মামলায় রাতে তাঁদের দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
রাত ১২টায় গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম প্রথম আলোকে বলেন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও হাফিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট থানায় রয়েছেন।
একতরফাভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল, সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস মুছে ফেলা, মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সুসম্পর্কের ধারা বিলুপ্তির অপচেষ্টা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির তীব্র সংকট, শেয়ার-বাজার ধস ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অর্থ লুণ্ঠনের অভিযোগ তুলে দল দুটি এ হরতাল ডেকেছে। বিএনপি-জামায়াতের পাশাপাশি কয়েকটি ধর্মভিত্তিক সংগঠনের মোর্চা সম্মিলিত উলামা-মাশায়েখ পরিষদও হরতালে সমর্থন দেয়।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়: হরতালের প্রথম প্রহর থেকে অবরুদ্ধ ছিল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ২০ জনের মতো কেন্দ্রীয় নেতা দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন। বাইরে থেকে কোনো নেতা-কর্মীকে সেখানে যেতে দেয়নি পুলিশ। আশপাশের এলাকা থেকে বিএনপির কর্মী সন্দেহে সারা দিনে অন্তত ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুর রহমান, মহিলা দলের সভাপতি নূরী আরা সাফা, যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুস সালাম আজাদ, কৃষক দলের শাহজাহান মিয়া প্রমুখ।
সকাল ছয়টার পর মির্জা ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দিনের প্রথম মিছিল বের করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। এখানে জয়নুল আবদিন ফারুকের সঙ্গে পুলিশের বাগিবতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। থামাতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম মাটিতে পড়ে যান এবং ডান হাতে ব্যথা পান। পুলিশ সেখান থেকে আট নেতা-কর্মীকে আটক করে।
কিছুক্ষণ পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মিছিলে বাধা ও গ্রেপ্তার অব্যাহত থাকলে লাগাতার হরতাল দেওয়ার হুমকি দেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুলিশ যেভাবে আমাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে, তা চলতে থাকলে প্রয়োজনে আমরা ৭২ ঘণ্টা ও সাত দিনের হরতাল দিতে বাধ্য হব।’ তিনি বলেন, কোনো ধরনের পিকেটিং ছাড়াই জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনে হরতাল পালিত হচ্ছে। জনগণই হরতাল সফল করছে।
সকাল নয়টার দিকে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একজন হাকিম অবস্থান নেন। বেলা পৌনে ১১টার দিকে মহিলা দলের সভাপতি নূরী আরা সাফা দলীয় কার্যালয়ে যেতে চাইলে তাঁকে আটক করে পুলিশ। তাঁকে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তোলার ছবি ক্যামেরায় ধারণের সময় সাংবাদিকদের বাধা দেন সাদা পোশাকের কয়েকজন পুলিশ সদস্য। তাঁদের সঙ্গে সাংবাদিকদেরও বাগিবতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ফটোসাংবাদিকদের লাঠিপেটা করে পুলিশ। আহত হন চ্যানেল আইয়ের মঞ্জুরুল ইসলাম, এটিএন বাংলার মহসিন, দেশ টিভির শিবলী, এনটিভির তাপস ও কালের কণ্ঠ পত্রিকার রফিকুর রহমান।
পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে রাজপথে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সাংবাদিকেরা। তাঁরা সড়কের ওপর ক্যামেরা ও খাতা-কলম রেখে প্রতিবাদ জানান।
