যৌন জীবনে অতৃপ্ত তাই!

Saturday, February 22, 2014

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের চেসনির বাসিন্দা ৫৮ বছর বয়সী এক নারীকে তার ৭২ বছর বয়সী স্বামী নিজের বোনদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়তে বলেছেন।
ওই দম্পতির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। জরুরি নম্বর ৯১১- এ ফোন করে শেষ পর্যন্ত পুলিশি সহায়তা চেয়েছেন ওই নারী। পুলিশের কাছে তিনি বলেছেন, গত ২ বছর তাদের যৌন জীবনে কিছু সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তেমন একটা ভালো সময় পার করছিলেন না তারা। ফলে, দাম্পত্য জীবনে সেটার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। দম্পতিদের জন্য বিশেষ চিকিৎসা বা থেরাপি নেয়ার ব্যাপারে ওই নারী তার স্বামীকে প্রস্তাব দেন। তাতে রাজি না হয়ে উল্টো তার স্বামী তাকে বলেন তার বোনদের সঙ্গে রাত কাটাতে। এতে তাদের যৌন জীবন আরও উত্তেজনাময় হয়ে উঠবে বলেও মন্তব্য করেন স্বামী। স্বামীকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি সে ধরনের মানুষ নন। ক্ষুব্ধ হয়ে ৯১১ নম্বরে ফোন করে পুলিশি সহায়তা চান তিনি। ওই দম্পতির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে স্বামীর বোনেরা যাতে কখনও তাদের বাড়িতে ঢুকতে না পারেন এবং তাদের পারিবারিক সম্পর্কে নাক না গলান, তা নিশ্চিতেও পুলিশি সহায়তা চান ওই নারী। 

যুক্তরাষ্ট্র- ‘বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসীদের’ নিয়ে উদ্বেগ by রাহীদ এজাজ

