অগ্রসর প্রযুক্তিকে স্বাগত জানাতে হবে

Monday, June 13, 2011

গ্রসর ও অধিকতর কার্যক্ষম হলেও নতুন প্রযুক্তিকে স্বাগত জানাতে অনেকেই দ্বিধান্বিত থাকেন। আর নতুন কোনো উদ্যোগের সঙ্গে যদি রাজনীতির সংশ্লিষ্টতা থাকে তবে তো কথাই নেই। যাচাই-বাছাই, পরীক্ষা-নিরীক্ষার অবকাশ না করে আগেভাগেই কোনো না কোনো পক্ষ অনাস্থা জানিয়ে রাখে। রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক অবিশ্বাস, সন্দেহ ও সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে নতুন উদ্যোগের পেছনে ষড়যন্ত্রের গন্ধটাই সর্বাগ্রে নাকে এসে লাগে।

তাই প্রধান বিরোধী দল বিএনপি যে নির্বাচন কমিশনের তরফে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম চালুর প্রস্তাব পত্রপাঠ নাকচ করে দিল তাতে অনেকেই বিস্মিত হবেন না। যদিও তথ্যপ্রযুক্তির বিস্ফোরণের যুগে পৃথিবীর উন্নত, অনুন্নত বহু দেশে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন যন্ত্র অনেক বছর ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে এটি বেশ গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। অতি অল্প সময়ে ভোট গণনা করে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং পদ্ধতি রীতিমতো বিস্ময়কর কাজ করেছে। জানা গেছে, পাকিস্তানেও ইভিএম পদ্ধতি শুরু হতে যাচ্ছে। যে ব্যবস্থাটি বিশ্বের বহু দেশে আস্থা পাচ্ছে সে ব্যবস্থাটি আমাদের দেশে চালু করতে গিয়ে কেন হোঁচট খেতে হচ্ছে, এ প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবে উঠবে। এ প্রশ্নে উত্তর মেলা জরুরি আবার একই সঙ্গে নতুন উদ্যোগগুলো নিয়ে সমাজে খোলামেলা আলাপ-আলোচনাও হওয়া দরকার। নির্বাচন কমিশন গত শনিবার গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইভিএম নিয়ে আলোচনা করেছে। আমরা মনে করি, আলোচনার এমন উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে এমন আলোচনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও হতে হবে। বিশেষত প্রধান বিরোধী দলকে আলোচনায় আসতে হবে। সন্দেহ, সংশয়ে দোদুল্যমান না থেকে খোলামনে নতুন প্রযুক্তিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ নিয়ে কথা বলতে হবে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে আন্তরিকতার সঙ্গে উদ্যোগ গ্রহণ করে বিএনপিকে আলোচনার টেবিলে বসাতে হবে। শুধু ইভিএমের ক্ষেত্রেই নয়_ অন্য সকল নির্বাচনী বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে উদ্যোগ নিতে হবে। সমাজের সকল পক্ষই আজ স্বীকার করেন, একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন দলগুলোর বিবাদ-বিশৃঙ্খলার মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে পারে। কিন্তু এ জন্য কমিশনকে স্বাধীন হতে হবে। সরকারকে যেমন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে, তেমনি কমিশনকেও স্বাধীন উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারি দল, বিরোধী দল সকলকে নিয়ে কাজ করতে হবে। কমিশনকে দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। অন্য দেশের অভিজ্ঞতা থেকে এটি স্পষ্ট যে, ইভিএম ব্যবস্থা সহজ, নির্ভুল ও দ্রুতগতির ভোটিং ব্যবস্থা, গণনার ক্ষেত্রেও এটি বিদ্যুৎগতির। ভোটের ফল বিপর্যয়, ম্যানিপুলেশন, গণনায় দেরি ঠেকাতে এর বিকল্প নেই। তবে এটি সত্য যে, সারাদেশে ইভিএম পদ্ধতি একযোগে চালু করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এর জন্য নির্বাচন কমিশনের কর্মীদের যেমন যথাযথ প্রশিক্ষণ দরকার, তেমনি দরকার ভোটারদের প্রশিক্ষণও। সমাজের নানা স্তরের মানুষের পরামর্শ নিয়ে ইভিএম পদ্ধতির সমস্যা ও ত্রুটিগুলোও আমলে আনতে হবে। সারাদেশে একযোগে চালু করা না গেলেও সামনের নির্বাচনগুলোতে শহরাঞ্চলগুলোতে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করা যেতে পারে। গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে চট্টগ্রামে ইভিএম সীমিত আকারে ব্যবহার করা হয়েছিল। ভবিষ্যতে এটি বিস্তৃত হতে পারে। তবে এ পদ্ধতি চালুর আগে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে অবশ্যই আস্থায় আনতে হবে। সবার অংশগ্রহণে, পরামর্শে একটি নতুন ও উন্নত প্রযুক্তি চালু হলে সেটি হবে সবচেয়ে খুশির খবর।

সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন হোক

দেশের ছয়শ' বিদ্যালয়ের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা শনিবার সরাসরি ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেছে। এর ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গণতন্ত্রের বিধিবিধানের প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং সৃষ্টি হবে সহিষ্ণুতার মনোভাব। রোববার সমকালে 'হাতে-কলমে গণতন্ত্রের পাঠ' শিরোনামের খবরে বলা হয়, ছাত্রছাত্রীরা বিপুল উৎসাহ নিয়ে ভোট দিয়ে তিনটি শ্রেণীতে ৭ জন করে প্রার্থী নির্বাচন করেছে।
এদের মধ্য থেকে একজন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবে এবং নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হবে। এ উদ্যোগ উৎসাহব্যঞ্জক। ওপরের শ্রেণীগুলোতেও একই চর্চা করা সম্ভব। নির্বাচিতদের যেন তাদের বয়স অনুযায়ী কাজের সুযোগ থাকে, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। তবে কর্তৃপক্ষের কাজে যদি গণতন্ত্র অনুশীলন না হয় তা হলে কিন্তু সমস্যা সৃষ্টি হবে। শিশুরা যদি দেখে যে তাদের বিদ্যালয়ের কর্মকাণ্ড সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে তাহলে নিজেদের কাজেও তারা উৎসাহিত হবে। অন্যথায় শুরুতেই এ মহতী উদ্যোগ হোঁচট খাবে। একই সঙ্গে আরেকটি বিষয়ের প্রতিও আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন কার্যত অনুপস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ রয়েছে। কলেজগুলোর চিত্রও অভিন্ন। ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে সহিষ্ণুতার অভাবই এর প্রধান কারণ। এর ফলে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের প্রতিষ্ঠানে গণতন্ত্রের অনুশীলন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যেসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীরা প্রতিনিধি নির্বাচন করেছে তারা যদি প্রশ্ন করে যে, বড় ভাই ও বোনেরা কেন একই কাজ করছে না, তার কোনো জবাব কারও কাছেই নেই। ছাত্ররাজনীতি চলা উচিত কি উচিত নয়, সে প্রশ্নে তর্ক চলতেই পারে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ থাকাই উচিত এবং তার আয়োজন হতে হবে নিয়মিত। এ নির্বাচন দলগতভাবে হবে নাকি নির্দলীয় হবে, সেটা আলোচনাসাপেক্ষ। কিন্তু যা চলছে, তার যত দ্রুত অবসান ঘটে শিক্ষাঙ্গনের জন্য ততই মঙ্গল। ছাত্র সংগঠনগুলোকেও এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে হবে। বছরের পর বছর যে নির্বাচন হচ্ছে না তার প্রধান দায় কিন্তু তাদের ওপরেই বর্তায়।

সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, 'সরকার ও বিরোধী দলকে সমঝোতার মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতির বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজে বের করতে হবে।' তাঁর কথার মধ্য দিয়ে সমকালীন গণতান্ত্রিক বিশ্বের বাস্তবতাই প্রতিফলিত হয়েছে। কারণ প্রতিবেশী ভারতসহ পৃথিবীর অনেক দেশে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোর উচিত নির্বাচন কমিশনকে আরও স্বাধীন ও শক্তিশালী করার লৰ্যে ভূমিকা রাখা। বিএনপি দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি, গ্যাস, পানি ও বিদু্যতের সঙ্কটসহ অন্য যেসব সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছে তা মূলত জাতীয় সমস্যা। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য জাতীয় ভিত্তিতে উদ্যোগ নিতে হবে। হরতালের মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী রবিবার সকাল ছয়টা থেকে সোমবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যনত্ম ৩৬ ঘণ্টা একটানা হরতাল আহ্বান করেছে। দল দুটির নেতৃবৃন্দ বলেছেন, জোটগতভাবে নয়; তাঁরা যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে হরতাল পালন করছেন। তারা মূলত সরকারের তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধানত্মের প্রতিবাদে এবং সেই সঙ্গে অন্য বেশ কয়েকটি দাবিতে এ হরতাল ডেকেছেন। উলেস্নখ্য, বিএনপি ৰমতায় থাকাকালে সর্বদা হরতালের বিরোধিতা করে। সম্প্রতি বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় বাজেট উপস্থাপিত হয়েছে। সমাজের সর্বসত্মরে বাজেট নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ঠিক এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিতে দেশব্যাপী হরতাল আহ্বানের কোন যৌক্তিকতা আছে কি? দেশের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও দায়িত্বশীল নাগরিক ইতোমধ্যে এ হরতালের নিন্দা করেছেন। তারা বলেছেন, এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক কর্মতৎপরতা মারাত্মকভাবে বিঘি্নত হবে। অফিস, আদালত, কল-কারখানায় স্বাভাবিক কাজকর্ম বাধাগ্রসত্ম হওয়ায় দেশের সাধারণ মানুষ দুর্ভোগের স্বীকার হবেন।
যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে মতবিরোধের সৃষ্টি হয়েছে; আলাপ আলোচনার মাধ্যমে তার সহজ সমাধান সম্ভব ছিল। ৩৬ ঘণ্টার হরতাল আহ্বান করে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে বিপর্যসত্ম করে লাভ করোরই হবে না; বরং সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
তাই স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, ৩৬ ঘণ্টার হরতাল আহ্বানের আসল উদ্দেশ্য কি? এতে কার লাভ? এ ধরনের হরতালে জাতীয় অর্থনীতি আরও বেশি বিপর্যস্ত হবে।

ইউপি নির্বাচনে সহিংসতাঃ গুলিতে নিহত ২, তিন শতাধিক আহত

উনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হামলা ভাঙচুর গুলি অগি্নসংযোগ ও হতাহতের ঘটনা ঘটেই চলছে। সারাদেশে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত দুইজন, আহত তিন শতাধিক। আটক আটজন। ঝিনাইদহে সংঘর্ষে গুলিবর্ষণ হয়েছে, আহত হয়েছে বিশজন, আটক দুজন। কুড়িগ্রামে ব্যালট পেপার ছিনতাইকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত শতাধিক, আটক পাঁচজন। সরাইলে (ব্রাক্ষণবাড়িয়া) সংঘর্ষে নিহত দুজন, আহত দশজন।

নবীনগরে (ব্রাক্ষণবাড়িয়া) আহত একজন এবং আটক একজন। মুক্তাগাছায় (ময়মনসিংহ) প্রতিপক্ষের বাড়িতে অগি্নসংযোগ করা হয়। সংঘর্ষে আহত হয় সাতজন। দুপক্ষ থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছে। বিরামপুরে (দিনাজপুর) প্রিজাইডিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ করেছে চারজন প্রার্থী। নির্বাচনী সহিংসতায় ও পুলিশের অস্ত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলার গ্রেফতার এড়াতে সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) বর্তমানে পুরুষ শূন্য। ময়মনসিংহে হামলার ঘটনায় দু চেয়ারম্যান প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি মামলা। মুন্সীগঞ্জে দফায় দফায় সংঘর্ষ হামলা ও পাল্টা হামলায় আহত শতাধিক। যশোরের অভয়নগর উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউপি নির্বাচনে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ করেছেন ইউনিয়নের এক চেয়ারম্যান প্রার্থী। দেশের নানা স্থান থেকে আমাদের সংবাদদাতা ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
ঝিনাহদহ : শৈলকুপায় ইউপি নির্বাচনে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু'গ্রুপের সংঘর্ষে বিশজন আহত হয়েছে। এ সময় গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ দুই চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীকে আটক করেছে। সূত্র জানায়, উপজেলার ১১ নং আবাইপুর ইউনিয়নে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান থানা আওয়ামী লীগের সদস্য মোক্তার হোসেন মৃধা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এবং চেয়ারম্যান প্রার্থী আমজাদ হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ দু'গ্রুপে দ্বন্দ্ব রয়েছে। সূত্র জানায়, শনিবার রাতে যুগনী-বাঘিনী গ্রামে আমজাদ হোসেন মোল্লার মিটিংয়ের ওপর প্রতিপক্ষ হামলা চালালে ছয়জন আহত হয়। এর জের ধরে গতকাল সকালে মোল্লার লোকজন হাটফাজিলপুর বাজারে মৃধার নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালালে দুপক্ষে সংঘর্ষ লেগে যায়। এক পর্যায়ে মৃধা একটি বিল্ডিংয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে তিনি লাইলেন্স করা শটগান দিয়ে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গোলা বর্ষণ, ইটপাটকেল ও ঢাল-সড়কির শব্দে বাজার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় আহত হয় বিশজন। আহতের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় দুজনকে ঝিনাইদহ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সংঘর্ষ চলাকালে হাটফাজিলপুর ক্যাম্পের পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। পরে শৈলকুপা থানা ও ঝিনাইদহ থেকে অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ ঘটনাস্থলে পেঁৗছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। শৈলকুপা থানার ওসি ছগির মিয়া জানান, আমজাদ হোসেন মোল্লা ও মোক্তার হোসেন মৃধাকে আটক করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকরা প্রিজাইডিং অফিসারের গতি রোধ করে ব্যালট পেপার ছিনতাই, আনসার সদস্যদের সঙ্গে হাতাহাতি এবং বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকদের মারধর করে। ছিনতাই হয় ব্যালট পেপারের বস্তাসহ তিনটি মোটরসাইকেল। এ সময় পুলিশ ও আনসার সদস্যসহ উভয় পক্ষের শতাধিক আহত হয়। পুলিশ পাঁচজনকে আটক করে। গুরুতর আহত অবস্থায় একজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়।
সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : সরাইলে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় শনিবার উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাইসহ দুজন নিহত ও দশজন আহত হয়েছে। সূত্র জানায়, নির্বাচনের পরাজিত প্রার্থী মো. মনির উদ্দিনের লোকজন সকাল সাড়ে দশটায় উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকউদ্দিন ঠাকুরের বাড়িতে হামলা করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং বাড়ি ও কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করে। হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঠাকুরের ভাই আনিস ঠাকুরকে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত লিলু মিয়া জেলা সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান।
নবীনগর (ব্রাক্ষণবাড়িয়া) : নবীনগর উপজেলার শ্রীরামপুরে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আজহার হোসেন জামালের সহকর্মী নুরু মিয়াকে দা ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। জানা গেছে, শনিবার রাতে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর সহকর্মী নুরু মিয়া মেয়ের বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে শিবির নামক স্থানে পৌঁছলে একই গ্রামের লিজনের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত দা ও চাপাতি দিয়ে তার হাত পা কেটে দেয়। স্থানীয় লোকজন নুরু মিয়াকে নবীনগর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করে। বর্তমানে সে পঙ্গু হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। এই ঘটনায় থানায় মামলা হলে পুলিশ গতকাল জসিম মিয়া নামে একজনকে আটক করেছে।
মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) : মুক্তাগাছার পাঁচ বাশাটী ইউনিয়নে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও প্রার্থীর বাড়িতে অগি্নসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই গ্রুপের সাতজন আহত হয়। থানায় পাল্ট-পাল্টি মামলা হয়েছে। সূত্র জানায়, দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম আকন্দ ও আব্দুল বারী সরকারের সমর্থকদের মধ্যে শনিবার ভোট নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হলে সন্ধ্যায় আকন্দের এক কর্মীকে প্রতিপক্ষের লোকজন মারধর করে। আকন্দের সমর্থকরা শনিবার রাতে প্রতিবাদ মিছিল বের করলে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। উভয়পক্ষের মধ্যে রাত দেড়টা পর্যন্ত বাঁশের লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষের সাতজন আহত হয় এবং বারী সরকারের বাড়িতে অগি্নসংযোগের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মুক্তাগাছা থেকে ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনী গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দুপক্ষ থানায় পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছে।
বিরামপুর (দিনাজপুর) : বিরামপুর উপজেলার চার নং দিওড় ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ করছে চারজন পরাজিত সদস্য পদপ্রার্থী। অভিযোগে বলা হয়, ৫ জুন অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে চার নং দিওড় ইউনিয়নের এক নং ওয়ার্ড রঘুনাথপুর ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সদস্য পদের প্রতিদ্বন্দ্বী মো. সুলতান মাহমুদ মিন্টুর যোগসাজশে ভোট গণনার আগে আমাদের এজেন্টকে হুমকি দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে মিন্টুকে বিজয়ী ঘোষণা করে। প্রতিবাদ করতে সে পুলিশকে দিয়ে আমাদের হুমকি দেয়। যে কারণে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এজেন্টদের স্বাক্ষর ছাড়াই ফলাফল শিট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেন।
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) : সুন্দরগঞ্জে নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় পুলিশের অস্ত্র ছিনতাইয়ের পর অস্ত্র উদ্ধার ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত দুজনকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও দায়েরকৃত মামলায় চলি্লশজন আসামি থাকায় গ্রেফতার আতংকে পুরো একটি গ্রাম এখনও পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। সরজমিনে উপজেলার বজরা কঞ্চিবাড়ীর গয়েসপাড়া এলাকায় দেখা গেছে, প্রতিটি বাড়িতে তালা। মহিলারা জানায়, ৫ জুন পুলিশ ও আনসারদের আহত করে কে বা কারা রাইফেল ছিনতাই করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক চেয়ারম্যানপ্রার্থীসহ দুজনকে আটক করা হলেও এজাহারে নাম অজ্ঞাত থাকায় গ্রামটির পুরুষরা এলাকায় ফিরছে না।
ময়মনসিংহ : ফুলবাড়িয়া উপজেলায় গতকাল ভোরে উপজেলার বালিয়ান ইউনিয়নে আ'লীগ চেয়ারম্যান প্রার্থীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করেছে আ'লীগের অপর চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর চারটার দিকে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মফিজ উদ্দিন ম-ল নির্বাচনী কার্যক্রম শেষে তেলিগ্রাম বাজারে আসার পথে চামার বাজাইল মোড়ে এসে পেঁৗছলে অপর আ'লীগের প্রার্থী মোতালেব সরকারের সমর্থকরা তাকে লাঞ্ছিত করে। এর তিন ঘণ্টা পর ম-লের সমর্থকরা মোতালেব সরকারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। মোতালেব সরকার বাদী হয়ে ফুলবাড়িয়া থানায় সত্তরজনের নামে মামলা দায়ের করেন। অপরদিকে মফিজ উদ্দিন ম-ল বাদী হয়ে আশিজনের নামে মামলা করেন।
মুন্সীগঞ্জ : মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের রাজারচর, সামারচর ও খাসকান্দি এলাকায় রিপন পাটোয়ারী ও শাহ আলম মলি্লকের সমর্থকদের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষ হামলা ও পাল্টা হামলায় আহত হয়েছে শতাধিক। জানা গেছে, ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলা পাল্টা হামলা এখনো অব্যাহত আছে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।
অভয়নগর (যশোর) : অভয়নগর উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউপি নির্বাচনে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লংঘনের লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী বিএম নজরুল ইসলাম। অভিযোগে জানা যায়, অভয়নগর থানার এএসআই জাহাঙ্গীর আলম ওই ইউনিয়নে একজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে সরাসরি নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন। যারা তার কথায় কাজ করতে রাজি হচ্ছেন না, তাদের গালি-গালাজ, হুমকি-ধমকি ও মারপিট করছেন। জাহাঙ্গীর আলম ১০ জুন অপ্রাপ্ত বয়স্ক ইমরান হোসেনকে চশমা প্রতীকের পোস্টার লাগাতে বললে ইমরান অপারগতা প্রকাশ করায় তাকে বেদম মারপিট করে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

