জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মেলেনি চট্টগ্রামবাসীর

Sunday, July 3, 2011

লাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুুক্তি পাচ্ছে না চট্টগ্রামবাসী। বিগত তিন সরকারের আমলেও নাগরিক এই দুর্ভোগের সমাধান হয়নি এবং ভবিষ্যতেও স্থায়ী কোনো সমাধানের লক্ষণ নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে টানা তিন ঘণ্টায় মাত্র ৬৫ মিলিমিটারের বৃষ্টি ও সাগরের জোয়ারের মিলিত প্রভাবে জলমগ্ন হয়েছে নগরীর নিচু এলাকা। এ ছাড়া থেমে থেমে দিনভর বৃষ্টি হওয়ায় অনেক জায়গায় তা দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতারও সৃষ্টি করেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গতকাল সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত পতেঙ্গা বিমানবন্দরে ৩০ মিলিমিটার ও আমবাগান কেন্দ্রে ৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কিন্তু সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আরো বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় বিমানবন্দর কেন্দ্রে ৫৫ মিলিমিটার ও আমবাগান কেন্দ্রে ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, 'এখন মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং আরো কয়েক দিন তা অব্যাহত থাকতে পারে।' তবে গতকাল দুপুরের পর বৃষ্টির মাত্রা কমে এসেছে।
চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে প্রতিবছর বর্ষাকালীন বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিত এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের পর তা বন্ধে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র এম মঞ্জুর আলম জলাবদ্ধতাকে ইস্যু করে নির্বাচনে জয়ী হলেও তা সমাধানে এখনো সফল হননি।
জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম মঞ্জুর আলম বলেন, টানা বৃষ্টির পাশাপাশি সাগরের জোয়ার মিলিত হওয়ায় নগরীর নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করেছে। কর্ণফুলী নদীর ক্যাপিটেল ড্রেজিং না হওয়া পর্যন্ত জোয়ারের এই সমস্যা থেকে চট্টগ্রামবাসী শিগগিরই মুক্তি পাচ্ছে না। তবে তা কমিয়ে আনতে বিভিন্ন খালের মুখে স্লুইস গেইট দেওয়া ও সিল্টট্র্যাপগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কালভার্ট নির্মাণ ও নালা অপরিষ্কার থাকার কারণে নিচু এলাকা ছাড়া অন্যান্য এলাকায় জলাবদ্ধতা হচ্ছে জানিয়ে মঞ্জুর আলম বলেন, বৃষ্টিপাতের কারণে নির্মাণকাজ শেষ করা যাচ্ছে না। এ ছাড়া নালা ও খালের মুখ আটকে যাওয়ায় পানি সহজে নামতে পারছে না। এ ছাড়া পাঁচ বছরের কাজ অবশ্যই এক বছরে শেষ করা যাবে না।
আগ্রাবাদ সিডিএ, ছোটপুল পুলিশ লাইন, হালিশহর কে-ব্লক ও এল-ব্লক এলাকায় বৃষ্টির পানির সঙ্গে জোয়ারের মিলিত প্রভাবে দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা দেখা গেলেও চকবাজার, মুরাদপুর ও বহদ্দারহাট প্রভৃতি এলাকায় সকালে জলাবদ্ধতা ছিল। সকালে চকবাজারের কাঁচাবাজার এলাকায় কোমর সমান পানি ওঠায় কাঁচাবাজারের শাকসবজি, পানসহ বিভিন্ন দ্রব্য পানিতে ভাসতে থাকে। মাইনুদ্দিন নামের এক সবজি ব্যবসায়ী বলেন, বিএনপি সরকারের আমলেও আমরা পানি খেয়েছি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও বাদ যাইনি এবং সর্বশেষ এই মহাজোট সরকারের সময়েও আমরা পানির (জলাবদ্ধতা) দুর্ভোগ থেকে মুুক্তি পাইনি। এখন বৃষ্টি হলেই পানি জমবে বলে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকি।
এ ছাড়া কেবি আমান আলী রোড, কাতালগঞ্জ, বহদ্দারহাট বারইপাড়া, শুলকবহর ও মুরাদপুরের মোহাম্মদপুর এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বহদ্দারহাট ও মুরাদপুর এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে দুটি নতুন খালের সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় জলাবদ্ধতা দুর্ভোগের সুরাহা হচ্ছে না জানিয়ে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী এম আলী আশরাফ বলেন, 'নতুন খাল খনন বা পুরনো খাল সংস্কার না করে শুধু বালি ও মাটি উত্তোলন করে জলাবদ্ধতা নিরসন করা যাবে না।'
আলী আশরাফ আরো বলেন, গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিভিন্ন খালের উভয় পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালানো হলেও তা পরে বন্ধ হয়ে যায়। জলাবদ্ধতা নিরসনে সবার আগে মুরাদপুরে সিডিএ এভিনিউ রোডের সমান্তরালে ও বহদ্দারহাটে খাজা রোডের সমান্তরালে দুটি খাল খনন করতে হবে।

