নরওয়ের পত্রিকার ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ অ্যাসাঞ্জ

Monday, January 31, 2011

রওয়ে থেকে প্রকাশিত পত্রিকা আফটেনপোস্টেন-এর কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, গোপন মার্কিন কূটনৈতিক বার্তা প্রকাশ করে তারা ভিন্নধারার সংবাদমাধ্যম উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে ক্ষিপ্ত করেছে। আফটেনপোস্টেন নিজেদের মর্জিমতো বার্তাগুলো প্রকাশ করার কারণেই অ্যাসাঞ্জের এই ক্ষোভ।
গত ডিসেম্বর থেকে আফটেনপোস্টেন নিয়মিতভাবে উইকিলিকসের ফাঁস করা প্রায় আড়াই লাখ গোপন মার্কিন কূটনৈতিক বার্তা নিজেদের মর্জি অনুযায়ী প্রকাশ করে আসছে।
গত নভেম্বরে প্রথম গোপন কূটনৈতিক বার্তা প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে হইচই ফেলে দেয় উইকিলিকস কর্তৃপক্ষ। ওই সময় তারা ঘোষণা দেয়, তাদের হাতে এ ধরনের আড়াই লাখের বেশি বার্তা রয়েছে।
ওই বার্তাগুলো নিয়মিতভাবে প্রকাশ করার জন্য বিশ্বে বহুল প্রচারিত ও জনপ্রিয় পাঁচটি পত্রিকার সঙ্গেও চুক্তি করে উইকিলিকস কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আফটেনপোস্টেন ওই পাঁচটি পত্রিকার মতো কোনো চুক্তি বা শর্ত মেনে বার্তাগুলো প্রকাশ করছে না। নরওয়ের ওই পত্রিকা কর্তৃপক্ষের মাত্র তিনজন জানেন কীভাবে উইকিলিকসের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ওই সব গোপন নথি পাওয়া গেছে।
আফটেনপোস্টেন-এর বার্তা সম্পাদক ওলে এরিক আলমলিদ বলেন, ‘এগুলো (গোপন নথি) পাওয়ার জন্য আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। শুধু একটি ই-মেইলের মাধ্যমে এগুলো আমাদের হস্তগত হয়নি। তবে আমরা এর জন্য কোনো অর্থ ব্যয় করিনি এবং এগুলো দেওয়ার বিনিময়ে কোনো শর্তও আরোপ করা হয়নি। আমাদের স্বাভাবিক কঠোর সম্পাদকীয় নীতিমালা অনুসরণ করেই আমরা এই বার্তাগুলো প্রকাশ করতে পারি।’
নরওয়ের রাজধানী ওসলোতে সুসজ্জিত কার্যালয়ে ৩০ জন সংবাদকর্মী দিনরাত পরিশ্রম করে সতর্কতার সঙ্গে ওই আড়াই লাখ গোপন মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করছে। উইকিলিকস যেভাবে বুঝেশুনে সতর্কতার সঙ্গে ওই নথিগুলো প্রকাশ করছে, সেই নীতি না মেনে আফটেনপোস্টেন তাদের নিজেদের মর্জিমাফিক আগেভাগেই বিভিন্ন বার্তা প্রকাশ করে দিচ্ছে।
চলতি মাসের শুরুতে অ্যাসাঞ্জ নরওয়ের একটি অর্থনীতিবিষয়ক পত্রিকাকে বলেছিলেন আফটেনপোস্টেন তাদের ‘মিডিয়া পার্টনার’।
তবে তাঁর এই দাবি পুরোপুরি সমর্থন করে না ওই পত্রিকার কর্তৃপক্ষ। অ্যাসাঞ্জের পরিকল্পনা অনুযায়ী তার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ পাঁচটি পত্রিকা নিউইয়র্ক টাইমস, গার্ডিয়ান, দের স্পিগেল, এল পাইস ও লা মঁদ এবং উইকিলিকস হিসাব করে নিজেদের নীতিমালা অনুযায়ী গোপন বার্তাগুলো ফাঁস করবে। কিন্তু নরওয়ের পত্রিকাটি ওই নীতিমালা না মেনে নিজেদের মতো করে গোপন নথিগুলো প্রকাশ করে দিচ্ছে।
গত কয়েক সপ্তাহে পত্রিকার পাতাগুলোয় ওই সব গোপন কূটনৈতিক বার্তার বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। একটি সংবাদে জানানো হয়, ইসরায়েল গাজার অর্থনীতি ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিল, আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে একটি বাণিজ্যিক কৃত্রিম উপগ্রহের ছদ্মবেশে একটি গোয়েন্দা উপগ্রহ উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করেছে।
অন্য একটি খবরে জানানো হয়েছে, দামেস্কে স্ক্যান্ডেনেভিয়ার দেশগুলোর দূতাবাসে চালানো হামলায় সমর্থন দিয়েছে সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ। এএফপি।