একটি আসন হারাল আওয়ামী লীগ

Thursday, January 27, 2011

দুটি আসনের উপনির্বাচনে একটি হারাল ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে হবিগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুশফিক হোসেন চৌধুরীকে এক হাজার ২৮৫ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে বিএনপির প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া বিজয়ী হয়েছেন।

আর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে আওয়ামী লীগের র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ৩৯ হাজার ৮২০ ভোটে হারিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী খালেদ হোসেন মাহবুবকে।
এদিকে ভোট কারচুপির অভিযোগে রাত সাড়ে ১০টায় বিএনপি ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রোববার সেখানে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে।
সরকারের মধ্যবর্তী সময়ে এ নির্বাচনে কোনো ধরনের সহিংসতা ও গোলযোগ হয়নি। শান্তিপূর্ণভাবে সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ চলে।
ভোট গণনা শেষে গতকাল রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন। তাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে মোট ১২৬টি কেন্দ্রের ফলাফলে আওয়ামী লীগের উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী পেয়েছেন এক লাখ ২৪ হাজার ৩৫০ ভোট। আর বিএনপির খালেদ হোসেন পান ৮৪ হাজার ৫৩০ ভোট।
১৯৭৩ সালের পর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। সাংসদ লুৎফুল হাই সাচ্চুর মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়। লুৎফুল হাই প্রায় ৭৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন।
অপরদিকে হবিগঞ্জের-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনের বেসরকারি ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া পেয়েছেন ৮১ হাজার ৩৩০ ভোট। আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুশফিক হোসেন চৌধুরী পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৫ ভোট। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবদুল মুনিম চৌধুরী পেয়েছেন ২২ হাজার ২২০ ভোট।
অবশ্য রাত নয়টার দিকে আওয়ামী লীগের নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মুজিবুর রহমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের মিলনায়তনে এসে বলেন, ঘোষিত ফলাফলে ভুল আছে। তিনি ফলাফল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বন্ধ করার দাবি জানান।
একই সময় বিএনপির প্রার্থীর লোকজনও সেখানে এসে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মাইকে ঘোষিত ফলাফলের লিখিত কাগজ দেওয়ার দাবি জানাতে থাকেন। এ নিয়ে সেখানে কিছু সময় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
রাত ১০টার দিকে স্থানীয় ডাকবাংলোয় রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. এমরান সংবাদ সম্মেলন করে একই ফলাফল ঘোষণা করেন। এর কিছুক্ষণ পর একই স্থানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুশফিক হোসেন চৌধুরী সংবাদ সম্মেলন করে ছয়টি কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচন দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, চা-বাগানের কেন্দ্রগুলোতে তাঁর পক্ষের ভোটারদের হুমকি ও আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
হবিগঞ্জের এ আসনে ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত টানা তিনটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেওয়ান ফরিদ গাজী জয়লাভ করেন। এর আগে ১৯৯১ সালে নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির প্রার্থী। দেওয়ান ফরিদ গাজীর মৃত্যুতে এ আসনে উপনির্বাচন হলো।
নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘এ নির্বাচন দেশে ও আশপাশের দেশে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। অতীতে রাজনৈতিক সরকারের সময়ে এমন শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের নজির জানা নেই।’
ভোট গ্রহণ শেষে বিকেলে ঢাকায় বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাঁচটি কেন্দ্র স্থগিত করে পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
সকালে গ্রামে, দুপুরে শহরে লাইন: ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে শরিফুল হাসান ও ওয়ালিদ সিকদার জানান, সকাল থেকেই গ্রামের দিকের কেন্দ্রগুলোতে ছিল লম্বা লাইন। সে তুলনায় শহরের কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি কম ছিল। কিন্তু বেলা যতই বেড়েছে ততই ব্যস্ত হয়েছে শহরের কেন্দ্রগুলো। অনেকে ভোট দিতে এসেছিলেন দুপুরের পরে।
স্থানীয় বিএনপি বলছে, কয়েকটি কেন্দ্র বাদ দিলে সার্বিকভাবে নির্বাচনের পরিবেশ ভালো ছিল। একই কথা বলেছে আওয়ামী লীগও।
নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে এই আসনের চারদলীয় জোটের প্রার্থী খালেদ হোসেন মাহবুব অভিযোগ করে বলেন, আটটি কেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টকে বের করে দিয়েছে আওয়ামী লীগের লোকজন। আওয়ামী লীগ তাদের প্রার্থীর পক্ষে সরকারি প্রশাসনকে ব্যবহার করেছে।
বিএনপির প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও শহর বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম প্রথম অলোকে বলেন, সার্বিকভাবে নির্বাচনের পরিবেশ ভালো ছিল। কিন্তু সাত থেকে আটটি কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। বিকেলের দিকে কিছু কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগ রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জানিয়েছেন কি না—জানতে চাইলে বলেন, ‘আমরা মৌখিকভাবে অভিযোগ সার্বক্ষণিকভাবে জানিয়েছি।’
এই আসনের মহাজোটের প্রার্থী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশনসহ প্রশাসনকে বারবার বলেছি, আমি একটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই। জনগণ যদি আমাকে ভোট দেয়, তবেই আমি জিততে চাই। কিন্তু বিভিন্ন স্থানে আমার কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে। আমি সবাইকে ধৈর্য ধরে থাকতে বলেছি। এ কারণেই একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে।’
কুমিল্লা অঞ্চলের উপনির্বাচন কমিশনার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ হয়েছে। একটি কেন্দ্রও স্থগিত করতে হয়নি। প্রার্থীরা মৌখিকভাবে কিছু অভিযোগের কথা বলেছেন। মূলত এগুলো ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষা-সম্পর্কিত। তাঁদের অভিযোগ পাওয়ার পরপরই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ ছিল খুবই ভালো।’ এ জন্য সব প্রার্থী, ভোটারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধনবাদ জানান তিনি।
সদর ও বিজয়নগর উপজেলার একাংশ নিয়ে এই আসন। এখানকার মোট ভোটার তিন লাখ ১০ হাজার ২৩৮ জন। ভোটারদের উপস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন বলেন, তাঁদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ৬৫ শতাংশ ভোট পড়েছে।
বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগ: বিএনপির প্রার্থী খালেদ হোসেন মাহবুব সকাল নয়টার দিকে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, সদর উপজেলার নাটাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে তাঁর এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখা যায়, স্বাভাবিক পরিবেশে ভোট চলছে।
কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা শরিফুল হক বলেন, ‘বিএনপির প্রার্থীর অভিযোগ ভিত্তিহীন। শান্তিপূর্ণভাবেই এখানে নির্বাচন চলছিল। কিন্তু বিএনপির প্রার্থী এসে হঠাৎ করে বলেন, তাঁর এজেন্টকে বের করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি এখানে তাঁদের এজেন্টই দেননি। আমি সকালেই বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে জানিয়েছি।’
দুপুর একটার দিকে খালেদ হোসেন মাহবুব অভিযোগ করেন, সদর উপজেলার বাসুদেব উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টকে বের করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে সিল মারছে। কয়েকজন সাংবাদিক আবার ছুটে গেছেন সেখানে। গিয়ে দেখা যায়, ভোট গ্রহণ বন্ধ। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ র‌্যাব-পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান।
ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মির্জা গালিব প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকাল থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট নেওয়া হচ্ছিল। দুপুরের দিকে দুটি বুথের বিএনপির এজেন্ট নাশতা খাওয়ার কথা বলে বাইরে যান। এরপর বিএনপির প্রার্থী খালেদ হোসেন মাহবুব ওই দুই এজেন্টসহ কয়েকজন সাংবাদিক নিয়ে এসে আমাকে বলেন, “এখানে ভোট বন্ধ করে দেন।” আমি তাঁকে বলি, নির্বাচন তো শান্তিপূর্ণ হচ্ছে। ভোট গ্রহণ কেন বন্ধ করব? এ সময় কেন্দ্রের বাইরে বিএনপির লোকজন ভোট বন্ধের দাবিতে স্লোগান দেয়। আমি সঙ্গে সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘটনাটি জানাই। পরে র‌্যাব-পুলিশ এলে আবার নির্বাচন শুরু হয়।’
বিএনপির প্রার্থী খালেদ হোসেন মাহবুব অভিযোগ করেছেন, খ্রিষ্টিয়ান মিশনারি স্কুল, সুহিলপুর মীরহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুহিলপুর দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুহিলপুর মধ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিরাশার প্রাথমিক বিদ্যালয়, দতাইসার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সাবেরা সোবহান বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রসহ আরও কয়েকটি কেন্দ্র থেকে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় পুলিশ, র‌্যাব ও সন্ত্রাসীরা বিএনপির প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দিয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে মারধর করা হয়েছে। ফলে ভোটাররা আতঙ্কে ছিলেন।
তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেছেন, ১২৬টি কেন্দ্রের সবগুলোতেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ হয়েছে। কয়েকটি কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী অভিযোগ দেওয়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। কিন্তু বেশির ভাগ স্থানেই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
বিকেল সাড়ে তিনটায় খ্রিষ্টিয়ান মিশনারি স্কুল কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এ এফ এম নওরোজকে লাঞ্ছিত করে বিএনপির কর্মীরা। তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিএনপির প্রার্থী নিজেই তাঁকে ধমক ও গালাগাল করে হুমকি দেন।
প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এ এফ এম নওরোজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘জাল ভোট পড়ছে, এমন মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে বিএনপির প্রার্থী আমাকে গালিগালাজ করেন। আমি তাঁকে বলি, “আপনার কোনো অভিযোগ থাকলে লিখিত দেন।” কিন্তু তিনি লিখিত দেননি।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নরসিংসার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দিতে গিয়ে বায়েজিদ (১৫) ও আমির হোসেন (২২) নামে দুজন বিএনপির কর্মী আটক হয়েছেন। ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবদুর নুর প্রথম আলোকে জানান, যে পরিচয়পত্র নিয়ে তাঁরা ভোট দিতে এসেছিলেন এর সঙ্গে তাঁদের ছবির কোনো মিল না থাকায় তাঁদের আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়।
আমাদের আখাউড়া প্রতিনিধি দুলাল ঘোষ জানান, বিজয়নগর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ৩৫টি ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টায় মেরাশানী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের লাইনে থাকা ভোটার আক্তার হোসেন (৫৬) বলেন, ‘হুনছিলাম, মিলিটারি আইব। আবার হুনি আইব না। এর লাইগ্গা ভয়ে আছিলাম। কেন্দ্রে আইয়া দেহি, কোনো গুলমালই নাই। হগলেই শান্তিতে ভোট দিতাছে।’
বিএনপির অভিযোগ ছিল, আবার ছিলও না: হবিগঞ্জ থেকে ওয়াসেক বিল্লাহ্ ও হাফিজুর নিয়ন জানান, দুই উপজেলার মোট ১৭৫টি কেন্দ্রে ভোট নেওয়া হয়। কোনো সহিংসতা ঘটেনি। আওয়ামী লীগের সাংসদ দেওয়ান ফরিদ গাজীর মৃত্যুতে আসনটি খালি হয়। নির্বাচনে ভোটারসংখ্যা তিন লাখ এক হাজার ৪৪৭।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. এমরান ভোট গ্রহণ শেষে প্রথম আলোকে বলেন, ‘১০০ ভাগ সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে। আমরা সবাই খুশি।’
সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অন্তত ২৫টি ভোটকেন্দ্র ঘুরে কোথাও ভোটারদের লম্বা লাইন দেখা যায়নি। দু-একটি কেন্দ্রে ভোটারদের ভোট দিতে লাইন ধরে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। বেশির ভাগ কেন্দ্রেই ভোটাররা এসে অপেক্ষা না করেই ভোট দিতে পেরেছেন।
বিএনপির প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া সকাল নয়টার দিকে প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘শান্তিপূর্ণ ভোট হচ্ছে। আমাদের কোনো অভিযোগ নেই।’ বিএনপির সাংসদ নজরুল ইসলামও সকাল ১০টার সময় এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘ভোট মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে হচ্ছে।’ এর মাত্র এক ঘণ্টা পর তিনি একটি ইংরেজি দৈনিককে ২০টি কেন্দ্রে কারচুপি ও সরকারি দলের সন্ত্রাস করার অভিযোগ করেন।
নজরুল ইসলাম যেসব কেন্দ্রের নাম উল্লেখ করেন, তার প্রতিটিই নবীগঞ্জ সদর থেকে অনেক দূরে অবস্থিত। এমন একটি কেন্দ্র বড় বাকৈরের রামপুর সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়। অভিযোগ ছিল, ওই কেন্দ্রের বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
কেন্দ্রটিতে গিয়ে এই অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। একটি বুথে বিএনপির এজেন্ট আম্বিয়া বেগম বলেন, ‘ভোট ভালো অইছে। ভয় দেহাইছে না কেউ।’ আরেক বুথে বিএনপির এজেন্ট আবদুল খালেক বলেন, ‘খুব ভালো ভোট হইছে। কোনো সমস্যা নেই।’
প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম বলেন, ‘শাম্মী আখতার (সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির সাংসদ) ফোন করেছিলেন। তিনি জানালেন, এই কেন্দ্রে নাকি প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। আমি তাঁকে বললাম, কই, কিছু হচ্ছে না তো। তখন তিনি বললেন, “ধন্যবাদ, তাহলে ঠিক আছে।’”
বেলা সোয়া দুইটার দিকে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘খুব ভালো নির্বাচন হচ্ছে। কোনো সমস্যা নেই।’
কিন্তু বিকেল চারটায় বাহুবলের মিরপুর দাখিল মাদ্রাসায় সুজাত মিয়া বলেন, ‘২০-২৫টা সেন্টারে আমাদের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। তাদের ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমাদের এজেন্টদেরও বের করে দেওয়া হয়েছে।’ কোথায় এগুলো হয়েছে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনারা কোথায় ছিলেন? নবীগঞ্জের বহু জায়গায় এগুলো হয়েছে।’ তবে তিনি সুনির্দিষ্ট করে কোনো কেন্দ্রের নাম বলতে পারেননি।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুশফিক হোসেন চৌধুরী প্রথম আলোকে ভোট গ্রহণ শেষে বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে।’
জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবদুল মুনিম চৌধুরীর প্রধান নির্বাচন সমন্বয়ক আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। তবে ভোটারসংখ্যা কম ছিল।’
রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. এমরান বলেন, ‘শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। বিএনপি দু-তিনটি কেন্দ্রে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করেছিল। তবে তদন্ত করে এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। একইভাবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিএনপির বিরুদ্ধে ভোটারদের গাড়িতে করে আনা-নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছিল। এরও কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
ভোটার উপস্থিতি কম: বাহুবলের পুঁটিজুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিকেল তিনটা ৪০ মিনিট পর্যন্ত শতকরা ৫৯ ভাগ ভোট পড়েছিল। কেন্দ্রটির পোলিং কর্মকর্তা অমৃতলাল গোপ বলেন, ‘এখন বোরো ধান রোপণের মৌসুম চলছে, তাই হয়তো উপস্থিতি কম।’
আরেক পোলিং কর্মকর্তা জাফরান আহমেদ বলেন, ‘কোনো সময় ভোটারদের একটা লাইনও হয়নি। চার-পাঁচজন করে ভোট দিয়ে চলে গেছে।’
কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবদুল মজিদ বলেন, ‘এখন বোরো রোপণের মৌসুম। গরির মানুষের আয়-রোজগারের দিকও তো আছে। অনেকে আবার এলাকার বাইরে কাজ করে। আবার এই এলাকায় নারীদের বিষয়ে রক্ষণশীলতা আছে। এসব কারণে হয়তো ভোট কম পড়েছে।’
বাহুবল প্রতিনিধি পংকজ কান্তি গোপ জানান, উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে বাহুবল আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা একটায় গিয়ে দেখা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য খোশগল্প করছেন। আনসার বাহিনীর মহিলা সদস্যরাও নিজেদের মাঝে পান-সুপারি ভাগাভাগি করে খাচ্ছেন। ৫-১০ মিনিট পর পর দু-একজন ভোটার আসছেন। ভোট দিয়ে চলে যাচ্ছেন। কোনো লাইন নেই। নেই ভোটকেন্দ্রের চিরচেনা চিত্র।
বেলা আড়াইটায় উপজেলা সদর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে পশ্চিম ভাদেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, মহিলা ভোটারদের ছোট্ট একটি সারি। পুরুষ ভোটারদের উপস্থিতি খুবই কম। ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বিমল চৌধুরী জানান, শতকরা ৪০ ভাগ ভোট পড়েছে।
কেন্দ্রে এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য আকবর আলী (৭০) বলেন, ‘জীবনে এত কম ভোটার দেখিনি।’ তাঁর মতে, গ্রামাঞ্চলে প্রার্থীদের প্রচারণা কম ও উপনির্বাচন হওয়ায় ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ তৈরি হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মাসুক মিয়া জানান, রাজনৈতিক দলের কর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের পেছনে বেশি ছোটাছুটি করেছেন, বাড়ি বাড়ি ভোটারদের কাছে যাননি। ফলে ভোটাররা কম এসেছেন।
উপজেলার বিএম ব্রিকস ফিল্ডে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ শ্রমিক নিজের কাজে ব্যস্ত। শ্রমিক তইয়ব আলী ও আবদুল আজিজ বলেন, ‘ভোট দিয়া কিতা অইত। চাউলের দামত আর কমতনায়। আমি রোজি না করলে পরিবার পালমো ক্যামনে?’ ভোটার উপস্থিতির এ চিত্র শুধু বাহুবল সদর, পশ্চিম ভাদেশ্বর ও যশমঙ্গল কেন্দ্রের নয়; উপজেলার ৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে বেশির ভাগেরই চিত্র ছিল একই রকম।
বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দুজ্জামান বলেন, বাহুবলে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, এ নির্বাচন জাতীয় প্রেক্ষাপটের কোনো পরিবর্তন আনবে না বলে ধারণা থাকায় হয়তো ভোটকেন্দ্রে যেতে আগ্রহ বোধ করেননি অনেকে।

