‘তালেবানদের হয়ে অজুহাত দেয়া বন্ধ করুন’- বিলাওয়াল ভূট্টো জারদারি

Tuesday, February 4, 2014

তালেবানদের সহিংস কর্মকান্ডের জন্য অজুহাত দেয়া বন্ধ করতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিলাওয়াল ভূট্টো জারদারি।
প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ এর প্রধান ইমরান খানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তালেবানদের বিরুদ্ধে শক্ত সামরিক ব্যবস্থা না নিয়ে দেশের মানুষকে হতাশ করছে তারা। যারা দেশের নাগরিকদের হত্যা করছে, স্বসস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের হত্যা করছে এবং হামলার দায় স্বীকার করছে তাদের সহিংস কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তথাকথিত জাতীয় নেতাদের কথা না বলার কোন কারণ দেখি না বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভূট্টো এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির ছেলে বিলাওয়াল রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশের পর থেকেই জঙ্গীবাদ ও সামরিক ইস্যুতে স্পষ্টভাষী হিসেবে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেছেন। এধরনের মন্তব্যে নিজের সে অবস্থানকেই আরও জোরালো করলেন তিনি। সংসদ সদস্য না হলেও পিপিপি’তে (পাকিস্তান পিপলস পার্টি) গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব আছে বিলাওয়ালের। ২০১২ সালে নারী শিক্ষাকর্মী মালালা ইউসুফজাইয়ের উপর তালেবান হামলার ঘটনাটি টেনে এনে তিনি বলেন, মালালার মত মানুষেরা হামলার স্বীকার হয় কেননা দেশের তথাকথিত নেতাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সাহস নেই; অথচ ১৬ বছরের একটি স্কুলছাত্রীর সে মনোবল ছিল। আমরা সবাই যদি একসুরে কথা বলি তাহলে তারা সবাইকে তো মেরে ফেলতে পারবেনা। তিনি আরও বলেন, আমি আমার মাকে হারিয়েছি তালেবানদের হাতে- আমার জন্য অনেক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে, এটা অন্যতম কারণ যে আমি তালেবানদের বিরুদ্ধে খোলামেলা কথা বলতে পারি। কিন্তু ইমরান খান, প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ, পাঞ্জাবের মূখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ তাদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা তো আমার তুলনায় বেশি। কাজেই তালেবানদের সহিংস কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কথা না বলার তাদের কোন কারণ নেই। তালেবানদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তেমন কোন অগ্রগতি না হওয়ায় সম্প্রতি মনে হয়েছিল নওয়াজ শরীফ আলোচনা প্রক্রিয়া বন্ধের ঘোষণা দিতে পারেন। বরং তিনি মধ্যস্ততাকারীদের শেষবারের মতো আরেকটি সুযোগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তেহরিক-ই-তালেবানের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করতে মধ্যস্ততাকারীদের কমিশন গঠন করা হয় তড়িঘড়ি করে। এমন ঘোষণায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন বিলাওয়াল। তিনি বলেন, এটা চরম হতাশাব্যঞ্জক। শুধু তাদের জন্যই নয় যাদের জীবন নিয়ত হুমকির মুখে থাকে বরং তাদের জন্যও হতাশাব্যঞ্জক যারা প্রতিদিন প্রাণ হারায়।

পাকিস্তান- নওয়াজ শরিফের কঠিন সময় by নাজাম শেঠি

Friday, January 10, 2014

প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ যদি ২০১৪ সালের দিকে তাকান, তাহলে পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্র দেখতে পাবেন, যেদিকে তাঁর সরকারকে মনোযোগ নিবদ্ধ করতে হবে। যথা: পররাষ্ট্রনীতি, সন্ত্রাসবাদ, অর্থনীতি, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের মধ্যকার সম্পর্ক এবং সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক।
এসব ক্ষেত্রে তাঁর জন্য কী অপেক্ষা করছে, তা দেখতে পেয়ে তিনি আস্থা বোধ করতে পারেন। কারণ, প্রতিটি ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞ ও তাঁর বিশ্বস্ত লোকজন দায়িত্বরত আছেন। পররাষ্ট্রনীতির দায়িত্বে আছেন পররাষ্ট্র বিভাগের দুই বর্ষীয়ান কর্মকর্তা সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সারতাজ আজিজ ও সাবেক রাষ্ট্রদূত তারিক ফাতেমি। অর্থ মন্ত্রণালয় দেখছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী ইসহাক দার। কার্যত উপপ্রধানমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলি খান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে জাতীয় নিরাপত্তা/সন্ত্রাসবাদ/আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে নীতিকৌশল ঠিক করছেন। সাবেক আইনমন্ত্রী জাহিদ হামিদ আর আইনজীবীদের আন্দোলনের সাবেক নেতা অ্যাটর্নি জেনারেল মুনির মালিক দেখছেন আইন। আর শরিফ ভ্রাতৃদ্বয়ের উভয়েই ব্যক্তিগতভাবে সামরিক বাহিনীর ব্যাপারে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। গত দুই দশকে দুবারের অ্যাডভেঞ্চারিজমের অনেক তিক্ত ফলের স্বাদও তাঁরা পেয়েছেন। কিন্তু এই পাঁচটি বিষয়ের প্রতিটিই একটি করে বিস্ফোরণোন্মুখ বোমার মতো, দ্রুত নিষ্ক্রিয় করা না হলে সেগুলো বিস্ফোরিত হবে।