Friday, January 31, 2014

টুইন টাওয়ারে হামলার (৯/১১) পর গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট মার্কিন সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বেড়েছে। জোরদার হয়েছে সন্ত্রাসবাদবিরোধী আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও।
আর ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর পর ৯/১১-এর মতো তাণ্ডব চালানোর সামর্থ্য এখন আর আল-কায়েদার নেই বলেই ধারণা নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের। এর পরও স্বস্তিতে নেই যুক্তরাষ্ট্র। কারণ, দেশটির অভ্যন্তরের বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গজিয়ে উঠেছে। গত এক দশকে দেশের নানা প্রান্তে বিচ্ছিন্নভাবে বেড়ে ওঠা এসব গোষ্ঠীকেই নিয়েই এখন উদ্বেগ মার্কিন প্রশাসনের। সন্ত্রাস আর জঙ্গি তৎপরতা থেকে দেশকে মুক্ত রাখতে মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনী ও গোয়েন্দাদের নজরদারি বেড়েছে। নিউইয়র্কে এ নজরদারিটা অভিবাসী এশীয় ও মুসলিমদের ওপর বেশি এবং খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই এর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নজরদারি নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসের ছবিটা নিউইয়র্কের ঠিক উল্টো। লস অ্যাঞ্জেলেসের পুলিশ বিভাগের (এলএপিডি) উপপ্রধান মাইকেল ডাউনিং জানান, অভিবাসী লোকজনের ওপর নজরদারি নয়, তাদের সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে সফল হতে হবে। এরই অংশ হিসেবে এলএপিডির কর্মকর্তারা বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা লোকজনের ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনে যুক্ত থাকেন।
সামগ্রিকভাবে গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের ঝুঁকি অনেকখানি কমেছে। এ জন্য দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এজেন্সি, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এফবিআই), জাতিসংঘের সন্ত্রাসবাদ দমন কমিটি, উইলসন সেন্টার, ব্রুকিংস ও র‌্যান্ডের মতো গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ অভিমত পাওয়া গেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ফরেন প্রেস সেন্টার এ মাসের শুরুতে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের গণমাধ্যমকর্মীদের সন্ত্রাসবাদ দমনবিষয়ক এক সফরের আয়োজন করে। এ সফরের অংশ হিসেবে আমরা দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেস সফর করি।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ দমন বিভাগের উপ-সমন্বয়কারী জাস্টিন সিবেরেল মনে করেন, আল-কায়েদার প্রভাববলয় গুঁড়িয়ে দেওয়া গেলেও ভৌগোলিকভাবে এর মতাদর্শ ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন স্থাপনায় হামলার ক্ষমতা হয়তো তাদের নেই। তবে ওসামা বিন লাদেনের জিহাদি আদর্শে তরুণদের প্রলুব্ধ করার ক্ষমতা আছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান র‌্যান্ড করপোরেশনের নীতিমালাবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক এন্ড্রু লিয়েপমেনের মতে, লিবিয়ার বেনগাজিতে মার্কিন দূতাবাসে হামলা ও বোস্টন ম্যারাথনে বোমা হামলা সন্ত্রাসবাদ দমন নিয়ে নতুন করে ভাবনা জাগায়। তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে তো বটেই বিশ্বের নানা প্রান্তে ওসামা বিন লাদেনের আদর্শকে ধারণ করে অনেক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এসব গোষ্ঠীর এজেন্ডাগুলো বৈশ্বিক না হয়ে আঞ্চলিক হয়ে পড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে এরা খেলাফত প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করছে। তাই সামগ্রিকভাবে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জয় হয়েছে বলাটা কঠিন।
র‌্যান্ড করপোরেশনের প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রায়ান মাইকেল জেনকিন্স লাদেনের মতাদর্শের ভিত্তিতে দেশের নানা প্রান্তে বেড়ে ওঠা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে বিচ্ছিন্ন নেকড়ে হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর মতে, বিচ্ছিন্ন হলেও এসব গোষ্ঠী লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় নিজেদের পারঙ্গম করে তুলছে। তবে মার্কিন সেনাবাহিনীর বিশেষ বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ব্রায়ানের ভয়টা আগামী দিনগুলো নিয়ে। কারণ, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের নানা প্রান্তের প্রায় দেড় হাজার মানুষ সিরিয়া যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে, তাদের মধ্যে ৭০ জনেরও বেশি মার্কিন নাগরিক যুদ্ধ শেষে দেশে ফিরলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কতটা হুমকি সৃষ্টি করবে, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।
লস অ্যাঞ্জেলেস শেরিফের দপ্তরের জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক জেফ রিব জানান, বিচ্ছিন্নভাবে দেশের নানা প্রান্তে এসব সন্ত্রাসী সংগঠন গড়ে উঠছে। বিশেষ করে, কারাগারে যাওয়ার পর চিরকুট বিনিময়সহ নানাভাবে যোগাযোগের মাধ্যমে এই সন্ত্রাসীরা পারস্পরিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। দেশের ভেতরেই সন্ত্রাসীরা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে, বিচ্ছিন্নভাবে এসব গোষ্ঠী বিকশিত হচ্ছে—এমন উদ্বেগ থেকেই নিরাপত্তা বাহিনীর সন্দেহ ও নজরদারি বেড়েছে।
নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের লিবার্টি অ্যান্ড ন্যাশনাল সিকিউরিটি প্রোগ্রামের সহপরিচালক ফাইজা প্যাটেলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনীকে অনেক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ বা অপরাধমূলক কাজ করতে পারে—এমন সন্দেহের দৃষ্টি পড়ছে এশীয় ও মুসলমানদের ওপর। তাই মুসলমান তরুণেরা কখন, কোথায় যায় এবং মসজিদে ইমাম কী বলেন, সেদিকে তীক্ষ নজর রাখা হচ্ছে।
সন্দেহের বশবর্তী হয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মুখোমুখি হওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক মার্কিন তরুণের সঙ্গে দেখা হয়েছিল নিউইয়র্কে। প্রায় দেড় দশক আগে মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ওই তরুণ পাড়ি দেন যুক্তরাষ্ট্রে। তাঁর কাছে জানা গেল মাস চারেক আগে এক ভোরে এফবিআই কর্মকর্তারা হাজির তাঁর বাড়ির দুয়ারে। এফবিআই কর্মকর্তাদের দেখে সংগত কারণেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তরুণের বাড়ির লোকজন। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গোয়েন্দারা তাঁকে সঙ্গে নিয়ে দপ্তরে যান। নিরাপত্তা সংস্থার লোকজনের প্রশ্ন শুনে তরুণটি বুঝে ফেলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি গোয়েন্দাদের নজরদারিতে ছিলেন। তিনি মুসলিম কি না, তাঁরা জানতে চান। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাঁকে বলেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু দেখলে তিনি যেন তাঁদের অবহিত করেন।
মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আন্তদেশীয় সহযোগিতার পাশাপাশি নিজেদের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সহযোগিতা বাড়ার কারণে নিরাপত্তার ঝুঁকি আগের চেয়ে কমেছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এজেন্সির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানান, বিদেশি শত্রুদের বিরুদ্ধে আন্তসরকার সহযোগিতা করাই তাদের মূল কাজ। অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ঠেকানো, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং সন্ত্রাসবিরোধী উদ্যোগকে মাথায় রেখে অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে সহায়তা করাও তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। শুধু মানুষ নয়, পণ্য চলাচলের ওপরও দৃষ্টি রাখে ওই বিভাগ।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অর্ধেকটাই প্রচার মাধ্যমকেন্দ্রিক বলে মনে করে মার্কিন প্রশাসন। তাই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাল্টা প্রচারণাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। জঙ্গিদের বার্তা ব্যবহার করেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের কাজের সমালোচনার মাধ্যমে জঙ্গিদের চরিত্র উন্মোচিত করার দাবি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তাদের।
ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক কাউন্টার টেররিজম কমিউনিকেশনসের (সিএসসিসি) সমন্বয়ক আলবার্তো ফার্নান্দেজ জানালেন, ২০১১ সাল থেকে তাঁর দপ্তর প্রচারমাধ্যমে জঙ্গিদের এভাবেই প্রতিহত করছে।
আলবার্তো বলেন, ‘আমরা গত ডিসেম্বরে ইয়েমেনের রাজধানী সানার হাসপাতালে আল-কায়েদার নৃশংস হত্যাযজ্ঞের ভিডিও প্রচার করেছি। এরপর ওই ভিডিওতে প্রশ্ন তুলেছি ইসলাম ও শান্তির ডাক যারা দিচ্ছে, তারা কি আসলেই শান্তি চায়? এতে জনসমক্ষে তারা হেয়প্রতিপন্ন হয়েছে। ফলে ওই হামলার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দিতে বাধ্য হয়েছে আল-কায়েদা। এ থেকেই লোকজন বুঝতে পারছে এদের স্বরূপ।’
শুরুতে সিএসসিসি প্রচারণা কার্যক্রমের বড় অংশটাই ছিল আরবিতে। এ ছাড়া সোমালি ভাষায়ও হয়। সম্প্রতি পাঞ্জাবি ও উর্দুর পাশাপাশি ইংরেজিতেও এ প্রচারণা শুরু হয়েছে। এমনকি জঙ্গিদের প্রতিটি ভিডিও বার্তা কিংবা প্রতিদিন ফেসবুক, টুইটারের প্রতিটি পোস্টের পাল্টা জবাব দেওয়া হয়।
তবে আল-কায়েদার মতো জঙ্গি সংগঠন মোকাবিলায় নিজেদের সাফল্য নিয়ে আত্মতুষ্টি থাকলেও আলবার্তো ফার্নান্দেজ প্রতিপক্ষের দক্ষতা স্বীকার করতে ভোলেননি। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি জঙ্গি সংগঠনেরও মানসম্পন্ন প্রচারযন্ত্র রয়েছে, যাদের কর্মীরা যথেষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন। তাদের প্রচারযন্ত্র যথেষ্ট দক্ষ, বৈচিত্র্যপূর্ণ ও আগ্রাসী মনোভাবসম্পন্ন। তাই তাদের বিরুদ্ধে আমাদেরও আক্রমণাত্মক হয়েই লড়তে হচ্ছে।’
এর পরও সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে বলে মত দেন সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা পল আর পিলার। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ব্রুকিংসে কর্মরত পল মনে করেন, অনেক উদ্যোগের পরও যুক্তরাষ্ট্রের এখনো অনেক মৌলিক ঝুঁকি রয়ে গেছে। নতুন করে বড় ধরনের কোনো সন্ত্রাসী হামলা ঘটলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