উপনির্বাচন-দুই আসনে আজ অগ্নিপরীক্ষা

Wednesday, January 26, 2011

দেশজুড়ে পৌর নির্বাচন নিয়ে ভোট উৎসবের আমেজের মধ্যেই আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় সংসদের দুটি আসনের উপনির্বাচন। হবিগঞ্জ-১ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের এ নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

গত ১৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য দেওয়ান ফরিদ গাজীর মৃত্যুতে হবিগঞ্জের এবং ২২ নভেম্বর লুৎফুল হাই সাচ্চুর মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আসন শূন্য হয়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কাছে এ দুটি আসন রক্ষা করা মর্যাদার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির মরিয়া চেষ্টা হচ্ছে নির্বাচনের ফল নিজেদের অনুকূলে এনে সরকারকে চাপের মুখে ঠেলে দেওয়া। পৌরসভা নির্বাচনে ভালো ফলাফলের উৎসাহ নিয়ে তারা উপনির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে।
হবিগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হচ্ছেন ডা. মুশফিক হুসেন চৌধুরী। চার দলের প্রার্থী হলেন বিএনপির নেতা ও লন্ডন প্রবাসী শেখ সুজাত মিয়া। জাতীয় পার্টির হয়ে নির্বাচনে লড়ছেন এম এ মুনিম চৌধুরী বাবু। এ আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের অ্যাডভোকেট মনমোহন দেবনাথ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মাওলানা আব্দুল মালেক চৌধুরী ও খেলাফত মজলিসের শাইখ আব্দুল কালাম।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। বিএনপির প্রার্থী হলেন ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। এ আসনের বাকি তিন প্রার্থী হলেন জাতীয় পার্টির মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মো. ইউনুস মিয়া ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নিয়াজুল করিম।
এদিকে উপনির্বাচনে শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে দুই নির্বাচনী এলাকায় গতকাল বুধবার দুই কম্পানি (১২৫ থেকে ১৩০ জন করে) বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার পরও নির্বাচন কমিশন গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্ষীণ একটা প্রত্যাশা ধরে রেখেছিল। এ বিষয়ে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির পক্ষে বলা হয়েছে, ‘বারবার সেনা চেয়েও নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ হওয়ায় আমাদের ধারণা, সরকার এ নির্বাচনে নির্বিঘেœ কারচুপি করতে চাইছে।’ তবে কমিশনের পক্ষে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী না থাকলেও বিকল্প যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তাতে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে।
গতকাল রাত ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা এএসপি (সদর সার্কেল) সঞ্জয় সরকার, সদর থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন ও বিজয়নগর থানার ওসি দুলাল মাহমুদকে যাঁর যাঁর নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে নির্বাচন কমিশন অব্যাহতি দিয়েছে বলে জানা যায়।
নির্বাচন কমিশন ২৭ তারিখের এসব নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন এলাকার নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিজস্ব পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করেছে। নির্বাচনী এলাকা দুটির প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে মোট ৩৫ জন পর্যবেক্ষক কাজ করছেন। এ ছাড়া নির্বাচনী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য কমিশন সচিবালয়ে একজন উপসচিবের নেতৃত্বে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি পর্যবেক্ষণ সেল গঠন করা হয়েছে।

হবিগঞ্জ : একদিকে প্রেস্টিজ, অন্যদিকে চ্যালেঞ্জ
হবিগঞ্জের নির্বাচনকে শাসক দল আওয়ামী লীগ নিয়েছে প্রেস্টিজ ইস্যু হিসেবে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন চার দল এটিকে নিয়েছে চ্যালেঞ্জ হিসেবে। আর প্রধান দুই শক্তির বাইরে জাতীয় পার্টি বিষয়টিকে নিয়েছে তাদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের পরীক্ষা হিসেবে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সব মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন এ আসনের ফলাফল। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দলের জনপ্রিয়তা দেখতে নির্বাচন সামনে রেখে দুবার হবিগঞ্জ ঘুরে গেছেন।
বিগত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সিলেট অঞ্চলে দুর্গ গড়ে তুলেছিল। এর মধ্যে হবিগঞ্জের চার আসনের সব কটিতেই জয় সেই দুর্গকে করে তোলে আরো সুরক্ষিত। কিন্তু সাম্প্রতিক পৌর নির্বাচনের ফলাফলে সেই দুর্গে ফাটল ধরার ইঙ্গিত থাকায় উপনির্বাচনে আসনটি ধরে রাখতে সর্বাÍক চেষ্টাই চালিয়েছে আওয়ামী লীগ। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ওপর গ্রেনেড হামলার সেই নির্মম দিনে হচ্ছে আজকের এই নির্বাচন।
নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের ব্যাপারে প্রথম দিক থেকে কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ার বিষয়টিকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন চার দল ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী। গতকাল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ সারির নেতাদের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ-পাল্টাঅভিযোগের তীর ছোড়াছুড়ি চলেছে। এ ছাড়া কালো টাকার বিতরণ নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে বলে ভোটারদের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে।
নির্বাচন হবে নবীগঞ্জ ও বাহুবলের ১৭৫টি কেন্দ্রে। এর মধ্যে স্থানীয় প্রশাসন ৯২টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করেছে। উপনির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মো. এমরান মিয়া প্রস্তুতির বিষয়ে গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ২৭ সশস্ত্র সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এ ছাড়া থাকবেন ৩৬টি ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার ও বাক্স পাঠানোর কাজ শেষ হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ নির্বাচনী এলাকায় এবার মোট ভোটার তিন লাখ এক হাজার ৪৪৭। এর মধ্যে নারী ভোটার এক লাখ ৫৬ হাজার ৬১৯, পুরুষ এক লাখ ৪৪ হাজার ৮২৮। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব জনবল দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভিডিও ক্যামেরা নিয়ে কমিশনের লোকজন মাঠে তৎপর রয়েছেন। প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার আছেন দুই হাজার ৮২৩ জন।
এদিকে গতকাল রাত পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকা ঘুরে সহিংসতার বড় কোনো আশঙ্কা দেখা যায়নি। ঘরে ঘরে গোপন বৈঠকে ভোট চাওয়াসহ বিভিন্ন কৌশলের কারণে প্রধান প্রার্থীদের কেউই নিজেদের বিজয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারেননি। তবে চা বাগান এলাকার প্রায় ১৮ হাজার ও সংখ্যালঘুদের প্রায় ৫০ হাজার ভোট এ নির্বাচনের হিসাবে বড় ভূমিকা রাখবে। কয়েক দিন আগেও চা বাগান এলাকার ভোটাররা নাখোশ ছিলেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ওপর। কেন্দ্রীয় নেতাদের তৎপরতায় সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। নবীগঞ্জবাসীর প্রধান দাবি, এলাকায় গ্যাস সরবরাহের ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থী ভোট টানার চেষ্টা করেছেন।
গতকাল মহাজোটের মনোনীত প্রার্থী ডা. মুশফিক হুসেন চৌধুরীর নির্বাচন পরিচালনার প্রধান সমন্বয়কারী মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ কালের কণ্ঠের কাছে অভিযোগ করেন, ‘চার দলের মনোনীত বিএনপির শেখ সুজাত বিভিন্ন গ্রামে সমর্থকদের দিয়ে অর্থ বিতরণ করছেন। এ অর্থ নির্বাচনের ফলকে প্রভাবিত করতে পারে।’ শেখ সুজাত বলেন, ‘আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে এলাকায় এ অভিযোগ তোলা হচ্ছে।’
হবিগঞ্জ-১ আসনটি আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির জন্য অনুকূল হলেও চার দলের জন্য তা সব সময়ই ছিল প্রতিকূলে। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের নির্বাচনে এখানে আওয়ামী লীগ তিনবার ও জাতীয় পার্টি একবার জয়লাভ করে। ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত হ্যাটট্রিক বিজয়ী প্রার্থী ছিলেন প্রয়াত দেওয়ান ফরিদ গাজী।
সংবাদ সম্মেলন : গতকাল বিকেল ৩টায় হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, আওয়ামী লীগের প্রার্থীর তিন রঙা ব্যানার ও পুলিশ নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা প্রচারণায় অংশ নিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। তাদের আরো অভিযোগ, মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন। এতে নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিএনপি। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াছ আলী, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মন্জু ও শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি উপস্থিত ছিলেন।
আওয়ামী লীগ হবিগঞ্জের দলীয় কার্যালয়ে গতকাল বিকেল ৪টায় সংবাদ সম্মেলনে তাদের প্রার্থীর বিরুদ্ধে আনা আচরণবিধি ভঙ্গসহ অন্যান্য অভিযোগ অস্বীকার করে। পাল্টা অভিযোগ করে বলা হয়, যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপির ধনাঢ্য প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া বিগত নির্বাচনের মতো এবারও গ্রামে গ্রামে কালো টাকা ছড়াচ্ছেন। এটা সুষ্ঠু নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ্ উদ্দিন সিরাজ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির ও সাংগঠনিক সম্পাদক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ খান উপস্থিত ছিলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যত ভয় এজেন্টদের মনে!
বুধবার সারা দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা পরিষদ চত্বর ছিল উৎসবমুখর। এখান থেকেই ব্যালট পেপার ও বাক্সসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম বিভিন্ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও এখান থেকে নিজ নিজ দায়িত্ব বুঝে নিয়ে কেন্দ্রে যান।
আজকের নির্বাচন উপলক্ষে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ১০ হাজার ২৩৮। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৪৯ হাজার ৬০০ এবং মহিলা ভোটার এক লাখ ৬০ হাজার ৬৩৮ জন। মোট ১২৬টি ভোটকেন্দ্রের বুথসংখ্যা ৫৯১। ৬২টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও আনসারের নেতৃত্বে ২৭ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অস্ত্রধারী ১০ জন পুলিশ ও পাঁচজন আনসার এবং ১২ জন লাঠিধারী আনসার। এ ছাড়া ২০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও চারজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে দুই কম্পানি বিজিবি সদস্য এবং র‌্যাবের ১০টি মোবাইল টিম।
কাগজে-কলমে পাঁচ প্রার্থী থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চারজন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূইয়া মনোনয়নপত্র দাখিল করেও পরে মহাজোট প্রার্থী মোকতাদির চৌধুরীর সমর্থনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মহাজোট প্রার্থী মোকতাদির চৌধুরী ও চারদলীয় জোটের প্রার্থী খালেদ হোসেন মাহবুবের মধ্যে।
গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক আ. হান্নান কালের কণ্ঠকে জানান, লিখিতভাবে অফিসিয়াল নির্দেশ না এলেও জেলা সদর সার্কেল এসএসপি, সদর থানার ওসি ও বিজয়নগর থানার ওসিকে তাঁদের নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার মৌখিক নির্দেশ এসেছে। একই ধরনের কথা জানান রিটার্নিং অফিসার এম আনোয়ার হোসেন।
এদিকে গতকাল নির্বাচনের শেষবেলার প্রস্তুতি হিসেবে দরজা বন্ধ করে একেক এলাকার এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মৌলভীপাড়া এলাকায় সকাল থেকেই জেলা বিএনপির সভাপতি হারুন আল রশিদের বাড়ির দোতলায় চলে এ বৈঠক। এক গ্র“প বেরিয়ে যেতেই ডাক পড়ে আরেক গ্র“পের। কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় কারো মুখ হাসি-খুশি, কারো অন্ধকার।
অন্ধকার মুখ নিয়ে বেরিয়ে আসার কারণ জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন এজেন্ট বলেন, ‘দলের স্বার্থে প্রার্থীর এজেন্ট হইছি, কিন্তু আমরার নিরাপত্তার জন্য প্রার্থী কী করল, বুঝলাম না। মাইর খাইলেও কেন্দ্রে বইয়া থাকতে অইবÑএইডা কেমনে অয়?’
কেন্দ্রে তো পুলিশসহ প্রশাসনিক নিরাপত্তার সব ব্যবস্থা থাকবেই, তার পরও দল বা প্রার্থীর কাছ থেকে কী আশা করছেনÑজানতে চাইলে বিএনপি প্রার্থীর ওই এজেন্ট ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘পুলিশ কি আমরার নিরাপত্তা দিব? দিব তো সরকারি দলের লোকজনরে!’
ভয় আছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর এজেন্টদের মধ্যেও। বিএনপি প্রার্থীর এজেন্ট বা কর্মীরা কিছু কিছু কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের এজেন্টদের ওপর চড়াও হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। তিনি গত রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগের প্রতিটি ভোটেই দেখেছি, অনেক কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্ট ও কর্মীরা আওয়ামী লীগের প্রার্থীর এজেন্টদের মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে নিজেরা ব্যালটে সিল মেরেছে। এসব অভিজ্ঞতার কারণেই আমরা এবার আমাদের দৃষ্টিতে ২৬টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে প্রশাসনকে অবহিত করেছি।’
বিএনপির এজেন্টদের ভয়ের কথা জানান জেলা বিএনপির সভাপতি হারুন আল রশিদ। সন্ধ্যায় তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা যেকোনো সময় সরকারি দলের প্রার্থীর পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছি, আর এজেন্টদের মনে সাহস জোগানোর চেষ্টা করছি, যাতে তারা সব ধরনের ভয়ভীতি উপেক্ষা করে কেন্দ্রের ভেতরে অবস্থান করতে পারে।’ বিএনপির প্রার্থীর বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও এজেন্টদের নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে তিনি সময় দিতে পারেননি।
এদিকে রাত ৯টায় বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন এলাকায় তাঁর কর্মী ও এজেন্টদের ভয়ভীতি ও মারধর করছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।
আজকের ভোটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের ১২৬টি কেন্দ্রে ৫৯১টি বুথের প্রতিটিতে প্রত্যেক প্রার্থীর পক্ষে একজন করে এজেন্ট থাকার কথা। সে অনুযায়ী চার প্রার্থীর পক্ষে এজেন্টসংখ্যা হবে দুই হাজার ৩৬৪ জন। তবে এর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীর পক্ষের এজেন্টদের নিয়েই যত সংশয়, বিশেষ করে বিএনপির এজেন্টরা আশঙ্কা করছেন, কেন্দ্রে কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর এজেন্টরা তাঁদের ওপর যেকোনো সময় চড়াও হতে পারে। একই আশঙ্কা আওয়ামী লীগের এজেন্টদেরও।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের উপনির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার আনোয়ার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কেন্দ্র ও কেন্দ্রের বাইরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। আশা করি, কোনো সমস্যা হবে না। প্রিসাইডিং অফিসার বা এজেন্টদেরও ভয়-সংশয়ের কিছু নেই। নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের সরাসরি পর্যবেক্ষক উপস্থিত থাকবেন।’ বিএনপির অভিযোগ সম্পর্কে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি, এগুলো দেখা হচ্ছে।’