স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল ভারতের দিক থেকে। এবারই প্রথম সেই জায়গায় এসেছে আফগানিস্তান। আমেরিকান সেনাদের চলে যাওয়া শুরু হলে তালেবানের পুনরুত্থানও শুরু হবে। আফগানিস্তানের জাতীয় সামরিক বাহিনী বেশি সময় তালেবানকে সামলে রাখতে পারবে না। বিশেষত, আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যদি কারচুপি হয় এবং তালেবানবিরোধী জোটের ভেতরে কোন্দল বাড়ে, তাহলে তালেবানের প্রত্যাবর্তন দ্রুততর হতে পারে। আর আফগানিস্তানে যদি আবার গৃহযুদ্ধ বেধে যায়, তবে পাকিস্তানে তার নেতিবাচক প্রভাব হবে বিরাট। আফগানিস্তান থেকে দলে দলে শরণার্থীরা এসে ঢুকতে থাকবে পাকিস্তানে, বিশেষ করে আফগান সীমান্তের দুটি প্রদেশে। এটা হবে ওই দুটি প্রদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতির ওপর বাড়তি বোঝা। অন্যদিকে পাকিস্তানি তালেবানও আফগানিস্তানের ভেতরে দীর্ঘ মেয়াদে ঘাঁটি গড়ে তুলতে পারবে আল-কায়েদা ও আফগান তালেবানের সহযোগিতায়। ফলে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করার কাজটি প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠবে।
কতকগুলো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সেগুলো বাস্তবায়নে সাফল্য দৃশ্যমান করে তুলতে হবে। তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সংলাপ ও আফগান-পাকিস্তান-তালেবানের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় মীমাংসা প্রচেষ্টার মাধ্যমে তালেবানকে নিরস্ত্র করে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে। এতে সফল না হলে, এসব প্রক্রিয়ার সুবাদে তালেবান নিজেদের শক্তি বাড়ানোর সময় ও সুযোগ পাবে এবং ক্রমান্বয়ে উভয় দেশেই আধিপত্য বিস্তার করবে। তখন পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও আমেরিকা একজোট হয়েও তালেবানকে পরাস্ত করতে হিমশিম খেতে থাকবে।
অর্থনীতির ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো হলো মূল্যস্ফীতি, বিদ্যুতের সংকট আর বেকারত্ব। কিন্তু এই তিনটি ক্ষেত্রেই সরকারি উদ্যোগগুলো দুর্বল ও স্বল্পমেয়াদি। রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো খাতে ব্যয়ের জন্য কিংবা জ্বালানি তেলের বকেয়া পাওয়া পরিশোধের জন্য রাষ্ট্রীয় ব্যাংক ও বিদেশি দাতাদের কাছ থেকে অর্থঋণ নেওয়া হলে তো মূল্যস্ফীতি বাড়তেই থাকবে। ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রূপান্তরের কাজ দীর্ঘায়িত হলে, কিংবা তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি ও সরবরাহে বিলম্ব হলে আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুতের সংকট মারাত্মক রূপ ধারণ করবে। আর বেকার যুবকদের ঋণ দেওয়ার প্রকল্পটিও ক্রমবর্ধমান বেকারত্বজনিত ক্ষোভ-বিক্ষোভের প্রশমন ঘটাতে ব্যর্থ হবে, যদি শিল্প ও সেবা খাতে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বৃদ্ধি না পায়। কিন্তু বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে কোনো নীতি কিংবা সুপারিশও এ মুহূর্তে সরকারের তরফে প্রকাশ করা হয়নি। সবকিছু মিলিয়ে অর্থনীতিতে যে বহুমুখী সংকট তীব্রতর হয়ে উঠছে, তা দেশকে কী সংঘাতময় পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, তা কল্পনা করাও কঠিন।
বিচার বিভাগ ও সামরিক বাহিনীর ব্যাপারে সরকারের আচরণ কী হবে, সেটাও বিরাট পরীক্ষার বিষয়। সাবেক প্রধান বিচারপতি ইফতিখার মোহাম্মদ চৌধুরীর বিদায়ের মধ্য দিয়ে নির্বাহী বিভাগের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার প্রতি বিচারকদের ঝোঁক বিলুপ্ত হয়নি। নির্বাহী বিভাগ বিচার বিভাগের ওপর ছড়ি ঘোরাতে চাইলে বিচার বিভাগের দিক থেকে যে প্রতিরোধ আসবে, তা অবশ্যই একটা সংকটের সৃষ্টি করবে। এ রকম সংকট এড়ানোর ব্যাপারে পার্লামেন্টের ভেতরে-বাইরে কোথাও সরকারের কোনো নীতিগত উদ্যোগের আভাস নেই।
সাবেক সেনাশাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদোহ মামলাটি বিতর্কিত। এটি পুনরায় সচল করে তাঁর বিচার করার যে উদ্যোগ শুরু করা হয়েছে, সেটি পাকিস্তানের সামরিক-বেসামরিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টিকে গুরুতর প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। একজন রাজনীতিপ্রবণ সেনাপ্রধানের কাছ থেকে একজন অরাজনৈতিক সেনাপ্রধানের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর মোটামুটি সাবলীলভাবে ঘটার পর একজন সাবেক সেনাশাসককে নতুন করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর প্রতিক্রিয়া ভীষণ নেতিবাচক হতে পারে। এর ফলে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ পথভ্রষ্ট হতে পারে এবং এমনকি শেষ পর্যন্ত সরকারের আয়ু কমে যেতে পারে। এটা খুবই স্পষ্ট যে একজন সাবেক সেনাপ্রধানের বিচারের ব্যাপারে সেনাবাহিনী স্পর্শকাতর, কেননা এই বিচারের ধারায় সেনাবাহিনীর আরও অনেক অবসরপ্রাপ্ত ও চাকরিরত কর্মকর্তা চলে আসতে পারেন। জনগণও জেনারেল মোশাররফের বিচারের দাবিতে চিৎকার করছে না, বরং তাঁর শাসনামলে যে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, প্রবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার তুলনামূলক ভালো মান ছিল, জনমনে তার স্মৃতি রয়ে গেছে। মোশাররফের বিচার-প্রক্রিয়া এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সমর্থকগোষ্ঠীগুলোও সংগঠিত হতে পারে। তা ছাড়া এই মামলার কিছু ফাঁকফোকরও রয়েছে। এ মামলার বিচারকদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক আছে, প্রশ্ন আছে এ মামলায় সংবিধানের ৬ অনুচ্ছেদের ব্যবহার নিয়েও। যেসব বিচারপতি, জেনারেল ও রাজনীতিক ১৯৯৯ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত সংবিধানের ব্যত্যয় ঘটানোর ক্ষেত্রে জেনারেল মোশাররফকে সহযোগিতা করেছিলেন, তাঁদের নিষ্কৃতি দিয়ে শুধু মোশাররফের বিরুদ্ধে ৬ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করা নিয়ে বিতর্ক প্রবল।
শরিফ ভ্রাতৃদ্বয়ের জানা উচিত, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সরকারকে অস্থিতিশীল এমনকি উৎখাত করার লক্ষ্যে দেশের ভেতরে ঝড় তুলতে পারে, পারে পররাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঘোর সংকট সৃষ্টি করতে। তাঁদের উপলব্ধি করা উচিত যে সংবিধানের আশ্রয় নিয়ে বা অন্য কোনোভাবে অন্যদের দোষারোপ করার সময় এটা নয়। কাউকে শাস্তি দেওয়ার থেকে অনেক অনেক জরুরি কাজ এ সরকারের সামনে রয়েছে। কারণ, রাষ্ট্র ও সমাজ এ মুহূর্তে নানা রকম সমস্যা-সংকটের মুখোমুখি। ভবিষ্যতের আশা জাগিয়ে রাখার জন্য সেগুলো সমাধান করার প্রয়াসের ক্ষেত্রে আমরা সুসংবাদের অপেক্ষায় আছি।

পাকিস্তানের ইংরেজি সাপ্তাহিক ফ্রাইডে টাইমস থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত
নাজাম শেঠি: সম্পাদক, ফ্রাইডে টাইমস।

পাকিস্তান- কে এই ইমরান খান? by শান্তনু মজুমদার

Friday, December 27, 2013

বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীর সাজা বিষয়ে ইমরান খানের অবস্থানে বিস্ময় প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে কিছু লোককে। পাকিস্তানি জামায়াত, পাকিস্তানি মুসলিম লিগের কথাবার্তা যেমন-তেমন। কিন্তু ইমরান খানের অবস্থানে তাঁরা নাকি আসমান থেকে পড়ে যাচ্ছেন।
কিংবা মাথায় আসমান ভেঙে পড়ার উপক্রম হচ্ছে বলে তাঁরা জানাচ্ছেন। ইমরান খানের রাজনীতির ব্যাপারে আগে থেকে খোঁজখবরে থাকলে অবশ্য আসমান নিয়ে টানাটানি পড়ার কথা নয়।

