হতাশার অন্ধকারে দুই ভাই by মনির হায়দার

Monday, January 27, 2014

তিনি এখনও দলের চেয়ারম্যান। আছেন সংসদেও। দৃশ্যত নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই বিজয়ী করে আনা হয় তাকে। তাই বলা হয়েছিল, তিনি শপথ নেবেন না। কিন্তু দেখা গেলো, শপথ নিয়েছেন।
যদিও স্পিকারের সামনে তিনি হাজির হয়েছিলেন মলিন চেহারায়। নতুন সরকার গঠনের পর তাকে করা হলো প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। দেয়া হলো মন্ত্রীর মর্যাদা। তিনি  জানালেন, আমি খুশি হয়েছি। তবে যেহেতু দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলাম, তাই মন্ত্রীর মর্যাদা আমার জন্য বেমানান। অতএব, এ দায়িত্ব আমি নিচ্ছি না। কিন্তু এখানেও দৃশ্যত তার ইচ্ছার পরাজয়। হঠাৎ দেখা গেল, গাড়িতে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে আদালতে গেলেন তিনি। তাই সর্বত্র প্রশ্ন জাগলো তার পদমর্যাদা নিয়ে। তারপর নিজেই জানালেন, মন্ত্রীর মর্যাদায় বিশেষ দূতের পদটি তিনি গ্রহণ করেছেন।

