তিন মাসের কর্মসূচি দেবে চার দল by মোশাররফ বাবলু

Saturday, September 24, 2011

গামী অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মহাসমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। কর্মসূচির মধ্যে থাকতে পারে রোডমার্চ, বিক্ষোভ-সমাবেশ এবং বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়ার ১৯টি জেলা সফর। কর্মসূচির মধ্যে এক দিনের একটি হরতাল রাখা যায় কি না সে নিয়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের সঙ্গে সমমনা ছোট দলগুলোর নেতারা একমঞ্চে উঠবেন আগামী মঙ্গলবার। জোটনেত্রী খালেদা জিয়া সরকারবিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। কর্মসূচি নিয়ে জোটের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা হলেও এখনো তা চূড়ান্ত হয়নি। দু-এক দিনের মধ্যে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের এবং চারদলীয় জোটের নেতারা আলোচনার মাধ্যমে কর্মসূচি চূড়ান্ত করবেন। তবে বিএনপির ওপর শরিক কোনো কোনো দলের চাপ রয়েছে কর্মসূচিতে হরতাল রাখার জন্য।
জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির কথা ভাবছে বিএনপি। এর মধ্যে সিলেট বিভাগে প্রস্তাবিত টিপাইমুখ বাঁধ অভিমুখে কিংবা পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও অভিমুখে রোডমার্চ, বিক্ষোভ-সমাবেশ এবং ১৯ জেলা সফর কর্মসূচি রয়েছে। খালেদা জিয়া নিজে এই জেলাগুলো সফর করবেন। তবে সরকার বৈরী আচরণ করলে তাৎক্ষণিক হরতাল ঘোষণা করা হতে পারে।
জানা গেছে, বিএনপি ও জোটের শরিক জামায়াত এই মহাসমাবেশে লোক সমাগম বেশি করার উদ্যোগ নিয়েছে। সে ক্ষেত্রে তারা ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলো থেকে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে আসার ব্যবস্থা করছে। এ ব্যাপারে এরই মধ্যে বৈঠক করা হয়েছে জেলা নেতাদের সঙ্গে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই বৈঠক করেন। গতকাল শনিবার রাতে গুলশানের কার্যালয়ে দলীয় নেতাসহ ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলার সাবেক সংসদ সদস্য ও সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং সমমনা আট দলের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বৈঠকে মহাসমাবেশ সফল এবং পরবর্তী কর্মসূচি বাস্তবায়নের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
এ ছাড়া অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে দুর্গা পূজা এবং নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঈদুল আজহার মতো ধর্মীয় দুটি উৎসবের ওপর বিএনপির কর্মসূচির কারণে যাতে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব না পড়ে সে বিষয় নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয় বলে সূত্র জানায়।
জানা গেছে, চারদলীয় জোটের ব্যানারে আগামী মঙ্গলবার মহাসমাবেশ করা হবে। জোট নেতা খালেদা জিয়া প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে বক্তব্য দেবেন। জামায়াতসহ শরিক দলের নেতারা থাকবেন বিশেষ অতিথি। তবে মহাসমাবেশে জামায়াত নেতাদের বক্তব্য কী হবে তা নিয়ে শরিকদের মধ্যে কিছুটা সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মহাসমাবেশে জামায়াত নেতারা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক তাঁদের পাঁচ শীর্ষ নেতার মুক্তি দাবি করতে পারেন। আর সেটি বিএনপিসহ কারো কারো জন্য বিব্রতকর হতে পারে। কারণ, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এরই মধ্যে অভিযোগ তুলেছে, বিএনপি জামায়াতের সঙ্গে মিলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে সচেষ্ট। আবার বিএনপির অবস্থান হচ্ছে, তারা সত্যিকারের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়।