পাহাড়ে পিষ্ট মানুষ

ট্টগ্রামে আবারও ভয়াবহ পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। টাইগারপাস বাটালি হিলের প্রতিরক্ষা দেয়াল ও মাটি গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ধসে পড়ে। দুর্ঘটনার পর গতকাল রাত ১১টা পর্যন্ত ১৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ রয়েছে আরো একজন।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বৃষ্টির মধ্যে প্রায় ২৫ ফুট উঁচু ও ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যের প্রতিরক্ষা দেয়ালটি বাটালি হিলের মাটিসহ ধসে পড়ে। এর নিচে প্রায় ২০টি বস্তিঘর চাপা পড়ে। এসব ঘরের বাসিন্দাদের গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। পরে অনেকে অন্যত্র চলে গেলেও বাচ্চু মিয়া, মোহাম্মদ শফিক, আমজাদ হোসেন, আনোয়ার হোসেন ও হোসনে আরা বেগমের পরিবার আবারও নিজেদের ঘরে ফিরে আসে। গতকাল সকালে আনোয়ার হোসেনের পরিবার ছাড়া বাকি চারটি পরিবারের সদস্যরা মাটিচাপা পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী আরিফা হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শফি মিয়ার স্ত্রীকে ডাকার জন্য এসে দেখতে পাই, পেছনের দেয়ালটি ধসে পড়ছে। আমার চিৎকারে আনোয়ার হোসেনের পরিবারের সাত-আটজন সদস্য ঘর থেকে বের হয়ে এলেও বাচ্চু মিয়া, মোহাম্মদ শফি, আমজাদ হোসেন ও হোসনে আরা বেগমের পরিবারের লোকজন বের হতে পারেনি।'
এরপর স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী রেহানা আকতার (৩৫), বড় মেয়ে শারমিন (১৮), মেয়ে ফাতেমা (১২), ছেলে আজাদ (১০) ও তানজিনার (২) লাশ উদ্ধার করেন। স্ত্রী ও সন্তানদের হারিয়ে শোকাহত বাচ্চু মিয়া বলেন, 'আমি সকালে রিকশা চালাতে চলে গিয়েছিলাম। বড় মেয়েটা শ্বশুরবাড়ি থেকে গতকাল (বৃহস্পতিবার) বেড়াতে এসেছিল। এখন আমি সবাইকে হারালাম।'
মাটি চাপা পড়া আমজাদ হোসেন (৪০), তাঁর স্ত্রী রাজিয়া বেগম (২৭) ও মেয়ে শারমিনের (১২) লাশ দুপুর ২টার দিকে উদ্ধার করা হয়। ধসে যাওয়া প্রতিরক্ষা দেয়াল কেটে এর নিচে পাওয়া যায় মোহাম্মদ শফি (৩৫), তাঁর স্ত্রী মিনু আরা বেগম (২৫), ছেলে মিনহাজ (৮) ও মেয়ে সোনিয়ার (৪) মৃতদেহ। রাত সোয়া ১০টার দিকে উদ্ধার করা হয় দুই শিশু সাজ্জাদ হোসেন (১২) ও মেয়ে সাহেদার (৮) মৃতদেহ। স্থানীয় লোকজন সন্ধ্যায় জানায়, এই দুই শিশুর মা মাটির নিচে তখনো চাপা পড়ে আছেন। রাত ১১টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছিল। এর আগে ২০০৭ সালের ১১ জুন পাহাড় ও দেয়াল ধসে ১৩২ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। ২০০৮ সালের ১৮ আগস্ট একই পরিবারের পাঁচজনসহ ১১ জনের মৃত্যুর পর চট্টগ্রামে গতকাল আবারও বড় ধরনের পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটল। বাটালি হিল ধসে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি দ্রুততার সঙ্গে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো ও আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাটালি হিলের পাশে রেলওয়ের জায়গায় বেশ কয়েকটি পরিবার অবৈধ ঘর তুলে বসবাস করছে। তাদের উচ্ছেদের জন্য সিটি করপোরেশন অভিযান পরিচালনা করলেও তেমন কোনো ফল হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা মীর হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমরা সরকারি জায়গায় থাকব না তো কোথায় থাকব! সিটি করপোরেশন বৃহস্পতিবার আমাদের এখান থেকে তুলে দিলেও আশ্রয় নেওয়ার জন্য স্কুল খুলে দেয়নি। স্কুল বন্ধ থাকায় অনেক পরিবার আবার আগের জায়গায়ই ফিরে গিয়েছিল।'