পাকিস্তানকে সমর্থন জানানোর বাসনা থেকে যাঁরা খেলার মধ্যে রাজনীতি আনা ঠিক না বলে থাকেন, তাঁদের আগেই বলে রাখা যাক যে খেলোয়াড় ইমরান খান নয়, রাজনীতিক ইমরান খান নিয়ে এখানে কথা হচ্ছে। আর এ কারণেই ছাত্রজীবন ও খেলোয়াড়ি জীবনে ইমরান খানের নানা কীর্তিকলাপ, যেগুলো বিশেষত ভারতীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কল্যাণে বাংলার ঘরে ঘরে ঢুকে আছে, সেগুলোর উল্লেখ বাংলাদেশি যুদ্ধাপরাধীর শাস্তির বিরুদ্ধে তাঁর আস্পর্ধার আলোচনায় জরুরি নয়। জরুরি হচ্ছে এই ব্যক্তির রাজনীতির ধরনটা বোঝা।

জেনেও না-জানার ভানকারীদের কথা আলাদা। কিন্তু যাঁরা ইমরান খানের খবরাখবর রাখার প্রয়োজন মনে করেন না, তাঁদের জানানো যাক যে দেড় দশকের বেশি আগে তেহরিক-ই-ইনসাফ নামক দল নিয়ে পাকিস্তানের রাজনীতিতে নামা ইমরান খানের বর্তমান বাজার বেশ ভালো। মে মাসের জাতীয় নির্বাচনে ভালোই ফল করেছে তেহরিক। আর প্রাদেশিক পরিষদে বেশি আসন পাওয়ার সুবাদে ধর্মীয় উগ্রবাদী-অধ্যুষিত খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোয়ালিশন সরকারের প্রধান শরিক হয়েছে তেহরিক। ইমরানের দলের নেতৃত্বাধীন সরকারের আরেক প্রভাবশালী শরিক হচ্ছে পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামি। চোখ কচলানোর কিছু নেই—পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামি।

আরও আছে, ইমরান খান মনে করেন যে তালেবানরা একটি ‘ধর্মযুদ্ধ’ করছে। গত বছরের অক্টোবর মাসের ১৪ তারিখে পেশোয়ার শহরে একটি হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইমরান খান সুস্পষ্ট ভাষায় এই মত দেন। তালেবানদের অবস্থানকে তিনি ‘বৈধ’ হিসেবেও চিহ্নিত করেন। উল্লেখ্য, খানসাহেবের পরিদর্শনের মাত্র কয়েক দিন আগে এই হাসপাতালটিতেই তালেবানের গুলিতে বিদ্ধ মালালা ইউসুফজাইকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। তালেবানের প্রশংসা করার জন্য ঠিক এই হাসপাতালটিই কেন বেছে নিতে হয়েছিল? এ জন্যই, সম্ভবত পাকিস্তানের উদারপন্থীরা ইমরান খানকে ‘তালেবান খান’ ডাকে।

আরও স্মরণ করা যেতে পারে যে ২০০৯ সালে সোয়াত অঞ্চলে তালেবানের সঙ্গে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের বিতর্কিত এক রফার প্রতি সর্বপ্রথম সমর্থন জানানো রাজনীতিক ছিলেন ইমরান খান। অবশ্য ইমরান খান মাঝেমধ্যে, বিশেষ করে পশ্চিমা মিডিয়ার সামনে কথা বলার সময় ধর্মীয় উগ্রবাদীদের ব্যাপারে কোমল থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন। আবার ধর্মীয় উগ্রবাদীরাও খানসাহেবকে একজন ‘উদারনীতিক’ হিসেবে চিহ্নিত করে মেরে ফেলার হুমকি-টুমকি দেয় মাঝেমধ্যে। কিন্তু বাস্তবে কী দেখা যায়? সর্বশেষ পার্লামেন্ট নির্বাচনের মৌসুমটির কথা ধরা যাক। পাকিস্তানজুড়ে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের টানা হামলার মুখে বলতে গেলে নির্বাচনী প্রচারণা করতেই পারেনি সে সময় ক্ষমতাসীন পিপিপি ছাড়াও আওয়ামী ন্যাশনালিস্ট পার্টি (এএনপি) কিংবা মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্টের (এমকিউএম) মতো খানিক উদারপন্থী দলগুলো। কোনো কোনো দলের
গায়ে ফুলের টোকাও লাগেনি? শরিফের মুসলিম লিগ এবং অবশ্যই ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফ। লক্ষণীয় ব্যাপার, বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীর সাজা নিয়ে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে আদবহীনতার সময় পক্ষ-বিপক্ষের দলগুলোর বিন্যাসও এভাবেই ছিল।

সেনা এস্টাবলিশমেন্ট ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে ইমরান খানের বিশেষ সম্পর্কের ব্যাপারটিও পাকিস্তানে ব্যাপকভাবে আলোচিত। বর্তমানে ক্ষমতাসীন মুসলিম লিগ এ ব্যাপারে প্রকাশ্যেই অভিযোগ করেছিল একসময়। সময়টা ২০১১ সালের একেবারে শেষের দিকে—পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) তখন ক্ষমতায়। হঠাৎ করেই দেড় দশক ধরে টিমটিম করতে থাকা ইমরান খানের দলের পক্ষে বেশ জোশ দেখা যেতে শুরু করে; তেহরিকের জনসভাগুলোতে এন্তার জনসমাগম শুরু হয়। এই ব্যাপারটি মধ্যপন্থী পিপিপির চেয়ে নওয়াজ শরিফের মুসলিম লিগকে বেশি ভাবিয়ে তোলে। কেননা, নতুন-ডান তেহরিক পুরোনো-ডান মুসলিম লিগের ঘাঁটিগুলো দখল করে ফেলার মতো একটা অবস্থা তৈরি করতে শুরু করেছিল। এমনকি মুসলিম লিগের মূল ঘাঁটি পাঞ্জাবেও বড় বড় অনুষ্ঠান করতে শুরু করে তেহরিক। লাহোরে, করাচিতে ইমরান খান সাহেবের জনসভায় প্রচুর মানুষ দেখা যেত তখন। এমন পরিস্থিতিতেই সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তেহরিকের সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে শুরু করে মুসলিম লিগ। একদিকে ভোটব্যাংক বেহাত হয়ে যাওয়ার ভয়, অন্যদিকে, সেনা এস্টাবলিশমেন্টের সঙ্গে ‘ঐতিহাসিক’ সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে মুখ খোলে মুসলিম লিগ। দলটি অভিযোগ আনে যে তহবিল জোগানো, জনসভায় লোক ভরানো থেকে শুরু করে সাবেক সামরিক শাসক পারভেজ মোশাররফের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ (কিউ) থেকে লোক ভাগিয়ে তেহরিকে ঢুকিয়ে দেওয়ার কাজগুলো গোয়েন্দা সংস্থা করে চলেছে। শরিফের দল এই আক্ষেপও করে যে প্রধান সেনাপতি জেনারেল আশফাক পারভেজ কায়ানিকে এ ব্যাপারে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো কাজ হয়নি।