এভাবেই একের পর এক অসহায় আত্মসমর্পণ চলছে একদার দোর্দণ্ড প্রতাপশালী স্বৈরশাসকের। এমনকি নিজ ঘরেই এখন নিদারুণভাবে পরবাসী তিনি। দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পদে পদে যেমন তার ইচ্ছার পরাজয় ঘটছে, তেমনি ন্যূনতম গুরুত্ব নেই অর্ধশতাব্দীকালের জীবন সঙ্গিনীর কাছেও। সব মিলিয়ে পড়ন্ত বেলায় ভাগ্য বিপর্যয়ের চূড়ান্ত ধাপে তিনি। নিজের দুর্ভাগ্যের সূতোয় বেঁধে নিয়েছেন আপন ভাইকেও। সে কারণে দুই ভাইয়ের এখন দুঃখের কোন সীমা নেই।
ওয়াকিবহালরা জানান, বিরোধী দলের বর্জনের মুখে একতরফা নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে কোন চালাকি ছিল না। দুই ভাই মিলেই সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত করেন। যত চাপই আসুক, নির্বাচনের বাইরে থাকবে তাদের দল। অথচ ছোট ভাই বরাবরই ছিলেন এখনকার ক্ষমতাসীনদের কাছের মানুষ। নিজের দলকে এই পক্ষে রাখতে সব সময়ই বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। এ জন্য দলের বড় অংশের কাছে অনেক নিন্দিতও হয়েছেন তিনি। তবুও ওদিকেই টেনেছেন সব সময়। কিন্তু পাঁচ বছরের মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতা তার মধুর নয়। বরং নানা রকম তিক্ততায় পূর্ণ ছিল। আর সে কারণেই চিন্তায় পরিবর্তন। স্বাভাবিকভাবেই পরিবর্তনটা পছন্দ হয়নি পুরনো বন্ধুদের। সুতরাং শুরু হয় নতুন গেম প্ল্যানের বাস্তবায়ন পর্ব।
মেধাবী ছোট ভাইয়ের সততা, যোগ্যতা ও দক্ষতার ওপর বিশেষ আস্থা ছিল বড় ভাইয়ের। আর সে কারণেই নিজের উত্তরসূরি হিসেবে ক্রমশ দৃশ্যপটে টানছিলেন তাকে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আগের মন্ত্রিসভায় সুযোগ করে দেন তাকে। এ নিয়ে দলের কয়েক নেতা পুড়ছিল হিংসায়। টানা পাঁচ বছর ধরে তারা জ্বলতে থাকেন বিরামহীন ঈর্ষার আগুনে। তাতে নতুন করে ঘি পড়ে এবারের নির্বাচনকে ঘিরে। তারা দু’জনই চট্টগ্রামের কৃতী সন্তান। সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে হাজির হন সাবেক ফার্স্ট লেডির কাছে। বিশেষ আন্তরিকতার সঙ্গে জানালেন, ম্যাডাম আমরা তো চাই স্যারের পর আপনিই হবেন দলের প্রধান। কিন্তু ঘটনা চলে যাচ্ছে অন্যদিকে। স্যার ঠিক করে ফেলেছেন তার উত্তরসূরি। নিজের ভাইকেই তিনি বসাবেন ওখানে। তারপর যা ঘটলো, তা হার মানায় বাংলা চলচ্চিত্রের কাহিনীকেও। রীতিমতো জ্বলে উঠলেন সাবেক ফার্স্ট লেডি। বললেন, এটা কিছুতেই হতে দেয়া যায় না। কৌশল ঠিক করার নির্দেশ দিলেন ওই দুই নেতাকে। কৌশল আগেই ঠিক করা ছিল। কেবল সেটা জানালেন ম্যাডামকে। তিনি তো এক কথায়ই রাজি। তারপর শুরু হলো বাস্তবায়নের পর্ব। দলের চেয়ারম্যান হিসেবে সকল প্রার্থীকে নির্দেশ দিলেন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে। তাতে সাড়া দেন বেশির ভাগ প্রার্থী। মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন করেন নেতা এবং তার ছোট ভাই। কিন্তু এবার গোল বাধায় স্বয়ং নির্বাচন কমিশন। নানা ছুঁতায় গ্রহণ করা হয়নি বেশ কয়েকটি মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন। নেতা ও তার ভাইয়ের আবেদনও অগ্রাহ্য করা হয়। সুতরাং ইচ্ছার বাইরেই তারা রয়ে যান নির্বাচনে। এভাবে নতুন এক নজির সৃষ্টি করে নির্বাচন কমিশন।
এরই মধ্যে ঘটলো অন্য ঘটনা। রাতের আঁধারে হঠাৎ করেই নেতাকে নিয়ে যাওয়া হলো হাসপাতালে। কাছের লোকজন কিংবা ভাইবোন কেউই জানলো না তার অসুস্থতার কথা। জানলো কেবল রাষ্ট্র। আর তাই সবকিছু হলো শীর্ষ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনায়। নির্বাচনকেন্দ্রিক নানা নাটকীয়তার পুরোটা সময় তিনি সেখানেই ছিলেন। অবশ্য এটা ছিল তার পুরনো ঠিকানা। সে কারণে সাধারণ নেতাকর্মীদের দেখা-সাক্ষাতের কোন সুযোগ ছিল না। এই সুযোগে তার নামে আসতে শুরু করলো নানা কিসিমের বক্তব্য। এক উপদেষ্টা সংবাদ ব্রিফিং করে জানালেন, নেতা স্বেচ্ছায় হাসপাতালে যাননি। তাকে সেখানে আটক রাখা হয়েছে। নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি অটল আছেন। একই কথা জানালেন নেতার ছোট ভাইও। বললেন, আমরা নির্বাচনে নেই। আমাদেরকে জোর করে নির্বাচনে রাখার চেষ্টা চলছে। এসব কথার বিপরীতে কিছুটা রাখঢাকের কৌশল গ্রহণ করে সাবেক ফার্স্টলেডির পক্ষ। মিডিয়াকে আড়ালে রেখেই নির্বাচনের সব রকম প্রস্তুতি চলে এই পক্ষে। এভাবেই চলে আসে নির্বাচনের দিন। নজিরবিহীন বর্জনের মধ্যে সারা দেশে অনুষ্ঠিত হয় ভোট। সেই ভোটে জিতে যান ফার্স্ট লেডির অনুসারীরা প্রায় সকলে। কৌশলগত কারণে জিতিয়ে আনা হয় নেতাকেও। শুধু পরিকল্পনামাফিক হারিয়ে দেয়া হয় সাবেক ফার্স্ট লেডির দেবরকে। তবে হেরে গিয়েও তিনি জিতে যান অন্যভাবে। সেদিনের নির্বাচনে সারা দেশে মোট ৪৩টি কেন্দ্রে একটি ভোটও পড়েনি। এর মধ্যে ২৭টি কেন্দ্র ছিল তার নির্বাচনী এলাকায়। কিন্তু এই জেতায় কোন ফল নেই। ষড়যন্ত্রের পুরো অংশ যখন বুঝতে পারেন, ততক্ষণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বসলেন দুই ভাই। নতুন কিছু কৌশলও ঠিক করলেন। কিন্তু তাতে কোন কাজ হয়নি। পাওয়ার পলিটিকসের ঝানু প্লেয়ার হিসেবে পরিচিত এই নেতা কঠিন প্রতিশোধের শিকার হলেন অর্ধশতাব্দীরও অধিককালের সঙ্গিনীর কাছ থেকে। দলের ভেতরে-বাইরে তার কোন কথাই এখন আর হালে পানি পাচ্ছে না। সংরক্ষিত আসনে এমপি পদে নিজের পছন্দের কাউকেই জায়গা দিতে পারেননি তিনি। এমনকি ষড়যন্ত্রের লক্ষ্যকেন্দ্রে থাকা আপন ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকেও নয়। অগত্যা ভীতি-হতাশার অন্ধকারেই নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে বাঁচতে চাইছেন মামলার জালে বন্দি এই রাজনীতিক। আর সবকিছু থেকে নিজেকে আড়ালে রাখতে আপাতত দেশের বাইরে গেছেন তার ছোট ভাই।