গতকালের দুর্ঘটনার পর প্রথম উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। এরপর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সেবক, রেড ক্রিসেন্টের কর্মী এবং সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরাও উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের উপপরিচালক রুহুল আমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমাদের চারটি ইউনিট উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে। দেয়ালের নিচে চাপা পড়া আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে পাঁচ ঘণ্টা পর আহতাবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি আমরা।'
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার সময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম মঞ্জুর আলম সাংবাদিকদের বলেন, 'ঝুঁকিপূর্ণ বসতির লোকজনকে বৃহস্পতিবারও উচ্ছেদ করা হয়েছিল। কিন্তু অনেকে পরে ফিরে আসায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।' অন্যদিকে জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহমদ বলেন, 'প্রবল বৃষ্টির কারণে উদ্ধার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে লোকজনকে সরে যাওয়ার জন্য বারবার মাইকিং করা হয়েছে। এর পরও অনেকে থেকে যাওয়ায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।'
স্থানীয় লোকজন পাহাড়ের প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে। তবে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, 'আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে দেয়ালের পাশের মাটি সরে যাওয়া এবং বৃষ্টির পানি নামতে না পারার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে।'
বস্তিঘরেই নিভল প্রাণ : মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। শেষ অবলম্বন ছিল বস্তির ৩০০ টাকায় ভাড়া নেওয়া একটি ছোট কক্ষ। সেখানে গাদাগাদি করে চলত জীবনযাপনের মরিয়া চেষ্টা। সেই শেষ আশ্রয়স্থল বস্তিঘরেই নিভে গেল চার পরিবারের ১৪টি মানুষের প্রাণ।
বাটালি হিলের ধস বাচ্চু মিয়ার পরিবারের স্ত্রী, সন্তানসহ পাঁচজনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। রিকশা চালানোর সময় সকাল ৭টার দিকে পাহাড়ধসের খবর পান বাচ্চু মিয়া। পরে স্ত্রী-সন্তানের লাশ দেখে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েন তিনি। বাচ্চু মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, 'বিয়ে করার পর আট থেকে ১০ বছর পর্যন্ত সন্তানের মুখ দেখিনি। এরপর প্রথম স্ত্রী রেনু বেগম আমাকে দ্বিতীয়বার বিয়ে করায়। এর এক বছর পর সংসার আলো করে সন্তান আসে। আজ (শুক্রবার) পাহাড়চাপায় আমার জীবন আবার অন্ধকার হয়ে গেছে।'