রাহীদ এজাজ: সাংবাদিক।

নয়া নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির তাগিদ যুক্তরাষ্ট্রের by কাউসার মুমিন

Wednesday, January 29, 2014

বাংলাদেশে ৫ই জানুয়ারির একপাক্ষিক নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পর এই প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিশালের সঙ্গে বৈঠক করলেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের।
আর প্রথম বৈঠকেই বাংলাদেশের বিতর্কিত নির্বাচন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এবং সরকারের আশু করণীয় সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থানের এক ‘তেতো স্বাদ’ নিতে হলো রাষ্ট্রদূতকে। বৈঠকে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা বলে রাষ্ট্রদূত যত বেশি এই নির্বাচনের পক্ষে যুক্তি দেখাচ্ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়ার মাত্রাটাও তত বেশি হচ্ছিল। বাংলাদেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে নয়া সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে আলাপ-আলোচনা অব্যাহত থাকলেও নির্বাচন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশে যথাশিগগির নয়া নির্বাচন দিতে হবে। রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে একটি ইনক্লুসিভ ও ক্রেডিবল নির্বাচন অনুষ্ঠানের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির পরামর্শ দেয়া হয়েছে সরকারকে।

কিন্তু বৈঠক শেষে রাষ্ট্রদূত নিজে মিডিয়াকে ঠিক বিপরীত তথ্য দিয়েছেন। রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদেরকে উদ্ধৃত করে সেদিনই বাংলাদেশের বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে ‘হাসিনা সরকারকে বৈধতা দিলো যুক্তরাষ্ট্র’; ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে পুনঃনির্বাচনের কথা বলছে না’। এ বিষয়ে গতকাল প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মুখপাত্র এমিলি হর্ন গতকাল দুপুরে এ প্রতিনিধিকে বলেন, মিডিয়ায় প্রকাশিত বক্তব্য যদি রাষ্ট্রদূতের নিজস্ব বক্তব্য হয়ে থাকে, তবে তা রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠকে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচ্য বিষয়বস্তুর সঠিক প্রতিফলন নয়, বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। কেননা, সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিশালের সঙ্গে রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদেরের বৈঠকে অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় বিষয়াবলীর সঙ্গে বাংলাদেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তাগাদার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে দেশটিতে নতুন নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির তাগাদা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, বিগত ২৪শে জানুয়ারি সকাল ১০টায় ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিশালের সঙ্গে বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের। এটি একটি নিয়মিত বৈঠক। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিবেচনায় এ বৈঠকটি ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকের পর ওই দিনই বাংলাদেশের একটি অনলাইন বার্তা সংস্থা তার নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধির বরাতে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদেরকে উদ্ধৃত করে ‘হাসিনা সরকারকে বৈধতা দিলো যুক্তরাষ্ট্র’ বলে সংবাদ প্রকাশ করে। প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, নিশা দেশাই বিশালের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের জানিয়েছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে পুনঃনির্বাচনের কথা বলছে না’, বরং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের তাগিদ দেয়াটা যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থান মাত্র। এই সংবাদ ওই দিনই বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকেও ফলাও করে প্রকাশিত হয়।
এরপর যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বাংলা মিডিয়ার পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদেরের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও কোনভাবেই রাষ্ট্রদূতকে পাওয়া যায়নি। আর মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদে যেহেতু রাষ্ট্রদূতকে উদ্ধৃত করা হয়েছে সেহেতু দূতাবাসের অন্য কোন কর্মকর্তা এ বিষয়ে কোন রকম মন্তব্য করতে রাজি হননি। এমনকি এই সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার তিনদিন পরও এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দূতাবাসের পক্ষ থেকে মিডিয়ায় প্রকাশিত রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যকে অস্বীকার করা হয়নি।
এরই প্রেক্ষিতে গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মুখপাত্র এমিলি হর্ন এক লিখিত বার্তায় এই প্রতিনিধিকে বলেন, ২৪শে জানুয়ারি রাষ্ট্রদূত কাদেরের সঙ্গে বৈঠকে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিশাল বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত উদ্বেগের কথা আবারও পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বৈঠকে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশাল বাংলাদেশ সরকারকে একটি নতুন নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। এই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের মানুষের দৃষ্টিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, ‘ইনক্লুসিভ’ ও ‘ক্রেডিবল’ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রধান প্রধান দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ শুরুর আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে বাংলাদেশে খুব দ্রুত একটি নয়া নির্বাচন বিষয়ে দেশটিতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনার উপর্যুপরি আহ্বান নিয়ে বাংলাদেশের প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার একটি অংশে বিতর্ক চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা কি তার ‘ব্যক্তিগত অতি উৎসাহ’ থেকে এমন অবস্থান নিয়েছেন না কি সত্যি সত্যি তিনি স্টেট ডিপার্টমেন্টের নীতি বাস্তবায়ন করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুখপাত্র এমিলি হর্ন পৃথক এক লিখিত বার্তায় এই প্রতিনিধিকে বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ করা এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বিষয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্ট ধারাবাহিক ভাবে নির্দিষ্ট অবস্থানে থেকে অত্যন্ত সুস্পষ্ট ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কথা অব্যাহতভাবে জানিয়ে আসছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনার ভিন্নরকম অবস্থানের সুযোগ নেই। মুখপাত্র বলেন, ‘সকলেরই সুস্পষ্ট ভাবে জানা উচিত, রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা বাংলাদেশে তার ব্যক্তিগত নীতি নয়, প্রেসিডেন্ট ওবামার নীতি বাস্তবায়ন করেন।’

‘বাংলাদেশের সংকট সমাধানে মার্কিন সিনেটে প্রস্তাব গৃহীত’