দলের অস্তিত্ব নিয়েই চিন্তিত ক্ষমতাহীন এরশাদ

Sunday, January 26, 2014

চরম বেকায়দায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। নির্বাচনে উভয়কুল রক্ষার কৌশল নিয়ে এখন তিনি তার দলের অস্তিত্ব নিয়েই চিন্তিত।
নির্বাচনের আগেই একদফা ভাঙনের পর তিনি যে কৌশল নিয়েছিলেন নির্বাচনের পর তা তার জন্য বড় বিপদ ডেকে এনেছে। এখন তিনি নিজ দলেও ক্ষমতাহীন। স্ত্রী রওশন এরশাদ বিরোধী দলের নেতা হওয়ার পর দলীয় মন্ত্রী ও এমপিরা এখন রওশনের পাশে। দলের সংসদীয় দলের বৈঠক হচ্ছে রওশনের নেতৃত্বে। রওশনের নেতৃত্বে স্মৃতিসৌধে ফুল দেয়া হয়েছে এরশাদকে ছাড়াই। এদিকে নির্বাচনের আগে এরশাদের বর্জনের ঘোষণা দেয়ার পর যেসব প্রার্থী সরে দাঁড়িয়ে ছিলেন তারাও ক্ষোভ আর অভিমান নিয়ে এরশাদ থেকে দূরে। এ নেতারাও এখন এরশাদকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। দলের মধ্যে এমন অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যেই এরশাদের সামনে হাজির হয়েছে আরেক পরীক্ষা। মঞ্জুর হত্যা মামলার খড়্‌গ তার মাথার ওপর। মামলার রায়ের তারিখ নির্ধারণ করার পরের দিন এরশাদ বিবৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তার সহযোগী হওয়ার ঘোষণা দেন। তার এ বিবৃতি দেয়ার পর অনুগত নেতাকর্মীরাই বলছেন, এরশাদ চরম এক অস্বস্তিকর সময় পার করছেন। দলে যেমন তার নিয়ন্ত্রণ নেই, তেমনি রাজনৈতিক অঙ্গনেও তিনি আস্থাহীন। সর্বশেষ সংরক্ষিত আসনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে নিজের ক্ষমতা নিয়ে দলেই প্রশ্নের মুখে পড়েছেন। এ বিষয়ে কর্তৃত্ব চেয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেন সংসদের বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ। যদিও মনোনয়নপত্র বিক্রি ও প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এরশাদ। এরপর নিজের পছন্দের প্রার্থীদের একটি তালিকাও করেছিলেন। এরশাদের বোন, ভাই জিএম কাদেরের স্ত্রীসহ এরশাদের পছন্দের ৬ প্রার্থীর নাম কোন কোন গণমাধ্যমে ছাপাও হয়েছে। কিন্তু এ তালিকা প্রকাশের পর রওশন এরশাদ ও দলীয় এমপিরা আপত্তি তোলেন। তারা এরশাদ ঘনিষ্ঠ প্রার্থীদের এমপি করার বিপক্ষে মত দেন। এ নিয়ে রওশন এরশাদের বিরোধিতার মুখে চূড়ান্তভাবে প্রার্থীদের নাম প্রকাশ থেকে বিরত থাকেন এরশাদ। দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার সাংবাদিকদের জানান, এরশাদ ও রওশন এরশাদ পরামর্শক্রমে প্রার্থী ঠিক করবেন। দলে কোন দ্বন্দ্ব নেই এবং সংসদ অধিবেশন শুরু হলে জাতীয় পার্টি নিয়ে সব ধরনের বিভ্রান্তি কেটে যাবে। এদিকে মহাসচিব এমন দাবি করলেও নির্বাচনকে ঘিরে জাতীয় পার্টিতে চলছে চরম অস্থিরতা। নির্বাচনের আগেই এরশাদকে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমদ এরশাদের নেতৃত্ব ত্যাগের ঘোষণা দেন। প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম মসিহকে মহাসচিব করে তিনি জাতীয় পার্টির কমিটি ঘোষণা করেন। গতকাল রাতে কাজী জাফর আহমদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটে যোগ দিয়েছে। কাজী জাফরের জাতীয় পার্টিতে এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির বেশ কয়েকজন প্রেসিডিয়াম সদস্য যুক্ত হয়েছেন। এ ছাড়া এরশাদের নির্দেশে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো আরও কয়েকজন নেতা কাজী জাফরের জাতীয় পার্টিতে যোগ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে নির্বাচনের পরে এরশাদের নেতৃত্বে থাকা জাতীয় পার্টিতেও চরম বিভক্তি দেখা দিয়েছে। সরকারি সুবিধা নেয়া নিয়ে সংসদ সদস্যরা রওশন এরশাদকে ঘিরে ক্ষমতার বলয় তৈরি করেন। এ ক্ষেত্রে দূরে রাখা হয় এরশাদকে। এরশাদকে ক্ষমতাহীন করার কৌশলের অংশ হিসেবে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জিএম কাদেরকে এমপি হিসেবে সংসদে নেয়া হয়নি। দলের নেতাদের মধ্যে যে প্রক্রিয়ায় এরশাদকে বিজয়ী করা হয়েছে একই প্রক্রিয়ায় জিএম কাদেরকে হারিয়ে দেয়া হয়েছে। এরশাদের আদেশ-নির্দেশমতো কাজ করায় জিএম কাদের এখন রওশনপন্থি নেতাদের অপছন্দ। এদিকে এরশাদ ও তার অনুগত নেতারা কোণঠাসা হয়ে পড়ায় তৃণমূলের কর্মীরাও হতাশ। দিকভ্রান্ত অবস্থানে আছেন তারা। এ অবস্থার মধ্যেই উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দেন এরশাদ। একই সঙ্গে বলা হয় নির্বাচনে একক প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হবে। কিন্তু এই একক প্রার্থী কারা ঠিক করবে এ সম্পর্কে এ পর্যন্ত স্পষ্ট কোন নির্দেশনা পাননি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা। রওশন এরশাদ দলীয় এমপিরা চাইছেন তাদের অনুগত নেতাদের উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী করতে। অন্যদিকে এরশাদের অনুগত নেতারা চাইছেন পার্টির চেয়ারম্যানের সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করতে। এমন টানাপড়েনের মধ্যে জাতীয় পার্টির সমর্থিত প্রার্থীরা নিজেদের মতো করে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দলের নেতাকর্মীদের মতে, দলের এমন অগোছালো অবস্থায় উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিলে তেমন সুবিধা করতে পারবেন দল সমর্থিত প্রার্থীরা। একই সঙ্গে সুবিধাজনক উপজেলায় একাধিক প্রার্থী থাকায় তাদের জয়ের সম্ভাবনাও কমে যাবে।