২৭ জানুয়ারির নির্বাচনে সেনা মোতায়েন নয়

Tuesday, January 25, 2011

নির্বাচন কমিশন অনেকটা নাটকীয়ভাবে জানিয়ে দিল, আগামী ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় ১২টি পৌরসভা এবং জাতীয় সংসদের হবিগঞ্জ- ১ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের উপনির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন হচ্ছে না।

গতকাল সোমবার এসব নির্বাচন নিয়ে ঢাকার আগারগাঁওয়ের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া জানানো হয়েছে, ১৩টি পৌরসভায় নির্বাচনের কথা থাকলেও আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে ঝালকাঠিতে নির্বাচন হচ্ছে না।
গতকালের ওই বৈঠকে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিনিধি লে. কর্নেল তৌফিককে নির্বাচন
কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন জিজ্ঞেস করেন, ‘২৭ জানুয়ারির নির্বাচনে কি সেনা, নৌবাহিনী মোতায়েন হচ্ছে?’ লে. কর্নেল তৌফিক বলেন, এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ জবাব পাওয়ার পর ছহুল হোসাইন বৈঠকে উপস্থিত সবার উদ্দেশে বলেন, “তাহলে আমরা এর জবাব ‘না’ ধরে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে পারি। কারণ আমাদের হাতে আর সময় নেই।”
বৈঠক শেষে ছহুল হোসাইন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করে কি লাভ? তারা তো কোনো উপকারে লাগছে না।
প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ছিল-১৩টি পৌরসভার মধ্যে মাগুরা, ঝালকাঠি, মাধবদী, মাদারীপুর, কক্সবাজার, চকরিয়া ও টেকনাফে ভোট গ্রহণের দুই দিন আগে থেকে মোট পাঁচ দিনের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে। আর চরফ্যাশন ও মহেশখালীতে মোতায়েন থাকবে নৌবাহিনী। কিন্তু গত রবিবারই সে সিদ্ধান্ত পাল্টে যায়।
নির্বাচন কমিশন ১৩টি পৌরসভার মধ্যে মাগুরা, ঝালকাঠি, মাদারীপুর, মাধবদী, কক্সবাজার ও চকরিয়া পৌরসভার জন্য দুই প্লাটুন করে এবং চরফ্যাশন, মহেশখালী, পার্বতীপুর, জাজিরা, মদন, দাগনভূঞা ও টেকনাফে এক প্লাটুন করে বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি পৌরসভার জন্য এক থেকে দুই কম্পানি/প্লাটুন করে র‌্যাব মোতায়েনেরও সিদ্ধান্ত হয়। রবিবার নির্বাচন কমিশন আরো সিদ্ধান্ত নেয়-বিজিবি ও র‌্যাব সদস্যরা ভোট গ্রহণের দুই দিন আগে (২৫ জানুয়ারি) থেকে নির্বাচনী এলাকা ও ভোটকেন্দ্রে টহল দেবেন। আর ভোট গ্রহণের দিন প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে স্থায়ীভাবে মোতায়েন থাকবেন এবং ভোটগ্রহণ শেষে গণনার আগে থেকে গণনাকক্ষের চারপাশে নিরপত্তাবলয় সৃষ্টি করে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া বিজিবি ও র‌্যাব সদস্যরা কেন্দ্রভিত্তিক ফল ঘোষণার পর রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে ফলাফল একীভূত করা এবং ফল ঘোষণার আগে থেকে ওই কার্যালয়ের চারপাশে নিরাপত্তাবলয় তৈরি করে প্রবেশপথেও দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (পৌর-১) মো. আবদুল বাতেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি রবিবার স্বরাষ্ট্রসচিবসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে পাঠিয়ে এ বিষয়ে পরিপত্র জারির অনুরোধ করা হয়।
গতকালের বৈঠকে স্বরাষ্ট্রসচিব আবদুস সোবহান সিকদার যথসময়ে সে চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, তিনি বিষয়টি নিয়ে রবিবারই সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছেন। তবে সব পৌরসভায় বিজিবি মোতায়েনে সমস্যা হচ্ছে। তিনি বলেন, পার্বতীপুর, মাগুরা, মাধবদী, মদন, দাগনভূঞা, কক্সবাজার, চকরিয়া ও টেকনাফে বিজিবি মোতায়েন করা যেতে পারে। মাদারীপুর ও জাজিরায় বিজিবির বদলে অতিরিক্ত র‌্যাব সদস্য মোতায়েন সম্ভব হবে। বাকি দুটি পৌরসভা চরফ্যাশন ও মহেশখালীতে কোস্টগার্ড বা নৌবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করলে ভালো হয়।
এ প্রস্তাবে লে. কর্নেল তৌফিক বলেন, ‘মহেশখালীতে যাতায়াতের বিষয়ে আমরা যানবাহন দিয়ে সহায়তা করতে পারি, কিন্তু আমাদের জনবল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’
এদিকে নির্বাচন কমিশন ভোট গ্রহণের দিন প্রতি কেন্দ্রে বিজিবি ও র‌্যাব সদস্যদের স্থায়ীভাবে মোতায়েন রাখার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এর বিপক্ষে মত দেন র‌্যাবের মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান ও নরসিংদীর জেলা প্রশাসক অমৃত বাড়ৈ। র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেন, কোনো স্থানে ৯ জনের কমে র‌্যাব সদস্য মোতায়েন সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে প্রতি ভোটকেন্দ্রে তাঁদের স্থায়ীভাবে রাখতে হলে প্রচুরসংখ্যক র‌্যাব সদস্যের প্রয়োজন হবে, যা সম্ভব নয়।
বৈঠকে বিজিবি প্রতিনিধিও জানিয়ে দেন, কয়েকটি পৌরসভায় ২০ জন করে বিজিবি সদস্য দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোট গ্রহণের দুই দিন আগে অর্থাৎ আজ মঙ্গলবার সকালেই সব নির্বাচনী এলাকায় বিজিবি ও র‌্যাব মোতায়েন হওয়ার কথা রয়েছে।
পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসনকে ইসির ভর্ৎসনা : প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এ টি এম শামসুল হুদা দেশের বাইরে থাকায় নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইনের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতেই পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের ভর্ৎসনার শিকার হয়। কক্সবাজার-৪ আসনের (টেকনাফ) সরকারদলীয় সংসদ সদস্যের আচরণের বিষয়েও কড়া মন্তব্য করা হয়। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও এসপির উদ্দেশে বলেন, ‘ইউ ডোন্ট কেয়ার সংসদ সদস্য। টেকনাফে নির্বাচনের সময় প্রতিবার আমাদের লোককে মারধর করা হচ্ছে। জানি না আপনারা এটা কিভাবে সহ্য করেন। এ অবস্থা চলতে পারে না।’
জবাবে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. গিয়াসউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে সংসদ সদস্যের চাচাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সংসদ সদস্যকে আমি পরামর্শ দিয়ে বলেছি, নির্বাচনের সময় আপনি সেন্ট মার্টিনে অথবা ঢাকায় নির্বাসনে থাকেন। তাহলে সবার জন্যই ভালো হবে। এ ছাড়া তাঁকে বলেছি, আবারও এ ধরনের ঘটনা ঘটলে আপনাকে গ্রেপ্তার করা হবে।’
এম সাখাওয়াত হোসেন গত ১৮ জানুয়ারি পৌরসভা নির্বাচনে ম্যাজিস্ট্রেটসহ বেশ কয়েকজন নির্বাচন কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের গায়ে হাত দেওয়াটা সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়ছে বলে মনে হচ্ছে। এটা ঠেকাতে হবে। তিনি প্রশ্ন করেন, নোয়াখালী এলাকার পৌরসভাগুলোয় যেসব ঘটনা ঘটেছে, এর জন্য সংশ্লিষ্ট ওসিদের সাসপেন্ড করা হয়নি কেন? বিভাগীয় তদন্তের ব্যবস্থা কি নেওয়া হয়েছে?
নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন সেনবাগ, নোয়াখালী, সোনাগাজী, কবিরহাট, ফেনী, নাঙ্গলকোট, ঘাটাইল-এসব পৌরসভার নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসারদের ওপর হামলা, ব্যালট পেপার ও বক্স ছিনতাই-এসব নির্বাচনী অপরাধের তথ্য উপস্থাপন করে বলেন, ‘যে সুষ্ঠু নির্বাচনী সংস্কৃতি আমরা শুরু করেছিলাম, যে ব্যক্তিকে জনগণ চাইবে তিনিই নির্বাচিত হবেন-এসব এলাকায় সে সংস্কৃতির কী হলো? পুলিশ, আনসার, আর্মি-এত সব বাহিনীর ব্যূহ ভেদ করে কিভাবে এসব ঘটতে পারে? কিভাবে তাদের চোখের সামনে ব্যালট বাক্স ভাঙার, পোড়ানোর মহোৎসব হয়?’
এর জবাবে স্বরাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘সরকার চায় সুষ্ঠু নির্বাচন। পুলিশ আহত না হয়ে ব্যালট পেপার আহত হওয়া উচিত নয়। সরকারি নিয়মনীতির বাইরে যারা কাজ করেছে, তাদের এর জবাব দিতে হবে।’
স্বরাষ্ট্রসচিব আরো বলেন, ‘নির্বাচনী আইনকানুন এখন অনেক কড়া। এ ধরনের আইনকানুন যখন ছিল না তখনো নোয়াখালীর মতো ঘটনা ঘটেনি। কে সরকারের লোক, কে নয় সেটা তো কারো দেখার কথা নয়। যা ঘটেছে তা ক্ষমাযোগ্য অপরাধ নয়। এ ছাড়া ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী অপরাধ ঘটানো হলে প্রিসাইডিং অফিসাররা এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিতে পারেন। কিন্তু নিজেরা সে ক্ষমতা সম্পর্কে অবহিত না থাকার কারণে তাঁরা হয়তো সে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেননি।’
পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, ‘বেশির ভাগ জায়গায় নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। তবে গ্লাসের সামান্য অংশ খালি ছিল। এটা অনবধানতাবশত হয়েছে। আমাদের লোকজন হয়তো কিছু জায়গায় ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। প্রিসাইডিং অফিসাররা তাদের কমান্ড করতে পারেননি। ঘাটাইলে যখন ঘটনা ঘটে তখন আমি সেখানে রাবার বুলেট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিলাম। এ ছাড়া সামাজিক বাস্তবতার কারণে সব জায়গায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।’
র‌্যাবের মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘কোনো ঘটনায় হাজার হাজার লোক যখন জড়িত হয়ে পড়ে তখন আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে গেলে হতাহতের ঝুঁকি থাকে। তা ছাড়া আমরা যে একেবারেই ভালো কিছু করতে পারিনি তা তো নয়।’
র‌্যাবের মহাপরিচালকের এ মন্তব্যে ছহুল হোসাইন বলেন, ‘৯৫ শতাংশ পৌরসভায় নির্বাচন ভালো হয়েছে-এই খুশিতে যদি থাকেন, তাহলে আরো বিপর্যয় হতে পারে। একটি জায়গার খারাপ ঘটনা অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে কতক্ষণ?’

২৭ জানুয়ারির নির্বাচনে সেনা মোতায়েন অনিশ্চিত

Sunday, January 23, 2011

গামী ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় ১৩টি পৌরসভা এবং জাতীয় সংসদের হবিগঞ্জ-১ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ছিল, ১৩ পৌরসভার মধ্যে মাগুরা, ঝালকাঠি, মাধবদী, মাদারীপুর, কঙ্বাজার, চকরিয়া ও টেকনাফে ভোট গ্রহণের দুই দিন আগে থেকে পাঁচ দিনের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে। আর চরফ্যাশন ও মহেশখালীতে মোতায়েন থাকবে নৌবাহিনী। কিন্তু গতকাল রবিবার সে সিদ্ধান্ত পাল্টে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশন গতকাল মাগুরা, ঝালকাঠি, মাদারীপুর, মাধবদী, কঙ্বাজার
ও চকরিয়া পৌরসভার জন্য দুই প্লাটুন করে এবং চরফ্যাশন, মহেশখালী, পার্বতীপুর, জাজিরা, মদন, দাগনভূঞা ও টেকনাফে এক প্লাটুন করে বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি পৌরসভার জন্য এক থেকে দুই কম্পানি/প্লাটুন করে র‌্যাব মোতায়েনেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের আরো সিদ্ধান্ত, বিজিবি ও র‌্যাব সদস্যরা ভোট গ্রহণের দুদিন আগে (২৫ জানুয়ারি) থেকে নির্বাচনী এলাকা ও ভোটকেন্দ্র টহল দেবে। আর ভোট গ্রহণের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে স্থায়ীভাবে মোতায়েন থাকবে। ভোট গ্রহণ শেষে ভোট গণনা কক্ষের চারপাশে নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টি করে দায়িত্ব পালন করবে তারা। এ ছাড়া বিজিবি ও র‌্যাব সদস্যরা কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল ঘোষণার পর রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে ফলাফল একীভূত করা এবং ফলাফল পরিবেশনের আগে থেকে ওই কার্যালয়ের চারপাশে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে প্রবেশ পথেও দায়িত্ব পালন করবে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (পৌর-১) মো. আবদুল বাতেন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'এক সপ্তাহ আগে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত পৌরসভাগুলোয় সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করার জন্য সশস্ত্রবাহিনী বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সে সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না, আমার জানা নেই।'
তবে কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট অপর একজন কর্মকর্তা জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেনা মোতায়েন না করার পক্ষে কিছু যুক্তি উপস্থাপন করায় সেসব যুক্তি গ্রহণযোগ্য বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন এ বিষয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমাদের জানানো হয়েছে, সেনাবাহিনীর ফায়ারিং মহড়া থাকার কারণে নির্বাচনে তাদের দায়িত্ব পালন অসুবিধাজনক হয়ে পড়েছে। তা ছাড়া নির্বাচন হয়ে যাওয়া পৌরসভার বেশ কয়েকটিতে সেনাবাহিনী নিয়োগ করে তেমন কোনো সুফল মিলেছে বলে মনে হয়নি। সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকার পরও কয়েকটি পৌরসভায় ব্যালট বাঙ্ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। আবার সেনাবাহিনী মোতায়েন না থাকা সত্ত্বেও বিএনপির আশঙ্কার বিপরীতে সেখানে তাদের সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে।'
এদিকে এর আগে এম সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, জাতীয় সংসদের দুই আসনের উপনির্বাচন ও পৌরসভা নির্বাচনেও সেনা মোতায়েন থাকছে। এ ছাড়া তিনি বলেন, সেনাবাহিনীকে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয়নি বলে ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাঙ্ ছিনতাইয়ের ঘটনায় তাদের কিছু করার ছিল না। এবারে তারা ভোটকেন্দ্রেও দায়িত্ব পালন করবে এবং এতে আইনগত কোনো বাধা নেই। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনাবাহিনীসহ সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরই অংশ।
উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে কি না_এ প্রশ্নে এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জাতীয় সংসদের নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পক্ষে আইন নেই। সোমবার (আজ) এ নির্বাচন সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বৈঠক রয়েছে। সেখানে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে।
গত ১১ জানুয়ারি হবিগঞ্জ-১ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের নির্বাচন নিয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে কমিশন এ নির্বাচনে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় দুই কম্পানি করে সশস্ত্রবাহিনী নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (সংসদ নির্বাচনের আইন) সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত না রাখা সত্ত্বেও কেন এ দুই উপনির্বাচনে তাদের মোতায়েন করা হচ্ছে_এ প্রশ্নে এম সাখাওয়াত হোসেন এর আগে বলেন, বিশ্ব ইজতেমা দুই দফায় অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবং বিশ্বকাপ ক্রিকেটের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ দিতে পারছে না বলেই সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভিডিও ক্যামেরা : হবিগঞ্জ-১ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের উপনির্বাচনে নির্বাচনী এলাকায় তিনটি করে ভিডিও ক্যামেরা চালু থাকবে। ভোট গ্রহণের দুই দিন আগে থেকে নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনসংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম এবং ভোট গ্রহণের দিনের কার্যক্রম ভিডিও ক্যামেরায় ধারণ করে তা সিডির মাধ্যমে কমিশনের কাছে পাঠনোর জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল কমিশন সচিবালয় থেকে পাঠানো এ নির্দেশনায় আরো বলা হয়, ভিডিও ক্যামেরা ও ক্যামেরাম্যান জেলার বাইরে থেকে নিয়োজিত করতে হবে।