ধস ঠেকাতে পারেনি প্রতিরক্ষা দেয়াল : বাটালি হিলের ধস ঠেকাতে গত বছরের প্রথম দিকে ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করে সিটি করপোরেশন। প্রায় ৩০ ফুট প্রস্থ ও ৫০০ ফুট দৈর্ঘ্যের দেয়ালটি গতকাল পাহাড়ধস ঠেকাতে পারেনি। বরং এটি ভেঙে পড়ায় ক্ষতির মাত্রা বেশি হয়েছে বলে অভিযোগ করে এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম মঞ্জুর আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, 'প্রতিরক্ষা দেয়াল নিয়ে এলাকাবাসী যে অভিযোগ করছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বৃহস্পতিবার ঝুঁকিপূর্ণ ওই এলাকায় আমি নিজে গিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছি। তার পরও লোকজন আবার সেখানে ফিরে আসে। বেঁচে থাকার প্রয়োজনেই সবার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা থেকে সরে যাওয়া উচিত।'
প্রতিরক্ষা দেয়ালটি নির্মাণকাজের ঠিকাদার গিয়াস আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমরা গত বছরের প্রথম দিকে কাজ শেষে সিটি করপোরেশনকে বুঝিয়ে দিই। তখন ত্রুটিপূর্ণ কাজ করার অভিযোগ কেউ করেনি। এখন একটি দুর্ঘটনা ঘটার পর সবাই নির্মাণকাজে ত্রুটির কথা বলছে। আমরা যে জায়গায় দেয়ালটি নির্মাণ করি, তার নিচ থেকে মাটি কেটে ঘর তৈরি করায় সেটি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়সহ দেয়ালটি ধসে পড়তে পারে।'
নিহত প্রত্যেকের জন্য ১০ হাজার টাকা অনুদান : পাহাড়ধসে নিহত প্রত্যেকের জন্য ১০ হাজার টাকা সরকারি অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহমেদ। এ ছাড়া তিনি চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়ে অবৈধ বসবাসকারীদের দ্রুত উচ্ছেদ করার নির্দেশ দিয়েছেন। যেসব পাহাড়ের মালিক এ নির্দেশ অমান্য করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে।
চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি বৈঠকে জেলা প্রশাসক এ নির্দেশ দেন। গত বছর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভার এক সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'পাহাড়-মালিকদেরই ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা উচ্ছেদ করার কথা ছিল। কিন্তু তাঁরা সেটা বাস্তবায়ন করেননি। তাঁরা ব্যর্থ হলে পাহাড়ের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হবে।'
বৈঠকে আরো চারটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেগুলো হলো_দুর্যোগকবলিত এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে পিডিবি, বাটালি হিল এলাকার ধসে যাওয়া দেয়াল দ্রুত অপসারণ করবে সিটি করপোরেশন, দুর্যোগপ্রবণ এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োজনে পাঠদান বন্ধ রেখে গৃহহীনদের আশ্রয় দেওয়ার ব্যবস্থা করা এবং চাপা পড়া অন্য তিনজনকে দ্রুত উদ্ধারের ব্যাপারে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ। এ ছাড়া পাহাড়ধসের ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) এহসান এ ইলাহীকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