Friday, January 10, 2014

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সংলাপ ও রাজনৈতিক সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ ‘সিনেট’। গত ৭ই জানুয়ারি ১১৩তম কংগ্রেসের প্রথম সেশনে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।
গতকাল এর বিস্তারিক রেজুলেশন প্রকাশ করা হয়। দেশটির পাঁচ সিনেটর রিচার্ড ডারবিন, জন বুজম্যান, বারবারা বক্সার, মাইকেল বি এঞ্জি ও সিনেটর ক্রিস্টফার এস মার্ফি গত ১১ই ডিসেম্বর প্রস্তাবটি পররাষ্ট্র বিষয়ক সিনেট কমিটিতে তোলার এক সপ্তাহ পর সেটি নিয়ে কমিটিতে আলোচনা হয়। মঙ্গলবার ওই প্রস্তাবটি প্রায় অপরিবর্তিতভাবেই গ্রহণ করে। এ প্রস্তাবে বাংলাদেশের ৫ই জানুয়ারি ভোটের আগের পরিস্থিতিই সেখানে উঠে এসেছে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের বিরোধকে দায়ী করে ওই প্রস্তাবে ছয়টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এগুলো হল, ১. বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংঘাতের নিন্দা জ্ঞাপন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদেকে সরাসরি এবং সত্যিকার অর্থেই অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সংলাপে বসার আহ্বান। ২. লাগাতার রাজনৈতিক অচলাবস্থায় বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ। ৩. অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের উদ্যোগ নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের পথ গ্রহণের আহ্বান। ৪. নির্বাচনে পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা এবং অবাধ গতিবিধির নিশ্চয়তা দিতে রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আহবান, ৫. বাংলাদেশের রাজনৈতিক মতবিরোধ দূর করতে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব ফারনান্দেজ-তারানকো যে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়ে গেছেন, তা এগিয়ে নেয়া। এবং ৬. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতে, মানবাধিকার কর্মীদের হেনস্তা বন্ধে এবং গ্রামীণ ব্যাংকের ‘স্বাধীনতা’ ফিরিয়ে দিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

ক্ষমা চাইবে না যুক্তরাষ্ট্র, মামলাও চলবে

Friday, December 20, 2013

ভারতীয় কূটনীতিক দেবযানী খোবরাগাড়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসবে না যুক্তরাষ্ট্র।
এই কূটনীতিকের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে ভারতের আহ্বান প্রত্যাখান করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এমন কি এ ব্যাপারে দেশটির পক্ষ থেকে ক্ষমাও চাওয়া হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যারি হার্ফ বলেন, আমার এ ধরনের অভিযোগ খুব গুরুত্ব সহকারে নিয়ে থাকি। প্রতিবছর প্রতিটি দেশের কূটনীতিক যারা এখানে অবস্থান করছে তাদের আমরা খুব পরিষ্কারভাবে কূটনৈতিকবার্তায় জানিয়ে দেই, কাজ করার জন্য যাদের তারা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসেন তাদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে। আর এই বিধিনিষেধগুলো আমরা খুব পরিষ্কারভাবেই জানিয়ে দেই যে, এসব বিষয় মানা না হলে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারি।

ককপিট জবাব দিচ্ছে না, আমরা ছিনতাই হতে যাচ্ছি

Friday, September 9, 2011

যুক্তরাষ্ট্রে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার আগে ছিনতাই হওয়া বিমানে কী ঘটেছিল? জানার কৌতূহল এখনো রয়েছে অনেকের। আগে কখনই প্রকাশিত হয়নি ছিনতাই বিমানের এমন কিছু নতুন অডিও বার্তা সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কথোপকথনে এগুলো ধরা পড়ে বলে দ্য সান উল্লেখ করে।
ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৯৩ থেকে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট বেটি ওং উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলছেন, ‘ককপিট জবাব দিচ্ছে না। বিজনেস ক্লাসে কাউকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। মনে হচ্ছে আমরা ছিনতাই হতে যাচ্ছি।’ তাঁর এ কথাগুলো তাত্ক্ষণিকভাবে নর্থ ক্যারোলাইনার কেরিতে আমেরিকান এয়ারলাইনসের অফিসে পাঠানো হয়েছিল।
নতুন বার্তায় আল-কায়েদা জঙ্গি মোহাম্মদ আতার কণ্ঠস্বরও শোনা যায়। নিউইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রে বিমান নিয়ে তিনি হামলা চালান। মোহাম্মদ আতা বলেন, ‘আমাদের দখলে কিছু বিমান আছে। আপনার শান্ত থাকুন এবং আমরা সবাই ভালো থাকব। আমরা বিমানবন্দরে ফিরে যাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘কেউ নড়াচড়া করবেন না। সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। কিছু করার চেষ্টা করলে নিজেকে এবং বিমানকে ধ্বংস করবেন। তাই শান্ত থাকুন।’
ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ফ্লাইট ৯৩-এর পাইলট জিয়াদ জারাহ পেনসিলভেনিয়ায় বিধ্বস্ত হওয়ার আগে বলেছিলেন, ‘অনুগ্রহ করে বসে পড়ুন ও বসে থাকুন। বিমানের মধ্যে বোমা আছে।’
এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণকারীরা ছিনতাই হওয়ার আগে এসব কথা শুনেছিলেন। টুইন টাওয়ারে প্রথম বিমানটি আঘাতের পর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে দ্বিতীয় টাওয়ারে আরেকটি বিমানের আঘাতে বিষয়টিও তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন।
নিউইয়র্কের রাডার নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে কেউ বলছেন, ‘আরেকটি বিমান ভবনটিতে আঘাত করছে।’ এর উত্তরে আরেকজন বলছেন, ‘ওই মাই গড।’

যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি
সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে। ৯/১১-এর ঘটনার ১০ বছর পূর্তির প্রাক্কালে জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য জঙ্গি হামলা সম্পর্কে তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য তথ্য আছে। হামলা পরিকল্পনায় জড়িত অন্তত তিন ব্যক্তিকে খুঁজছে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাকিস্তান বা আফগানিস্তান থেকে এ হামলা পরিকল্পনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত অন্তত একজনের মার্কিন নাগরিকত্ব আছে। হামলার আশঙ্কা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য গতকাল বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ওবামাকে অবহিত করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ওবামা নির্দেশ দিয়েছেন।
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মুখপাত্র ম্যাট চেন্ডলার এক বিবৃতিতে বলেছেন, জঙ্গি হামলার আগাম তথ্যটি গ্রহণযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট; তবে নিশ্চিত নয়। তিনি জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনসহ সর্বত্র নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। নিউইয়র্ক নগরের মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ ও পুলিশ কমিশনার গতকাল রাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছে। তাঁরা জনগণকে জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় ভীত না হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
আগামী রোববার ৯/১১ হামলার দশম বর্ষপূর্তি। নানা আয়োজনে দিনটিকে স্মরণ করবে মার্কিনিরা।

পার্লামেন্টে সর্বসম্মত প্রস্তাবঃ যুক্তরাষ্ট্রকে পাকিস্তানের হুমকি

Saturday, May 14, 2011

পাকিস্তানের ভূখণ্ডে ঢুকে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যায় মার্কিন কমান্ডোদের একতরফা অভিযানের পর এত দিন চুপচাপ ছিল ওয়াশিংটনের মিত্র ইসলামাবাদ। কিন্তু নিজেদের ক্ষোভ আর চেপে রাখত পারল না তারা। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান চালালে এবং মার্কিন ড্রোন হামলা বন্ধ করা না হলে আফগানিস্তানে ন্যাটো বাহিনীর রসদ সরবরাহের পথ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইসলামাবাদ।


এ-সংক্রান্ত একটি সর্বসম্মত প্রস্তাব গতকাল শনিবার পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে পাস হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের বিষয়টিও পর্যালোচনা করে দেখবে পাকিস্তান। আর, যুক্তরাষ্ট্রের ওই একতরফা অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের প্রধান জেনারেল আহমেদ সুজা পাশা পার্লামেন্টের কাছে তাঁর পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। বিন লাদেনের অবস্থান সম্পর্কে জানতে না পারার ব্যর্থতা আর জঙ্গিসংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সব সমালোচনার তীর এখন ছুটছে পাশার দিকে।
প্রস্তাব গ্রহণ: ২ মে ওসামা বিন লাদেনকে হত্যায় মার্কিন কমান্ডোদের অভিযান এবং গত শুক্রবার দুটি বড় আত্মঘাতী বোমা হামলার পর গতকাল পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশন বসে। অধিবেশন চলে ১০ ঘণ্টার বেশি সময়। প্রস্তাবে মার্কিন অভিযানের নিন্দা জানানো হয়। আইনপ্রণেতারা বলেন, ওই অভিযানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে। পরে তাঁরা একটি সর্বসম্মত প্রস্তাব গ্রহণ করেন।
প্রস্তাবে বলা হয়, পাকিস্তানের জাতীয় স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে রক্ষিত হচ্ছে কি না, এ বিষয়টি মাথায় রেখে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পর্যালোচনা করে দেখা প্রয়োজন।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়, ‘অ্যাবোটাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা অভিযানের মতো কোনো পদক্ষেপ পাকিস্তানের মানুষ আর বরদাশত করবে না। এ ধরনের পদক্ষেপের পুনরাবৃত্তি হলে এ অঞ্চলসহ বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।’
অ্যাবোটাবাদের অভিযানের দায়দায়িত্ব নিরূপণ ও ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে করণীয় নির্ধারণের জন্য একটি নিরপেক্ষ কমিটি গঠনেরও আহ্বান জানানো হয়েছে প্রস্তাবে।
পাকিস্তান ভূখণ্ডে মার্কিন চালকবিহীন বিমান (ড্রোন) হামলা ‘অগ্রহণযোগ্য’ অভিহিত করে প্রস্তাবে বলা হয়, ড্রোন হামলা বন্ধ করা না হলে আফগানিস্তানে ন্যাটো বাহিনীর রসদ সরবরাহের পথ বন্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয় বিবেচনা করবে পাকিস্তান সরকার।
আফগানিস্তানে ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন বিদেশি বাহিনীর জন্য খাদ্য, গোলাবারুদ ও অস্ত্রসরঞ্জাম পাঠানোর জন্য পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করা হয়। ওই পথে সরবরাহ-বহরের ওপর মাঝেমধ্যেই হামলা চালায় জঙ্গিরা।
গত এক বছরে পাকিস্তান ভূখণ্ডে ড্রোন হামলা দ্বিগুণ করেছে মার্কিন বাহিনী। এ পর্যন্ত ১০০-র বেশি ড্রোন হামলায় মারা গেছে প্রায় ৭০০ মানুষ। গত বৃহস্পতিবারও উত্তর ওয়াজিরিস্তানে ড্রোন হামলায় তিন জঙ্গি নিহত হয়। গোয়েন্দাসূত্র বলে থাকে, পাকিস্তান সরকার কৌশলে ওই হামলার অনুমোদন দেয়। তবে পাকিস্তানি নেতারা বরাবর তা অস্বীকার করে এসেছেন। আর এ ধরনের একের পর এক হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ক্ষুব্ধ পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ।
সুজার পদত্যাগের প্রস্তাব: গতকাল পার্লামেন্টে প্রস্তাব গ্রহণের আগে শুক্রবার আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে কথা বলেন আইএসআইয়ের প্রধান আহমেদ সুজা পাশা। তাঁদের আলোচনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে কিছু জানানো হয়নি। তবে পার্লামেন্টের একটি সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানায়, আইএসআই-প্রধানের পদ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন সুজা পাশা। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, অ্যাবোটাবাদের ঘটনা তদন্তে পার্লামেন্টের গঠিত যেকোনো কমিশনের সামনে তিনি হাজির হবেন।
অন্য একটি সূত্র জানায়, পার্লামেন্ট চাইলে যেকোনো সময় পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন আইএসআই-প্রধান।
গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি ও সেনাপ্রধান জেনারেল আশফাক কায়ানি আইএসআইয়ের প্রধানকে পদত্যাগ না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এ তথ্য নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা সম্ভব হয়নি।
তথ্যমন্ত্রী ফেরদৌস আশিক আওয়াজন জানান, আইএসআই-প্রধান পাশা আইনপ্রণেতাদের কাছে বলেছেন, যেকোনো ধরনের ব্যর্থতার দায় নিতে তিনি প্রস্তুত আছেন। পাশা বলেন, তাঁদের পূর্ণ অবগতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএকে পাকিস্তানে কোনো অভিযান চালাতে দেওয়া হবে না।
নওয়াজ শরিফের অবস্থান: বিরোধী দল মুসলিম লীগের (এন) নেতা নওয়াজ শরিফ বলেছেন, কোনো বিদেশি শক্তিকে পাকিস্তানে কর্মকাণ্ড চালাতে দেওয়া হবে না। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে নওয়াজ বলেন, ‘মার্কিনদের বুঝতে হবে, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে পাকিস্তান কোনো ছাড় দেবে না। আর যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শে চলার নীতিও পাকিস্তান সরকারকে ছাড়তে হবে।’
নওয়াজ শরীফ জানান, পার্লামেন্টে গৃহীত প্রস্তাব বাস্তবায়নের মাধ্যমেই জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