ইমরান খানের দলের জন্য সেনা কর্তৃপক্ষের সাহায্য-সহযোগিতার ব্যাপারে শরিফের দল এতটাই তেতে ওঠে যে তারা কেবল ব্যক্তি রাজনীতিক নয় বরং দলের আয়-ব্যয়, দলের নেতাদের স্থানে স্থানে ভ্রমণ ব্যয়ের বিশদ বিবরণ প্রকাশ করার বাধ্যবাধকতা প্রতিষ্ঠায় জাতীয় পরিষদে একটি বিল উত্থাপন করার হুমকিও দেয়। ইমরান খান ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারির দিকে একবার গোয়েন্দা সংস্থার সাহায্য-সহযোগিতা পাওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি—পাকিস্তানি রাজনীতি ও পাকিস্তানি মিডিয়ার উদারনীতিক অংশটির কাছে তিনি এস্টাবলিশমেন্টের পেয়ারের মানুষ হিসেবে চিহ্নিত। এবং তাঁর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো কখনো কখনো সরকারকে আঘাত করলেও এস্টাবলিশমেন্টকে কখনোই নয়। এই তো মাত্র মে মাসে আহমদিয়াদের অমুসলিম হিসেবে ঘোষিত হয়ে থাকার পক্ষে শক্ত শক্ত কথা বলে এস্টাবলিশমেন্টের পক্ষের আরেক দফা অবস্থান নিয়েছেন ইমরান খান।

জামায়াতের সঙ্গে প্রদেশে সরকার গঠন, তালেবানদের ব্যাপারে উদারতা, সেনা-ঘনিষ্ঠতা—এত সব ‘বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত’ ব্যাপক ডানপন্থী ইমরান খানের বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ প্রসঙ্গে সঠিক অবস্থানে দাঁড়ানোটাই হতো আশ্চর্যের। পাকিস্তান জানে যে, আজ হোক কাল হোক, একাত্তরের অপরাধসমূহের জন্য পাকিস্তানি রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সামরিক নেতৃত্বের বিচারের উদ্যোগ নেবে বাংলাদেশ। আর কাদের মোল্লার সাজার ব্যাপারে তাঁদের চুপ থাকার অর্থ হতো একাত্তরে যুদ্ধাপরাধ-মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার ব্যাপারটি মেনে নেওয়া। দেয়ালের লিখন পড়তে না পারলে যে ভুল হয়, ইমরান খান তথা পাকিস্তানি কায়েমি স্বার্থবাদীরা সেই ভুলই করছে।

কিন্তু বাংলাদেশে যাঁরা ইমরান খানের ভূমিকায় ব্যথা পেয়েছেন, তাঁদের তো ব্যথা পাওয়া চলবে না। জানা থাকতে হবে যে পাকিস্তানের ইমরানের তো এটাই করার কথা। ইমরানে ইমরানে কত তফাত। পাকিস্তানি ইমরান যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। আর বাংলাদেশের ইমরানরা গণজাগরণ মঞ্চ বানায় যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শেষ না করে ঘরে না ফেরার কথা বলে।

শান্তনু মজুমদার: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক।

পাকিস্তানের নয়া সেনাপ্রধান লে. জেনারেল রাহিল শরীফ

Friday, November 29, 2013

পাকিস্তানের নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহিল শরীফকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটির ৬,০০,০০০ সদস্যের শক্তিশালী সেনাবাহিনীর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন তিনি।
এর আগে জেনারেল রাহিল বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল আশফাক পারভেজ কিয়ানির পিএসও এবং পাক সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

পাকিস্তানের সর্বোচ্চ সেনাপদক নিশানে হায়দারপ্রাপ্ত মেজর শাব্বির শরিফের ছোট ভাই তিনি। ১৯৭১ সালে পাক-ভারত যুদ্ধে নিহত হয়েছেন মেজর শাব্বির। এছাড়া পাক সেনাবাহিনীর জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ কমিটির (সিজিসিএসসি) চেয়ারম্যান হিসেবে লেফটেন্যান্ট রাশেদ মেহমুদকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের দফতর থেকে দেয়া এক বার্তায় এই দুই নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া নওয়াজ শরীফ গতকাল জেনারেল রাহিল এবং জেনারেল রাশেদের সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠক করেছেন। দু’টি বৈঠকই আধা ঘণ্টা স্থায়ী হয়।
এর আগে টানা ছয় বছর দায়িত্ব পালনের পর পাক সেনাবাহিনীর বর্তমান প্রধান জেনারেল কিয়ানি অবসরে যাবেন বলে গতমাসে ঘোষণা দেন। তিনি সে সময় বলেন, পাকিস্তানে গণতন্ত্রের প্রতি সেনাবাহিনীর পুরো সমর্থন রয়েছে এবং সেনাবাহিনী চায় গণতন্ত্র শক্তিশালী হোক। পাকিস্তান যখন তালিবান সহিংসতা, ভারতের সঙ্গে টানাপড়েন এবং ন্যাটো বাহিনীর সঙ্গে মতপার্থক্য বৃদ্ধিসহ নানা সংকটে নিমজ্জিত তখন সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন জেনারেল রাহিল।
পাকিস্তানের কোনো কোনো বিশ্লেষক মনে করছেন, তালিবান সহিংসতা দমনে নতুন সেনাপ্রধান হয়তো আপষহীন নীতি গ্রহণ করবেন। জেনারেল রাহিল শরিফ সেনা পরিবারের সন্তান। তার বাবা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন এবং বড় ভাই সর্বোচ্চ সেনা খেতাব পেয়েছেন। তাই পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের উপজাতীয় অঞ্চলকে জঙ্গিমুক্ত করতে তিনি দ্বিধা করবেন না বলেই মনে করছেন এসব বিশ্লেষক। সূত্র : আইআরআইবি

পার্লামেন্টে সর্বসম্মত প্রস্তাবঃ যুক্তরাষ্ট্রকে পাকিস্তানের হুমকি

Saturday, May 14, 2011

পাকিস্তানের ভূখণ্ডে ঢুকে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যায় মার্কিন কমান্ডোদের একতরফা অভিযানের পর এত দিন চুপচাপ ছিল ওয়াশিংটনের মিত্র ইসলামাবাদ। কিন্তু নিজেদের ক্ষোভ আর চেপে রাখত পারল না তারা। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান চালালে এবং মার্কিন ড্রোন হামলা বন্ধ করা না হলে আফগানিস্তানে ন্যাটো বাহিনীর রসদ সরবরাহের পথ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইসলামাবাদ।