মহাদেশে মহাপস্নাবন

Monday, January 24, 2011

কল বিচারেই ভয়াবহ আকার ধারণ করিয়াছে অস্ট্রেলিয়ার বন্যা পরিস্থিতি। চরমে পেঁৗছিয়াছে বন্যাকবলিত হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ। সংকটাপন্ন হইয়া পড়িয়াছে দেশটির অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ।

সেইসাথে ইহাও স্পষ্ট হইয়া গিয়াছে যে, গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বাপেক্ষা ভয়াবহ বলিয়া বিবেচিত এই বন্যার অভিঘাত শুধু অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরেই সীমাবদ্ধ থাকিবে না; বিশ্ব অর্থনীতিতেও ইহার নেতিবাচক প্রভাব অনিবার্যই বলা চলে। খাদ্যশস্য, বিশেষ করিয়া গমের বাজারে ইতিমধ্যে সেই আলামতও স্পষ্ট হইয়া উঠিয়াছে। কারণ বিশ্বের চতুর্থ বৃহৎ গম রফতানিকারী এই দেশটি আদৌ তাহাদের গম রফতানির প্রতিশ্রুতি পূরণ করিতে পারিবে কিনা তাহা লইয়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে যথেষ্ট সংশয় রহিয়াছে। অস্ট্রেলিয়ার কয়লার উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল অর্থনৈতিক পরাশক্তি_জাপান, ভারত, ইউরোপ ও চীনসহ সংশিস্নষ্ট দেশগুলির উদ্বেগ আরও বেশি। কয়লা সরবরাহে বর্তমান অচলাবস্থা অব্যাহত থাকিলে ইহার প্রভাব সর্বব্যাপী হইতে বাধ্য। অতএব, এই উদ্বেগকে হালকা করিয়া দেখার কোনো অবকাশ নাই।

উলেস্নখ্য, ক্রিসমাসের ঠিক পূর্বক্ষণে শুরু হওয়া নজিরবিহীন এই বন্যায় ইতিমধ্যে ফ্রান্স ও জার্মানির আয়তনের সমপরিমাণ এলাকা তলাইয়া গিয়াছে। কৃষি খামার ও কয়লা খনিসমৃদ্ধ অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য কুইন্সল্যান্ডের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নীচে। সর্বাপেক্ষা উদ্বেগের বিষয় হইল, বন্যার তাণ্ডবে দেশটির সুবৃহৎ কয়লাশিল্পে উৎপাদন প্রায় বন্ধ হইয়া গিয়াছে। রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হইয়া পড়ার কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হইতেছে কয়লা ও খাদ্যশস্যসহ সামগ্রিক রফতানি বাণিজ্য। এমনকি দেশের অভ্যন্তরেও খাদ্যশস্য পরিবহন করা কঠিন হইয়া পড়িয়াছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হইতে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত লাগিয়া যাইতে পারে বলিয়া সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তারা মনে করেন। শুধু কৃষি খাতেই ক্ষতির পরিমাণ এক বিলিয়ন ডলার ছাড়াইয়া যাইতে পারে বলিয়া প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হইতেছে। অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রাও কল্পনাকে হার মানাইতে পারে বলিয়া তাহাদের আশঙ্কা।

প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন যে, দীর্ঘদিন যাবৎ কারণে-অকারণে বাংলাদেশকে ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার দেশ বলিয়া পরিহাস করা হইত। অবস্থানগত কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যে আমাদের নিত্যসঙ্গী তাহাতে দ্বিমত করিবার কিছু নাই। তবে আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশগুলিও যে অনুরূপ বা আরও ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হইতে পারে_ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কল্যাণে ইতিমধ্যে তাহা বিশ্ববাসীর ভালোভাবেই জানা হইয়া গিয়াছে। অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে এই মহাপস্নাবনের প্রধান শিক্ষাটি হইল, প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত হইতে কাহারও নিস্তার নাই। ধনী-গরিব এবং উন্নত-অনুন্নত কোনো দেশই দুর্যোগের ঝুঁকি হইতে মুক্ত নহে। আমেরিকায় উপর্যুপরি ঘূর্ণিঝড়ের ছোবল এবং সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়ার বন্যার ভয়াবহতা বিশ্ববাসীকে তাহা আবারও মনে করাইয়া দিয়াছে মাত্র। দুর্যোগের চিত্র সর্বত্রই অভিন্ন। তফাত শুধু এইটুকু যে, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি সামাল দেওয়ার জন্য উন্নত দেশগুলিকে কাহারও দ্বারস্থ হইতে হয় না। কারণ নিজেদের সমস্যা বা সংকট মোকাবিলার মতো সম্পদ ও প্রযুক্তি তাহাদের আছে। অস্ট্রেলিয়াও ব্যতিক্রম নহে। প্রধানত নিজেদের সম্পদ দিয়াই তাহারা বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার উদ্যোগ গ্রহণ করিয়াছে। আমরা সেই উদ্যোগের সর্বাত্মক সফলতা কামনা করি। অস্ট্রেলিয়ার সরকার ও বন্যাদুর্গত জনগণের প্রতি রইল আমাদের গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা।