অ্যাসাঞ্জ গুপ্তচর! যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ গঠনের চেষ্টা

Sunday, January 23, 2011

ইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ অভিযোগ করেছেন, গোপন কমিটি করে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। খুব শিগগির এ অভিযোগ চূড়ান্ত করে দেশটি তাঁকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর উদ্যোগ নেবে বলেও আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন তিনি।

গত শুক্রবার সাংবাদিকদের এ কথা বলেন অ্যাসাঞ্জ। ৯ দিন আটক থাকার পর এর আগের দিনই ব্রিটেনের কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে বিচার বিভাগ। নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে তারা উইকিলিকসের কাছে তথ্য পাচারের দায়ে আটক মার্কিন সেনা ব্র্যাডলি ম্যানিংয়ের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়ার চেষ্টা করছে। ম্যানিং তাঁর তথ্য চুরির পেছনে অ্যাসাঞ্জের অনুপ্রেরণা ও সহায়তা থাকার কথা বললে উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা সহজ হবে। ম্যানিং বর্তমানে ভার্জিনিয়ার একটি সেনাঘাঁটির গোপন কারাগারে বন্দি আছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এ যাবৎ উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া সব মার্কিন গোপন নথি তিনিই সরবরাহ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আড়াই লাখ গোপন নথি প্রকাশ করে চলতি মাসের শুরুতে সারা বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করে উইকিলিকস। এ ঘটনায় বিব্রত যুক্তরাষ্ট্র সরকার অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়। এই ফাঁকে দুই সুইডিশ নারীর ওপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগে স্টকহোমের একটি আদালত তাঁর বিরুদ্ধে ইউরোপীয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। অভিযোগ অস্বীকার করলেও ৭ ডিসেম্বর লন্ডন পুলিশের কাছে ধরা দেন অ্যাসাঞ্জ। এর ৯ দিনের মাথায় গত বৃহস্পতিবার তিন লাখ ৭৪ হাজার ডলারের বিনিময়ে তিনি জামিনে মুক্তি পান। জামিনে থাকা অবস্থায় অ্যাসাঞ্জকে ইংল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলে 'ইলিংহাম হল' নামের একটি বাড়িতে অবস্থান করতে হবে। এ বাড়িতেই শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
অ্যাসাঞ্জ ধর্ষণের অভিযোগকে 'একটি সফল প্রচারণা' হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, উইকিলিকস ও তাঁকে কলঙ্কিত করার লক্ষ্যেই একটি মহল এ প্রচারণা চালিয়েছে। অ্যাসাঞ্জ বলেন, 'মার্কিন আইনজীবীরা আমাকে জানিয়েছেন যে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের লক্ষ্যে দেশটি একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করেছে। আমি আশঙ্কা করছি, তারা আক্রমণাত্মক কোনো অভিযোগের পরিকল্পনা করছে।' অ্যাসাঞ্জ এ কমিটির বিষয়টি গোপন রাখায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে বলেন, 'নিশ্চয়ই তারা অস্বাভাবিক কিছু করার চেষ্টা করছে।' তিনি দাবি করেন, সংবাদপত্রে প্রকাশিত হওয়ার আগে তিনি কখনো ম্যানিংয়ের নাম শোনেননি। তিনি বলেন, 'উইকিলিকস ওয়েবসাইটটি এমনভাবে তৈরি যে আমরা সূত্রের নাম জানতে পারি না।' সূত্র : এএফপি, এপি।