বিএনপির একাধিক নেতা বিষয়টি স্বীকার করলেও এ ক্ষেত্রে কৌশলী ভূমিকা নেওয়ার কথা জানান। কারণ গত ১৫ সেপ্টেম্বর জামায়াত নেতা ডা. মো. তাহের মুক্তি পেলে তাঁকে নিয়ে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন জামায়াতের তখনকার ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম। ওই সময় আজহার ২৭ সেপ্টেম্বরের সমাবেশে তাঁদের দলের শীর্ষ পাঁচ নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মোহাম্মাদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লার মুক্তির দাবির বিষয়টি তুলে ধরেন। ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত চারদলীয় জোটের বৈঠকেও বিষয়টি খালেদা জিয়ার নজরে আনেন জামায়াত নেতারা। এ নিয়ে বিএনপির নেতারা আলোচনাও করেন। কেউ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিপক্ষে না হলেও জোটের স্বার্থে এই ইস্যুতে কৌশলী ভূমিকা নেওয়ার কথা বলেন। তবে জামায়াত নেতারা বলছেন, তাঁরা তাঁদের নেতাদের মুক্তি চেয়ে বক্তব্য দেবেন।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমরা সব সময়ই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবি করে আসছি। তবে সেই বিচার করতে গিয়ে যেন রাজনৈতিকভাবে কেউ হয়রানির শিকার না হন। স্বচ্ছভাবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিচার হতে হবে।' মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কারাবন্দি জামায়াত নেতাদের মুক্তি চেয়ে বক্তব্য দেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সমাবেশে জামায়াত কী বক্তব্য দেবে তা তাঁর জানার কথা নয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, সিএনজিসহ সব ধরনের জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে জনদুর্ভোগ বাড়ছে। সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। তাই আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই। সবাই চায় আন্দোলন। ২৭ সেপ্টেম্বরের সমাবেশ থেকে তাঁদের নেত্রী খালেদা জিয়া আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। কর্মসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে তিনি জানান।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, 'আমরা সত্যিকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। এটা নিয়ে যেন রাজনীতি না করা হয়।' এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'জামায়াতের জন্য আমরা হরতাল ডাকব কেন? জামায়াত তো বিএনপির কোনো নেতার মুক্তির জন্য আন্দোলন করেনি।'
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, ২৭ সেপ্টেম্বরের সমাবেশে জামায়াত নেতারা কী বক্তব্য দেবেন তা তাঁদের জানার কথা নয়। এটা সম্পূর্ণ জামায়াতের ব্যাপার। এ নিয়ে বিএনপির কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কারণ সমাবেশ তো বিএনপি একা করবে না, এটা চারদলীয় জোটের। শরিক দলের নেতা ও সমমনা দলগুলোর নেতারা একমঞ্চে বক্তব্য দেবেন। তিনি বলেন, যেভাবেই যে বক্তব্য দিন না কেন, বিএনপি সব সময় সত্যিকারের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে। তবে এই বিচারের নামে যেন রাজনৈতিকভাবে কাউকে হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেটাই তাদের দাবি।
জামায়াতের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ২৭ সেপ্টেম্বর চারদলীয় জোটের সমাবেশ। জাতীয় ইস্যু হচ্ছে সরকার একতরফাভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবির পাশাপাশি নিজস্ব ইস্যু ও দাবি সামনে রেখে নেতারা বক্তব্য দেবেন। বিএনপির নেতারা তারেক রহমান ও কোকোর ব্যাপারে বক্তব্য দিতে পারেন। আমিনী তাঁর দলের সমস্যা তুলে ধরতে পারেন। জামায়াতের শীর্ষ পাঁচ নেতার মুক্তি দাবিতে তাঁদের নেতারা বক্তব্য দিতেই পারেন। এসব বিষয় নিয়ে বিএনপির মধ্যে বিব্রত কিংবা মতবিরোধ থাকা কাম্য হতে পারে না।
বিএনপি অভিযোগ করেছে, ২৭ সেপ্টেম্বর পল্টন ময়দানে সমাবেশ করার জন্য ক্রীড়া পরিষদের কাছে আবেদন করেছিল তারা। কিন্তু তাদের আবেদন অনুমোদন করা হয়নি। এ জন্য নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে।
সমমনাদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠক : ২৭ সেপ্টেম্বরের মহাসমাবেশে ব্যাপক শোডাউন করার প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। এই লক্ষ্যে গতকাল রাতে গুলশানের কার্যালয়ে দলীয় নেতাসহ ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলার সাবেক সংসদ সদস্য ও সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং সমমনা আট দলের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বৈঠকে মহাসমাবেশ সফল করা এবং পরবর্তী কর্মসূচি বাস্তবায়নের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত পৌনে ১০টা পর্যন্ত ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী জেলা নেতাদের বৈঠক হয়। এরপর সমমনাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সমমনা আট দলের নেতাদের মধ্যে ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) প্রধান শফিউল আলম প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) সভাপতি শেখ শওকত হোসেন নিলু ও মহাসচিব ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মুসলিম লীগের সভাপতি এ এইচ এম কামারুজ্জামান খান ও মহাসচিব আতিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, লেবার পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও সাধারণ সম্পাদক হামদুল্লাহ আল মেহেদী, ইসলামিক পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মবিন ও সাধারণ সম্পাদক এম এ রশীদ প্রধান, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) সভাপতি খন্দকার গোলাম মুর্তজা ও মহাসচিব আলমগীর মজুমদার, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান শেখ আনোয়ারুল হক ও মহাসচিব হাসরত খান। সমমনাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এর আগে ঢাকা জেলা ও আশপাশের জেলা নেতাদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠকের সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহানগর আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল মান্নান, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী সোহেল, ছাত্রদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ।

জামায়াতের সামনে তিন সংকট

Friday, February 4, 2011

গামী দিনে দলের রাজনীতির জন্য গুরুতর সংকট সৃষ্টি করতে পারে-এমন তিনটি ইস্যুর সম্মুখীন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ইস্যু তিনটির একটি দলের অভ্যন্তরীণ, বাকি দুটি রাজনৈতিক। অভ্যন্তরীণ সংকটের সমাধানের ব্যাপারে জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতারা মোটামুটি আস্থাশীল হলেও বাকি দুই সম্ভাব্য সংকট নিয়ে বেশ উৎকণ্ঠায় আছেন তাঁরা।

সূত্রের দাবি, এ বিষয়ে দলের অবস্থান ঠিক করতে গতকাল শুক্রবার ডাকা কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার বিশেষ অধিবেশনে আলোচনা হওয়ার কথা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিন সংকটের অন্যতম হচ্ছে নির্বাচন কমিশন থেকে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে দায়ের করা একটি রিট মামলা। আদালতের কার্যতালিকা অনুযায়ী আগামীকাল রবিবার এ মামলার শুনানি হওয়ার কথা। মামলার ফলাফল প্রতিকূলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করে জামায়াতের নীতি-নির্ধারণীপর্যায়ের নেতারা খুব চিন্তায় পড়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য মতে, বাকি দুই সংকটের একটি হচ্ছে দলের নতুন ‘আমির’ নির্বাচন। অন্যটি হচ্ছে সারা দেশে অনুষ্ঠিত
পৌরসভা নির্বাচনের আগে ও পরে স্থানীয়পর্যায়ে বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কের ছন্দপতনে জামায়াতের ভবিষ্যৎ রাজনীতি।
বিষয় তিনটির উল্লেখ করে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম দাবি করেন, কোনোটিই জামায়াতের রাজনীতির জন্য সংকট সৃষ্টি করবে না।