ব্রাজিলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে

Friday, January 14, 2011

ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো শহরের কাছে পার্বত্য এলাকায় গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। দেশটিতে স্মরণকালের ভয়াবহ এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে আরও বহু লোক নিখোঁজ রয়েছে। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা আজ শুক্রবার এ কথা জানিয়েছেন ।

উদ্ধারকারীরা উপদ্রুত এলাকায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এ অভিযানে উদ্ধারকারীদের সঙ্গে নিখোঁজদের স্বজনেরাও যোগ দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় ১৪ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়েছে। পুলিশ বলছে, ভবিষ্যতে মৃত্যের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বন্যা ও ভূমিধসে রাস্তাঘাট ও সেতু বিধ্বস্ত হওয়ায় দুর্যোগ-কবলিত এলাকায় যোগাযোগ রক্ষা ও উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। কয়েকটি এলাকায় টেলিফোন সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
১৯৬৭ সালের পর ব্রাজিলের মানুষ এমন ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর দেখেনি। ব্রাজিলের নতুন প্রেসিডেন্ট দিলমা রোসেফ আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করে সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে বন্যা-কবলিত এলাকায় ৪২ কোটি ডলারের জরুরি ত্রাণ সাহায্য পাঠানো হয়েছে।
বন্যা ও ভূমিধসে রিও ডি জেনিরোর পার্শ্ববর্তী নোভা ফ্রিবুরগো, সেরানা, পেট্রোপোলিস ও তেরেসোপোলিস সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত নোভা ফ্রিবুরগো এলাকায় প্রাণ হারিয়েছেন ২০১ জন, তেরেসোপোলিসে ১৭৫ জন এবং পেট্রোপোলিসে ৩৯ জন। বন্যাক্রান্ত অন্যান্য এলাকায় বাকি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক দিনে আরও বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। বিবিসি ও আল-জাজিরা।

বিশ্বের কয়েকটি দেশে বন্যা ব্রাজিলে নিহত ৩৫৬, ফিলিপাইনে ৪২

Thursday, January 13, 2011

বিশ্বের কয়েকটি দেশে বন্যা এবং এতে মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি প্রকট আকার নিয়েছে। ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৩৫৬ জন মারা গেছে। ফিলিপাইনে মারা গেছে ৪২ জন। গৃহহীন হয়েছে চার লাখ মানুষ। শ্রীলঙ্কায় মারা গেছে অন্তত ২১ জন। বাস্তুচ্যুত হয়েছে ১০ লাখের বেশি। আর অস্ট্রেলিয়ায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।