এ-সংক্রান্ত একটি সর্বসম্মত প্রস্তাব গতকাল শনিবার পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে পাস হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের বিষয়টিও পর্যালোচনা করে দেখবে পাকিস্তান। আর, যুক্তরাষ্ট্রের ওই একতরফা অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের প্রধান জেনারেল আহমেদ সুজা পাশা পার্লামেন্টের কাছে তাঁর পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। বিন লাদেনের অবস্থান সম্পর্কে জানতে না পারার ব্যর্থতা আর জঙ্গিসংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সব সমালোচনার তীর এখন ছুটছে পাশার দিকে।
প্রস্তাব গ্রহণ: ২ মে ওসামা বিন লাদেনকে হত্যায় মার্কিন কমান্ডোদের অভিযান এবং গত শুক্রবার দুটি বড় আত্মঘাতী বোমা হামলার পর গতকাল পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশন বসে। অধিবেশন চলে ১০ ঘণ্টার বেশি সময়। প্রস্তাবে মার্কিন অভিযানের নিন্দা জানানো হয়। আইনপ্রণেতারা বলেন, ওই অভিযানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে। পরে তাঁরা একটি সর্বসম্মত প্রস্তাব গ্রহণ করেন।
প্রস্তাবে বলা হয়, পাকিস্তানের জাতীয় স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে রক্ষিত হচ্ছে কি না, এ বিষয়টি মাথায় রেখে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পর্যালোচনা করে দেখা প্রয়োজন।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়, ‘অ্যাবোটাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা অভিযানের মতো কোনো পদক্ষেপ পাকিস্তানের মানুষ আর বরদাশত করবে না। এ ধরনের পদক্ষেপের পুনরাবৃত্তি হলে এ অঞ্চলসহ বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।’
অ্যাবোটাবাদের অভিযানের দায়দায়িত্ব নিরূপণ ও ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে করণীয় নির্ধারণের জন্য একটি নিরপেক্ষ কমিটি গঠনেরও আহ্বান জানানো হয়েছে প্রস্তাবে।
পাকিস্তান ভূখণ্ডে মার্কিন চালকবিহীন বিমান (ড্রোন) হামলা ‘অগ্রহণযোগ্য’ অভিহিত করে প্রস্তাবে বলা হয়, ড্রোন হামলা বন্ধ করা না হলে আফগানিস্তানে ন্যাটো বাহিনীর রসদ সরবরাহের পথ বন্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয় বিবেচনা করবে পাকিস্তান সরকার।
আফগানিস্তানে ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন বিদেশি বাহিনীর জন্য খাদ্য, গোলাবারুদ ও অস্ত্রসরঞ্জাম পাঠানোর জন্য পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করা হয়। ওই পথে সরবরাহ-বহরের ওপর মাঝেমধ্যেই হামলা চালায় জঙ্গিরা।
গত এক বছরে পাকিস্তান ভূখণ্ডে ড্রোন হামলা দ্বিগুণ করেছে মার্কিন বাহিনী। এ পর্যন্ত ১০০-র বেশি ড্রোন হামলায় মারা গেছে প্রায় ৭০০ মানুষ। গত বৃহস্পতিবারও উত্তর ওয়াজিরিস্তানে ড্রোন হামলায় তিন জঙ্গি নিহত হয়। গোয়েন্দাসূত্র বলে থাকে, পাকিস্তান সরকার কৌশলে ওই হামলার অনুমোদন দেয়। তবে পাকিস্তানি নেতারা বরাবর তা অস্বীকার করে এসেছেন। আর এ ধরনের একের পর এক হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ক্ষুব্ধ পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ।
সুজার পদত্যাগের প্রস্তাব: গতকাল পার্লামেন্টে প্রস্তাব গ্রহণের আগে শুক্রবার আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে কথা বলেন আইএসআইয়ের প্রধান আহমেদ সুজা পাশা। তাঁদের আলোচনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে কিছু জানানো হয়নি। তবে পার্লামেন্টের একটি সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানায়, আইএসআই-প্রধানের পদ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন সুজা পাশা। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, অ্যাবোটাবাদের ঘটনা তদন্তে পার্লামেন্টের গঠিত যেকোনো কমিশনের সামনে তিনি হাজির হবেন।
অন্য একটি সূত্র জানায়, পার্লামেন্ট চাইলে যেকোনো সময় পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন আইএসআই-প্রধান।
গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি ও সেনাপ্রধান জেনারেল আশফাক কায়ানি আইএসআইয়ের প্রধানকে পদত্যাগ না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এ তথ্য নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা সম্ভব হয়নি।
তথ্যমন্ত্রী ফেরদৌস আশিক আওয়াজন জানান, আইএসআই-প্রধান পাশা আইনপ্রণেতাদের কাছে বলেছেন, যেকোনো ধরনের ব্যর্থতার দায় নিতে তিনি প্রস্তুত আছেন। পাশা বলেন, তাঁদের পূর্ণ অবগতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএকে পাকিস্তানে কোনো অভিযান চালাতে দেওয়া হবে না।
নওয়াজ শরিফের অবস্থান: বিরোধী দল মুসলিম লীগের (এন) নেতা নওয়াজ শরিফ বলেছেন, কোনো বিদেশি শক্তিকে পাকিস্তানে কর্মকাণ্ড চালাতে দেওয়া হবে না। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে নওয়াজ বলেন, ‘মার্কিনদের বুঝতে হবে, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে পাকিস্তান কোনো ছাড় দেবে না। আর যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শে চলার নীতিও পাকিস্তান সরকারকে ছাড়তে হবে।’
নওয়াজ শরীফ জানান, পার্লামেন্টে গৃহীত প্রস্তাব বাস্তবায়নের মাধ্যমেই জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

নওয়াজের চাপে নত সরকার by হামিদ মির

পাকিস্তানে গত শুক্রবার যখন পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশন চলছিল, তখন সেখান থেকে কয়েক শ মাইল দূরে রাইউইন্ড শহরে নিজের বাসায় ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) দলের প্রধান নওয়াজ শরিফ। তার পরও সেখান থেকেই তিনি সরকারকে বারবার চাপ দিচ্ছিলেন, ২ মে অ্যাবোটাবাদে মার্কিন বাহিনীর অভিযানের ঘটনা তদন্তে একটি নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের জন্য।