প্রতিক্রিয়া বনাম রাজনৈতিক প্রক্রিয়া by ড. ইশা মোহাম্মদ

Saturday, January 22, 2011

স্থানীয় সরকার নিয়ে নানান কিসিমের পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে বহুকাল যাবৎ। কোন একটিতে কেউই স্থির থাকতে পারছে না। স্থানীয় সরকারকে স্বায়ত্তশাসন কিংবা স্বাধীনতা দেয়া হবে কিনা, দিলে তার চেহারা কেমন হবে- তা নিয়ে চিন্তা কিংবা দুশ্চিন্তার শেষ নেই।

স্থানীয় সরকারের নির্বাচন এলেই এটি নিয়ে আবার পুরানো কথাগুলো ওঠে। কোন কোন রাজনৈতিক দল রাজনৈতিক পরিচয়ে নির্বাচন পছন্দ করে। কোন কোন রাজনৈতিক দল অরাজনৈতিক নির্বাচন পছন্দ করে। এটি খুবই রহস্যময় মনে হয়। রাজনৈতিক দল কেন, কোন গোপনপ্রিয়তায় অরাজনৈতিক নির্বাচন পছন্দ করবে_ তা বোঝা যায় না। নির্বাচন কমিশন অরাজনৈতিক, স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ। তারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অরাজনৈতিক নির্বাচন পছন্দ করতেই পারে। আবার বাংলাদেশের আইনেও স্থানীয় নির্বাচনকে অরাজনৈতিক নির্বাচনের বিধি-বিধান আছে। বিষয়টি অনেকটা সোনার পাথরবাটির মত। কেননা, স্থানীয় নির্বাচন, তা সে পৌরসভা কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ, যাই হোক না কেন, কোনদিনই অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের নির্বাচন হবে না। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি মাত্রই রাজনৈতিক। কোন না কোন রাজনৈতিক দলের সাথে তাদের সম্পর্ক আছে। না থাকলে প্রকাশ্যে, গোপনে তারা সম্পর্ক রক্ষা করে। জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে তারা সবাই প্রত্যক্ষভাবে কোন না কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষে অবস্থান নেয়। এরা এখন আর কেউ তাদের পছন্দের দলের প্রতীক না নিয়ে নির্বাচন করবে না। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত প্রতীক তালিকা থেকে একটা বেছে নেবে। ধরে নেয়া হয় যে, যেহেতু এরা স্থানীয় পর্যায়ে খুবই পরিচিত তাই যে-কোন প্রতীকই এদের জন্য একই প্রকার তাৎপর্য বহন করে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রতীক প্রধান নয়, ব্যক্তিই প্রধান। স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনের ক্ষেত্রে আবার অসংখ্য স্বতন্ত্র প্রাথর্ী থাকে। এদের মধ্যে কেউ কেউ নির্বাচিত হয়েও আসে। এসব বিষয়-আশয় দেখে-শুনে কি নির্দিষ্ট করে বলা যায় যে, স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন প্রকৃত অর্থে অরাজনৈতিক? আসলে এটি খুবই নিম্নমানের প্রতারণা। বাংলাদেশের কোন নির্বাচনই আর অরাজনৈতিক হবে না। নির্বাচন কমিশন 'অরাজনৈতিক নির্বাচন' বলে সাধারণ মানুষকে ধাপ্পা দিচ্ছে। প্রাথর্ী নিজে নিজেকে অরাজনৈতিক বলে সাধারণ মানুষকে ধাপ্পা দিচ্ছে। যেখানে ব্যক্তি ও প্রত্যাশা রাজনৈতিক সেখানে অরাজনৈতিক নির্বাচনের কথা বলা মানেই প্রতারণা। আর তাদের এই নিকৃষ্ট পর্যায়ের গণপ্রতারণায় সরকার ও রাষ্ট্র নির্বিকারচিত্তে অংশগ্রহণ করছে। ভাবা যায়, বিশ্বায়নের এই যুগে, যেখানে মানবাধিকার নিয়ে ছোট-বড় কথার সমুদ্র সৃষ্টি হচ্ছে। সেখানে সাধারণ মানুষকে অরাজনৈতিক নির্বাচনের কথা বলে ভাঁওতা দিয়ে তাদের মানবাধিকার লংঘন করা হচ্ছে নির্বিকারচিত্তে।

হয়ত অনেকেই জানে না যে, বিশ্বের সব 'সভ্য' দেশে স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন রাজনৈতিক। তবে ইউরোপ আমেরিকার রাজনৈতিক ও আমাদের রাজনৈতিকতা এক ও অভিন্ন নয়। তারপরও রাজনৈতিক নির্বাচন হলে আজকের দিনের বিবেচনায় মানবাধিকার সংরক্ষিত হয়। নইলে যারা রাজনৈতিক পরিচয়ে নির্বাচন করতে চায়, তাদের মানবাধিকার লংঘিত হয়।

প্রথম কথা হচ্ছে, নির্বাচন অরাজনৈতিক হবে কেন? অনেকেই প্রত্যাশা করেন, কেন্দ্রীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক চাপে তাপে স্থানীয় 'স্বাধীনতা' নোংরা হয়ে যাবে। তাই কেন্দ্রীয় পর্যায়ের রাজনীতি যতই নোংরা ও অকল্যাণকর হোক না কেন, তার প্রভাব যেন স্থানীয় সুখ-শান্তিকে নষ্ট না করে দেয়। দ্বিতীয়, চিন্তা হচ্ছে বিভাজনে অপচয়ের চিন্তা। 'স্থান' যদি রাজনৈতিকভাবে বিভাজিত হয়ে যায় তবে সামাজিক পরিবেশও বিভাজিত হবে। স্থানের আবহমান কালব্যাপী ঐক্য বিনষ্ট হবে। স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়নক্ষেত্রে যেটি দেখা গেছে। বিরোধী দলের সাংসদের এলাকায় উন্নয়ন চোখে দেখা যায় না। স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন রাজনৈতিক হলে ঐ রকম বক্র দৃষ্টির কারণে কোন কোন এলাকা উন্নয়ন বর্জিত হতে পারে। এটি একটি ভয় এবং অভাবিত নয়। কিন্তু এই ভয় সনাতন, সমকালীন ও আধুনিক চিন্তার সাথে মেলে না।

বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্যে প্রথম প্রয়োজন প্রতিক্রিয়া তথা মৌলবাদকে ধ্বংস করা। রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমেই স্থানীয় পর্যায়ের 'প্রতিক্রিয়াকে' তৃণমূল থেকে নির্মূল করা সম্ভব। বাংলাদেশে মৌলবাদ কেন্দ্রে প্রবল নয় কিন্তু প্রতন্তে প্রবল। কিন্তু মৌলবাদকে সরকার ইচ্ছামত পিটিয়ে দেশ ছাড়া করতে পারবে না। দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ধীরে সুস্থে প্রত্যন্ত থেকে প্রতিক্রিয়া তথা মৌলবাদকে উচ্ছেদ করা সম্ভব। তাই এখন যখন সুযোগ আছে, তখন প্রয়োজন হল, পৌর ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সবকটি নির্বাচনকে 'রাজনৈতিক' করা।

প্রথম বাধা আসবে নির্বাচন কমিশন থেকে তারা আইন মোতাবেক চলতে চাইবে। তাই প্রথম প্রয়োজন আইনটাকে সংশোধন। আইন সংশোধন করাও অসম্ভব হবে না, যদি হাইকোর্টে একটা মামলা ঠুকে দেয়া যায়, তবে হয়ত একটা পরিত্রাণ সূত্র পাওয়া যায়। সংসদে আইন পাস করেও স্থানীয় নির্বাচনকে রাজনৈতিক করা যায়। কিন্তু হাইকোর্টে মামলা কে করবে? আইন পাসইবা কে করবে? এ গুরুদায়িত্ব মহাজোট সরকার, তথা আওয়ামী লীগকেই করতে হবে। সংসদে তাদের যথেষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। দেশ ও জাতির কল্যাণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে রাজনৈতিক করার জন্যে যে কোন পদক্ষেপই নেয়া যায়। তবে প্রবল বাধা আসবে বিরোধী রাজনৈতিক দল থেকে। এই ভয়ে তারা রাজনৈতিক নির্বাচনে প্রবল বাধা সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু তাই বলে ভয় পেলে চলবে না। মহাজোটের হাতে অনেক সময় নেই। সময় কম, কাজ বেশি। এখনই এখনকার কাজটা করা দরকার। আশা করি জাতীয় নেতৃত্ব বিষয়টি বুঝবে এবং জাতিকে 'প্রতিক্রিয়া'মুক্ত করার জন্যে স্থানীয় নির্বাচনকে রাজনৈতিক করবে।

প্রত্যয় বাড়ছে বিএনপির by মোশাররফ বাবলু

পৌর নির্বাচনে সাফল্যের পর এবার জাতীয় সংসদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ ও হবিগঞ্জ-১ আসনে উপনির্বাচনে বিজয়ের টার্গেট নির্ধারণ করেছে বিএনপি। দুটি আসনেই জয়লাভের জন্য মরিয়া চেষ্টা করবে দলটি। বিএনপির নেতারা মনে করছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থা ভালো হলেও হবিগঞ্জে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন তাঁরা।
এ ছাড়া হবিগঞ্জে জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ায় বিএনপির প্রত্যয় আরো বেড়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারলে পৌর নির্বাচনের মতো হবিগঞ্জ-১ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত।’
উপনির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি নেতারা নির্বাচনী এলাকায় এরই মধ্যে সাংগঠনিক সফর শুরু করেছেন। এরই মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ঘুরে এসেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলীয় প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ মাহমুদ শ্যামলসহ স্থানীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে তিনি চষে বেড়াচ্ছেন পুরো নির্বাচনী এলাকা। হবিগঞ্জ-১ আসনেও যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। ২৪ জানুয়ারি হবিগঞ্জ যাচ্ছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহিরুল ইসলাম হবিগঞ্জ অবস্থান করছেন। বিএনপির সমমনা জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের মাওলানা আবদুল মালিক চৌধুরী হবিগঞ্জ-১ আসনে প্রার্থী হয়েছেন। জানা গেছে, মালিক চৌধুরীকে নিবৃত্ত করে তাঁর সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে জহিরুল ইসলাম হবিগঞ্জ গেছেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের অনুরোধে আবদুল মালিক চৌধুরী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে বিএনপিকে সমর্থনের ঘোষণা দিতে পারেন বলে বিএনপির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে।
আগামী ২৭ জানুয়ারি এ দুই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য লুৎফুল হাই সাচ্চু ও দেওয়ান ফরিদ গাজীর মৃত্যুতে এ দুটি আসন শূন্য হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পৌর নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপির জনসমর্থন আরো বেড়ে গেছে। দলের নেতা-কর্মীরা আÍপ্রত্যয়ী হয়ে উঠেছেন। দলের মধ্যে ঐক্য গড়ে উঠেছে।’
বিএনপির নেতা হারুন আল রশীদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে এর আগেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ নেতা লুৎফুল হাই সাচ্চুর কাছে পরাজিত হন। বিএনপি হারুন আল রশীদকে প্রথমে মনোনয়ন দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তিনি একপর্যায়ে অনীহা প্রকাশ করেন। তাঁর পরিবর্তে ইঞ্জিনিয়ার খালেদ মাহমুদ শ্যামলকে এ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। শ্যামলের পক্ষে কাজ করছেন হারুন আল রশীদ। এ জন্যই বিএনপি মনে করছে, এখানে তারা ভালো করবে।
হবিগঞ্জ-১ আসনের উপনির্বাচনে জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের মাওলানা আবদুল মালিক চৌধুরী প্রার্থী থাকলে বিএনপির জন্য ক্ষতি হতো। এ জন্য তাঁর সমর্থন আদায়ের জোর চেষ্টা চালান বিএনপি নেতারা। মাওলানা আবদুল মালিক চৌধুরীর প্রার্থিতা প্রত্যাহার নিয়ে জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের নেতাদের সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার উমেদনগর মাদ্রাসায় বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহিরুল ইসলাম। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জমিয়তের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মাওলানা তাফাজ্জল হক, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শেখ মুজিবুর রহমান, হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নবনির্বাচিত মেয়র জি কে গউস, বিএনপি প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া, জমিয়তে ওলামায়ের প্রার্থী আবদুল মালিক চৌধুরী প্রমুখ। অবশেষে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই মাদ্রাসায়ই এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মালিক চৌধুরী। বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করারও ঘোষণা দেন তিনি। পরে ফোনে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে ভবিষ্যৎ ঐক্যের স্বার্থে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছি।’
হবিগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরী ও বিএনপির প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়ার মধ্যে নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে বিএনপি প্রার্থীর অবস্থান আরো ভালো হবে বলে দাবি করছেন বিএনপি নেতারা। দীর্ঘদিন ধরে এ আসন থেকে নির্বাচন করে আসছেন শেখ সুজাত মিয়া। ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেওয়ান ফরিদ গাজীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। কাছাকাছি ভোট পেয়ে পরাজিত হন তিনি। কিন্তু দেওয়ান ফরিদ গাজীর অবর্তমানে সুজাত মিয়া ভালো করবেন বলে আশাবাদী বিএনপি।
এ ব্যাপারে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘গত দুবছরে আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের একটিও বাস্তবায়ন করতে পারেনি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাÍক অবনতির কারণে দেশের মানুষ সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ। এ কারণে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে জনগণ। পৌর নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছে। আসন্ন দুটি উপনির্বাচনেও বিএনপি প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে বলে আশা করি।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ উপনির্বাচন-সতর্ক আওয়ামী লীগ

দ্য সমাপ্ত পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির কাছে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়ে জাতীয় সংসদের দুটি আসনে উপনির্বাচন সামনে রেখে অনেক সতর্ক আওয়ামী লীগ। এ উপনির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। হবিগঞ্জ-১ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে উপনির্বাচন হবে এ মাসেই।