ব্রাজিল : কর্মকর্তারা জানান, রিও ডি জেনিরিও প্রদেশের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা ও ভূমিধস হয়েছে। টেরেসোপোলিস শহরে ভূমিধসে অন্তত ১৪৬ জন মারা গেছে। নোভো ফ্রিবার্গো শহরে মারা গেছে ১৫৫ জন। তাদের মধ্যে অন্তত তিনজন অগি্ননির্বাপণকর্মী। পেট্রপোলিস শহরে ৩৪ জন মারা গেছে। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। টেরেসোপোলিসে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। টেরেসোপোলিসের পার্শ্ববর্তী নদীর পানি উপচে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। টেরেসোপোলিসের মেয়র জর্জ মারিও সেডল্যাসেক বলেন, 'এটা মহাবিপর্যয়, বড় দুর্যোগ।' ব্রাজিলের টেলিভিশনগুলোর ফুটেজে দেখা যায়, বন্যার পানির তোড়ে বাড়িঘর এবং রাস্তায় থাকা গাড়ি ভেসে যাচ্ছে।
টেরেসোপোলিসের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা গতকাল জানান, তাঁরা ২৪ ঘণ্টায় ১৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছেন। এটি পুরো জানুয়ারির স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের চেয়ে অনেক বেশি। দুর্গত তিনটি শহরেই বিদুৎ ও টেলিফোন লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দেখা দিয়েছে ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা। টেরেসোপোলিসের এক ব্যক্তি বলেন, 'আমি এখানে ২৫ বছর ধরে বাস করছি। কিন্তু এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি কখনো হইনি।'
কর্মকর্তারা জানান, দুর্গত এলাকায় পানিবাহিত রোগ-বালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আট শতাধিক উদ্ধারকর্মী দুর্গত এলাকায় তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ব্রাজিলের সদ্য দায়িত্ব নেওয়া প্রেসিডেন্ট দিউমা হুসেফের গতকাল দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার কথা।
ফিলিপাইন : মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে ৪২ জন নিহত হয়েছে। গৃহহীন হয়েছে চার লাখ মানুষ। দুর্যোগ মোকাবিলা বিভাগের কর্মকর্তারা গতকাল জানান, অবকাঠামো ও শস্যের ক্ষতি হয়েছে দুই কোটি ৩০ লাখ ডলার অর্থের বেশি। বিভাগের প্রধান বেনিতো রামোস বলেন, 'ডিসেম্বরের শেষদিকে প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়। সে থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় চার লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এ ছাড়া উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান চাল ও অন্যান্য শস্য উৎপাদক অঞ্চল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেনারা হেলিকপ্টারে করে দুর্গত অঞ্চলে ত্রাণ সরবরাহ করছেন। নিহতদের অধিকাংশই বন্যার পানিতে ডুবে অথবা মাটির নিচে চাপা পড়ে মারা গেছে।'
রামোস জানান, ৮০টি প্রদেশের অধিকাংশই টানা বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আজ শুক্রবার প্রেসিডেন্ট বেনিনো অ্যাকুইনো মধ্যাঞ্চলের বন্যাদুর্গত বেশ কিছু এলাকা পরিদর্শন করবেন।
শ্রীলঙ্কা : মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে কয়েক দিন ধরে চলা বন্যায় অন্তত ২১ জন মারা গেছে। দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের (ডিএমসি) এক মুখপাত্র বলেন, 'গত সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া বন্যায় ১০ লাখ ৬৬ হাজার মানুষ ঘরহারা হয়েছে। শুধু পূর্বাঞ্চলের বাত্তিকালোয়া জেলায় বাস্তুচ্যুত হয়েছে পাঁচ লাখ ৩৩ হাজার মানুষ। গৃহহীনদের জন্য ২২৫টি আশ্রয় শিবির খোলা হয়েছে। এতে আড়াই লাখের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। বাকিদেরও আশ্রয় দেওয়ার চেষ্টা চলছে।'
অস্ট্রেলিয়া : আবহাওয়াবিদরা অস্ট্রেলিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে একটি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার পূর্বাভাস দেওয়ায় তৃতীয় বৃহত্তম শহর ব্রিসবেনে নতুন করে বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই শহরটিতে বন্যার পানি সর্বোচ্চ বিপৎসীমায় পেঁৗছে গেছে। কর্মকর্তারা জানান, ব্রিসবেন নদীর তীর উপচে গতকাল পর্যন্ত ৩৫টি শহরতলির ১২ হাজার বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে এবং এক লাখ ১৮ হাজার ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ব্রিসবেনের অধিকাংশ এলাকার রাস্তাগুলোয় এখন নৌকা চলছে। শহর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুড়ছেন হাজার হাজার মানুষ।
সূত্র : বিবিসি ও এএফপি।