‘আদর্শগত ঐক্য আছে বলেই ১৮ দলে যাচ্ছি’ -কাজী জাফর আহমদ

Saturday, January 25, 2014

জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমদ বলেছেন, যে কোন মুহূর্তে গণ-অভ্যুত্থানে পড়তে পারে সরকার। আর সেই আগুনের বহ্নিশিখা সারা দেশে ছড়িতে পড়তে পারে।
তাসের ঘরের মতো ভেঙে যেতে পারে তাদের স্বপ্ন। তাই বিরোধী জোটের হতাশার কিছু নেই। আমরা শর্টকাট রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। কাজী জাফর আহমদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটে যুক্ত হওয়ার একদিন আগে গতকাল দুপুরে গুলশানের নিজ বাসভবনে সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ চলমান আন্দোলন নিয়ে তার আশার কথা জানিয়ে বলেন, বৃহস্পতিবার চীনের রাষ্ট্রদূত লি জুনের সঙ্গে আমার বৈঠক হয়েছে। চীন বাংলাদেশের জনগণের মনোভাব ও সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি জানতে চেয়েছে। আমরা তা তুলে ধরেছি। কাজী জাফর বলেন, শনিবার দুপুরে আমাদের দলের নির্বাহী কমিটির বৈঠক। বৈঠকে আমরা ১৮ দলীয় জোটে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা করবো। নির্বাহী কমিটিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে রাতেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করে ১৮ দলে যুক্ত হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। ১৮ দলীয় জোটে অন্তর্ভুক্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে এরশাদকে ত্যাগকারী এ নেতা বলেন, বিএনপির সঙ্গে আমাদের মতাদর্শগত ঐক্য রয়েছে। আমরা উভয়ই বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। এ সম্পর্ককে স্থায়ী রূপ দিতে চাই। কাজী জাফর আহমদ বলেন, ২৪শে জানুয়ারি গণ-অভ্যুত্থান দিবস। আইয়ুবের মার্শাল ল’ সরকার যখন বাংলাদেশের জনগণের ওপর তাদের বিজাতীয় শাসন ও শোষণ নিয়ে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছিল। ঠিক তখন; যখন কোথাও কোন আশার আলো দেখা যাচ্ছিল না। আজকের মতোই হতাশার অমানিশার ঘোর অন্ধকার রাজনীতিকে গ্রাস করে নিয়েছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে আমাদের দলের কমরেড আসাদের ২০শে জানুয়ারি আত্মদানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল আন্দোলন। এ স্ফুলিঙ্গ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল সারা দেশে। গণ-অভ্যুত্থানের লেলিহান শিখায় আইয়ুবের মসনদকে ছারখার করে দিয়েছিল। ২০শে জানুয়ারি আসাদ ও ২৪শে জানুয়ারি নবকুমার হাই স্কুলের ছাত্র মতিউর রহমানের শাহাদাতের মধ্য দিয়ে চরম শিখরে পৌঁছেছিল আমাদের আন্দোলন। শহীদ মতিউরের আত্মদানের দিনকে আমরা গণ-অভ্যুত্থানের দিন হিসেবে চিহ্নিত করেছিলাম। তিনি বলেন, আজকেও মনে রাখতে হবে একদলীয় বাকশালী ও ফ্যাসিবাদী শাসনে জনজীবন- অতিষ্ঠ, চারদিকে আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। ঠিক তেমনি আমাদের ’৬৮-৬৯ সালের কথা মনে রাখতে হবে। যে কোন স্থানে যে কোন সময় স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি হলে সেখান থেকে গণ-অভ্যুত্থানের বহ্নিশিখা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই গণ-অভ্যুত্থানের কথা মনে রাখতে হবে। হতাশা নয়। গভীর আশাবাদ ও বলিষ্ঠ আত্মপ্রত্যয়ের মাধ্যমে চলমান আন্দোলনকে গণ-অভ্যুত্থানের দিকে নিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে অনেকেই আসতে চায়, আমরা শর্টকাট রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমাদের রাজনীতি শাশ্বত সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত যে একদিন এরশাদ সাহেবের জাতীয় পার্টির সব নেতাকর্মীই আমাদের জাতীয় পার্টিকে প্রকৃত জাতীয় পার্টি মনে করবে। গত কয়েক মাস ধরে ১৮ দলের কর্মসূচিতে সমর্থন দিচ্ছেন কাজী জাফরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির একাংশ।