ওই সময়ে তিনি নিজের দলের নেতা চৌধুরী নাসির আলী খান ও ইসহাক দারকে ১২ বারের বেশি টেলিফোন করেন। নিরপেক্ষ কমিশন গঠনে সরকারের দিক থেকে বেশ অনীহা ছিল। কেননা পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে ঘটনা তদন্তের একটি ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু নওয়াজ শরিফ গত বুধবারই সেনাবাহিনীর এ তদন্ত নাকচ করে দেন। এ ছাড়া আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সরকারকে চাপ দেন তিনি। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো মার্কিন ড্রোন (চালকবিহীন বিমান) হামলা।
দলীয় নেতাদের নওয়াজ শরিফ জানিয়ে দেন, আবারও ড্রোন হামলা হলে আফগানিস্তানে ন্যাটো বাহিনীর রসদ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি যদি প্রস্তাবে থাকে, কেবল তখনই ওই প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়া যাবে। এমনকি তিনি প্রস্তাবের দাঁড়ি, কমা, পূর্ণচ্ছেদ পর্যন্ত ধরে ধরে অবহিত করেন নেতাদের।
পার্লামেন্টের প্রায় ১০ ঘণ্টা অধিবেশনের পর গতকাল শনিবার একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেন পাকিস্তানি আইনপ্রণেতারা। ওই প্রস্তাবে শুধু একতরফা মার্কিন অভিযানের নিন্দাই করা হয়নি, এতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনারও আহ্বান জানানো হয়েছে। ইসলামাবাদে নিযুক্ত একজন ইউরোপীয় শীর্ষ কূটনীতিক বলেছেন, ‘পাকিস্তানের ৬৪ বছরের ইতিহাসে এই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়।’
পার্লামেন্টে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাবের ফলে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক মহলের মধ্যে বেশ উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তান-মার্কিন সম্পর্ক সবচেয়ে ভয়াবহ কী অবস্থায় পৌঁছাতে পারে, তা পর্যালোচনা করে মূল্যায়ন প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য ইসলামাবাদে নিযুক্ত কূটনীতিককে নির্দেশ দিয়েছে বিশ্বের ক্ষমতাধর বিভিন্ন দেশ। অনেক কূটনীতিক এখন বোঝার চেষ্টা করছেন, এখন পাকিস্তানে যদি আবারও ড্রোন হামলা হয়, তাহলে কী ঘটতে পারে। পাকিস্তান সঙ্গে সঙ্গে ন্যাটোর সরবরাহ পথ বন্ধ করে দেবে? বেশির ভাগ কূটনীতিক নিশ্চিত, পাকিস্তান এখন তা-ই করবে। কেননা পাকিস্তানের সরকার ও সেনাবাহিনীর এখন দেশের মানুষের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করতে হবে।
জানা গেছে, অনেক পশ্চিমা কূটনীতিক ইতিমধ্যে তাঁদের দেশকে জানিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তানের পার্লামেন্ট দেশের সেনাবাহিনীকে পূর্ণাঙ্গ সমর্থনই দিয়েছে এবং আইএসআই এখন একা নয়। ১০ ঘণ্টার অধিবেশনের প্রথম তিন ঘণ্টায় অনেক কঠিন প্রশ্নের জবাব দিতে হয়েছে আইএসআইয়ের প্রধানকে। কিন্তু এরপর পাকিস্তান মুসলিম লীগ (এন) নেতা জাভেদ হাশমি, সাদ রফিক ও ইশহাক দার তাঁদের বক্তব্যে এটা পরিষ্কার করেছেন যে তাঁরা এত সব প্রশ্ন তুলছেন কোনো খারাপ উদ্দেশ্যে নয়, ভালোর জন্যই।
জাভেদ হাশমি বলেন, ‘পার্লামেন্ট আপনাদের মায়ের মতোই। এখানে আপনাদের প্রশ্ন করার অধিকার আমাদের আছে। তাই বলে বাইরের কাউকে আপনাদের ওপর দোষারোপ করার সুযোগ আমরা দেব না।’ দেশের ৬৪ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম জবাবদিহির স্বার্থে পার্লামেন্টের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন আইএসআইয়ের প্রধান।
রাজনীতিতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে গত শনিবার বিকেলে নওয়াজ শরিফ বেশ কঠোর মন্তব্য করেন। নওয়াজ পরিষ্কার করে দেন, তিনি সেনাবাহিনীর বিপক্ষে নন, তবে অবশ্যই রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর নাক গলানোর বিরুদ্ধে। পিপিপির মন্ত্রী ফেরদৌস আশিক আওয়ান অবশ্য চেষ্টা করেছিলেন নওয়াজ এই বক্তব্যকে একটু অন্যভাবে ব্যবহার করতে। কিন্তু তাঁর সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়। পার্লামেন্টের অনেক সদস্যই লক্ষ করেছেন, ক্ষমতাসীন পিপিপির সদস্যরা সেনা নেতৃত্ব ও নওয়াজের দলের মধ্যে একটা উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা চালিয়ে গেছেন।
উপজাতি-অধ্যুষিত এলাকা থেকে নির্বাচিত পার্লামেন্ট সদস্য মুনির ওরাকজাইয়ের অভিযোগ, ‘আইএসআইয়ের মহাপরিচালককে যখন পিএমএল(এন) নেতা চৌধুরী নিসার আলী খান প্রশ্ন করছিলেন, তখন পিপিপির সদস্য ফৌজিয়া ওহাব পিএমএল(কিউ) সদস্যদের নিয়ে এর বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছেন।’ এসব সত্ত্বেও অধিকাংশ পার্লামেন্ট সদস্য খুশি এই কারণে যে তাঁরা শেষ পর্যন্ত একটা মতৈক্যে পৌঁছাতে পেরেছেন।
পার্লামেন্টে গৃহীত সর্বসম্মত প্রস্তাবের ব্যাপারে দুই বড় দলের (পিপিপি ও পিএমএল-এন) অভিন্ন অবস্থানে অনেক কূটনীতিকই বিস্মিত। তাঁরা ভেবেছিলেন, এই বিষয়ে দুই দলের মধ্যে পার্লামেন্টে বেশ জোরালো মতানৈক্য ও বাক্যবিনিময় হবে। এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, ২ মের (বিন লাদেনের হত্যার দিন) ঘটনার তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠনের ব্যাপারে সরকারপক্ষ কবে নওয়াজের দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবে। প্রধানমন্ত্রী গিলানির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ‘আমরা গোটা জাতির কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। তাই এ থেকে সরে আসার কোনো উপায় নেই আমাদের। শিগগিরই এ ব্যাপারে আমরা কাজ শুরু করব।’
গতকাল এক কূটনীতিক চুপিচুপি ইসলামাবাদে এক মন্ত্রীর বাসভবনে গিয়েছিলেন। ওই কূটনীতিক জানতে চান, আসলেই ন্যাটোর সরবরাহ লাইন বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাপারে সরকার কতটা কঠোর অবস্থানে আছে। ওই মন্ত্রীর জবাব ছিল এ রকম, ‘কিছুদিনের মধ্যে সব দল নির্বাচনের মুখোমুখি হতে চলেছে। তাই আমরা আর ভোটারদের সামনে পুরোনো তামাশা দেখাতে পারি না। ওই দিন শেষ। এখন আমরা যদি ন্যাটো বা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিই, তবে ভোটাররাই ধর্মীয় দলগুলোকে ভোট দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। তার চেয়ে দয়া করে যুক্তরাষ্ট্রকে চালকবিহীন বিমান থেকে হামলা চালানো বন্ধ করতে বলুন, না হলে এখানে আমরা শেষ হয়ে যাব, আর আফগানিস্তানে আপনারা ধ্বংস হয়ে যাবেন।’
হামিদ মির: পাকিস্তানি সাংবাদিক, জিয়ো টিভিতে কর্মরত।

বেনজিরকে হত্যার ষড়যন্ত্রের কথা জানতেন মোশাররফ

Thursday, February 10, 2011

পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ বেনজির ভুট্টোকে হত্যার ষড়যন্ত্রের কথা জানতেন। তালেবানের এ ষড়যন্ত্রের কথা আগেভাগে জেনেও বিষয়টি তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানাননি। বেনজির ভুট্টো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে গঠিত একটি দল এ তথ্য জানিয়েছে।