নিবন্ধন বাতিলের আশঙ্কা : জামায়াতে ইসলামীর নাম ও এর গঠনতন্ত্রের অন্তত ছয়টি ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে দলটির নিবন্ধন বাতিল চেয়ে ২০০৮ সালে ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। মামলাটি বিচারাধীন রেখেই জামায়াত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়। নিবন্ধন বাতিলের আরজি করে দায়ের করা ওই মামলাটি আবার সক্রিয় হয়েছে।
জামায়াতের শীর্ষপর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা এ মামলায় হেরে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন। তবে তাঁরা বিষয়টিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলেই মনে করছেন। আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সম্প্রতি উচ্চ আদালতের রায়ে বাহাত্তরের সংবিধান পুনঃস্থাপন ও সে আলোকে সংবিধান পুনর্মুদ্রণ হওয়ার প্রেক্ষাপটে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো এমনিতেই বিলুপ্ত হওয়ার কথা। কিন্তু এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট না হওয়ায় ধর্মভিত্তিক দলগুলো এখনো প্রকাশ্যেই রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। জামায়াতের নাম ও এর গঠনতন্ত্রের ধারার সংশোধিত সংবিধানের সঙ্গে বিরোধ থাকলে আদালত দলটির নিবন্ধন বাতিলের রায় দিতে পারেন।
এ টি এম আজহারুল ইসলামও মনে করেন, বাহাত্তরের সংবিধানকে বেইজ ধরলে কোর্ট নিবন্ধন বাতিলের রায় দিতেও পারেন। তবে তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন বাতিল করলে তাঁরা আইনি প্রক্রিয়ায় যাবেন। তিনি বলেন, নিবন্ধন বাতিল মানে তো দল বাতিল নয়। বিষয়টি এই নয় যে এর মাধ্যমে দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ হবে।
মামলার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে এ মামলার কুশলী ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘জামায়াত একটি গণতান্ত্রিক ও ইসলামী আদর্শে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দল। কৃত্রিমভাবে কোনো আইন তৈরি করে জামায়াতকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা কল্যাণকর হবে না।’
সময় চাইবে জামায়াত : নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করা মামলাটির শুনানি পেছাতে জামায়াতের পক্ষ থেকে আবেদন করা হবে। সহসা যাতে মামলার নিষ্পত্তি না হয়, সে জন্য তাঁরা আইনজীবীর মাধ্যমে সময়ক্ষেপণ করার কৌশল নিতে পারেন। এক প্রশ্নের জবাবে এ বিষয়ে দলের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘এটা এমন ইস্যু নয় যে এখনই শেষ করতে হবে। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হাজার হাজার মামলা আছে। আমরা সময় চাইব।’
জানা গেছে, খুব অল্প সময়ের মধ্যে মামলাটির নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আগামী মার্চের শেষ নাগাদ মামলার রায় হয়ে যেতে পারে।
নতুন আমির নির্বাচন : ২০১২ সাল পর্যন্ত নির্বাচিত জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর দায়িত্ব পালনে অক্ষমতার মেয়াদ ছয় মাসের বেশি হওয়ায় দলের একটি অংশে নানা রকম চিন্তাভাবনা চলছে। এ অংশটি বর্তমান ভারপ্রাপ্ত আমিরের অন্তর্বর্তীকালীন শেষে নতুন আমির নির্বাচনের পক্ষে।
মতিউর রহমান নিজামী প্রথমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার একটি মামলায় ও পরে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন সাত মাস আগে। গ্রেপ্তারের আগে তিনি নায়েবে আমির মকবুল আহমদকে ভারপ্রাপ্ত আমির নিয়োগ দিয়ে যান।
দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আগামী মে মাসে ভারপ্রাপ্ত আমিরের অন্তর্বর্তী সময় শেষ হবে। এ মেয়াদের পর বিশেষ কারণ না থাকলে নতুন আমির নির্বাচনের কথা উল্লেখ আছে।
নিজামীর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০১২ সালে অবশ্যই নতুন আমির নির্বাচন করতে হবে। কিন্তু দলের ওই অংশটি গঠনতন্ত্রের ‘বিশেষ অবস্থার’ সুযোগ না নেওয়ার পক্ষে। তারা অতীতে গোলাম আযমের মতো মাওলানা নিজামীকে আমির পদে রেখে অন্তর্বর্তীকালীন আমিরের মেয়াদ দীর্ঘস্থায়ী করার পক্ষপাতী নয়।