বর্ধিত সভা: জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বর্ধিত সভা আজ দুপুর ১২টায় বাড়ি নং-২, রোড নং-৬৮-এ, গুলশান ২-এ অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রেসিডিয়াম সদস্য, উপদেষ্টা, ভাইস চেয়ারম্যান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সব সদস্য এবং জেলা কমিটির সভাপতি সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। সভায় দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে করণীয় সম্পর্কে নীতিনির্ধারণী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং একটি সাংগঠনিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

সহসাই ফের বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে : হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ

Monday, January 20, 2014

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাশীদের উদ্দেশে বলেছেন, সহসাই ফের বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। আপনারা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিন।
একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাচনেরও প্রস্তুতি নিতে হবে। উপজেলা নির্বাচনে আর কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। গতকাল সংরক্ষিত মহিলা আসনে আগ্রহীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এদিকে গতকাল উপজেলা নির্বাচনে দলগতভাবে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় পার্টি। এক্ষেত্রে পার্টির তহবিলে টাকা জমা দিয়ে ফরম কেনার জন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের প্রতি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যদিও স্থানীয় সরকার নির্বাচন হিসেবে উপজেলায় দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের সুযোগ নেই গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে। সকাল ১১টায়  বনানী কার্যালয়ে তাদের সাক্ষাৎকার নেয়ার কথা থাকলেও তা নেয়া হয়নি। এ সময় গণমাধ্যম কর্মীদেরও প্রধান ফটকের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। আর এমপি প্রার্থীদের সঙ্গেও আলাদা করে কোন কথা বলেননি পার্টি চেয়ারম্যান এরশাদ। দিয়েছেন কিছু দিকনির্দেশনা। বলেছেন- এটাই শেষ নির্বাচন নয়। আবারও নির্বাচন হবে। যারা মহিলা এমপি হতে পারবেন না তাদেরকে উপজেলা নির্বাচনে চেষ্টা করার পরামর্শ দেন এরশাদ। সাক্ষাৎকার না নিয়ে তাদের বিদায় দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মহিলা পার্টির নেত্রীরা। মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার বলেছেন, পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও সংসদীয় দলের নেতা রওশন এরশাদের সঙ্গে সমন্বয় করে দু’একদিনের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনে প্রার্থীদের নামের তালিকা পাঠানো হবে। এ প্রসঙ্গে জাপার মহিলা নেত্রীরা জানান, আমাদের সকাল ১০টার মধ্যে বনানী কার্যালয়ে আসতে বলা হয়েছিল। এরশাদ সাহেব ১১টার দিকে এলেও তিনি আমাদের সাক্ষাৎকার নেননি। আমাদের কনফারেন্স রুমে বসিয়ে  জাতীয় ও উপজেলা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জাতীয় মহিলা পার্টির সিনিয়র সহ-সভাপতি রিতু নূর বলেন, আমাদের এমপি করা হবে না এ জন্য আমাদের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়নি। আমরা আশঙ্কা করছি অন্য কোনভাবে বা অন্য কিছুর বিনিময়ে সুসময়ের পাখিদের এমপি করা হচ্ছে। এবার যদি তা করা হয় তাহলে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলবো। তিনি বলেন, পার্টি চেয়ারম্যানের জন্য ১ বছরের ছেলে নিয়ে জেল খেটেছি। যার জন্য জীবন-যৌবন শেষ করলাম তিনি এখন আর আমাদের চেনেন না।