জয়েন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম (জেআইটি) নামের এ দলটি তদন্তে দেখতে পেয়েছে, বেনজিরকে হত্যার মূল পরিকল্পনা করেন পাকিস্তানভিত্তিক তেহরিক-ই-তালেবানের প্রধান বায়তুল্লাহ মেহসুদ। এ পরিকল্পনার কথা কানে আসে পারভেজ মোশাররফের। কিন্তু তিনি বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে গোপন রেখেছিলেন।
পাকিস্তানের প্রভাবশালী দৈনিক ডন ও ডন নিউজ টেলিভিশন গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে।
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফআইএ) চলতি সপ্তাহে রাওয়ালপিন্ডির সন্ত্রাসবিরোধী আদালতে (এটিসি) এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে। জেআইটির প্রধান খালিদ কুরেশি এ প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরেন। এ প্রতিবেদনে মোশাররফের বিরুদ্ধে ১২টি অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০০৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো রাওয়ালপিন্ডিতে এক নির্বাচনী সমাবেশে ভাষণ শেষে মোটর শোভাযাত্রা করে সমাবেশস্থল ত্যাগের প্রাক্কালে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানোর কিছু আগে একজন বন্দুকধারী বেনজির ভুট্টোর দিকে অস্ত্র তাক করে আছেন।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তখনকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, তালেবান এ হামলা চালিয়ে বেনজির ভুট্টোকে হত্যা করেছে। তবে চিকিৎসকেরা বলেছেন, ঘটনার সময় গাড়িতে দাঁড়িয়ে ছিলেন বেনজির। হামলার সময় গাড়ির ছাদের সঙ্গে মাথায় প্রচণ্ড ধাক্কা লেগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
জেআইটি তদন্তের সময় অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জাভেদ ইকবাল চিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ঘটনার সময় তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সেলের দায়িত্বে ছিলেন।
জাভেদ ইকবাল চিমা বলেছেন, বেনজির হত্যাকাণ্ডের একদিন পর অর্থাৎ ২৮ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট মোশাররফের নির্দেশে তিনি সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। পাঞ্জাব প্রদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এ সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছিল।
এফআইএ কর্মকর্তারা বলেছেন, ওই সংবাদ সম্মেলনে চিমার দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে গোয়েন্দা ব্যুরোর প্রধান অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার আইজাজ শাহর বিবৃতির মিল রয়েছে। জেআইটি মনে করে, পুলিশের তদন্তকাজে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে মোশাররফ তড়িঘড়ি করে ওই সংবাদ সম্মেলনের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এফআইএ বলেছে, বেনজির ভুট্টোর নিরাপত্তায় যেসব পুলিশ কর্মকর্তা নিযুক্ত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও কোনো পদক্ষেপ নেননি মোশাররফ।
বেনজির ভুট্টো হত্যাকাণ্ডের মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তালিকায় মোশাররফের নাম রয়েছে। রাওয়ালপিন্ডির সাবেক প্রধান পুলিশ কর্মকর্তা সাউদ আজিজের এক বিবৃতির পরিপ্রেক্ষিতে মোশাররফের নাম অভিযুক্তদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সাউদ আজিজ দাবি করেন, বেনজির ভুট্টোর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছিলেন মোশাররফ। এমনকি হামলার ঘটনাস্থল তাৎক্ষণিকভাবে ধুয়েমুছে পরিষ্কার করারও নির্দেশ দেন তিনি।
১৯৯৯ সালে রক্তপাতহীন এক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করেন মোশাররফ। টানা নয় বছর ক্ষমতায় থেকে ২০০৮ সালে তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর থেকেই তিনি লন্ডনে অবস্থান করছেন। ডন।

পাকিস্তানে ন্যাটোর ১৬টি তেল ট্যাংকারে বন্দুকধারীদের আগুন

Saturday, January 15, 2011

তকাল শনিবার ভোরে পাকিস্তানে বন্দুকধারীরা আফগানিস্তানে অবস্থানরত ন্যাটোর সেনাদের জন্য জ্বালানি সরবরাহকারী ১৬টি তেলের ট্যাংকারে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েটার ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে দেরা মুরাদ জামিলি শহরের বাইরে গতকাল ভোরে বন্দুকধারীরা ওই ট্যাংকারগুলোর ওপর হামলা চালায়।

স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান আবদুল ফাতাহ খাজ্জাক এ কথা জানান। খাজ্জাক বলেন, হামলার সময় জ্বালানি বহনকারী এই তেলের ট্যাংকারগুলো একটি পেট্রলপাম্পে পার্ক করা ছিল। বন্দুকধারীরা একটি গাড়িতে এসে ওই তেলের ট্যাংকারগুলোর ওপর সরাসরি গুলি চালায়। এ সময় ১৬টি ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। তবে বন্দুকধারীদের গুলিতে তেলের ট্যাংকারের একজন স্টাফ আহত হয়েছেন।
গত বছরের অক্টোবরেও বন্দুকধারীরা ২৯টি তেলের ট্যাংকারে আগুন দিয়েছিল। আফগানিস্তানে অবস্থানরত বিদেশি সেনাদের জন্য অধিকাংশ মালামাল ও সরঞ্জাম পাকিস্তানের ভেতরে দিয়ে সেখানে পাঠানো হয়। যদিও মার্কিন সেনারা অন্য পথ হিসেবে এশিয়ার মধ্য অঞ্চলকে ব্যবহার করছে।
পাকিস্তান গত ৩০ সেপ্টেম্বর ন্যাটো সেনাদের জন্য রসদ সরবরাহের প্রধান পথ বন্ধ করে দেয়। ন্যাটোর হেলিকপ্টার হামলায় পাকিস্তানের দুজন সেনা মারা যাওয়ার পর তারা এই সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ১১ দিন পর তা আবার স্বাভাবিক হয়।
করাচিতে মৃত ২৭: করাচিতে গত দুই দিনে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭ জনে দাঁড়িয়েছে। সে দেশের বহুল প্রচারিত ডন নিউজের খবরে এ কথা বলা হয়। এমকিউএমের নেতা সৈয়দ বাদশা খান বলেন, সরকার এই শহরের নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। পিএমএল-কিউ বলছে, করাচিতে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সেনা অভিযান প্রয়োজন। এএফপি, ডন।