সকাল সাড়ে আটটার দিকে নয়াপল্টনে লা-লুনা রেস্তোরাঁর কাছে দৈনিক আমার দেশ-এর অটোরিকশার চালক রফিকুল ইসলামকে পুলিশ পেটায়। তাঁকে ইসলামী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুরো দিনে বিএনপির কার্যালয়ের আশপাশে ছয়টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এর মধ্যে সকাল সোয়া আটটায় ফকিরাপুল মোড়ের কাছে তিনটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। বেলা সোয়া ১১টার দিকে মহানগর কার্যালয়ের ছাদে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। বেলা সোয়া একটায় বিএনপি অফিসের সামনে ফের আরেকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়।
কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, জয়নুল আবদিন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, শহীদ উদ্দিন চৌধুরীসহ বেশকিছু নেতা-কর্মী তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
সকাল সাড়ে আটটার দিকে কাকরাইল মোড় থেকে যুবদলের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নেতৃত্বে মিছিল বের হলে তাতে বাধা দেয় পুলিশ। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন ও নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক শিকদারের নেতৃত্বে শান্তিনগর মোড় থেকে মিছিল বের হয়।
বেলা ১১টার দিকে শনির আখড়ায় সালাহ্ উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে শতাধিক নেতা-কর্মী একটি মিছিল বের করলে পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
বিকেলে হরতাল প্রসঙ্গে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম দাবি করেন, গতকাল বিকেল পর্যন্ত সারা দেশে বিএনপির সাত শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আহত হয়েছেন শতাধিক নেতা-কর্মী।
মিরপুর: মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় হরতালের সমর্থনে কাউকে মাঠে দেখা যায়নি। হরতালের বিপক্ষে দিনভর মিছিল ও মোটরসাইকেল মহড়া দিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। মিরপুর ও পল্লবী থানা আওয়ামী লীগের কার্যালয় মোহনা ভবনের সামনে দিনভর ছিল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ভিড়। ভবনটির সামনে দুই পাশের সড়কে প্রচুর মোটরসাইকেল পার্ক করা ছিল বিকেল পর্যন্ত। ওই সব মোটরসাইকেল নিয়ে কিছুক্ষণ পর পর হরতালবিরোধী মিছিল করেছেন নেতা-কর্মীরা। বেলা ১১টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হরতালবিরোধী প্রথম মোটরসাইকেল মিছিলটি বের হয়। এ মিছিলে ৩৫-৪০টি মোটরসাইকেল ছিল। প্রতিটি মোটরসাইকেলে তিনজন করে লোক ছিল। তারা হঠাৎ একসঙ্গে হর্ন বাজিয়ে স্লোগান দেওয়া শুরু করলে মানুষ কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
তবে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুর ১ নম্বরের ইয়াংসি চায়নিজ রেস্তোরাঁর সামনে একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। কয়েক মিনিট পরই মিরপুর ১ নম্বর পুলিশ বক্স থেকে কয়েক গজ দূরে একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনা অনুত্তাপ হরতালে সামান্য উত্তাপ তৈরি করে। আওয়ামী লীগের কর্মীরা বোমাবাজির অভিযোগে দুই কিশোরকে আটক করে মারধর করে পুলিশে দেয়। পরে আবার আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারাই তাদের ছাড়িয়ে নেন। পুলিশ জানায়, তারা স্থানীয় রেস্তোরাঁর কর্মী ও শ্রমিক। ঘটনাস্থলে তাদের পেয়ে আওয়ামী লীগের কর্মীরা ধরে আনেন।
সকালে মিরপুর ১৩ নম্বরে দুটি বাস আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় অজ্ঞাত লোকজন। হারম্যান মেইনার স্কুলের সামনে একটি স্টাফবাস ও মিরপুর কমিউনিটি সেন্টারের সামনে মাইলাইন পরিবহনের একটি বাস সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়।
তবে দিনভর মিরপুর থেকে বিভিন্ন রুটের বাস চলাচল করেছে। সংখ্যায় ছিল খুব কম। হিউম্যান হলারগুলো নির্দিষ্ট রুটের বাইরে চলাচল করেছে। সকালে বিপুলসংখ্যক মানুষকে ভ্যান ও পিকআপে করে অফিসে যেতে দেখা গেছে। সকাল আটটা পর্যন্ত গাবতলীতে দু-একটি দূরপাল্লার বাস এসে পৌঁছায়। তবে ওই সব বাসের যাত্রীদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। ব্যাগ-বোঁচকা নিয়ে অনেককে দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। গাবতলী থেকে কোনো বাস ঢাকার বাইরে ছেড়ে যায়নি।
