বার্মা কিংবা বর্মা এখন মিয়ানমার by লিয়াকত হোসেন খোকন

Monday, January 17, 2011

কেউ বলেন মিয়ানমার, আবার কেউবা 'মায়ানমার' বলেন। তবে একদা ছিল বর্মা বা বার্মা। সবার মনের মানচিত্র থেকে বার্মা বা বর্মা নামটি চিরতরে মুছে গেলেও বর্মার কাঠ, বর্মার চাল, বমর্ী চপ্পলের কথা কিন্তু ভোলা সম্ভব হয়নি। একদা ভেলভেটের ষ্ট্র্যাপ লাগানো বমর্ী চপ্পল বাংলাদেশে সহজলভ্য ছিল।

শুধু তাই নয়, বর্মার সিল্কের লুঙ্গিও ছিল এক সময় বাংলাদেশে জনপ্রিয়। বমর্ীরা ওই লুঙ্গিকে বলতো, লুঞ্জি।

১৯৩৮ সাল পর্যন্ত ভারতবর্ষ আর বর্মা এক ভাইসরয়ের শাসনে ছিল। এর পরেই বর্মা এবং ভারতবর্ষ ইংরেজের শাসনে সুবিধা করার জন্য আলাদা হয়ে গেল।

এক সময়ে বর্মায় বাঙ্গালিরা যেতো ব্যবসা-বাণিজ্য করার জন্য। তখন ওখানে যারাই যেতেন তাদের অধিকাংশেরই ভাগ্য ফিরে যেতো। কত শত হাজারো বাঙালি ওখানে বসতি গড়ে তুলেছিল। বর্মা সেটেল্ড হওয়া তখন তেমন কোনো কষ্টই ছিলো না। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় জাপানিরা যত এগুতে লাগল তা শুনে তো বাঙালিরা পেলো ভয়। যুদ্ধের ভয়ে কী আর করা বাঙালিরা অনিচ্ছা সত্ত্বেও বর্মা ছাড়তে লাগলেন। সেই সময় প্রায় সব পরিবারই ফিরে এসেছিল নিজ দেশে। ফিরে এসে কত শত মানুষ চোখের জল ফেলে বলতে বাধ্য হয়েছিল এমন শান্ত নির্বিরোধী মানুষের দেশ, প্রাকৃতিক সবুজ আর নীল আকাশের দেশ কী আর এ জীবনে দেখা হবে। এনিয়ে কতই না ছিল বিলাপ। এদিকে ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ ভাগাভাগি হয়ে গেলো। বাঙালিরা আর ফিরলো না বর্মায়। একদা বাঙালি যারা বর্মায় ছিলেন তাদের অনেকেই আজ বেঁচে নেই। যারা বেঁচে আছেন তারাও এই বৃদ্ধ বয়সে বর্মা ছেড়ে আসার দুঃখ ভোলেননি!

সেই বর্মা এখন মিয়ানমার। সম্প্রতি মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী অং সান সুচির মুক্তি ও এর আগে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে দেশটির জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কিছু নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। অং সান সুচির মুক্তির মধ্য দিয়ে তাই আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে মিয়ানমারের নামটি। মিয়ানমারের যে নাম ছিল বর্মা- একথা কেউ আর বলে না।