আল-কায়েদাকে দৌড়ের ওপর রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র

Thursday, January 27, 2011

ঙ্গিবাদবিরোধী যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, আফগানিস্তান থেকে আরব উপসাগর পর্যন্ত আল-কায়েদাকে দৌড়ের ওপর রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। ৯/১১-এর হামলার ঘটনার পর থেকে প্রায় এক দশকের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে রয়েছে জঙ্গি সংগঠনটি।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওয়াশিংটনে মার্কিন কংগ্রেসে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে ওবামা এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি দলীয় মতভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
ওবামার ভাষণে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের বিষয়টিই মূলত গুরুত্ব পায়। এ ছাড়া তিনি আল-কায়েদা ও জঙ্গিবাদের হুমকি, ইরাক ও আফগান পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন। আল-কায়েদা তাঁর দেশের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হুমকি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ৯/১১-এর হামলার পর বর্তমানে পাকিস্তানের আল-কায়েদা নেতৃত্ব সবচেয়ে চাপের মুখে রয়েছে। প্রতিবেশী আফগানিস্তানে যুদ্ধরত মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী পাকিস্তানে আল-কায়েদার আস্তানা গুঁড়িয়ে দিচ্ছে।
ওবামা বলেন, ‘আল-কায়েদার নেতা ও কর্মীদের তাদের আস্তানা থেকে উৎখাত করা হচ্ছে। তাদের আশ্রয় ধীরে ধীরে কমে আসছে।’ তিনি বলেন, ‘আফগান সীমান্ত থেকে আরব উপসাগর হয়ে বিশ্বের জন্য আমাদের বার্তা হচ্ছে, আমরা দমে যাব না, কোনো ছাড়ও দেব না। জঙ্গিদের পরাজিত করবই।’
দ্বিধাবিভক্ত মার্কিন কংগ্রেসে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য অন্যান্য দলের প্রতি আহ্বান জানান ওবামা। বাজেট ঘাটতি এবং বাণিজ্যে ভারত ও চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা নেওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ দিলেন ওবামা। রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসে দাঁড়িয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামা নতুন করে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানান। প্রথা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বছরের শুরুতে কংগ্রেসের যৌথ সভায় বক্তব্য দিয়ে থাকেন। এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালনায় আগামী এক বছরের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ধারণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ওবামার এবারের ভাষণে দেশে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জরুরি সব তৎপরতার কথা উচ্চারিত হয়েছে। দেশে ব্যাপক কর্মহীনতা লাঘবে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা প্রেসিডেন্ট উচ্চারণ করেছেন তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই। শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি এবং যোগাযোগ খাতে ব্যাপক বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি জাতীয় বাজেট ঘাটতি মোকাবিলার জন্য সরকারি ঐচ্ছিক ব্যয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ ঘোষণা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রকে এখনো পৃথিবীর সেরা সম্ভাবনার দেশ উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, ‘আমাদের জনশক্তি সবচেয়ে উৎপাদনশীল। পৃথিবীর সেরা সাফল্যের সব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রে। সেরা সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্রে। সারা বিশ্ব থেকে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী প্রতিবছর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে এসে থাকে।’ সময়ের পরিবর্তনকে ধারণ করে যুক্তরাষ্ট্রের এ শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার জন্য তিনি দেশবাসীর ঐক্য কামনা করেন।
প্রেসিডেন্ট বলেন, তাঁরা স্বাস্থ্য সংস্কার আইনের যেকোনো ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী। উল্লেখ্য, রিপাবলিকানরা ইতিমধ্যে ওবামার সর্বজনীন স্বাস্থ্যনীতি বাতিলের আইন প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো অবকাশ নেই। তবে জনগণের জন্য মঙ্গলজনক যেকোনো প্রস্তাব তিনি গ্রহণ করতে প্রস্তুত।
যুক্তরাষ্ট্রের ভেঙে পড়া অভিবাসন আইনের সংস্কার নিয়ে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁর বক্তব্যে কোনো সরাসরি ঘোষণা দেননি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কয়েক লাখ অবৈধ অভিবাসী এবং অভিবাসন আইনের সংস্কারের জন্য আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

বিয়ের বয়স পিছিয়ে যাচ্ছে মার্কিনদের

Thursday, January 13, 2011

র্থনৈতিক মন্দা ও বেকারত্বের হার বৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের পারিবারিক ঐতিহ্য ভেঙে পড়েছে। দেশটির তরুণ-তরুণীরা আগে যে বয়সে বিয়ে করে মা-বাবাকে ছেড়ে আলাদা সংসার করত, সেই বয়স পিছিয়ে যাচ্ছে। এমনকি বেকার হয়ে যাওয়া অনেক তরুণ-তরুণী আবার মা-বাবার কাছে ফিরতে শুরু করেছে।