জাতীয় মহিলা পার্টির রাজশাহী মহানগরীর সভাপতি বেগম সফুরা সরকার বলেন, আমরা মাঠে কাজ করি। টাকাও নেই। এখানে অনেকে এসেছেন তাদের আমরা জীবনেও দেখিনি। তারা মেকআপ পার্টি। মাঠে কাজ করলে এত সাজার সময় থাকে না। মহিলা পার্টির যুগ্ম সম্পাদক শিরীন চৌধুরী রীতা বলেন, জাপায় এখন আর প্রকৃত নেতা-নেত্রীর মূল্যায়ন নেই। তবে স্যার বলেছেন এটাই শেষ নির্বাচন নয়। জাতীয় মহিলা পার্টির গাজীপুর মহানগরীর সম্পাদক রোকসানা পারভীন বলেন, স্যার বলেছেন সহসাই আরেকটি নির্বাচন হবে। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের দুপুর ১২টার দিকে জাপা মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদার বলেন, একটি বড় দলে মনোনয়নের সিদ্ধান্ত নিতে গেলে অনেক কথাই আসে। এটাই স্বাভাবিক। প্রার্থীদের টাকার বিনিময়ে এমপি করা হচ্ছে এমন প্রশ্নে রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন,  অনেক কথাই আসবে। তবে তা সঠিক নয়। এবার বিশ্বস্ত ও ত্যাগী নেত্রীদের মূল্যায়ন  করা হবে। এরশাদ ও রওশন এরশাদের মধ্যে মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্বের বিষয়ে জাপার মহাসচিব বলেন, এসব অভিযোগ সঠিক নয়। জাপা মহাসচিবের বক্তব্য শেষে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এরশাদ বনানীর কার্যালয় ত্যাগ করেন। তবে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কোন কথা বলেননি। গত শুক্রবার থেকে জাপার সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু হয়।  রোববার পর্যন্ত ৬টি আসনের বিপরীতে ৯৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
২২ ও ২৩শে জানুয়ারি জাতীয় পার্টির উপজেলা প্রার্থীদের মধ্যে আবেদনপত্র বিতরণ: এদিকে, উপজেলা নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীদের মধ্যে আগামী ২২ ও ২৩শে  জানুয়ারি  আবেদনপত্র বিতরণ করা হবে। জাতীয় পার্টির ৬৬, কাকরাইলস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে হবে। আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে চেয়ারম্যান প্রার্থীর জন্য পার্টি তহবিলে তিন হাজার টাকা এবং ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর জন্য দুই হাজার টাকা করে পার্টি তহবিলে জমা দিতে হবে। ২৩শে জানুয়ারি বিকালেই প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জাপার অফিস সূত্র জানিয়েছে।

‘সবাই কেবলামুখী তাই আমিও হয়েছি’- কাজী ফিরোজ রশীদ by নিয়াজ মাহমুদ

Saturday, January 4, 2014

এক সময়ে সরকারের কঠোর সমালোচক ছিলেন জাতীয় পার্টির নেতা কাজী ফিরোজ রশীদ। অবস্থান এখন ঠিক উল্টো।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেও তিনি আছেন নির্বাচনে। প্রচারণাও চালাচ্ছেন। তার মতে দলের সবাই কেবলামুখী। তাই তিনি নিজেও কেবলামুখী হয়েছেন। বলেছেন- তার এই অবস্থানই সঠিক। সময়ের সিদ্ধান্ত। তবে ভুলের জন্য ভবিষ্যতে দল শাস্তি দিলে তা-ও মেনে নিতে রাজি জাতীয় পার্টির এ প্রেসিডিয়াম সদস্য। ধানমন্ডির বাসায় মানবজমিন-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন জাপার এই সময়ের আলোচিত নেতা। তিনি বলেন, আমার কোন দোষ নেই। আমার সারা জীবনের রাজনীতি ঘাঁটলেও কোথাও দোষ খুঁজে  পাবেন না। পাকিস্তান আমলে বার বার জেলে গিয়েছি। ১৯৬২, ১৯৬৪ ও ১৯৬৬ সালে জেলে ছিলাম। কেন শেখ মুজিব জেলে গেলেন? এই জন্য ১৯৬৮ সালে আন্দোলন করেছি। এক বছর জেল হলো আমার। যা করেছি নেতা এরশাদের জন্য। তবে দুঃখের রাজনীতি করি আমরা। আর কি বলবো? জাপার ঢাকা উত্তরের নেতারা গম, চাল, তেলসহ সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন। আমরা দক্ষিণের নেতারা কিছুই পাইনি। চেয়ারম্যান স্যার সভা ডেকে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর থেকে আমি বদলে গেছি। তার ঘোষণা ও কথাবার্তা শুনে মনে হয়েছিল আমার রাজনীতিতে ভুল ছিল। আমি শপথ নিলাম নির্বাচনে যাবো। যারা মন্ত্রী হয়েছেন তাদের সহযোগিতা করবো। গত নির্বাচনে আমরা মন্ত্রী পেয়েছি একজন। আর এখন ৬ জন। আমার রাজনীতি ছিল ভুল। ওই দিনই প্রতিজ্ঞা করলাম। নির্বাচনেও দাঁড়িয়ে গেলাম। অন্য কোথাও থেকে দাঁড়ালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হতে পারতাম। স্যার বললেন- ঢাকা-৬ আসন থেকে নির্বাচন করতে। আমি তা-ই করলাম। চেয়ারম্যান স্যার নির্বাচন বর্জন করলেন। এরপর কি হয়েছে না হয়েছে, তা জানি না। আমি ঠিক পথেই আছি। আমরা রাজনীতি করি। একবার শপথ করলে আর বেরোতে পারি না। মুখের কথা বা বন্দুকের গুলি একবার বের হয়ে গেলে তা ফিরিয়ে নেয়া যায় না। ফিরোজ রশীদ বলেন, সময়-বয়স বা যৌবন একবার চলে গেলে তা আর ফিরে পাওয়া যায় না। আমি সঠিক পথে আছি। তিনি বলেন, এরশাদ স্যার এ জীবনে যত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন- সবচেয়ে বড় এবং ভাল সিদ্ধান্ত হয়েছে নির্বাচনে যাওয়া ও মন্ত্রিত্ব দেয়া। এটা তার জীবনে শেষ এবং বড় সিদ্ধান্ত। একজনকে উপদেষ্টা করার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ৩ বার ফোন দিয়েছেন। পাশাপাশি চিঠিও দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন- তাকে মন্ত্রী না করলে কেবিনেটে স্যারের সমস্যা হবে। পার্টির চেয়ারম্যান সিএমএইচ থেকে জিএম কাদের ও রুহুল আমীন হাওলাদারের মাধ্যমে বলেছেন- দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিতে। এ প্রশ্নে কাজী ফিরোজ বলেন, কার কাছে বলেছেন, কিভাবে বলেছেন- আমার জানা নেই। তবে এরশাদ সাহেবের অন্তরের লোক যারা (আনিস-বাবলু) তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে শুকুর আলহামদুলিল্লাহ বলে আমিও মিলাদ পড়াবো।