আর্থিক ক্ষতি সামাল দেওয়ার ক্ষমতা উইকিলিকসের নেই

Tuesday, January 11, 2011

যৌন হয়রানির মামলায় উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে সুইডেনে হস্তান্তর করা হবে কি না, সে ব্যাপারে আদালত পূর্ণাঙ্গ শুনানির দিন ধার্য করেছেন আগামী ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি। এ বিষয়ে শুনানির জন্য গতকাল মঙ্গলবার অ্যাসাঞ্জকে লন্ডনের আদালতে হাজির করা হয়। সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে আদালত এই দিন ধার্য করেন। এদিকে গতকাল ফ্রান্সে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে অ্যাসাঞ্জ বলেছেন, আরও আর্থিক ক্ষতি সামাল দেওয়ার ক্ষমতা উইকিলিকসের নেই।
লন্ডনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে উলভিচ ক্রাউন আদালতে জেলা জজ নিকোলাস ইভান্স ১০ মিনিটের শুনানি শেষে পূর্ণাঙ্গ শুনানির এই দিন ধার্য করেন। আদালতে অ্যাসাঞ্জকে শুধু তাঁর নাম ও ঠিকানা জিজ্ঞেস করা হয়। একই আদালতে পূর্ণাঙ্গ শুনানি হবে। গতকালের শুনানিতে ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারির শুনানির সময় অ্যাসাঞ্জকে জামিনে লন্ডনের ফ্রন্টলাইন ক্লাবে (৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি) রাত কাটানোর অনুমতি দেওয়ার ব্যাপারেও সম্মতি দিয়েছেন বিচারক। সাংবাদিকদের পরিচালিত ওই ক্লাব থেকেই ব্রিটেনে কার্যক্রম পরিচালনা করে উইকিলিকস।
শুনানি শেষে অ্যাসাঞ্জ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালতের আজকের (মঙ্গলবার) পদক্ষেপে আমরা সন্তুষ্ট। উইকিলিকসের সঙ্গে আমাদের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।’
গত ১৬ ডিসেম্বর জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে ফ্রন্টলাইন ক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ভন স্মিথের খামারে অবস্থান করছেন অ্যাসাঞ্জ। যৌন নিপীড়নের মামলায় সুইডেনে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাবলে গত ৭ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে অ্যাসাঞ্জকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গতকাল ফ্রান্সে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে অ্যাসাঞ্জ বলেছেন, উইকিলিকস আরও আর্থিক ক্ষতি সামাল দেওয়ার অবস্থায় নেই। ফ্রান্সভিত্তিক বেতারকেন্দ্র ইউরোপ ওয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অ্যাসাঞ্জ জানান, গত নভেম্বরে গোপন মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তা প্রকাশ শুরু করার পর থেকে প্রতি সপ্তাহে সাড়ে ছয় লাখ ডলার করে হারাচ্ছে তাঁর প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে উইকিলিকস বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে না। প্রতিষ্ঠানের জন্য অনলাইনে বিভিন্ন দাতার পাঠানো অর্থপ্রাপ্তি বন্ধ হয়ে যাওয়াতেই এই বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে উইকিলিকস। তবে ওয়েবসাইটটি গোপন নথি ফাঁস করা চালিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।
মার্কিন গোপন দলিল ফাঁস করার পর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একাধিক অনলাইন আর্থিক প্রতিষ্ঠান উইকিলিকসের অ্যাকাউন্টে লেনদেন স্থগিত করে।
এ ছাড়া উইকিলিকসের এক বিবৃতিতে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় মার্কিন কংগ্রেস সদস্য গ্যাব্রিয়েল গিফোর্ডসের প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছেন অ্যাসাঞ্জ। ওই ঘটনায় নিহত ছয়জনের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি। বিবৃতিতে অ্যাসাঞ্জ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে কয়েকজন রাজনীতিক উইকিলিকসের কর্মী ও তাঁর বিরুদ্ধে সহিংস বক্তব্য রেখেছেন। তাঁকে তালেবানের মতো খুঁজে বের করে হত্যার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ধরনের বক্তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মার্কিন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রে মৃতুদণ্ডের আশঙ্কা: জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের আইনজীবী বলেছেন, অ্যাসাঞ্জকে সুইডেন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হলে, তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। মার্কিন গোপন নথি ফাঁসের কারণ দেখিয়ে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হতে পারে। এ ব্যাপারে গতকালের শুনানির নথিতে বলা হয়, মার্কিন কর্তৃপক্ষ সুইডেনের কাছ থেকে অ্যাসাঞ্জকে নিজেদের কাছে নিতে চাইতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হলে সেখান থেকে তাঁকে গুয়ানতানামো বে বন্দিশিবির বা অন্য কোথাও পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে। তাঁকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। একটি ওয়েবসাইটে আসামিপক্ষের এই নথি প্রকাশ করা হয়। এএফপি, বিবিসি।