নতুন একটি গবেষণায় এসব তথ্য জানা গেছে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর চিলড্রেন ইন পোভার্টি নামের একটি প্রতিষ্ঠান এ গবেষণা চালিয়েছে। এতে দেখা গেছে, আর্থিক সংকটের কারণে অনেক তরুণ-তরুণী আবার মা-বাবার কাছে ফিরে এসেছে। গত বছর ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ মার্কিন তরুণ-তরুণী মা-বাবার সংসারে ফিরে এসেছে, যা বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। ১৯৭০ সালে এই হার ছিল ৪৭ দশমিক ৩ শতাংশ।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ গবেষক ভ্যানেসা উইট বলেন, ‘চাকরির বাজারে অস্থিরতা চলার কারণে তরুণ-তরুণীরা স্কুল ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। তারা সেখান থেকে উপার্জন করছে।’ তিনি বলেন, আর যেসব তরুণ-তরুণী স্বাবলম্বী হতে পারছে না, তারা মা-বাবার সঙ্গে থাকছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি সাতজনের মধ্যে একজন তরুণ অথবা তরুণী প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছে না। এই পর্যায়ে পৌঁছাতে তাদের বিগত দশকগুলোর তুলনায় অনেক বিলম্ব হচ্ছে। আগে তরুণ-তরুণীদের প্রাপ্তবয়স্ক মানেই ছিল বিয়ে করে মা-বাবার ঘর ছেড়ে আলাদা হওয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ থেকে তথ্য নিয়ে এ গবেষণা করা হয়েছে। এতে আরও দেখা গেছে, তরুণ-তরুণীরা বিয়ে করে সংসারজীবন শুরু করতে দেরি করছে। ১৯৭০-এর দশকের তুলনায় এই হার ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৭০-এর দশকে মার্কিন তরুণীদের প্রথম বিয়ের ক্ষেত্রে গড় বয়স ছিল ২০ বছর এক মাস। পক্ষান্তরে তরুণদের জন্য ছিল ২৩ বছর দুই মাস। অথচ ২০০৯ সালে এই বয়স দাঁড়িয়েছে তরুণীদের জন্য ২৫ বছর নয় মাস ও তরুণদের জন্য ২৮ বছর এক মাস।
নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভ্যানেসা উইট বলেন, সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করলে এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব। তিনি বলেন, ‘যথোপযুক্ত সময়ে তরুণ-তরুণীদের বিয়ের ব্যাপারে আমাদের মনোযোগী হতে হবে। আর যারা এরই মধ্যে সংসার সাজাতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের ব্যাপারেও মনোযোগী হতে হবে।’ রয়টার্স।

অশ্রুর বদলে ঝরছে রক্ত

ন্য দশজনের মতোই সাধারণ মানুষ তাঁরা। ব্যতিক্রম শুধু কান্নায়। চোখ থেকে তাঁদের নোনা অশ্রু ঝরে না, ঝরে রক্ত। চিকিৎসকেরা অনেক চেষ্টা করেও এর কারণ খুঁজে পাননি।

অশ্রুর বদলে রক্ত ঝরা হাতে গোনা কয়েকজনের একজন ক্যালভিন ইনম্যান। ১৭ বছর বয়সী এই তরুণের বাড়ি যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের নক্সভিলে। যখন তখন তাঁর চোখ থেকে অশ্রুর মতো রক্তের ধারা নামে। মাঝে মধ্যে চোখের সঙ্গে নাক থেকেও রক্ত ঝরে। রক্ত ঝরার স্থায়িত্ব কখনো বা এক ঘণ্টায়ও গড়ায়। ব্যাপারটি কখনো তিনি টের পান, কখনো পান না। যখন টের পান না, তখন আশপাশের লোকজনের ছানাবড়া দৃষ্টি এ ব্যাপারে তাঁকে সচেতন করে। শুরুতে চিকিৎসকেরা ভেবেছিলেন, তাঁর বংশানুক্রমিক কোনো ত্রুটি আছে বা শরীরে কোথাও টিউমার দেখা দিয়েছে, যা এই রক্ত ঝরার নেপথ্য কারণ। কিন্তু ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েও এ ব্যাপারে তাঁরা নিশ্চিত হতে পারেননি। তবে কারণ অনুসন্ধানে এখনো চেষ্টা চলছে তাঁদের।
ইনম্যান বলেন, ‘আমার চোখ থেকে রক্ত ঝরা দেখে লোকজন ভাবে আমাকে ভূতে ধরেছে। বাড়িতে ও স্কুলে যখনই রক্ত ঝরে, ব্যাপারটি সাধারণত আমি টের পাই না। মাঝে মধ্যে অবশ্য চোখ জ্বালা করে। তখন টের পাই। রক্ত ঝরা শেষ হলে আমার মাথার বাঁ-পাশে প্রচণ্ড যন্ত্রণা হয়। মনে হয়ে কেউ যেন সেখানে হাতুড়ি মারছে। রাতে ঘুমাতে পারি না। কয়েকটি ঘণ্টা স্রেফ আলো নিভিয়ে পড়ে থাকি।’
ইনম্যানের উদ্বিগ্ন মা টেমি মাইন্যাট বলেন, ‘নিউইয়র্ক, মেমফিস ও আটলান্টা পর্যন্ত প্রায় ১৫ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে ছেলেকে নিয়ে গেছি। কিন্তু লাভ হয়নি। মনে হচ্ছে, এই সমস্যার কোনো সমাধান নেই তাঁদের কাছে।’
মেমফিসের হ্যামিলটন আই ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ জন ফ্লেমিং বলেন, ‘চোখে সংক্রমণজনিত কারণ বা শরীরে কোথাও টিউমার হলে এভাবে রক্তক্ষরণ হতে পারে। এমন কয়েকজনকে আমরা পেয়েছি। কয়েক মাস বা কয়েক বছর ধরে এভাবে চোখ থেকে রক্ত ঝরে আপনাআপনি বন্ধ হয়ে গেছে।’ ডেইলি মেইল অনলাইন।

সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে কয়েক দশক পিছিয়ে চীন

Wednesday, January 12, 2011

চীন বলেছে, সামরিক শক্তি ও প্রযুক্তির দিক দিয়ে তারা এখনো যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য উন্নত দেশের চেয়ে কয়েক দশক পিছিয়ে আছে এবং তারা এখনো পর্যন্ত কোনো দেশের জন্য হুমকি নয়। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটসের বেইজিং সফরের সময় এ কথা বলেছেন চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিয়াং গুয়াংলাই।