বাংলাদেশ বিমানের প্রতি বৈরী আচরণ পাকিস্তানের

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রতি পাকিস্তান অন্যায় আচরণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দেশটির ফেডারেল বোর্ড অব রেভিনিউ বিমানের যাত্রীদের আগমন ও নির্গমন উভয় ক্ষেত্রেই কর দাবি করছে। অথচ পাকিস্তানে অবতরণকারী অন্য সব এয়ারলাইনসের কাছ থেকে শুধু নির্গমন কর আদায় করা হয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস দ্বিমুখী কর বন্ধ করার দাবি করেছে। কিন্তু তাতে সাড়া দিচ্ছে না সে দেশের বোর্ড অব রেভিনিউ। বিমান সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহম্মদ জাকিউল ইসলাম গত বুধবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পাকিস্তান আমাদের প্রতি অন্যায় আচরণ করছে। সে দেশে অবতরণকারী অন্যান্য এয়ারলাইনসের জন্য এক নিয়ম আর আমাদের জন্য ভিন্ন নিয়ম। বিষয়টি আমরা ফয়সালা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। সরকারকে কূটনৈতিকভাবে এই সমস্যার সমাধান করার অনুরোধ করেছি।’
বিমান সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান শুধু সে দেশ থেকে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীদের ওপর নির্দিষ্ট হারে সব এয়ারলাইনসের কাছ থেকে কর আদায় করে। অন্যান্য এয়ারলাইনসের মতো বাংলাদেশ বিমানও প্রতিবছরই এই কর পরিশোধ করছে। কিন্তু সম্প্রতি যাত্রীদের আগমন-নির্গমন উভয় করই দাবি করে ফেডারেল বোর্ড অব রেভিনিউ। যাত্রীদের পাকিস্তানে আগমনী কর দাবি করা হয়েছে প্রায় ছয় কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার পাকিস্তানি রুপি।
গত সপ্তাহে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছে, পাকিস্তানের এ দাবি সম্পূর্ণ নীতিবিরোধী। পাকিস্তানের বোর্ড অব এয়ারলাইনস রিপ্রেজেনটেটিভ ইন পাকিস্তানকে সঙ্গে নিয়ে সে দেশের সরকারের কাছে এ ধরনের আচরণ বন্ধের জন্য দ্বিতীয় দফা আপিল করলে তাতেও সাড়া দেয়নি পাকিস্তান।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য এবং এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো দেশেই যাত্রীদের আগমন ও নির্গমন কর নেই। সব দেশই এয়ারলাইনসগুলোর কাছ থেকে তাদের যাত্রীদের নির্গমন কর আদায় করে থাকে। পাকিস্তান বাংলাদেশ বিমানের কাছ থেকে দুই ধরনের কর চাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল আইনের পরিপন্থী।’
জানা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পাকিস্তানের করাচিতে সপ্তাহে দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করে। মঙ্গলবার ও শুক্রবার এ ফ্লাইট দুটি চলাচল করে।

রাজনৈতিক সংকটে পাকিস্তান

Monday, January 3, 2011

পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক দল মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম) সরকার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে দেশটি। সংকট মোকাবিলায় গতকাল সোমবার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি।

পাকিস্তান এমনিতেই নানা ধরনের সংকটে ভুগছে। ২০১০ সালের ভয়াবহ বন্যার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে দেশটি। এছাড়া আফগান সীমান্তবর্তী উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে তালেবান ও আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জঙ্গিদের নিয়েও সংকটে রয়েছে পাকিস্তান।
গত রোববার সরকার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় এমকিউএম। এর আগে দলটির দুইজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেন।
এমকিউএমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পেট্রোলিয়াম পণ্যের নয় শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও দুর্নীতির প্রতিবাদে তারা বিরোধী দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এমকিউএমের সিন্ধু প্রদেশের মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্যমন্ত্রী সগির আহমেদ বলেন, বর্তমান সরকারসহ আমরা যে কাউকেই সমর্থন দেব, যারা পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম কমিয়ে দেবে। তিনি আরও বলেন ‘বিরোধী দলে থাকলেও সরকারের সব ইতিবাচক পদক্ষেপের প্রতি আমরা সমর্থন দেব। তবে সরকারের গণ-বিরোধী পদক্ষেপের খোলাখুলি বিরোধিতা করা হবে।’
কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করলেও এমকিউএম দক্ষিণাঞ্চলীয় সিন্ধু প্রদেশে পিপিপি সরকারের জোট সঙ্গী।
চলমান সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি গতকাল পাকিস্তান মুসলিম লিগ কায়েদ-ই-আজম (পিএমএল-কিউ) নেতা চৌধুরী সুজাত হোসেন ও পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এর নেতা নওয়াজ শরিফের ভাই শাহবাজ শরীফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
পিএমএল-কিউ নেতা চৌধুরী সুজাত হোসেন গিলানির সঙ্গে বৈঠকে বলেছেন তিনি তাঁর দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা সিদ্ধান্ত জানাবেন। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন যে তার দল হয়তো প্রধানমন্ত্রীকেই সমর্থন দেবে। সুজাত বলেন, আমরা জোট সরকারকে সমর্থন দেব একটি শর্তে- আর তা হচ্ছে পাকিস্তানের জনগণ এখন এসব সমস্যার মধ্যে রয়েছে তার সমাধান তাদের করতে হবে।
এমকিউএম সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ায় পিপিপি পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে যাচ্ছে। বিরোধী দলগুলো যদি অনাস্থা ভোট পাশ করানোর জন্য পরস্পরের সঙ্গে হাত মেলায় তাহলে সরকারের পতন হতে পারে।
৩৪২ সদস্যের জাতীয় পরিষদে এমকিউএমের আসন সংখ্যা ২৫টি। এমকিউএম ছাড়া পিপিপি জোটের আসন দাঁড়াবে ১৬০টিতে। যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১৭২ আসনের চেয়ে ১২টি কম।
পার্লামেন্টে আস্থা ভোট আহ্বান করতে প্রধানমন্ত্রী বাধ্য নন। কিন্তু কোন আইন পাশ করতে মারাত্মক সংকটের মুখে পড়তে পারেন গিলানি। জুনে বাজেট পাশে কোনো ধরনের ব্যর্থতা দেশটিকে আগাম নির্বাচনের দিকে ঠেলে দেবে।
সরকারের ওপর প্রথম আঘাত আসে ধর্মভিত্তিক দল জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম ফজল (জেইউআইএফ) থেকে। প্রধানমন্ত্রী গিলানি দলটির একজন মন্ত্রীকে বরখাস্ত করার পর গত মাসে সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয় দলটি। দলটির মহাসচিব আবদুল গফুর হায়দারি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তাঁর সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছেন। এই মুহুর্তে পদত্যাগ করা তাঁর জন্য সবচেয়ে ভালো কাজ হবে।’
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবার চোখ এখন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানের প্রধান বিরোধী দল পিএমএল-এনের দিকে। পার্লামেন্টে সম্ভাব্য অনাস্থা প্রস্তাব আনার ক্ষেত্রে দলটির ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এই মুহুর্তে অনাস্থা ভোটের ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক হাসান আসকারি। তিনি বলেন, নওয়াজ শরীফ তাৎক্ষনিকভাবে সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশের অগুনতি সমস্যার দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নন বলেই তাঁর কাছে মনে হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, শরীফের দল ও এমকিউএমের মধ্যকার অস্বস্তিকর সম্পর্কের কারণে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য সরকার কমপক্ষে তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় পেয়ে যাবে।
আসকারি বলেন, সরকার এখন ছোট ছোট জোটগুলোর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করবে। সুতরাং সামনে অনেক রাজনীতি দেখা যাবে। এএফপি, রয়টার্স ও ডন।
 
Support : Dhumketo ধূমকেতু | NewsCtg.Com | KUTUBDIA @ কুতুবদিয়া | eBlog
Copyright © 2013. News 2 Blog 24 - All Rights Reserved
Template Created by Nejam Kutubi Published by Darianagar Publications
Proudly powered by Dhumketo ধূমকেতু