অ্যাসাঞ্জের ঠাঁই হবে গুয়ানতানামো বন্দি শিবিরে!

ইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান আ্যাস্যাঞ্জকে যদি সুইডেনে প্রত্যার্পণ করা হয় তবে তার শেষ আশ্রয় হতে পারে কিউবার গুয়ানতানামো কারাগার! অ্যাসাঞ্জের আইনজীবীরা গতকাল মঙ্গলবার এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

তারা বলেছেন, সুইডেন যদি অ্যাসাঞ্জকে হাতে পায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাকে ওয়াশিংটনে ফিরিয়ে নেয়া কঠিন কিছু হবে না। কারণ, উইকিলিকসের মাধ্যমে অ্যাসাঞ্জ এমন কিছু কাজ করেছেন যাকে মার্কিন আইনে অপরাধ হিসেবে প্রমাণ করা সম্ভব। এমনকি মৃতু্যদণ্ডের আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।

অ্যাসাঞ্জকে সুইডেনের হাতে তুলে দেয়া হবে কি না সে প্রশ্নে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুনানির দিন নির্ধারণ করেছে ব্রিটেনের একটি আদালত। অ্যাস্যাঞ্জের বিরুদ্ধে সুইডেনের দুই নারীর যৌন অসদাচরণ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে সুইডেনে নিতে চায় সুইডিশ কর্তৃপক্ষ। ওই মামলায় বর্তমানে কঠোর শর্তাধীনে যুক্তরাজ্যে জামিনে মুক্ত রয়েছেন অ্যাস্যাঞ্জ। ব্রিটেন যাতে তাকে সুইডেনের হাতে তুলে না দেয় সে ব্যাপারে জোর আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু করেছে অ্যাসাঞ্জের প্রতিরক্ষা টিম। তার প্রতিরক্ষা টিমের প্রধান আইনজীবী বলেছেন, আল-কায়েদা ও তালেবান বিদ্রোহীদের মার্কিন সিআইএ গোয়েন্দারা যে অভিযোগে দোষী প্রমাণ করে গুয়ানতানামোতে পাঠিয়েছে তারা ইচ্ছা করলে অ্যাসাঞ্জকেও দোষী প্রমাণ করে সেখানে বন্দি করতে পারে। তাই তাকে সুইডেনে পাঠানো ঠেকাতে হবে।