১৯৪৮ সালে বর্মা স্বাধীন হবার আগে যুব নেতা আউং সান এবং তার ক'জন সহকমর্ী আততায়ীর গুলিতে নিহত হলেন। এই আউং সানের মেয়েই হলেন অং সান সুচি। তিনি নির্বাচনে প্রচণ্ড জিতেও সামরিক কর্তাদের শাসনে গৃহবন্দী হয়েছিলেন। নোবেল প্রাইজ পাওয়ার পরও পুরস্কার আনতে যেতে পারেননি। এ থেকে আঁচ করা যায় মিয়ানমারের সামরিক কর্তারা যে কত নিষ্ঠুর, কত জালিম। শরৎচন্দ্র তাঁর উপন্যাসে বর্মাকে বাঙালির কাছে এনে দিয়েছিলেন। তার গল্পের নায়ক আর পাঁচজন বাঙালি ভাগ্যান্বেষীর মতে শ্রীকান্তও বর্মা গিয়েছিলেন। তার বাসস্থান ছিল রেঙ্গুনের বাঙালি পাড়ায়। সেই রেঙ্গুন এখন ইয়াঙ্গুন নামে খ্যাত। ইয়াঙ্গুন বা রেঙ্গুনের প্রতীক হলো শোয়ে ডাগন প্যাগোডা। এই শহরে দু'টি লেক আছে। লেকের পাশে রয়েছে প্রশস্ত রাস্তা। লেকে ভাসে বড় বড় বজরা। বজরায় বসেছে রেস্টুরেন্ট।

শোয়েডাগন প্যাগোডা সম্পূর্ণ সোনায় মোড়া রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। এটি দু'হাজার বছর আগে তৈরি হয়েছিল। পৃথিবীর আশ্চর্যতমের মধ্যে এটি এখন অন্যতম বলে মায়ানমারবাসী মনে করেন। শেষ বিকেলে পড়ন্ত সূর্যের আলোয় আশ্চর্য সুন্দর দেখায় এই প্যাগোডাটি। এটি ছাড়াও ইয়াঙ্গুনে ছোট-বড় অনেক প্যাগোডা ও মন্দির রয়েছে। প্রতিটিতেই গৌতম বুদ্ধ নানা রূপে বিভিন্ন মন্দিরে অবস্থান করছেন।

অতীতে বর্মা জাহাজে যাওয়া ছাড়া যাওয়ার আরেকটা পথ ছিল, তাহলো পদব্রজ। ভয়াল নির্জন পাহাড় জঙ্গল পেরিয়ে একশ বছর আগে কত শত লোক বার্মা যেতো। তখনতো বর্মার মেয়েরাই এসব কাজ করতো। সংসার এবং সংসারের বাইরে পুরুষরা বর্মা চুরুট মুখে দিয়ে অলস সুখে দিন যাপন করতো। এখন আর সেই দিন নেই।