হঠাৎ বন্যায় দিশেহারা কুইন্সল্যান্ড ১০ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ৭৮

Wednesday, January 12, 2011

স্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড প্রদেশে সুনামির মতো আকস্মিক বন্যায় গত সোমবার চার শিশুসহ অন্তত ১০ জন মারা গেছে। এখনো নিখোঁজ আছে ৭৮ জন। কুইন্সল্যান্ডের তিন-চতুর্থাংশ এলাকাকে দুর্যোগপূর্ণ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রদেশের রাজধানী ব্রিসবেনেও গতকাল বন্যাসতর্কতা জারি করা হয়েছে।
লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বাড়ি-ঘর ছাড়ছে। কর্মকর্তারা জনান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির পর সোমবার ব্রিসবেনের পশ্চিমে টোওম্বা শহরে সুনামির মতো আকস্মিক বন্যার পানি ঢুকে। দ্রুতবেগে পানি ঢোকায় লোকজন দিশেহারা হয়ে পড়ে। মারা যায় ১০ জন। নিখোঁজ হয় অন্তত ৭৮ জন। নিহত লোকজনের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের বেশির ভাগই রাস্তায় গাড়িতে থাকার সময় বন্যার তোড়ে ভেসে গেছে। সোমবারের বন্যায় কোনো পূর্বসতর্কতাও জারি করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
টোওম্বার মেয়র পিটার টেলর বলেন, 'ভারী বর্ষণের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই শহর প্লাবিত হয়ে গেছে। এটা নজিরবিহীন। অনেকেই একে সুনামির সঙ্গে তুলনা করছে। সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টারে করে দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।' আবহাওয়াবিদরা আরো বৃষ্টিপাতের পূর্বাবাস দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড গতকাল সতর্ক করেছেন, উদ্ধার কর্মকাণ্ড শেষ করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। কুইন্সল্যান্ডের সরকারপ্রধান আনা ব্লাই সোমবারের প্লাবনকে গত নভেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া বন্যার মধ্যে 'সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়' বলে অভিহিত করেন। বলেন, 'আমাদের জরুরি উদ্ধারকর্মীরা সর্বোচ্চ সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।'
ব্রিসবেন কর্তৃপক্ষ জানায়, পাশের ব্রিসবেন নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ৩০টিরও বেশি শহরতলি অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে আছে। ব্রিসবেনের মেয়র ক্যাম্পবেল নিউম্যান সতর্ক করেছেন, সাড়ে ছয় হাজার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হতে পারে। স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানান, মাত্র এক ঘণ্টায় পানির স্তর চার ফুট ১০ ইঞ্চি বেড়ে গেছে। এই বৃদ্ধি অব্যাহত আছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পানির স্তর সর্বোচ্চ সীমায় পেঁৗছে যেতে পারে। ব্রিসবেনের এক বাসিন্দা বালেন, 'সুপারমার্কেটগুলো ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। রাস্তার মানুষ দিশেহারা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দোকানপাট ও রেল চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ব্রিসবেনের একটি শহরতলিতে আমি আটকা পড়েছি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার তালিকায় এ এলাকার নাম রয়েছে।'
১৮৯৩ সালের পর এটাই কুইন্সল্যান্ডে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা। প্রদেশজুড়ে বন্যায় প্রায় দুই লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া বন্যায় কয়েক শ কোটি ডলার অর্থের ক্ষতি হয়েছে।
সূত্র : বিবিসি।
 
Support : Dhumketo ধূমকেতু | NewsCtg.Com | KUTUBDIA @ কুতুবদিয়া | eBlog
Copyright © 2013. News 2 Blog 24 - All Rights Reserved
Template Created by Nejam Kutubi Published by Darianagar Publications
Proudly powered by Dhumketo ধূমকেতু