উলেস্নখ্য, গত বছর ইরাক ও আফগান যুদ্ধ নিয়ে পেন্টাগনের কয়েক লাখ গোপন নথি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বিনিময় করা আড়াই লাখ গোপন তারবার্তা ফাঁস করে দুনিয়া জুড়ে হৈচৈ ফেলে দেয় উইকিলিকস। এতে ওয়েবসাইটটির প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাস্যাঞ্জের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয় যুক্তরাষ্ট্র। অ্যাস্যাঞ্জের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন।

অ্যাসাঞ্জসহ উইকিলিকস-সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তথ্য চায় যুক্তরাষ্ট্র

Monday, January 10, 2011

জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জসহ উইকিলিকসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচ ব্যক্তির বিস্তারিত ব্যক্তিগত তথ্য জানাতে জনপ্রিয় মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারকে নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন সরকার। আদালতের নথি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ, উইকিলিকসের কাছে গোপনীয় নথিপত্র পাচারের জন্য অভিযুক্ত এক মার্কিন সেনা, আইসল্যান্ডের একজন এমপি ও দুজন কম্পিউটার বিশেষজ্ঞের ব্যক্তিগত বার্তা, যোগাযোগের তথ্য, ব্যাংক হিসাব নম্বর ও অন্যান্য ব্যক্তিগত বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছেন। ভার্জিনিয়ায় মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট আদালতের একজন বিচারক এসব ব্যক্তিগত তথ্য হস্তান্তর করার জন্য টুইটারকে নির্দেশ দেন।
এ সম্পর্কে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে টুইটার। তবে সাইটটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোম্পানির নীতি হচ্ছে, সরকার যদি এ ধরনের কোনো অনুরোধ জানায়, তাহলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীকে জানানো হয়।
অ্যাসাঞ্জের ধারণা, তথ্য দেওয়ার জন্য ফেসবুক ও গুগলকেও এ ধরনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে এ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ওই দুই কোম্পানি। আদালতের এ ধরনের নির্দেশে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ ও আইসল্যান্ডের পার্লামেন্ট সদস্য বিরগিত্তা জোন্সদোত্তির। আদালতের এই নির্দেশের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।
অ্যাসাঞ্জ মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে ‘হয়রানি’র অভিযোগ তুলেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ইরান সরকার যদি সাংবাদিক, বিদেশি মানবাধিকারকর্মীর কাছ থেকে জোরপূর্বক এসব তথ্য আদায়ের চেষ্টা করে, তাহলে সারা বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ নিয়ে কথা বলবে।
দুই লাখ ৫০ হাজার গোপনীয় কূটনৈতিক তারবার্তা প্রকাশের ঘটনায় অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র।
আদালতের আদেশে যাঁদের সম্পর্কে তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা বিশ্লেষক ব্র্যাডলি ম্যানিং, ডাচ্ হ্যাকার রোপ গনগ্রিগ্রিজপ ও মার্কিন কম্পিউটার প্রোগ্রামার জ্যাকব অ্যাপেলবাউমের নাম রয়েছে।
জোন্সদোত্তির তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার জন্য টুইটারকেই বেছে নেন। তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ১ নভেম্বর থেকে তাঁর সব টুইট সম্পর্কে জানতে চেয়েছে মার্কিন সরকার। তিনি বলেন, ‘তারা কি বুঝতে পারছে যে আমি আইসল্যান্ডের পার্লামেন্টের সদস্য?’
এই এমপি বলেন, আদালতের এই নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য তাঁর হাতে ১০ দিন সময় রয়েছে। জোন্সদোত্তির আবারও বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের কোনো তথ্য হস্তান্তর করার কোনো ইচ্ছাই তাঁর নেই।
ফাঁস হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ: এদিকে উইকিলিকস শত শত মানবাধিকারকর্মী, বিভিন্ন দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীর পরিচয় ফাঁস করে দেওয়ায় তাঁদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। তাঁদের নিরাপত্তার ব্যাপারে সম্ভাব্য সব কিছু করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে দেশটির পক্ষ থেকে। ইতিমধ্যে তাঁদের অল্প কয়েকজনকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত বৃহস্পতিবার এ কথা জানানো হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আফগানিস্তান থেকে জিম্বাবুয়ে পর্যন্ত মার্কিন দূতাবাসকর্মীদের কাছে যেসব বিদেশি মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করত, উইকিলিকস তাদের অনেকের পরিচয় প্রকাশ করে দিয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি ওই বিদেশি ব্যক্তিদের জীবনেও নিরাপত্তার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। অবশ্য মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেন, পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়া কেউ হামলার শিকার হয়েছেন—এমন তথ্য তাঁরা এখনো পাননি। তবে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ওই ঘটনার পর অনেক ভিন্নমতাবলম্বী নিজ নিজ সরকারের হাতে হেনস্তা হচ্ছেন। যাঁদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাঁদের ব্যাপারে কিছু জানাতে অস্বীকার করেন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা।
উইকিলিকস এ পর্যন্ত প্রায় আড়াই লাখ গোপন মার্কিন তারবার্তা প্রকাশ করেছে। এ ঘটনার পর অনেক ক্ষেত্রে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছে মার্কিন সরকার এবং এর সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন দেশের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে। টেলিগ্রাফ ও বিবিসি।