মিয়ানমারের আপত্তিতে কনোকো ফিলিপসের সঙ্গে চুক্তি হয়নি

Friday, January 14, 2011

দেশের সমুদ্রসীমায় অন্তত দুটি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি কনোকো ফিলিপসের সঙ্গে পেট্রোবাংলার যে উৎপাদন অংশীদারি চুক্তি (পিএসসি) হওয়ার কথা ছিল, মিয়ানমারের আপত্তির কারণে সরকার তা স্থগিত রেখেছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানায়, কনোকো ফিলিপসের সঙ্গে পিএসসি স্বাক্ষরের ব্যাপারে পেট্রোবাংলার আলোচনা যখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখন মিয়ানমার সরকার তাদের আপত্তি জানিয়ে চিঠি পাঠায়। চিঠিটি মিয়ানমারের ঢাকার দূতাবাস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে দেয়। মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করা হলে পিএসসি স্বাক্ষর না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ কারণে গত অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে কনোকোর সঙ্গে পেট্রোবাংলার আলোচনা হঠাৎ শেষ হয়ে যায়। এ ব্যাপারে দুই পক্ষ আর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। অথচ আলোচনা ভেঙে যাওয়ার কয়েক দিন আগে উভয় পক্ষ একটি খসড়া চুক্তি অনুস্বাক্ষর করেছিল, যাতে গভীর সমুদ্রের ১০ ও ১১ নম্বর ব্লকের যেটুকু এলাকা মিয়ানমার দাবি করছে, সেটুকু বাদ দিয়েই অনুসন্ধান চালানোর ব্যাপারে দুই পক্ষ একমত পোষণ করেছিল।
সরকারি-বেসরকারি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সরকারি এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কয়েক বছর পিছিয়ে গেল। কারণ, যেহেতু মিয়ানমারের আপত্তির কারণে চুক্তি স্বাক্ষর স্থগিত রাখা হয়েছে, সেহেতু যে বিরোধ ওই আপত্তির কারণ, তা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত অনুসন্ধান কার্যক্রম আর শুরু হবে না। ওই বিরোধ নিষ্পত্তিতে সময় লাগবে। অথচ পেট্রোবাংলার সঙ্গে কনোকো ফিলিপসের আলোচনা এমন পর্যায়ে গিয়েছিল, চলতি শীত মৌসুমেই তাদের ভূকম্পন জরিপ শুরুর প্রস্তুতি ছিল।
সমুদ্রবক্ষে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য বাংলাদেশ প্রথম উদ্যোগ নেয় ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়। তখন মডেল পিএসসি ২০০৮-এর অধীনে বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে প্রস্তাব আহ্বান করা হয়। বিশ্বের খ্যাতনামা আটটি কোম্পানি এতে অংশ নেয়। এর মধ্যে গভীর সমুদ্রের আটটি ব্লকে অনুসন্ধান কাজের প্রস্তাবে কনোকো ফিলিপস এবং অগভীর সমুদ্রের দুটি ব্লকের জন্য ব্রিটিশ কোম্পানি টাল্লো যোগ্য বিবেচিত হয়। ওই সময়েই এসব ব্লকে পিএসসি স্বাক্ষর হয়ে যেত। কিন্তু কোনো কোনো মহলের বিরোধিতাকে আমলে নিয়ে ওই সরকার তা না করে নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেয়।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গভীর সমুদ্রের দুটি ব্লকে (ডিএস-০৮-১০ ও ডিএস-০৮-১১) অনুসন্ধানের ব্যাপারে কনোকো ফিলিপসের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়। তারা অন্তত তিন দফা আলোচনা করে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। পিএসসি স্বাক্ষর হলে কনোকো অনুসন্ধান কাজে দুই বছরে প্রায় ৩০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলেন, মিয়ানমার ও ভারতের আপত্তির বিষয় ফয়সালা করেই সমুদ্রবক্ষে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান শুরু করা হবে। সরকার বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট তৎপর রয়েছে। কাজেই এতে খুব বেশি সময় লাগবে বলে মনে হয় না।

২১ বছর পর পার্লামেন্ট বসছে মিয়ানমারে

Monday, January 10, 2011

মিয়ানমারে দীর্ঘ ২১ বছর পর পার্লামেন্ট অধিবেশন বসতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গতকাল সোমবার জানায়, জান্তা প্রধান আগামী ৩১ জানুয়ারি নতুন পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন। বিতর্কিত নির্বাচনের দুই মাস পর এ অধিবেশন ডাকা হলো। দেশটিতে ১৯৯০ সালের পর গত ৭ নভেম্বর প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জান্তা প্রধান জেনারেল থান শ'য়ের এক আদেশ উদ্ধৃত করে জানায়, আগামী ৩১ জানুয়ারি রাজধানী নেইপিদোতে পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের অধিবেশন বসবে। আঞ্চলিক আইনসভাগুলোর অধিবেশনও একই সময়ে বসবে।
জান্তা সমর্থিত 'ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট পার্টি' দাবি করেছে, নির্বাচনে তারা ৮০ শতাংশ আসন পেয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করা হয়নি।
জান্তা সরকার বিতর্কিত নির্বাচনী আইনের মাধ্যমে গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী সু চিকে নির্বাচনের বাইরে রাখায় তাঁর দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ওই নির্বাচন বর্জন করে। ১৯৯০ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সত্ত্বেও সামরিক জান্তা এনএলডির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। সূত্র : এএফপি।
 
Support : Dhumketo ধূমকেতু | NewsCtg.Com | KUTUBDIA @ কুতুবদিয়া | eBlog
Copyright © 2013. News 2 Blog 24 - All Rights Reserved
Template Created by Nejam Kutubi Published by Darianagar Publications
Proudly powered by Dhumketo ধূমকেতু