বর্তমান ভারপ্রাপ্ত আমির প্রথম ছয় মাস পার করার পর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের অনুমোদন নিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে আরো ছয় মাসের দায়িত্ব পেয়েছেন। এই মেয়াদের পরই নির্বাচন হওয়ার কথা। নতুন আমির নির্বাচনের পক্ষে থাকা অংশটি মনে করে, মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো একটি জটিল মামলায় আটক নেতাদের বিচার প্রক্রিয়া শেষ হতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে। দলের গতিশীল নেতৃত্বের জন্য এত সময় অপেক্ষা করা ঠিক হবে না।
কিন্তু জামায়াতের মূলধারা এই চিন্তার সঙ্গে একমত নয়। তারা মনে করে, বিচারের আগেই শীর্ষ নেতাদের সরিয়ে দেওয়া অমানবিক এবং আদালতের আগেই বিচারের শামিল বলে বিবেচিত হবে।
সূত্রে জানা গেছে, গতকাল অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার বৈঠকের আলোচনায় ভারপ্রাপ্ত আমিরের বর্ধিত ছয় মাসের মেয়াদ অনুমোদন ও এই মেয়াদ শেষে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের প্রসঙ্গটি ছিল। এ বিষয়ে শুরার সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।
বৈঠকের আগে বিষয়টির উল্লেখ করে বক্তব্য জানতে চাইলে এ টি এম আজহার বলেন, ‘২০১২ সাল পর্যন্ত নেতৃত্ব নিয়ে কোনো চিন্তার কারণ নেই। এ নিয়ে আমরা চিন্তা করছি না।’
তিনি বলেন, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত আমিরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা হয় নির্বাচন, না হয় স্বাভাবিক মেয়াদ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্বের সময় বাড়াতে পারবে।
বিএনপির সঙ্গে ছন্দপতন : এবারের পৌরসভা নির্বাচনে স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্কে বড় ছন্দপতন হয়েছে। কোনো কোনো জায়গায় তিক্ততারও সৃষ্টি হয়। পৌর নির্বাচনের আগে ও পরে বিএনপি আগামীতে চারদলীয় জোটে জামায়াতকে কোণঠাসা করারও ইঙ্গিত দিয়েছে। কিন্তু জোটে বিভক্তি হতে পারে আশঙ্কা করে জামায়াতের নেতারা তা হজম করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের একজন নেতা বলেন, ‘পৌরসভা নির্বাচনে আবারও প্রমাণ হলো জামায়াতের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সবাই এক। আমরা দেখেছি, যেসব পৌরসভায় জামায়াত প্রার্থীদের সম্ভাবনা ছিল, সেসব জায়গায় কোথাও আওয়ামী লীগ পক্ষ নিয়েছে বিএনপির, কোথাও বিএনপির পক্ষ নিয়েছে আওয়ামী লীগ।’
জামায়াত এবার ৪৩টি পৌরসভায় মেয়র ও সাড়ে তিন শ’ কাউন্সিলর প্রার্থী দিয়ে ছয়টি মেয়র ও ১১০টি কাউন্সিলর পদে জয় পেয়েছে। কিন্তু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে ৪৩টি পৌরসভাতেই বিএনপির স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে জামায়াতের গোপনে-প্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব ছিল।
বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, ‘এবারের পৌর নির্বাচন আমাদের জন্য উৎসাহের এবং সতর্কেরও।’
নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জামায়াতের বেশির ভাগ প্রার্থী হেরেছেন বিএনপি প্রার্থীর কাছে। বিশেষ করে জামায়াত প্রভাবিত এলাকা হিসেবে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, সাতকানিয়া ও কক্সবাজারে এই ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, পৌর নির্বাচনের আগে থেকে বিএনপির বেশ কজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা জামায়াতকে এড়িয়ে চলছেন। তাঁদের ভূমিকায় পৌর নির্বাচনে সমঝোতার লক্ষ্যে তিন দফা বৈঠক করেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। জামায়াতের প্রার্থিতা থাকার পরও পৌর নির্বাচনের এ ফলাফলে বিএনপিতে আÍবিশ্বাস জেগেছে। এ অবস্থায় ভবিষ্যতে চারদলীয় জোটে জামায়াতের অবস্থান কী হবে তা নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা চিন্তিত। জানা গেছে, গতকালের মজলিসে শুরার বৈঠকে এ বিষয়টিও আলোচনার অন্যতম বিষয়বস্তু ছিল। তথ্য মতে, শুরার সদস্যরা কারো দিকে চেয়ে না থেকে দলের অবস্থান মজবুত করতে পরামর্শ দিয়েছেন।