তিন দিনের সফরে চীনের উদ্দেশ্যে গত শনিবার বিমানে ওঠার পর গেটস বলেছিলেন, চীনের সামরিক শক্তি ও অস্ত্রসম্ভার বৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। চীন প্রথমবারের মতো রাডার ফাঁকি দিতে পারে—এমন জঙ্গি বিমান বানিয়েছে। একই সঙ্গে তাদের তৈরি আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধবিমানবাহী মার্কিন রণতরীতে আঘাত হানতে সক্ষম। এসব কারণে তিনি মার্কিন অস্ত্রসম্ভার বৃদ্ধি ও উন্নতির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছেন।
চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিয়াং বলেন, ‘অস্ত্রের মানোন্নয়ন ও গবেষণায় আমরা যেসব পদক্ষেপ নিয়েছি, তা কোনো দেশকে লক্ষ্য করে নয় এবং এর জন্য কোনো দেশ হুমকির মুখে পড়বে না।’
চীন গত মাসে প্রথম রাডার ফাঁকি দেওয়ার উপযুক্ত জঙ্গি বিমান তৈরির ঘোষণা দেয়। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ‘জে-২০’ নামের ওই জঙ্গি বিমান সফলভাবে প্রথমবারের মতো আকাশে উড়েছে। এ সংক্রান্ত ছবিও ছাপা হয়েছে রাষ্ট্রীয় পত্রিকা গ্লোবাল টাইমস ও বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার ওয়েবসাইটে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় চেংদু শহরের আকাশে ১৫ মিনিট ওড়ার পর সফলভাবে তা অবতরণ করে। এ ছাড়া চীন সম্প্রতি তৈরি করেছে আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র, যা যুদ্ধবিমানবাহী মার্কিন রণতরীতে আঘাত হানতে সক্ষম। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র চীনই প্রথম তৈরি করেছে।
গেটস বলেছেন, ‘সব ক্ষেত্রেই আমরা নজর রাখছি। চীনের রণতরীবিধ্বংসী ও আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়নের বিষয়টি প্রতিরক্ষীমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে আমাদের উদ্বিগ্ন করে রেখেছে।’ তবে বেইজিংয়ে চীনা ও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে উভয় পক্ষই দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে যৌথ কমিটি গঠনের বিষয়ে রাজি হয়েছে।
গেটস বলেন, ‘যোগাযোগ বৃদ্ধি ও ভুল বোঝাবুঝি কমানোর লক্ষ্যে আমরা জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছি। দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক খুবই মজবুত এবং এর সঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্পর্ক নেই।’ তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রি নিয়ে গত বছর চীন ও মার্কিন সামরিক সম্পর্কের বেশ অবনতি হয়। এ ছাড়া পীতসাগরে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ নৌ-মহড়ার তীব্র প্রতিবাদ জানায় চীন।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন গেটস। এ সময় জিনতাও জানিয়েছেন, গেটসের এই সফর দুই দেশের সামরিক বাহিনীর সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত এবং এর মাধ্যমে উভয় পক্ষের মধ্যে বিনিময় বাড়বে। জবাবে গেটস জানিয়েছেন, তাঁর এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি উন্নতি হবে। এএফপি, রয়টার্স ও টেলিগ্রাফ।

চীনের সঙ্গে দৃঢ় সামরিক মৈত্রীর অঙ্গীকার

Monday, January 10, 2011

চীনের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক দৃঢ় করার অঙ্গীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রবার্ট গেটস। চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রী লিয়াং গুয়াংলিও একই মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। গতকাল সোমবার বেইজিংয়ে আলোচনা শেষে তাঁরা এ অঙ্গীকার করেন।

প্রতিরক্ষা বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার জন্য গত রবিবার চার দিনের সফরে বেইজিং পেঁৗছান গেটস। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার জন্য আগামী ১৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন চীনা প্রেসিডেন্ট হু চিনথাও। সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ হিসেবে তাই এক সপ্তাহ আগে গেটসের এই বেইজিং সফর। ক্রমবর্ধমান সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তির মাধ্যমে চীন হুমকি সৃষ্টি করতে পারে_যুক্তরাষ্ট্রের এমন আশঙ্কাও গেটসের এ সফরের মাধ্যমে কমবে বলে আশা করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। লিয়াংয়ের সঙ্গে দুই ঘণ্টার বৈঠক শেষে গেটস সাংবাদিকদের বলেন, বারাক ওবামা ও চিনথাওয়ের কাছে দ্বিপক্ষীয় সামরিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লিয়াং বলেন, চীন কারো জন্যই হুমকি হবে না। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি অর্জনের পথে অন্য অনেক দেশের চেয়ে চীন কয়েক দশক পিছিয়ে আছে।
তাইওয়ানের কাছে সাড়ে ৬০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গত বছর সামরিক সম্পর্ক স্থগিত করে চীন। গেটস ও লিয়াং জানান, দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আবার শুরু করা হবে এবং রাজনীতির কারণে তা প্রভাবিত হবে না। তবে চীন এখনো তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করে বলেও জানান লিয়াং। তিনি বলেন, 'অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি চীনের স্বার্থ গভীরভাবে ক্ষুন্ন করে। আর কখনো এ রকম ঘটনা দেখতে চাই না আমরা।'
প্রতিরক্ষা খাতে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করে থাকে। বছরে এ খাতে তারা প্রায় ৭০ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করে। যুক্তরাষ্ট্রের পরই চীন এই খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়। এ বছরেও তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চীনের সামরিক উন্নয়নের বিষয়টি একেবারেই যথাযথ বলেও জানান লিয়াং। চীন সফর শেষে গেটস জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া যাবেন।
সূত্র : এএফপি, বিবিসি।
 
Support : Dhumketo ধূমকেতু | NewsCtg.Com | KUTUBDIA @ কুতুবদিয়া | eBlog
Copyright © 2013. News 2 Blog 24 - All Rights Reserved
Template Created by Nejam Kutubi Published by Darianagar Publications
Proudly powered by Dhumketo ধূমকেতু