পৌর নির্বাচনের ফলের পুনরাবৃত্তি এড়াতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী এলাকা। সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মিছবাহ্ উদ্দিন সিরাজ সার্বক্ষণিক আছেন মাঠে।
হবিগঞ্জ-১ আসনে নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে মিছবাহ্ উদ্দিন সিরাজ বলেন, ‘বিএনপির শাসনামলে ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি গ্রেনেড হামলায় খুন হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া। সেই ২৭ জানুয়ারিই নির্বাচন হচ্ছে বলে নবিগঞ্জ ও বাহুবলের মানুষ কিবরিয়া হত্যার প্রতিশোধ নেবেন ব্যালটে।’
এদিকে মহাজোটগতভাবে নির্বাচন করতে আওয়ামী লীগ উদ্যোগ নিলেও মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে এখনো এ ব্যাপারে কাক্সিক্ষত সাড়া মেলেনি। গত রবিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের এক বৈঠকে দুটি আসনে উপনির্বাচনে মহাজোটগতভাবে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী সরে দাঁড়ালেও হবিগঞ্জে সমঝোতার ব্যাপারে এখনো কোনো আলোচনাই হয়নি দুই দলের মধ্যে।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাচনে প্রার্থী প্রত্যাহার হলেও হবিগঞ্জে আমাদের প্রার্থী প্রত্যাহারের ব্যাপারটা বিবেচনায় আসেনি।’ তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ রংপুর থেকে ফিরলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতাকারী মন্ত্রী-এমপিদের তালিকা চেয়েছেন শেখ হাসিনা
এদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচনের কৌশল ঠিক করতে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির অফিসে দফায় দফায় বৈঠক করছেন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ।
গত বুধবার রাতে গণভবনেও তাঁরা উপনির্বাচন এবং সদ্যসমাপ্ত পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার সঙ্গে। বৈঠক সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী যেকোনো মূল্যে উপনির্বাচনকে সুষ্ঠু ও অবাধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের উপনির্বাচনে প্রচারে নামার নির্দেশ দেন। নির্বাচনী এলাকায় সরকারের দুই বছরের কর্মকাণ্ডের বিবরণ জনগণের সামনে তুলে ধরার নির্দেশনাও দেন তিনি।
এ ছাড়া বৈঠকে শেখ হাসিনাকে পৌর নির্বাচনের ফল, প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট, দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোটের হিসাব সম্পর্কে অবহিত করা হয়। বৈঠকে শেখ হাসিনা পৌরসভা নির্বাচনে কোন কোন কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রী ও দলীয় এমপি দলের প্রার্থীর বিরোধিতা করেছেন তাঁর জেলাভিত্তিক তালিকা চেয়েছেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া প্রভাবশালী নেতা ও মন্ত্রীদের এলাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পরাজয়ের কারণ চিহ্নিত করে তাঁকে জানানোর নির্দেশ দেন তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জাপার সঙ্গে সমঝোতা : আগামী ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ-১ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর) আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে হবিগঞ্জ উপনির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. মুসফিক হোসেন চৌধুরী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কেন্দ্রীয় নেতা উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মহাজোটগতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা বলা হলেও হবিগঞ্জ-১ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবদুল মমিন বাবু প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী রেজাউল ইসলাম মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলেও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি নির্বাচনের মাঠ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। দুই আসনেই আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শেখ সুজাত মিয়া ও ইঞ্জিনিয়ার খালেদ মাহমুদ শ্যামল।
আসন্ন দুই উপনির্বাচনে বিজয় অর্জনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিলেও হঠাৎ করে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সদ্যসমাপ্ত পৌর নির্বাচনে দলের পরাজয় নিয়ে শঙ্কায় আছে শাসক দলটি।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উপনির্বাচনে জয়লাভের জন্য আওয়ামী লীগের তরফ থেকে সব রকমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতারা যাবেন প্রচারণায়।’ তবে দুই উপনির্বাচনে প্রশাসনিকভাবে কোনো রকম হস্তক্ষেপ করা হবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব নির্বাচনের ফল পক্ষে আনার জন্য, তবে জনগণের রায় যাই হোক তা মেনে নেবে দল।’
জানা গেছে, নির্বাচনে প্রচারের জন্য আজ কাজী জাফরুল্লাহ এবং মাহবুব-উল-আলম হানিফের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল যাবে হবিগঞ্জে। এরই মধ্যে মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ এবং দলের অন্য কয়েকটি অঙ্গসংগঠনের নেতারা দুই নির্বাচনী এলাকায় গেছেন।

আওয়ামী লীগ উদ্বিগ্ন বিএনপি উৎফুল্ল

Wednesday, January 19, 2011

দ্য সমাপ্ত পৌর নির্বাচনে জয় পেয়ে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেতা-কর্মীরা উৎফুল্ল। প্রত্যাশিত ফলাফল না পাওয়ায় আশাহত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিএনপি নেতারা বলছেন, পৌর নির্বাচনে জনগণ সরকারকে হলুদ কার্ড দেখিয়েছে। সামনে লাল কার্ড দেখানোর অপেক্ষায়।

আওয়ামী লীগ নেতারা এই ফলাফলকে দলের জন্য সতর্কসংকেত হিসেবেই দেখছেন। বিএনপি নেতারা মনে করছেন, এই ফলাফলে ঘুরে দাঁড়াবে বিএনপি। ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পরিষদ, সিটি করপোরেশন এমনকি জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এর প্রভাব পড়বে। উদ্বিগ্ন আওয়ামী লীগ নেতাদের মতে, পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে হবে। রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, চট্টগ্রাম বিএনপিরও অন্তত দুটি পৌরসভা হাতছাড়া হয়েছে বলে নেতা-কর্মীরা মনে করছেন।
মেয়র পদে সিলেট বিভাগের ১৬টি পৌরসভার মধ্যে ৯টিতে বিএনপি এবং ছয়টিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। একটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জয়লাভ করেছেন।
বিভাগের ১৬ পৌরসভার মধ্যে সিলেটের দুটিতেই আওয়ামী লীগ, মৌলভীবাজারের পাঁচ পৌরসভার সবকটিতে বিএনপি, সুনামগঞ্জের চার পৌরসভার তিনটিতে আওয়ামী লীগ ও একটিতে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হবিগঞ্জ জেলার পাঁচ পৌরসভার তিনটিতে বিএনপি, একটিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী এবং একটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জয়লাভ করেছেন।
সিলেটে কানাইঘাট এবং জকিগঞ্জ পৌরসভায় নির্বাচন হয়। দুটিতেই আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। শেষ মুহূর্তে কানাইঘাট আওয়ামী লীগের কোন্দল মেটাতে উদ্যোগী হন দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও জেলা সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার হোসেন শামীম। এ সময় থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি জমির উদ্দিন প্রধানকে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়। ফলে দলীয় প্রার্থী লুৎফুর রহমানের বিজয় অনেকটা সহজ হয়ে যায়। এখানে বিএনপির প্রার্থী নির্বাচনে ভুল এবং একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকার কারণে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চলে আসেন জামায়াতের প্রার্থী মো. ওলিউল্লাহ। কানাইঘাটে এবারই প্রথম নির্বাচন হলো।
জকিগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের আনোয়ার হোসেন সোনা উল্লা বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান মেয়র ইকবাল আহমদ। মাত্র ২১৫ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। এখানে বিএনপির মূল প্রার্থী বদরুল হক বাদল পেয়েছেন সাকল্যে ৩৫১ ভোট।
বিএনপির তৃণমূল নেতাদের মতে, প্রার্থী নির্বাচনে ভুল না করলে এ পৌরসভায় বিএনপি মেয়র পদটি লাভ করত। থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সদস্য অ্যাডভোকেট কাওসার রশীদ বাহার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে দল ব্যর্থ হওয়ায় এই ভরাডুবি হয়েছে। বর্তমান মেয়র ইকবাল আহমদ বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েও সামান্য ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন।’ দলীয় প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা না থাকা এবং ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত হিসেবে মেয়র পদ হাতছাড়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
সুনামগঞ্জে পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির অবস্থা ছিল নাজুক। জেলার চারটি পৌরসভার মধ্যে একমাত্র জগন্নাথপুর পৌরসভায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। কারণ এখানে সাত প্রার্থীর মধ্যে ছয়জনই ছিলেন আওয়ামী লীগের। দলীয় কোন্দলের কারণে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী পরাজিত হন। ছাতক ও সুনামগঞ্জ সদরে কোনো প্রার্থীই দিতে পারেনি বিএনপি। ছাতকে আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছে। অন্যদিকে দিরাই পৌরসভায় প্রার্থী দিলেও গ্র“পিংয়ের কারণে জয়লাভ সম্ভব হয়নি।
মৌলভীবাজার জেলায় যে পাঁচ পৌরসভায় নির্বাচন হয়েছে তার চারটিতে আগেই বিএনপি সমর্থিত মেয়র ছিলেন। এবার পাঁচটিতেই বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। তৃণমূল নেতাদের মতামতকে মূল্যায়ন না করে কেন্দ্র থেকে প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়ায় এই ভরাডুবি হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মনে করেন। প্রায় প্রতিটি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। কমলগঞ্জ পৌরসভায় দলের প্রার্থী চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। এই পরাজয়ের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে জেলার সাবেক কমিটির সহ-প্রচার সম্পাদক নজরুল ইসলাম নাজমুল বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায় থেকে যেসব প্রার্থী নির্বাচন করা হয়েছিল, তাঁর একজনকেও কেন্দ্র মনোনয়ন দেয়নি। ভুল প্রার্থী নির্বাচনের কারণে এমন দুরবস্থা হয়েছে।’ দলের ভরাডুবির জন্য অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
হবিগঞ্জ জেলার পাঁচ পৌরসভার মধ্যে তিনটিতেই বিএনপির প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। পরপর দুবার মেয়র থাকার সুবাদে একমাত্র নবীগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। তাও মাত্র ১১২ ভোটের ব্যবধানে। মাধবপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত বর্তমান মেয়রকে পরাজিত করেছেন একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী। শায়েস্তাগঞ্জ ও চুনারুঘাটে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ভোট ভাগাভাগির সুবাদে বিএনপি প্রার্থীদের জয়ের পথ সুগম হয়।
সদর পৌরসভায় আওয়ামী লীগে কোন্দল না থাকলেও নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে এসে প্রার্থী নির্বাচন এবং বিএনপি আমলের উন্নয়নের বিষয়টি ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়। ফলে প্রায় দ্বিগুণ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বর্তমান মেয়র জি কে গউছ। স্থগিত একটি কেন্দ্র ছাড়াই বর্তমান মেয়র গউছ পেয়েছেন ১৬ হাজার ৫৬০ ভোট। আওয়ামী লীগ প্রার্থী শরীফ উল্লাহ পেয়েছেন ৮ হাজার ৬৩৪ ভোট।
সিলেট বিভাগে পৌর নির্বাচনে নিজ দলের পিছিয়ে পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, ‘সিলেট অঞ্চলের নির্বাচনে কালো টাকার ছড়াছড়ি ছিল। টাকার কাছে অনেক প্রার্থীই দাঁড়াতে পারেননি।’ তবে নিজেদেরও ব্যর্থতা রয়েছে বলে স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমরা মূল্যায়ন করছি।’

পৌর নির্বাচন! পুরনো চেহারায় ভোট

Tuesday, January 18, 2011

নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরে ব্যাপক গোলযোগের মধ্য দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার শেষ হয়েছে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ব্যাপক কারচুপি, কেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স ভাঙচুর, গুলিবর্ষণ, গাড়িতে আগুন, জাল ভোটের ঘটনা ঘটেছে এ তিন জেলার বিভিন্ন স্থানে।