মহাখালী: মহাখালীতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির দুই ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও হাফিজ উদ্দিন আহম্মদসহ ১৫ জনকে আটক করে পুলিশ। সকাল পৌনে ১০টার দিকে মহাখালীর সেতু ভবনের সামনে থেকে দুই নেতাকে পুলিশ ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়।
এর আগে সকাল সোয়া নয়টায় মহাখালীর আমতলী এলাকা থেকে স্থানীয় যুবদলের নেতা-কর্মীরা মিছিল বের করলে পুলিশ লাঠিপেটা করে। এতে সাতজন আহত হন। ওই সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। বেলা সাড়ে নয়টায় তিতুমীর কলেজের বিপরীত পাশে মালঞ্চ রেস্তোরাঁর সামনে থেকে পুলিশ শিপু, জসীমউদদীন, মোশাররফ হোসেন নামের বিএনপির তিন কর্মীকে আটক করে। এ সময় আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও হাফিজ উদ্দিনের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়।
গ্রেপ্তারের আগে আলতাফ হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, সরকার একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের ষড়যন্ত্র করছে। বিএনপি তা মেনে নেবে না। তাঁর অভিযোগ, সকাল থেকেই পুলিশ তাঁদের মালঞ্চ রেস্তোরাঁয় অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মালঞ্চ রেস্তোরাঁর সামনে থেকে সাদিয়া হক, রুনু, মাধু নামের বিএনপির তিন নারী কর্মীকে পুলিশ আটক করে। তবে সাদিয়া হক জানান, তিনি বাজার করতে বেরিয়েছিলেন। তাঁকে জোর করে ভ্যানে তুলেছে পুলিশ।
পুলিশের গুলশান অঞ্চলের ডিসি খন্দকার লুৎফুল কবির দাবি করেন, পিকেটিংয়ের অভিযোগে মহাখালী এলাকা থেকে নয়জনকে আটক করা হয়েছে।
সকাল থেকে মহাখালী এলাকায় কিছু বাস, মিনিবাস ও সিএনজি অটোরিকশা চলতে দেখা গেছে। সকাল সাড়ে নয়টায় তিতুমীর কলেজের সামনে থেকে হরতালের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি মহাখালী গিয়ে শেষ হয়।
ছাত্রলীগের মিছিলের সামনে ককটেল: ছাত্রদল রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকা থেকে দুপুরে একটি মিছিল বের করার চেষ্টা করলেও র্যাব-পুলিশের মহড়ায় করতে পারেনি। তবে হরতালের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ছাত্রলীগ। চারুকলার সামনে সমাবেশ চলাকালে সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়।
ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ সাকিব অভিযোগ করেছেন, হরতালে যারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায়, তারাই এই কাজ করেছে। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
জামায়াতের তৎপরতা: সকাল নয়টায় মতিঝিলের সেনাকল্যাণ ভবনের পাশ থেকে আচমকা মিছিল বের করে জামায়াত। সেখানেই তড়িঘড়ি সমাবেশ করে তারা দ্রুত সটকে পড়ে। দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল সেখানে বলেন, পদত্যাগ করে মধ্যবর্তী নির্বাচন দেওয়া ছাড়া সরকারের সামনে আর কোনো উপায় নেই।
এর খানিক পর পুরানা পল্টনে কালভার্ট রোড থেকে আরেকটি মিছিল বের করে জামায়াত। দলের শ্যামপুর থানা কমিটি সকাল ১০টায় যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা থেকে মিছিল বের করে। মিছিলটি দোলাইরপাড় যাওয়ার পথে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়। এতে মিছিলের নেতৃত্বে থাকা থানা কমিটির আমির রুহুল কুদ্দুসসহ নয়জন আহত হয়। জামায়াতের অভিযোগ, ছাত্রলীগের কর্মীরা দুজনকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
পল্লবীতে মিছিল করার চেষ্টা করলে জাহাঙ্গীর আলম, নূরুল আমীন, জামালউদ্দিন, হাবিবুল্লাহ, হাফেজ হোসাইনসহ ছয়জনকে আটক করে পুলিশ।
এ ছাড়া বেইলি রোড, মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ মিছিল বের করে জামায়াত। বেলা ১১টায় শাহজাহানপুরে একটি হিউম্যান হলারে আগুন দেয় দুষ্কৃতকারীরা।
জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন: জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, হরতাল বানচাল করার জন্য সরকার কেবল পুলিশ ও র্যাবকেই ব্যবহার করেনি, দলের ক্যাডারদেরও রাস্তায় নামিয়েছে।
গতকাল বিকেল চারটায় মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সকাল নয়টায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার দোলাইরপাড়ে জামায়াত মিছিল বের করলে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হামলা চালায়।
জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি বলেন, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য সরকার স্বৈরাচারী আইয়ুব খানের মতো ভ্রাম্যমাণ আদালত চালু করে তাৎক্ষণিক সাজা দিচ্ছে। এ পর্যন্ত জামায়াত-শিবিরের ১৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। দুপুর দুইটা পর্যন্ত সারা দেশে জামায়াত-শিবিরের ৬৯ জনকে পুলিশ আটক করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
হরতালে জনদুর্ভোগ বাড়ছে কি না জানতে চাইলে আজহার বলেন, যত তাড়াতাড়ি এ সরকারের পতন হবে, জনদুর্ভোগ তত তাড়াতাড়ি কমবে।
সম্মিলিত উলামা-মাশায়েখ পরিষদ: বেলা পৌনে দুইটায় রাজধানীর সোনারগাঁও রোডে মিছিল বের করলে পুলিশ সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী ও ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি মাওলানা আহমদ আলীকে আটক করে।
পুরান ঢাকা: বেলা সোয়া একটার দিকে পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে হরতাল সমর্থনকারীরা একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটালে এক পথচারী সামান্য আহত হন। সকালে পিকেটিং করার অভিযোগে আকবর হোসেন নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশ।
হরতালবিরোধী মিছিল করেন কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সোহ্রাওয়ার্দী কলেজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ও সদরঘাটের ঘাট-শ্রমিকেরা। সকাল থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধান ফটক অবরোধ করে রাখেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

রাজপথে তৎপর পুলিশ, বিএনপি নেতা আলতাফ-হাফিজ গ্রেপ্তার

রতালের প্রথম দিনে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, গ্রেপ্তার ও বিক্ষিপ্ত কয়েকটি ঘটনা ছাড়া সারা দেশে মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই হরতাল পালিত হয়েছে। তবে রাজধানীর মহাখালীতে বিএনপি মিছিল বের করার চেষ্টা করলে দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ বীরবিক্রমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিএনপি বলেছে, হরতালকে কেন্দ্র করে এ পর্যন্ত তাদের সাত শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

৩৬ ঘণ্টার টানা হরতাল শেষে আজ সন্ধ্যায় নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবে বিএনপি, জামায়াত ও সমমনা দলগুলো। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলের পরিকল্পনার প্রতিবাদে এবং সংবিধান সংশোধনের সুপারিশ প্রত্যাহারের দাবিতে গতকাল রবিবার থেকে আজ সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত একটানা হরতাল আহ্বান করেছে বিএনপি ও জামায়াত। হরতালের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে সমমনা দলগুলো। তবে সম্মিলিত ওলামা-মাশায়েখ পরিষদ এক দিনের হরতাল রবিবার পালন করেছে। আজ তাদের হরতাল নেই।
গতকালের হরতালে রাজধানীতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও মহাখালী এলাকা ছাড়া বিএনপির নেতা-কর্মীদের মিছিল-পিকেটিং করতে তেমন দেখা যায়নি। তবে মহাখালীর ওয়্যারলেস গেট এলাকায় বিএনপির পক্ষ থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করা হলে দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ বীরবিক্রমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গাড়ি পোড়ানো মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে গুলশান থানার ওসি শাহ আলম কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন। আজ দুজনকে আদালতে হাজির করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