তবুও জাপার অবস্থান পরিষ্কার হলো না

Thursday, January 2, 2014

সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী প্রশ্নোত্তর পর্বের পরও পরিষ্কার হলো না জাতীয় পার্টি পুরোদমে নির্বাচনে আছে কি না। যদিও দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন; তাঁর পাশে ছিলেন না দলটির মহাসচিবসহ নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখেন এমন অনেক নেতাই।

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ দাবি করেছেন, দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সিএমএইচে, জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদ শারীরিকভাবে অসুস্থ, মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি। ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির প্রধান জি এম কাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, আলাদাভাবে দলের সভাপতিমণ্ডলীর কে, কোথায় আছেন তার উত্তর তিনি দিতে পারবেন না। তবে তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিটি শব্দ এরশাদের অনুমোদিত। ইশতেহারটি সভাপতিমণ্ডলীর সভায় অনুমোদন পেয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, দেশের প্রায় সব সংবাদমাধ্যমের সামনে নির্বাচনী ইশতেহার তাঁরা ঘোষণা করছেন। এটি বিশ্বাস করা না-করা সংবাদমাধ্যমের ওপর তাঁরা ছেড়ে দিয়েছেন। আজ আনিসুল ইসলাম মাহমুদের পাশে ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিতি পাওয়া কাজী ফিরোজ রশীদ, নারায়ণগঞ্জের নাসিম ওসমান, তাজুল ইসলাম, সাবেক মন্ত্রী মাঈদুল ইসলাম প্রমুখ।
জাতীয় পার্টির যেকোনো অনুষ্ঠানে দলটির প্রেস শাখা সাংবাদিকদের অবহিত করলেও আজকের ইশতেহার ঘোষণা সম্পর্কে শাখাটি ছিল নীরব। গতকাল বুধবার রাতে জাতীয় পার্টির কোনো কোনো নেতা মুঠোফোনে খুদে বার্তা দিয়ে সাংবাদিকদের ইশতেহার ঘোষণা হবে বলে জানান। তবে, জাতীয় পার্টির নির্বাচনমুখী অংশটির দাবি, এরশাদ জানেন আজ ইশতেহার ঘোষণা হচ্ছে। তিনি জাতীয় পার্টির পার্লামেন্টারি বোর্ডের প্রধান, তিনি যাঁদের মনোনয়ন দিয়েছেন, তাঁরাই লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে আছেন। ঐক্যবদ্ধ জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে তিনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। আনিসুল ইসলাম মাহমুদ দাবি করেন, এরশাদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। এরশাদ তাঁকে বলেছেন, ৩ ডিসেম্বর নির্বাচন থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কারণ মাঠ পর্যায়ে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত ছিলেন। এখন তাঁর শঙ্কা কেটে গেছে।