এসব ঘটনার প্রতিবাদে আজ বুধবার নোয়াখালী ও ফেনীতে সকাল-সন্ধ্যা এবং লক্ষ্মীপুরে অর্ধদিবস হরতাল ডেকেছে বিএনপি।
নোয়াখালীতে ব্যালট বাক্স ছিনতাইসহ বিভিন্ন অনিয়মের ঘটনায় ১৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। এ ছাড়া রিটার্নিং অফিসারের গাড়িসহ সাংবাদিকদের গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে এ জেলায়। বিভিন্ন ঘটনায় দুজন প্রার্থীসহ ২০ জন আহত হয়েছে। ফেনীর তিনটি পৌরসভায় সহিংসতা, জাল ভোট দেওয়া ও বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছে ২২ জন। বাতিল হয়েছে দুই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ। মহিপাল এলাকায় প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখা হয় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক।
লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, কেন্দ্র দখল, মারধর এবং রামগতির একটি কেন্দ্রে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ভোটগ্রহণ চলাকালেই লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপি লক্ষ্মীপুর ও রামগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন বয়কট করে আজ সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হরতাল ডেকেছে। তারা ফলাফল বাতিল করে এ দুটি এলাকায় পুনর্নির্বাচন দাবি করেছে।
এর বাইরে চাঁদপুর, সাতকানিয়া, রাঙ্গুনিয়া, মিরসরাই, দাউদকান্দিসহ কয়েকটি পৌরসভায় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। তবে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বেশির ভাগ পৌরসভায়ই নির্বাচন হয়েছে শান্তিপূর্ণ।
নোয়াখালী : নিজস্ব প্রতিবেদক সামসুল হাসান মীরনের পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়Ñব্যালট বাক্স ছিনতাই, জাল ভোটসহ ব্যাপক সহিংসতার মধ্য দিয়ে গতকাল শেষ হয়েছে নোয়াখালী পৌরসভা নির্বাচন। রিটার্নিং অফিসারের গাড়িসহ তিনটি গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, জেলা আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা ও আসবাবপত্র ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষুব্ধ বিএনপিকর্মীরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে দুই কাউন্সিলর পদপ্রার্থীসহ ২০ জন আহত হয়। নানা অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন ১৭টি কেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত করেছে। জেলা বিএনপি আজ বুধবার নোয়াখালীতে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে রিটার্নিং অফিসার ও তাঁর স্ত্রী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
সকাল ৮টা থেকে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবেই চলছিল। ১১টার দিকে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে পুলিশ লাইন প্রাইমারি কেন্দ্রে দুই কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর মধ্যে বিরোধের জের ধরে এক প্রার্থী কেন্দ্রে ঢুকে ৪ নম্বর বুথের ব্যালট বাক্স নিয়ে পানিতে ফেলে দেন। এ সময় বেশ কিছু লোক ওই বুথের ব্যালট পেপারও ছিনিয়ে নেয়। পরে প্রিসাইডিং অফিসার পানি থেকে ভাঙা ও ভিজে যাওয়া ব্যালট বাক্স উদ্ধার করলেও ব্যালট পেপার উদ্ধার করতে পারেননি। এ সময় ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর আবার ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
মাইজদী অরুণ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রেও দুই কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে গেলে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। এ সময় বিএনপির কর্মীরা জাল ভোটের অভিযোগ এনে স্কুলসংলগ্ন একটি বাড়িতে হামলা চালায়। দুপুর ১২টায় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মহিউদ্দিন আলমগীর ফকিরপুর মাদ্রাসা কেন্দ্রে এলে প্রতিপক্ষ নুরনবী সোহাগের লোকজন তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে আহত করে। এ সময় তাঁর স্ত্রীও আহত হন। ওই কেন্দ্রে ব্যাপক জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দুপুরে সোনাপুর ব্রাদার এন্দেজ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এ সময় কাউন্সিলর পদপ্রার্থী রাজু প্রতিপক্ষের হাতে আহত হন। এ ছাড়া বিক্ষুব্ধ লোকজন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। সকাল ১১টার পর থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা জাল ভোট দিচ্ছে বলে অভিযোগ এনে বিএনপির কর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। একপর্যায়ে তারা মাইজদী বাজারে রিটার্নিং অফিসার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাখাওয়াত হোসেনের গাড়িতে হামলা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর করে। একই সময় বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা মাইজদী পাবলিক কলেজ কেন্দ্রের কাছে রাখা শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলামের গাড়িতে (ঢাকা মেট্রো জ ১৪-১৭৭৮) অগ্নিসংযোগ করে সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেয়। তারা শহরের কল্যাণ স্কুলের কাছে দৈনিক যুগান্তরের জেলা প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান চৌধুরীর গাড়িসহ অন্য একটি গাড়ি ভাঙচুর করে। বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা শহরে লাঠি নিয়ে মিছিল করে জেলা আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
এ ছাড়া নোয়াখালী জেলার ৯টি ওয়ার্ডের ১৫টি কেন্দ্রে জাল ভোট, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
এসব ঘটনায় নির্বাচন কমিশন নোয়াখালী পৌরসভার ২৫টি কেন্দ্রের মধ্যে মাইজদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, অরুণ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়, এমএ রশিদ উচ্চ বিদ্যালয়, প্রি-ক্যাডেট একাডেমী, মাইজদী পাবলিক কলেজ, আলফারুক একাডেমী, ফকিরপুর মাদ্রাসা, নোয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয়, নোয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্রাদার এন্দেজ উচ্চ বিদ্যালয়, গোপাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোপাই মাদ্রাসা, প্রভাতি স্কুল, মাইজদী প্রভাতি স্কুল, দারুস্ সুন্নাহ আরাবিয়া মাদ্রাসা, মধ্যকরিমপুর বালিকা বিদ্যালয়, ইসলামিয়া আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করে।
দুপুরে জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহজাহানের বাসভবনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হারুনুর রশিদ সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শিহাবউদ্দিন শাহীনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্যাডাররা তাঁর এজেন্টদের বের করে দেয়। তারা ভোটারদের হাত থেকে সিল ছিনিয়ে নিয়ে দলীয় প্রার্থীর প্রতীক আনারসে সিল মারে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত প্রার্থীর চাচাতো ভাই এনএসআইয়ের সহকারী পরিচালক শামিম নোয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে তাঁর ভোটারদের বের করে নিজের হাতে সিল মারেন বলে হারুনুর রশিদ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মো. শাহজাহান অবিলম্বে নির্বাচন বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানান। একই সঙ্গে নির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতি’র প্রতিবাদে আজ বুধবার নোয়াখালীতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করা হয়।
বিকেল ৪টায় নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে মহাজোট সমর্থিত প্রার্থী গোলাম মহিউদ্দিন লাতু সংবাদ সম্মেলনে জানান, নির্বাচনে ভোট গণনার সময় রিটার্নিং অফিসার ৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছেন। তিনি ও তাঁর স্ত্রী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীমা সুলতানা বিএনপির পক্ষে কাজ করেছেন। লাতু অবিলম্বে রিটার্নিং অফিসার ও তাঁর স্ত্রীকে প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সেনবাগে নির্বাচন স্থগিত : বিভিন্ন অনিয়ম, জাল ভোট ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন সেনবাগ পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে। সকাল থেকে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ হলেও সকাল ১১টা থেকে সেনবাগ পাইলট স্কুল, কাদরা হামিদীয়া মাদ্রাসা, সেনবাগ সিনিয়র মাদ্রাসা, সেনবাগ কলেজ ও অষ্ট্রাদ্রোন প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় নির্বাচন কমিশন সেনবাগ পৌরসভার ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে। সেনবাগ পৌরসভা নির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং অফিসার তোফায়েল হোসেন জানান, ভোটগ্রহণ নিয়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েকটি কেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের ঘটনায় বিকেল ৩টায় নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
নোয়াখালীর অপর পাঁচ পৌরসভা চৌমুহনী, চাটখিল, বসুরহাট, কবিরহাট ও হাতিয়ায় শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হয়েছে।
ফেনী : কালের কণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক বিপ্লব রহমান ও ফেনী প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান দারার পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়Ñভোটকেন্দ্র দখল ও সহিংসতার মধ্য দিয়ে গতকাল ফেনী জেলার সদর, পরশুরাম ও সোনাগাজী পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরেজমিনে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, জাল ভোট দেওয়া, বহিরাগতদের ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপার ছিনতাই, প্রিসাইডিং অফিসারকে মারধর, বোমাবাজি, ফাঁকা গুলিবর্ষণ ও ভোটকেন্দ্র দখলের ঘটনায় ২০টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ এক থেকে দুই ঘণ্টা স্থগিত থাকে। দুটি কেন্দ্রে ভোট বাতিল করা হয়। ব্যাপক জাল ভোটের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ প্রার্থীদের সমর্থকরা মহিপালে প্রায় দুই ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। বাকি কেন্দ্রগুলোতে মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে।
ফেনী পৌরসভার বারাহিপুর ও মধুপুর মালেক মিয়ার বাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোট বাতিল করা হয়। বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষে তিন পৌরসভায় ২০ থেকে ২২ জন আহত হয়েছে। দুপুরে বিএনপি সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী মো. ফারুক হারুন ও স্বতন্ত্র মেয়র পদপ্রার্থী নুরুল আবসার নির্বাচন বর্জন করে পুনর্নির্বাচন দাবি করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, সরকার দলের সমর্থকরা বিভিন্ন কেন্দ্র দখল করে ব্যাপক জাল ভোট দিয়েছে।
নির্বাচন অফিস সূত্র ও ভোটাররা জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ফারুক হারুনের এজেন্ট রাসেল ভূঁইয়াকে (৩৫) মারধর করে বের করে দেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফেনী সদর পৌরসভার বালিকা বিদ্যানিকেতন কেন্দ্রে বহিরাগত যুবকরা ঢুকে প্রিসাইডিং অফিসার শাহ আলম পাটোয়ারীকে মারধর করে। খবর পেয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও বর্ডার গার্ড সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। একই সময় বারাহিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুটি ব্যালট বাক্স ও বেশ কিছু ব্যালট পেপার ছিনতাই হলে জেলা রিটার্নিং অফিসার আলতাফ হোসেন চৌধুরী এ কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বাতিল করেন। সহদেবপুরের খায়রুল এছাক প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুজন কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে আট থেকে ১০ জন আহত হয়। তাদের মধ্যে সাইফুল ও সুমন নামে দুজনকে ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুপুর ১২টার দিকে সদরের ট্রাংক রোডের পাশে ফেনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে ১৪-১৫টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। জিএ একাডেমী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রায় এক ঘণ্টা ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে।
এদিকে বিএনপি সমর্থিত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিক্ষুব্ধ সমর্থকরা নির্বাচনে জাল ভোট, কারচুপি ও গোলযোগের অভিযোগে দুপুর ১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মহিপাল এলাকায় অবরোধ গড়ে তোলে। এতে বিপুুলসংখ্যক দূরপাল্লার যানবাহন আটকে পড়ে। অবরোধকারীরা চার-পাঁচটি যানবাহনের কাচ ভাঙচুর করে। প্রায় এক ঘণ্টা পর জেলা পুলিশ সুপার মো. ইমাম হোসেনের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পরশুরাম পৌরসভায় সেনা ও পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতেই বাঁশপদুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল ৯টার দিকে দুই শতাধিক বহিরাগত যুবক কেন্দ্রের দখল নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তারা সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার সাদ আহমেদকে মারধর ও বেশ কিছু ব্যালট পেপার ছিনতাই করে। বহিরাগতদের হামলায় কাউন্সিলর পদপ্রার্থী নূরুল ইসলাম, মাইনুদ্দিন ভূঁইয়া সেলিম ও সামছুল হুদা আহত হন। এসব ঘটনায় ভোটগ্রহণ প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ থাকে। বাইরে থেকে এসে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে বিক্ষুব্ধ ভোটাররা মেজবাহ ও সবুজ নামে দুই যুবককে ধরে পিটুনি দেয়। এ সময় ভোটাররা বিক্ষোভ মিছিল করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে ঘণ্টাখানেক পর ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
সোনাগাজীতে অজ্ঞাতপরিচয়ের সন্ত্রাসীরা সকাল থেকে বিভিন্ন গ্রামের ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কেন্দ্রে যেতে নিষেধ করে বলে ভোটাররা অভিযোগ করেন। ফলে কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। সেখানে ভোটকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় পাঁচ-ছয়জন আহত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের আদালত এলাকায় প্রতিপক্ষের কর্মীদের হামলায় কাউন্সিলর পদপ্রার্থী সিরাজুল হক, কর্মী মাহফুজুল হক, ছাবের পাইলট হাই স্কুল কেন্দ্রে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আবু তাহেরসহ কয়েকজন আহত হন। তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অনিয়মের অভিযোগে ছাবের পাইলট হাই স্কুল কেন্দ্রে ৬৭টি ভোট ও প্রি-ক্যাডেট ইনস্টিটিউট কেন্দ্রে ১৫৭টি ভোট বাতিল করা হয়।
সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো. ইয়াকুব আলী মিয়া কালের কণ্ঠকে জানান, দু-একটি ছোটখাটো ঘটনা ছাড়া সোনাগাজীতে মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে।
এদিকে ফেনী পৌর নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী মো. ফারুক হারুন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল আবসার নির্বাচন বর্জন করে পুনর্নির্বাচন দাবি করেছেন।
জেলা রিটার্নিং অফিসার আলতাফ হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স ছিনতাইসহ নানা অনিয়মের কারণে দুটি কেন্দ্রের ভোট বাতিল করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বালিকা বিদ্যানিকেতন কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসারের আহত হওয়ার কথা তিনি শুনেছেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
গতকাল সন্ধ্যায় এসএসকে রোডে জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বুধবার ফেনীতে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেওয়া হয়। এতে লিখিত বক্তব্য দেন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন মিস্টার। পরে হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল বের করা হয়।
আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী নিজাম হাজারী নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করেন।
লক্ষ্মীপুর : কালের কণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক তৌফিক মারুফ ও লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি মীর ফরহাদ হোসেন সুমন জানান, এ জেলায় ভোট নিয়ে যেসব অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য প্রশাসনের নির্লিপ্ততা অনেকাংশে দায়ী। তবে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মো. জহুরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেসব অভিযোগ শুনেছি, সবই তদন্ত করে দেখেছি। এগুলোর কোনোটিই ঠিক নয়। দু-এক জায়গায় কিছু বিশৃঙ্খলার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীকে পাঠানো হলে সব ঠিক হয়ে যায়। এ ছাড়া রামগতির ঘটনা ঘটেছে কেন্দ্রের বাইরে, ভেতরে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।’
কুয়াশাঢাকা সকালে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে শুরু হয় লক্ষ্মীপুরের চার পৌরসভার ভোটগ্রহণ। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্মীপুর শহরসহ অন্য নির্বাচনী এলাকার বেশির ভাগ কেন্দ্রের ভেতরে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম। কেন্দ্রের বাইরে সেনাবাহিনীর টহল চলাকালেও বেশির ভাগ কেন্দ্রে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের নিষ্ক্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো। এ সুযোগে কেন্দ্রে কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী আবু তাহেরের দেয়ালঘড়ি প্রতীকের ব্যাজধারী কর্মীদের বেপরোয়া বিচরণ শুরু হয়। এসব কর্মী কোনো কোনো কেন্দ্রে ঢুকে প্রকাশ্যেই দেয়ালঘড়ির ব্যালটে সিল মারতে বাধ্য করে ভোটারদের। বেশ কিছু কেন্দ্রে এমন পরিস্থিতিতে প্রিসাইডিং অফিসার অসহায় হয়ে পড়েন। একজন প্রিসাইডিং অফিসার কালের কণ্ঠের কাছে অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের ভেতরের পরিবেশ সুন্দর করার জন্য প্রশাসনের কাছে সহায়তা চেয়েও তিনি পাননি। রায়পুর ও রামগঞ্জেও কোনো কোনো কেন্দ্রে এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে।
সকাল সাড়ে ৯টায় লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের মাঠে ভোটারদের সারির ফাঁকে ফাঁকে দেখা যায়, দেয়ালঘড়ির ব্যাজধারী কর্মীরা ভোটারদের ধরে ধরে কানে কানে কথা বলছেন। এখানে ১২টি বুথের মধ্যে অধিকাংশই ভোটারশূন্য অবস্থায় দেখা যায়।
৯টা ৫০ মিনিটে লক্ষ্মীপুর পাবলিক স্কুল কেন্দ্রে দেখা যায় নারী ভোটারদের ঠাসাঠাসি অবস্থান। এর মধ্যেই দেয়ালঘড়ির ব্যাজধারী পুরুষ কর্মীরা বেপরোয়াভাবে ঘুরে ঘুরে প্রকাশ্যেই তাদের মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য প্রভাবিত করতে থাকে। এ সময় ওই কর্মীদের কয়েকজনকে প্রিসাইডিং অফিসারের কক্ষে অবস্থান করতে দেখা যায়।
দুপুর ১টায় দক্ষিণ বাঞ্ছানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ৭ নম্বর বুথে ভোট চলাকালেই দেয়ালঘড়ির ব্যাজধারী তিন যুবক সেখানে ঢুকে প্রকাশ্যেই প্রথমে এক মহিলা ভোটারের হাত থেকে মেয়র পদপ্রার্থীর ব্যালট ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ওই ভোটার প্রতিবাদ জানালে এক যুবক তাঁকে গালাগাল করে। ওই যুবকরা মেয়র পদের ব্যালট ভোটারদের হাতে না দিয়ে তাদের দিয়ে দেওয়ার জন্য চিৎকার করে। এ সময় ওই বুথে উপস্থিত সংবাদকর্মীর দিকে চোখ পড়তেই যুবকদের একজন এগিয়ে এসে বিনয়ের ভঙ্গিতে বলে, ‘ভাই, মাফ করে দেবেন। অতীতে বিএনপির নির্যাতনে এলাকায় থাকতে পারিনি, তাই এবার জয় না পেলে রক্ষা নেই। এ জন্যই একটু চেষ্টা করছি।’ এ বিষয়ে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মো. আলীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি কোনো কথা না বলে অন্য দিকে হেঁটে যান।
দুপুর ২টায় লক্ষ্মীপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভেতরে পুরো মাঠ ও বুথের বারান্দাজুড়ে দেখা যায় দেয়ালঘড়ির ব্যাজধারীদের ছড়াছড়ি। বুথে ঢুকে ভোটারদের হাত থেকে মেয়র পদের ব্যালট নিয়ে সিল মারতেও দেখা যায় ওই ব্যাজধারী যুবকদের।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ হয়ে একটি বুথের সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সাংবাদিকদের সামনেই প্রিসাইডিং অফিসার এ কে এম আব্দুর রাজ্জাকের কাছে অনুরোধ জানান। আব্দুর রাজ্জাক বিষয়টি দেখার জন্য তাঁর কক্ষে বিশ্রামরত লক্ষ্মীপুর সদর থানার এসআই প্রকাশ চন্দ্র সরকারকে বলেন। পুলিশ কর্মকর্তা প্রকাশ চন্দ্র এ সময় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খোলামেলা জায়গার কারণে চেষ্টা করেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছি না।’
ভোটগ্রহণের শেষ পর্যায়ে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রামগতি পৌরসভার চরহাসান-হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে সেখানে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চারজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন রুহুল আমিন, শাহীন, সেলিম ও আজাদ। এ ঘটনায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ পরস্পরকে দায়ী করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে।
দুপুর ১টায় লক্ষ্মীপুর সদর পৌরসভার বিএনপি সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী হাসানুজ্জামান চৌধুরী মিন্টু স্থানীয় বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির লক্ষ্মীপুর শহরের বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেন। বিকেল ৩টার দিকে রামগঞ্জের মেয়র পদপ্রার্থী রোমান হোসেন পাটোয়ারীও নির্বাচন বয়কটের কথা জানান সাংবাদিকদের। বিকেল সাড়ে ৪টায় আরেক সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল খায়ের ভূইয়া এমপি অনিয়মসহ নানান অভিযোগে আজ লক্ষ্মীপুর জেলায় সকাল-দুপুর হরতাল ঘোষণা করেন।
আবু তাহের তাঁর বিরুদ্ধে করা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
চাঁদপুর : চাঁদপুরের ছেঙ্গারচর পৌরসভায় দুই মেয়র পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সকাল ১১টায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এতে এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী হাজি মো. বিল্লালের কর্মী-সমর্থকরা প্রায় সব ভোটকেন্দ্র দখল করে ভোটদান এবং বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মারধরের অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী আমেনা বেগম। দুপুর পৌনে ১টার দিকে আমেনা বেগম মৌখিকভাবে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার মো. গোলাম কবির। সকাল সাড়ে ১১টায় ১ নম্বর ওয়ার্ডের ছেঙ্গারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর সমর্থকরা জোরপূর্বক কেন্দ্রে ঢুকে ব্যালট পেপারে অবৈধভাবে সিল দেওয়া শুরু করলে এ কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করেন রিটার্নিং অফিসার।
কচুয়া পৌরসভায় কাউন্সিলর পদপ্রার্থী জয়নাল আবদীনের সমর্থক কয়েক যুবক সকাল ১১টার দিকে ১ নম্বর ওয়ার্ডের বালিয়াতলী রেজি. প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জোরপূর্বক ঢুকে সিল দেওয়া শুরু করে। এ সময় পোলিং অফিসাররা যুবকদের কাছ থেকে ব্যালট বই কেড়ে নিতে সক্ষম হন। পরে যুবকদের সিল দেওয়া ১১টি ব্যালট পেপার বাতিল করা হয়েছে বলে জানান ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার। তবে যুবকদের কাউকে আটক করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সাতকানিয়া : বিএনপি সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী হাজি মোহাম্মদুর রহমানের অভিযোগ, পৌরসভার আলিয়া মাদ্রাসা ও ঢেমশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্র দখল করে আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থীর সমর্থকরা প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষরবিহীন ব্যালট পেপারে সিল দিয়ে বাক্সবন্দি করেছে। তিনি ওই দুই কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচন দাবি করেন। ঢেমশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, সন্ত্রাসীরা ব্যালট পেপার লুটের চেষ্টা করেছিল, তবে তারা সফল হয়নি। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, পশ্চিম ঢেমশা ও ছমদরপাড়া কেন্দ্রে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর সন্ত্রাসীরা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের লাঞ্ছিত করেছে।
রাঙ্গুনিয়া : দক্ষিণ নোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গোলযোগ সৃষ্টির অভিযোগে আবু তাহের নামে একজন এবং জাকির হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাই হয়েছেÑএমন গুজব ছড়ানোর অভিযোগে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমকে আটক করেছে পুলিশ। এ ছাড়া এই দুই কেন্দ্র থেকে চার এজেন্টকে বহিষ্কার করা হয়।
মিরসরাই : মিরসরাই ও বারইয়ারহাট পৌরসভার কয়েকটি কেন্দ্রে বেশ কিছু জাল ভোট পড়ার খবর পাওয়া গেছে। বারইয়ারহাটের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের একটি কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার সময় নোমান নামের এক যুবককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ হয়েছে দাবি করা হলেও বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তাদের কিছু চিহ্নিত ভোটারকে কেন্দ্রে যাওয়ার পথে বাধা দিয়েছে আওয়ামী লীগের লোকজন।
দাউদকান্দি : নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আলী আশরাফ, আলাউদ্দিন ভুঁইয়া ও জাকির হোসেন নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আশরাফকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড এবং আলাউদ্দিনকে ও জাকিরকে সাত দিনের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এ ছাড়া হাজীগঞ্জ, শাহরাস্তি, ফরিদগঞ্জ, মতলব, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, মাটিরাঙা, পটিয়া, রাউজান, সুনামগঞ্জ, জগন্নাথপুর, ছাতক, দিরাই, কানাইঘাট ও চন্দনাইশ পৌরসভায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে বলে আমাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।

হবিগঞ্জ : শান্তির শহরে হঠাৎ রেষারেষি

৫ বছর পেরোনো করিমুন্নেছা একটি ভোট দিতে চেয়েছিলেন। ছেলে ফরহাদ এলাহী সেতু মাকে কোলে করে স্থানীয় আবাসিক এলাকা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু এরই মধ্যে কেন্দ্রটি দখল হয়ে যায়। ওই মাকে ফিরতে হয় ভোট না দিয়েই।