নয়া দিগন্তের সংবাদ- তথ্য ফাঁসের জন্য অ্যাসাঞ্জ নয়, যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী : অস্ট্রেলিয়া

Wednesday, December 8, 2010

স্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেভিন রাড বলেছেন, উইকিলিকসে আড়াই লাখ কূটনৈতিক তথ্যপ্রবাহ ফাঁস হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী, সংবাদমাধ্যমটির প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ নন।
কেভিন রাড বলেন, এই তথ্য ফাঁসের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তিনি আরো বলেন, তথ্যপ্রবাহে তার সম্পর্কে যে সমালোচনা হয়েছে করা হয়েছে তা নিয়ে তিনি চিন্তিত নন।
কেভিনের এ অবস্খানকে সমর্থন করেছেন প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড। কেভিনের মন্তব্যেরও প্রশংসা করে গিলার্ড বলেন, ‘তিনি অত্যন্ত চমৎকার কাজ করছেন।’

ছয়টি অপরাধের অভিযোগে অ্যাসাঞ্জকে লন্ডনের পুলিশ গ্রেফতার করে। সুইডেনে অ্যাসাঞ্জ এসব অপরাধ করেন জানা দেশটির সরকার তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করে।
তথ্য ফাঁস হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড অ্যাসাঞ্জের উদ্দেশে ‘মোটাদাগে দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে মন্তব্য করেন। অ্যাসাঞ্জও কম যান না। তিনি জুলিয়া গিলার্ডের সরকারকে লজ্জাজনকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী বলে মন্তব্য করেন।
গত কয়েক সপ্তাহে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতার আড়াই লাখেরও বেশি গোপন দলিল ফাঁস করে দেয়। ওয়াশিংটন এ ঘটনাকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ বলে মন্তব্য করেন।
বার্তাসংস্খা রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে কেভিন রাড বলেন, ‘আড়াই লাখ গোপন তথ্যপ্রবাহ ফাঁস হওয়ার জন্য কেবল অ্যাসাঞ্জই দায়ী নন, আমেরিকানরাও এ জন্য দায়ী।’
 
Support : Dhumketo ধূমকেতু | NewsCtg.Com | KUTUBDIA @ কুতুবদিয়া | eBlog
Copyright © 2013. News 2 Blog 24 - All Rights Reserved
Template Created by Nejam Kutubi Published by Darianagar Publications
Proudly powered by Dhumketo ধূমকেতু