প্রসঙ্গত, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা, জাসদের ইশতেহার ঘোষণা করেছেন সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া, উপস্থিত ছিলেন দলটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির ইশতেহার ঘোষণা করেন দলটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

ইশতেহারের স্লোগান‘শান্তির জন্য পরিবর্তন—পরিবর্তনের লক্ষ্যে জাতীয় পার্টি’।গালভরা স্লোগান হলেও তিন পৃষ্ঠার ইশতেহারটি পড়তে আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সময় লেগেছে মাত্র মিনিট পাঁচেক।ইশতেহারে মোটা দাগে সব খাতের উন্নয়ন করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।বিভিন্ন সময় এরশাদ যেসব বক্তব্য দিয়েছেন তা-ও বলা হয়েছে।

 তবে ইশতেহার ঘোষণার আগে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে কিছু প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দলে কোনো বিদ্রোহী অংশ নেই। সবার চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘সচরাচর যে অবস্থার মধ্যে নির্বাচন হয়, তেমনটা এবার নয়। নির্বাচনে অংশ নেওয়া একটি দলের সাংবিধানিক অধিকার, বর্জন করাও সাংবিধানিক অধিকার। জাতীয় পার্টি সব সময় সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন চেয়েছে। নব্বইয়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর পার্টির চেয়ারম্যান জেলে ছিলেন, কিন্তু আমরা নির্বাচনে গেছি। ১৯৯৬ সালেও তিনি জেলে ছিলেন, ২০০১ সালে আদালতের নির্দেশে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি, তবু জাতীয় পার্টি নির্বাচন করেছে। চয়েসটা হলো সাংবিধানিক ও অসাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্যে।’ তিনি সহিংসতার মাধ্যমে ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলে জঙ্গিবাদের উত্থানের প্রসঙ্গও এনেছেন। আনিসুল ইসলাম বলেন, তাঁর দল লাঠি মিছিল পছন্দ করে না, বোমা দিয়ে মানুষ হত্যারও বিরোধী। সব দলের মধ্যে বোঝাপড়া করে সংকট সমাধান করা উচিত, কিন্তু বোমা মেরে যদি সমস্যার সমাধান হয়, তাহলে ১০ লাখ জঙ্গি যে তাণ্ডব করবে, সেটিও অন্যভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

এরশাদ কি আটক, জাপা এখন কার নেতৃত্বে, মন্ত্রীরা কি সত্যিই পদত্যাগ করেছিলেন—প্রশ্নোত্তর পর্বের প্রায় পুরোটাজুড়েই ঘুরেফিরে আসে এরশাদ প্রসঙ্গ। তিনি সিএমএইচে কেন, কবে ছাড়া পাবেন, তাঁর অসুখটা কী—এসব প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গেছেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি বলেছেন, দলের মহাসচিব এসব প্রশ্নের জবাব দেবেন। এরশাদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর যে ঘোষণা দিয়েছেন, তাতে অনড় রয়েছেন বলে ববি হাজ্জাজ এক ভিডিওবার্তায় গতকাল জানিয়েছেন। আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, ববি জাতীয় পার্টির গবেষণা সেলের একজন কর্মকর্তা। তিনি কীভাবে এসব কথা বলছেন তা তাঁর জানা নেই।

দলের নেতৃত্ব কার হাতে—জানতে চাইলে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, চেয়ারম্যান তাঁর অবর্তমানে দল চালানোর দায়িত্ব রওশন এরশাদকে দিয়েছেন। এরশাদের অনুপস্থিতিতে দলের মহাসচিব ও জি এম কাদেরের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে বলে এরশাদ স্বাক্ষরিত চিঠি আছে সংবাদমাধ্যমের হাতে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, দায়িত্ব রওশন এরশাদকে দেওয়া হয়েছে।

আনিসুল ইসলাম মাহমুদের কাছে প্রশ্ন ছিল, তাঁরা মন্ত্রিসভায় আছেন কি না। তিনি উত্তরে বলেছেন, তিনি মন্ত্রিসভায় আছেন। ডাকযোগে পাঠানো পদত্যাগপত্র পৌঁছেছে কি না, সে সম্পর্কে তিনি জানেন না বলে উল্লেখ করেন।

বক্তব্য উপস্থাপনের সময় একাধিকবার সমাজ পরিবর্তনে যাঁরা ভূমিকা রাখেন তাঁদের সমালোচনা করেন তিনি। তিনি বলেন, নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিয়ে যাঁরা কথা বলছেন, তাঁরা বোমা হামলার নিন্দা করছেন না।

 
Support : Dhumketo ধূমকেতু | NewsCtg.Com | KUTUBDIA @ কুতুবদিয়া | eBlog
Copyright © 2013. News 2 Blog 24 - All Rights Reserved
Template Created by Nejam Kutubi Published by Darianagar Publications
Proudly powered by Dhumketo ধূমকেতু