গতকাল বিএনপি কার্যালয়ের আশপাশে এবং মিরপুরে অন্তত ২০টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। সন্ধ্যার পর বিএনপি কার্যালয়, গাজী ভবন, নাইটিঙ্গেলের সামনে এবং ফকিরাপুলে দুটি করে আটটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এর আগে সকাল সোয়া ৮টায় ফকিরাপুল মোড়ের কাছে তিনটি, সোয়া ১১টার দিকে বিএনপি মহানগর কার্যালয়ের ছাদে দুটি, দুপুর সোয়া ১টায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ফের একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। বিকেল পৌনে ৪টায় সিটি হার্ট মার্কেটের সামনে আরো দুটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটলে কনস্টেবল হাবিব ও হাবিলদার মামুন আহত হন। গত ৫ জুনের বিএনপির হরতালে একই চিত্র ছিল।
এদিকে হরতালে ব্যাপক ধরপাকড় অব্যাহত রেখেছে পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। পুলিশ বলেছে, হরতাল চলাকালে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী ও সমর্থককে আটক করা হয়েছে। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে অনেক ব্যক্তিকে সাজা দিয়েছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারের শত নির্যাতন সহ্য করেও জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে হরতাল পালন করছে। রাজধানী ও বিভিন্ন জেলা থেকে ৭০০ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
গতকাল দুপুর পর্যন্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কাউকে দাঁড়াতেই দেয়নি পুলিশ। এ নিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কয়েকজন নেতার সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। মিরপুর, উত্তরা, শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, ধানমণ্ডি, ডেমরা, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে বিএনপির কর্মীদের মিছিল বের করতে বাধা দেয় পুলিশ। বেশ কয়েকটি স্থানে পুলিশ মিছিলকারীদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।
জোটের অন্যতম শরিক দল জামায়াতে ইসলামী রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মিছিলের চেষ্টা করলে পুলিশের বাধায় রাস্তায়ই দাঁড়াতে পারেননি দলটির কোনো সদস্য। এ সময় রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে জামায়াতের আটজনকে আটক করে পুলিশ।
এদিকে হরতাল চলাকালে রাজধানী ঢাকায় বাস ও মিনিবাসের চলাচল ছিল কম। রাস্তাঘাট ছিল রিকশার দখলে। প্রধান সড়কে দোকানপাট তেমন একটা খোলা না থাকলেও নগরীর অলিগলির দোকানপাট খোলা ছিল। মতিঝিল ব্যাংকপাড়া ও সচিবালয়ে উপস্থিতি নিত্যদিনের তুলনায় কম ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে শুরু করে সব ব্যাংকের ফটক বন্ধ করে লেনদেন কার্যক্রম চালাতে দেখা গেছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর সামনে ছিল পুলিশি টহল। তব ব্যাংকগুলোতে গ্রাহক ছিল কম। সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়গুলোতে কার্যক্রম চললেও দর্শনার্থী ছিল অনেক কম। বেশির ভাগ কর্মকর্তা সকাল ৯টার আগেই অফিসে উপস্থিত হন। কর্মচারীরা বাসে, রিকশায় আবার অনেকে হেঁটে সচিবালয়ে উপস্থিত হন। সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী থেকে দূরপাল্লার বাস-মিনিবাস ছেড়েছে হাতে গোনা কয়েকটি। রেল ও বিমান চলাচল ছিল স্বাভাবিক। সদরঘাট থেকে ঠিকভাবেই লঞ্চ চলাচল করেছে, তবে যাত্রী ছিল কম। পণ্য ওঠানো-নামানোও ছিল অনেকাংশে কম।