পৌর নির্বাচনকে জামায়াত কিভাবে মূল্যায়ন করছে জানতে চাইলে দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি বলেন, ‘পুরো একটি বছর আমরা সরকারের কোপানলে ছিলাম। সে হিসেবে উৎসাহব্যঞ্জক।’
দলের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমদ বলেন, ‘তারা (সরকার) আমাদের মুছে ফেলতে চেয়েছে। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমরা ছয় মেয়র ও ১১০ কাউন্সিলর পেয়েছি।’ পৌর নির্বাচনে বিএনপির আÍবিশ্বাস জামায়াতকে জোটে কোণঠাসা করবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না সেটা ঘটবে।’

মার্কিন সিনেটরের পদটা জামায়াতের দখলে? by সিপাহসালার

Wednesday, December 29, 2010

মার্কিন সিনেটর আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে যে চিঠি লিখেছেন তাতে সন্দেহ হচ্ছে মার্কিন সিনেটরের পদটা কি জামায়াত দখল করেছে? না হলে এমন চিঠিতো লেখার কথা নয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচিত সিনেটর জন বুজম্যান যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও বাংলাদেশের সংবিধান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি চিঠি লিখেছেন। গত ৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে প্রেরিত এ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ (আদালত) অ্যাক্ট ১৯৭৩ (ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনাল) অ্যাক্ট অব ১৯৭৩) বিষয়ে এ চিঠি লিখছি। ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় সংঘটিত অপরাধের বিচারের যে উদ্যোগ বাংলাদেশ সরকার নিয়েছে সে বিষয়ে আমার সমানুভূতি আছে। আপনার সরকার অতীতের এ অপরাধের বিচার সম্পন্ন করে যে নজির স্থাপন করার উদ্যোগ নিয়েছে তার সঙ্গে আমি একমত। সে লক্ষ্যে বিশেষ আদালত স্থাপন, বিচারক প্যানেল গঠন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ (আদালত) অ্যাক্টকে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে বিতর্কিত কিছু ধারাও পরিবর্তন করা হয়েছে মর্মে জেনেছি আমি।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বচ্ছ বিচারের যে মানদণ্ড রয়েছে তা বাংলাদেশের আইনটিতে অনুপস্থিত রয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আইনটির বিষয়ে সবচেয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে যেসব সংস্থা থেকে সেগুলো হল—হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এশিয়া বিভাগ, দ্য ওয়ার ক্রাইমস কমিশন অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশন, দ্য ওয়ার ক্রাইমস প্রজেক্ট এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত অন্যান্য অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এই আইনকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না এবং এই আইনের মাধ্যমে তাদের যে সাজা প্রদান করা হবে তার বিরুদ্ধেও তারা কোনো প্রতিকার চাইতে পারবে না—বিদ্যমান সংবিধানে যাই থাকুক না কেন। এ জাতীয় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা আছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ (আদালত) আইনে।
অন্যান্য অপরাধ আইনের ক্ষেত্রে যে নিয়ম প্রযোজ্য তা এই অ্যাক্টের ক্ষেত্রে রাখা হয়নি। এ কারণে এ আইনটির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগও রাখা হয়নি যা সংবিধানে স্বীকৃত অধিকার হরণের মাধ্যমে করা হয়েছে। আইনের চোখে সবাই সমান বলে যে মৌলিক বিধান আছে তাও এখানে খর্ব করা হয়েছে। বিচারকে আন্তর্জাতিক মানের এবং স্বচ্ছ করার জন্য এ আইনের সংশোধন খুবই জরুরি। ওই আইন এবং বিচারকে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না মর্মে যে সাংবিধানিক সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে তা-ই আইনটিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ বিচারের পরিপন্থী করে তুলেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নীরব থাকা, নিজেকে নির্দোষ ঘোষণার অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে এবং সাক্ষীর দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে কোনো কিছু বলা হয়নি আইনে। আইনটি যেহেতু যুগোস্লাভিয়া এবং রুয়ান্ডা যুদ্ধাপরাধ আদালত গঠনের (এ আদালতের ধারা আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন হিসেবে স্বীকৃত) আগে প্রণীত হয়েছে তাই ২০০২ সালে প্রণীত রোম সংবিধি অনুযায়ী আইনটি সংস্কার করা উচিত। বাংলাদেশও রোম সংবিধিতে স্বাক্ষরকারী একটি দেশ। প্রয়োজনীয় সংশোধন ছাড়া এই আইনের মাধ্যমে বিচার কাজ চালিয়ে গেলে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিতর্ক বাড়বে। উদাহরণস্বরূপ বর্তমান আইন অনুযায়ী যিনি সাধারণ সামরিক আদালতের বিচারক হওয়ার যোগ্য তিনি ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বা মেম্বার হতে পারবেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিধান অনুযায়ী সামরিক আদালতের বিচারকরা কেবল সামরিক বাহিনী সংক্রান্ত বিষয়েই বিচার করতে পারেন। উপরন্তু, এই আইনে রয়েছে ট্রাইব্যুনালের কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা যাবে না এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালের কোনো ধারার বিরুদ্ধেও কোনো চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন না। আমার আশঙ্কা, আইনটিকে সংশোধন করে যদি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা না হয় তাহলে এ আইনের মাধ্যমে বিচার কাজ পরিচালনা করা হলে অভিযুক্ত ব্যক্তির মানবাধিকার রক্ষা অসম্ভব হবে। আইনটি বর্তমানে যে অবস্থায় আছে তাতে দায়মুক্তি থেকে বের হয়ে আসার যে উদ্যোগ আপনার সরকার নিয়েছে তা যেমন চাপা পড়ে যাবে তেমনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এ বার্তা ছড়িয়ে পড়বে যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্যই এ আয়োজন করা হচ্ছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ মোতাবেক ধর্মীয় অনভূতিতে আঘাত করার মতো ক্ষুদ্র বিষয়ের সঙ্গে জড়িয়ে জামায়াতের প্রথম সারির বেশ কয়েকজন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব অভিযোগে গ্রেফতার করে তাদেরকে যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এতে করে আইনটি রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। যেহেতু আপনার সরকারের প্রধান প্রতিপক্ষ দলের একনিষ্ঠ মিত্র জামায়াত। তাই জামায়াতকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মাধ্যমে প্রধান প্রতিপক্ষকে দুর্বল করাই হলো ট্রাইব্যুনালের প্রথম কাজ। এ বিশ্বাসই সমাজে এখন বিদ্যমান। আইনটি যথাযথ সংশোধন করে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির জন্য একটি নিরপেক্ষ ও ভয়ভীতিমুক্ত বিচার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আপনার সরকার ন্যায় বিচারকে সমুন্নত রাখবে এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার উদ্যোগকে সামনে এগিয়ে নেবে বলে আশা করি। যুদ্ধাপরাধ আদালত গঠনের উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক বিচার অঙ্গনের অনেকেই স্বাগত জানিয়েছিল। কিন্তু স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার অনুষ্ঠানে অনাগ্রহের বিষয়ে তারা সবাই উদ্বিগ্ন যে, এর মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হতে পারে। আমি আশা করি আপনার সরকার রোম সংবিধি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ধারা মোতাবেক আইনটি সংশোধনের যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। আইনটি যথোপযুক্ত সংশোধন করে প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাঠগড়ায় আনার বিষয়ে আপনার সরকার উদ্যোগ নিলে আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি।
 
Support : Dhumketo ধূমকেতু | NewsCtg.Com | KUTUBDIA @ কুতুবদিয়া | eBlog
Copyright © 2013. News 2 Blog 24 - All Rights Reserved
Template Created by Nejam Kutubi Published by Darianagar Publications
Proudly powered by Dhumketo ধূমকেতু