হবিগঞ্জে ২০০৪ সালের পৌর নির্বাচনের ভোট না দিতে পারার এই কষ্টটি এখনো তাড়িয়ে বেড়ায় ছেলে সেতুকে। সেতুর মা কি এবার ভোট দিতে পারবেন? এবারও কি দখল হবে ভোটকেন্দ্র?
ছিমছাম শান্তির শহর হবিগঞ্জে আজ পৌর নির্বাচন। এখানে মূল লড়াই মহাজোট প্রার্থী শরীফ উল্লাহ ও বর্তমান মেয়র এবং বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী জি কে গউছের মধ্যে। কিন্তু নির্বাচনের আগের দিন গতকাল শহরবাসীর মনে ও মুখে ছিল শুধুই আতঙ্কের ছাপ। গত ১৩ বছর ধরে পৌর নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখলের সংস্কৃতি এই আতঙ্কের মূল কারণ। মহাজোট ও বিএনপি সমর্থিত দুই প্রার্থীর মধ্যে হামলা, মামলা, বিরোধীদলীয় প্রার্থীর সমর্থকদের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে শান্ত শহরবাসীর মনে এ আতঙ্ক ভর করে। পাশের পৌর এলাকা শায়েস্তাগঞ্জে অফিস পোড়ানো ও ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা এই আতঙ্ককে বাড়িয়ে দেয় বহুগুণে। তবে দুপুর ২টা থেকে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক তৎপরতায় অনেকে কিছুটা আশ্বস্ত হন।
শহরের স্বনামধন্য সংস্কৃতিকর্মী রুমা মোদক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত পৌর নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। ভোটকেন্দ্র দখল হয়েছিল। এবারও বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। কিন্তু আমরা চাইছি একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, যেখানে আমরা এবার নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারব।’
শহরবাসীর কাছ থেকে জানা গেছে, গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকেই হবিগঞ্জ পৌর নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখলের সংস্কৃতি শুরু হয়। ওই সময় শহীদ উদ্দিন চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিভু চৌধুরীকে পরাস্ত করেন ভোটকেন্দ্র দখল করে। পরে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালে বর্তমান মেয়র জি কে গউছ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শহীদ চৌধুরীকে পরাস্ত করেন একইভাবে ভোটকেন্দ্র দখলের মধ্য দিয়ে। নিজের আমল থেকে ভোটকেন্দ্র দখলের বিষয়টি অস্বীকার করে সাবেক আওয়ামী লীগ দলীয় পৌর চেয়ারম্যান শহীদ উদ্দিন চৌধুরী দোষ চাপাচ্ছেন বর্তমান মেয়র জি কে গউছের ঘাড়ে। শহীদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “আমি ভোটকেন্দ্র দখলের সংস্কৃতি চালু করিনি। ওই সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী বিভু চৌধুরীকে পরাজিত করেছি জনগণের কাছ থেকে পাওয়া ভোটের মধ্য দিয়ে। ২০০৪ সালের পৌর নির্বাচনে বর্তমান মেয়র প্রার্থী জি কে গউছ সাত-আটটি কেন্দ্র দখল করে ‘কেন্দ্র দখলের’ সংস্কৃতি চালু করেন।”
তবে জি কে গউছ বলেন, ‘২০০৪ সালের নির্বাচনে আমি প্রায় দ্বিগুণ বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছি। আমি কোনো ভোটকেন্দ্র দখল করিনি। বিরোধীরা আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে এই প্রচারণা চালাচ্ছে।’
গত দুই বছরে হবিগঞ্জে অন্য রকম সৌহার্দের রাজনীতি চলেছে। ছিল না কোনো হানাহানি। এমনকি বর্তমান মেয়র জি কে গউছ আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আবু জাহিরের সঙ্গে গোপনে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই চলেছেন। কিন্তু পৌর নির্বাচনের কয়েকটি দিন সামনে রেখে শুরু হয়েছে রেষারেষি। হানাহানির আশঙ্কায় খোদ রাজনীতিকরাই ভীত। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কারাবরণকারী, একাধিক মামলার আসামি জি কে গউছ নিজেই ভীত। বললেন, ‘আমি ও আমার কর্মীরা নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত। সেনা মোতায়েন না হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। আমি আজ (গতকাল) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে পরিস্থিতি তুলে ধরে সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছি।’
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মহাজোট ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে এখন চরম বৈরি অবস্থান। সর্বশেষ গত শুক্রবার দুপুরে শহরের চৌধুরী বাজারে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী জি কে গউছের সমাবেশ চলছিল। ওই সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবনসহ অন্য নেতারা। বিএনপি অভিযোগ করেছে, এ সময় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা বিএনপিদলীয় নেতাদের ওপর হামলা চালায়। গউছের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, ওইদিন মহাজোটের প্রার্থী শরীফ উল্লার পক্ষে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির ও অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ খান শত শত দলীয় কর্মী নিয়ে শহরে মিছিল করেছেন। ওইদিন রাতেই জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম রানা বাদী হয়ে জি কে গউছের ভাই জি কে গফফারসহ ৫৩ দলীয় নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন। জানা গেছে, বিএনপি প্রার্থী গউছ এই হামলার ব্যাপারে থানায় এজাহার দায়ের করলে থানা এটিকে মামলা হিসেবে গ্রহণ করেনি। এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি শেখ কবিরুল হোসেন বলেন, মহাজোটের দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করছি। এরপর বিএনপির অভিযোগের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জি কে গউছ গতকাল দুপুরে পরিস্থিতি বর্ণনা করে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন আমার কর্মীরা পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এজেন্টদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’ তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে থানার ওসি কবির বলেন, ‘আমরা কাউকে হয়রানি করছি না। ওয়ান্টেড আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’
মহাজোট প্রার্থী শরীফ উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হবিগঞ্জে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি হামলা চালিয়ে অশান্ত পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। বিএনপির চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ নেতা ইলিয়াস আলী আমাদের সর্বজনশ্রদ্ধেয় দুই সংসদ সদস্যকে কটাক্ষ করে গত শুক্রবার উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে সব ধরনের অপতৎপতার বিরুদ্ধে সক্রিয় আছি।’

পাংশায় ভয়! এজেন্টকে দেখিয়ে সিল মারতে হলো ভোটারদের

Monday, January 17, 2011

'দেশ স্বাধীনের পর কখনোই এমন পরিস্থিতি হয়নি। অব্যাহত হুমকির কারণে ভোটের আগে বাড়ি ছাড়তে হয়েছিল; আর আজ ভোট দিতে হলো প্রকাশ্যেই।' কথাগুলো বলছিলেন পাংশা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ঢেঁকিপাড়া গ্রামের ৭০ বছর বয়সী জামালউদ্দিন।

গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে শাহজুই মাদ্রাসাকেন্দ্রে তিনি ভোট দেন। সাংবাদিক পরিচয় জেনে ক্ষোভের সক্সগে অভিযোগ করলেন_স্বাধীন রাষ্ট্রে গোপন ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ থাকলেও পাংশা পৌরসভার ক্ষেত্রে তাঁর ব্যতিক্রম ঘটেছে। ভয়ে তাঁর মতো অনেককেই
'নির্ধারিত প্রার্থীর এজেন্টদের দেখিয়ে' ব্যালট পেপারে সিল মারতে হয়েছে। প্রায় একই ধরনের অভিযোগ করেছেন এই কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা পারনারায়ণপুর গ্রামের ৬০ বছর বয়সী শের আলী বিশ্বাস, আবুল বিশ্বাসসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্তত ১৫ ভোটার।
জামালউদ্দিনের অভিযোগ, শুক্রবার রাতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ওয়াজেদ মাস্টারের ভাই ইদ্রিসসহ ১০-১২ জন তাঁর বাড়িতে গিয়ে শাসিয়ে এসেছেন। বলেছেন, বেঁচে থাকার ইচ্ছে থাকলে এজেন্টের সামনেই 'আনারসে' ভোট দেবেন। না হলে পরিণাম ভয়াবহ হবে। চাপের মুখে গ্রাম ছেড়ে আত্মীয়বাড়ি কলিমহরে গিয়ে দুই দিন থাকার পর গতকাল সকালে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে বাড়ি ফিরে ওয়াজেদ মাস্টারের এজেন্টের সামনেই ভোট দিয়েছেন।
জামালউদ্দিন, শের আলী, আবুলসহ একাধিক ব্যক্তির অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে কেন্দ্র থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরের পারনারায়ণপুর গ্রামে গেলে একাধিক বাসিন্দা প্রকাশ্যেই করেন নানা অভিযোগ। আলী শেখের বৃদ্ধা মা আমেনা খাতুন, স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম এবং ছোটভাইয়ের স্ত্রী নয়ন বেগম বলেন, গত শনিবার রাতে ১০-১২ জন মুখে কাপড় বেঁধে তাঁদের বাড়ি গিয়ে দরজায় লাথি মেরে ও হুক্সকার দিয়ে ডেকে বের করে। সবাইকে ঘুম থেকে তুলে আনারস প্রতীকে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তা না হলে গ্রামছাড়া করা হবে বলে শাসিয়ে যায়। একই অভিযোগ পারনারায়ণপুর গ্রামের যুবক রেজাউল, খোকন, মাসুদ, রমজানসহ আরো অনেকের। তাঁরা জানান, এলাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থক ছাড়া অন্য দলের কেউ কথা বলতে পারছে না।
কেন্দ্র পরিদর্শনে আসা কালিকাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও পৌরসভার বাসিন্দা সুরজ মুন্সী কালের কণ্ঠকে বলেন, 'শাহজুই মাদ্রাসা কেন্দ্রটি আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর নিজস্ব এলাকা হওয়ায় অন্য প্রার্থীর সমর্থকরা এখানে কোণঠাসা। হুমকি ও ভয় দেখানোর বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার সত্যতা আমিও জেনেছি। এলাকায় উৎসবের আমেজে ভোটগ্রহণ দেখা গেলেও সাধারণ অনেক ভোটারেরই মনে রয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও কষ্ট।'
শাহজুই মাদ্রাসা কেন্দ্রে কথা হয় বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাবিবুর রহমান রাজার সক্সগে। তিনি দুপুর ১টার দিকে অভিযোগ করে বলেন, 'আমি স্থানীয় ছয় বিএনপি কর্মীকে কেন্দ্রটিতে পোলিং এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য মনোনীত করি। কিন্তু আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের হুমকির কারণে মাত্র একজন যোগ দিয়েছেন। নিরুপায় হয়ে পার্শ্ববর্তী ৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তিনজনকে ডেকে এনে তাঁদের সক্সগে আমি নিজেও পোলিং এজেন্টের দায়িত্ব পালন করছি। ভোট গণনার সময়ও এখানেই থাকব।' তিনি জানান, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পাংশা জজ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান করা তাঁর ভাই এলাহী হোসেনকেও প্রতিপক্ষের লোকজন তাড়িয়ে দিয়েছে। আধা ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য জিল্লুল হাকিম কেন্দ্র পরিদর্শনের নামে এখানে অবস্থান করে প্রিসাইডিং অফিসারের সক্সগে চা-নাস্তা খাওয়াসহ খোশগল্প করেছেন। এ সময় তাঁর সক্সগে ছিলেন ১৫ জনেরও বেশি নেতা-কর্মী।
অভিযোগের সত্যতা জানতে প্রিসাইডিং অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ জমসেদের কক্ষে গেলে এমপি জিল্লুল হাকিমকে সেখানে বসে থাকতে দেখা যায়। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, 'সকাল থেকে এ পর্যন্ত পাঁচটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। কোথাও কোনো অনিয়ম দেখিনি।' ভোটারদের হুমকি ও ভয় প্রদর্শন প্রসক্সগে তিনি বলেন, পৌরসভার ভেতরে তেমন চরমপন্থী নেই; তবে চর এলাকায় রয়েছে। যদিও এখন তাদের ক্ষমতা কমে গেছে।
অভিযোগ প্রসক্সগে প্রিসাইডিং অফিসার সৈয়দ আহমেদ জমসেদ বলেন, 'এই কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটগ্রহণ হচ্ছে। কেন্দ্রের দুই হাজার ১১ ভোটারের মধ্যে দুপুর ১টা পর্যন্ত ছয়টি বুথে প্রায় ১২০০ ভোটার ভোট দিয়েছেন। ভয়ভীতি থাকলে এটা সম্ভব হতো না।'
নির্বাচনী আচরণবিধি ভক্সগ : পৌনে ১২টার দিকে শাহজুই মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে ঢুকতেই দেখা যায়, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ওয়াজেদ আলী মাস্টারের নাম ও প্রতীক সংবলিত সাদা টি-শার্ট ও ক্যাপ পরিহিত দুই শিশুকে। শিশু দুটির পরিচয় জানতে গিয়ে কথা হয় ওয়াজেদ আলী মাস্টারের স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের সক্সগে। তিনি কালের কণ্ঠকে জানান, 'ভোটারদের আকৃষ্ট করতে মাত্র ১৮ জোড়া ক্যাপ ও টি-শার্ট ছাপানো হয়েছে। যদিও আমাদের ফ্যামিলি অনেক বড়।'
দেখা গেছে, একই ধরনের শার্ট ও ক্যাপের কারণে ওই ভোটকেন্দ্রের অধিকাংশ ভোটারেরই শিশু দুটির দিকে বাড়তি মনোযোগ ছিল। এ ছাড়া মাইক্রোবাস নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ এমপির উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্নের উদ্রেক করে।
এই কেন্দ্রে ভ্যানে চড়ে ভোট দিতে আসেন পারনারায়ণপুর গ্রামের ৮০ বছরের বৃদ্ধা আকিরুন বেগম। কথা প্রসক্সগে একই গ্রামের ভ্যানচালক জামাল জোয়ার্দ্দার জানান, ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী রইচউদ্দিন ৫০০ টাকায় দিনব্যাপী ভ্যানটি ভাড়া নিয়েছেন। এই ভ্যানে করে তাঁর সমর্থিত ভোটারদের কেন্দ্রে আনা-নেওয়া হচ্ছে।
বেলা ২টার দিকে কেন্দ্র পরিদর্শনে আসা রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদ আনোয়ার জানান, পৌরসভার কেন্দ্রগুলোর সার্বিক অবস্থা সুশৃক্সখল। আচরণবিধি ভক্সগের তেমন অভিযোগ মেলেনি। পরে টি-শার্ট ও ভ্যান ভাড়া প্রসক্সগ তুললে আশপাশে তিনি তাঁদের খুঁজতে থাকেন।
পাংশা জজ স্কুলকেন্দ্রে অবস্থানরত ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী গোবিন্দচন্দ্র কুণ্ড অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ রামদাস দত্তের লোকজন তাঁর সমর্থকদের মাঠের আশপাশে থাকতে দেয়নি।
পাংশা পৌরসভার আওয়ামী লীগ প্রার্থী ওয়াজেদ আলী মাস্টার গতকাল সন্ধ্যায় টেলিফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'নিশ্চিত পরাজয় জেনেই অভিযোগ করেছে বিএনপি প্রার্থী। পাংশা এলাকায় প্রশাসনের তদারকি কঠোর ছিল। ফলে ভয় দেখিয়ে কিংবা প্রকাশ্যে ভোট নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়।' ছাপানো ক্যাপ ও টি-শার্ট সম্পর্কে তিনি বলেন, 'কিছু অতি উৎসাহী সমর্থক এটা করে থাকতে পারে। তবে তা আমার জানা নেই।'
জেল-জরিমানা : নির্বাচনী আচরণবিধি ভক্সগের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত গতকাল রাজবাড়ী পৌরসভা এলাকায় ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সুমন হোসেন, ২ নম্বর ওয়ার্ডের হেলাল উদ্দিন ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সিদ্দিকুর রহমানকে ছয় মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। পাংশা পৌর এলাকায় দুটি ট্রাকের অবাধ চলাচলের কারণে চালকদের দেড় হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া গোয়ালন্দে ভোট কেনার জন্য টাকা দেওয়ার সময় মাজেদ নামের এক যুবককে ছয় মাসের, জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে বিল্লু বিশ্বাস এবং মাসুদ নামের এক পোলিং এজেন্টকে সাত দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সৈয়দা সাহানা বারী গতকাল সন্ধ্যায় টেলিফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'প্রশাসনের নানা পদক্ষেপ ও তদারকির ফলে রাজবাড়ী, পাংশা ও গোয়ালন্দ পৌরসভায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে। তিনটি পৌরসভার কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আর নির্বাচনী আচরণবিধি ভক্সগকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।'
 
Support : Dhumketo ধূমকেতু | NewsCtg.Com | KUTUBDIA @ কুতুবদিয়া | eBlog
Copyright © 2013. News 2 Blog 24 - All Rights Reserved
Template Created by Nejam Kutubi Published by Darianagar Publications
Proudly powered by Dhumketo ধূমকেতু