অবরুদ্ধ বিএনপি কার্যালয় : বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সকাল ৯টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একজন হাকিম অবস্থান নেন। পুলিশি ব্যারিকেডের ফলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা দিনভর পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের ভেতরেই অবস্থান করেন। পুলিশ আশপাশের এলাকা থেকে বিএনপির কর্মী সন্দেহে দিনভর অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে আটক করে। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, মহিলা দলের সভাপতি নূরে আরা সাফা, যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুস সালাম আজাদ, কৃষক দলের শাহজাহান মিয়া সম্রাট প্রমুখ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ভোর থেকেই বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান নেন। সকাল ৬টার পর মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দিনের প্রথম মিছিল বের করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের সঙ্গে পুলিশের বাগ্বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। বাগ্বিতণ্ডা থামাতে গিয়ে মির্জা ফখরুল মাটিতে পড়ে যান এবং ডান হাতে ব্যথা পান। পুলিশ এ সময় সেখান থেকে আট নেতা-কর্মীকে আটক করে।
সাংবাদিকদের লাঠিপেটা : আটকের সময় নূরে আরা সাফা রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে সাংবাদিকরা তাঁর ছবি তুলতে যান। একপর্যায়ে পুলিশ সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। এ সময় পুলিশের লাঠির আঘাতে কালের কণ্ঠের বিশেষ ফটো সাংবাদিক রফিকুর রহমান রেকু, চ্যানেল আইয়ের মঞ্জুরুল ইসলাম বাবু, এটিএন বাংলার মহসিন, এনটিভির অজিত আইস তাপস, দেশ টিভির শিবলী আহত হন। এ ঘটনায় সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপি অফিসের সামনের সড়কে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন। সকাল সাড়ে ১১টায় ডিবির এডিসি মোল্লা নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালালেও তাতে সফল হননি। পরে মতিঝিল জোনের ডিসি আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে দুঃখ প্রকাশ এবং দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির আশ্বাস দিলে সাংবাদিকরা রাস্তার ওপর থেকে সরে আসেন।
জামায়াতের তৎপরতা : জামায়াতের ঢাকা মহানগরের সহকারী সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা সেনাকল্যাণ ভবন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিরপুরের সাড়ে ১১ নম্বর এলাকায় সকালে নেতা-কর্মীরা মিছিলের চেষ্টা করলে পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রত্যেককে এক মাস করে কারাদণ্ড দেন। শ্যামপুরের মিছিল যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা থেকে শুরু করে ধোলাইরপাড় যাওয়ার পথে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এতে জামায়াত-শিবিরের ৯ কর্মী আহত হন। যুবলীগকর্মীরা দুই জামায়াতকর্মীকে ধরে পুলিশে তুলে দেন। পল্টনের কালভার্ট রোডের মিছিলে নেতৃত্ব দেন থানা আমির অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন। এ ছাড়া গুলিস্তান, হাজারীবাগ, মহাখালী, গুলশান, রমনা, খিলগাঁও, আদাবর, মোহাম্মদপুর ও সূত্রাপুরে রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তাঁরা।
বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, 'জামায়াতের ১৮ নেতা-কর্মীকে শান্তিপূর্ণ মিছিল থেকে ধরে অন্যায়ভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত শাস্তি দিয়েছেন। সরকার ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পুলিশকে আমাদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে। সারা দেশে আমাদের ৬৯ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।'
সম্মিলিত ওলামা-মাশায়েখ পরিষদ : এদিকে শুধু রবিবারের হরতালের সমর্থনে বাংলামোটর থেকে সম্মিলিত ওলামা-মাশায়েখ পরিষদের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন রাব্বানির নেতৃত্বে ২০ জনের একটি মিছিল মূল সড়কে ওঠার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশের হাতে আটক হন ওলামা-মাশায়েখ পরিষদের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মোহাম্মদ মহিউদ্দিন রাব্বানি। পরে তাঁদের কলাবাগান থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে থেকে রবিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেয় সংগঠনটি।
হরতালবিরোধীরা রাজপথে : মিরপুরে রাজপথ ছিল আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠন ও পুলিশের দখলে। আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা মোটরসাইকেল নিয়ে হরতালবিরোধী মিছিল বের করেন। তাঁদের মিছিল চলাকালে মিরপুর ১ নম্বর সেকশন, মুক্ত বাংলা শপিং কমপ্লেঙ্, গ্রামীণফোন সার্ভিস সেন্টার ও চায়নিজ রেস্টুরেন্টের সামনে পর পর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এদিকে হরতাল শুরুর আগেই ভোর ৫টার দিকে হরতাল সমর্থনকারীরা মিরপুর ১৩ ও ১৪ নম্বর সেকশনের হারম্যান মেইনার স্কুলের সামনে দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর একটি কৃষি ব্যাংকের স্টাফ বাস, অন্যটি যাত্রীবাহী বাস (মাইলাইন পরিবহন)। এদিকে হরতাল সমর্থনকারী জামায়াত নেতারা পল্লবী সাড়ে ১১ নম্বর সেকশনের অণিক প্লাজার সামনে থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ ছাত্রদলের শামীম আহমেদসহ কয়েকজনকে আটক করে।
চার আইনজীবী আটক : হরতালের কারণে গতকাল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বসলেও হাইকোর্ট বসেনি। আপিল বিভাগ মাত্র একটি মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের বক্তব্য শোনেন। তবে বিবাদীপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। এ ছাড়া আর কোনো মামলার আইনজীবী না থাকায় একটিমাত্র মামলায় আদেশ দিয়ে প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনসহ আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতি এজলাস ত্যাগ করেন। এদিকে দুপুর ১২টা পাঁচ মিনিটে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সারোয়ার জাহান বাদশা অটোরিকশায় করে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে ঢুকতে গেলে হরতাল সমর্থক আইনজীবীরা বাধা দেন। এ সময় পুলিশ এগিয়ে এলে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের সঙ্গে পুলিশের হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে বিএনপি-জামায়াতে ইসলামী সমর্থক আইনজীবীরা পুলিশকে সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে বের করে দিয়ে ফটক আটকে দেন। বাইরে পুলিশ ও ভেতরে আইনজীবীরা মুখোমুখি অবস্থান নেন। পরে চার আইনজীবী অ্যাডভোকেট নয়ন বাঙালি, শামীম আকন্দ, শরীফ আহমেদ ও দেলোয়ার হোসেনকে আটক করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া ও অ্যাডভোকেট মহসীন মিয়ার নেতৃত্বে হরতালের সমর্থনে জজ কোর্টের ভেতরে পৃথক মিছিল বের করার চেষ্টাকালে পুলিশের বাধার কারণে তা ব্যর্থ হয়। পরে তাঁরা জজকোর্টের ভেতরে মিছিল-সমাবেশ করেন। সাড়ে ১০টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হরতালের বিপক্ষে একটি মিছিল বের করেন। এ ছাড়া হরতালের বিপক্ষে সদরঘাট শ্রমিক লীগ এবং কবি নজরুল কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রলীগ পৃথকভাবে মিছিল-সমাবেশ করে।
এদিকে দুপুর ১টার দিকে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এ সময় ককটেলের বিকট শব্দে একজন পথচারী ঘটনাস্থলে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তাঁকে ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ক্লাস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।
 
Support : Dhumketo ধূমকেতু | NewsCtg.Com | KUTUBDIA @ কুতুবদিয়া | eBlog
Copyright © 2013. News 2 Blog 24 - All Rights Reserved
Template Created by Nejam Kutubi Published by Darianagar Publications
Proudly powered by Dhumketo ধূমকেতু