রাজনৈতিক সহিংসতায় উদ্বিগ্ন জাপান

Monday, December 2, 2013

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার নাভি পিল্লাইয়ের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বাংলাদেশের চলমান সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাপানের রাষ্ট্রদুত শিরো সাদোসিমা।

সোমবার বিকেলে বাংলাদেশস্থ জাপান রাষ্ট্রদূত এক বিবৃতি দিয়ে এ উদ্বেগের কথা জানান।

তিনি বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে এই সহিংসতা বন্ধের সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু জাপান। কোনো ধরনের সহিংসতা জাপান চায় না। তাই বাংলাদেশের এই বর্তমান সংঘাত-সহিংসতার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাই। এই সংঘাত ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড জনগণের জীবন ও উন্নয়নকে ব্যাহত করছে।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ভবিষ্যত স্বার্থে সহিংসতা পরিহার করে একটি গঠনমূলক আলোচনা মাধ্যমে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য এবং সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন চায় জাপান।”

প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে শান্তির মডেল উপস্থাপন করলেন

Saturday, September 24, 2011

বিশ্বকে পাল্টে দিতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে 'জনগণের ক্ষমতায়ন' মডেলের রূপরেখা বিশ্বনেতাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালনে এই মডেল বাস্তবায়নের জন্য জাতিসংঘের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে তিনি বলেন, এই শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে জনগণের ক্ষমতায়ন এবং মানবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে তাঁর সরকারের অঙ্গীকার এবং বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষার মর্যাদা দিতে বিশ্বনেতাদের সমর্থনও কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় শনিবার দুপুরে (বাংলাদেশ সময় শনিবার রাতে) জাতিসংঘের ৬৬তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে 'আন্তর্জাতিক বিরোধ নিরসনে শান্তিপূর্ণ মধ্যস্থতা' শীর্ষক মূল প্রতিপাদ্যে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ মডেল উপস্থাপন করেন শেখ হাসিনা। বরাবরের মতো প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাবা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেন। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বাংলায় ভাষণ দিলেন তিনি। ১৯৭৪ সালে প্রথমবারের মতো সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সময় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটভুক্ত দলগুলোর পক্ষ থেকে জাতিসংঘ ভবনের সামনে শান্তি সমাবেশ করা হয়েছে। সেখানে বিএনপির নেতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে বলে নেতারা অভিযোগ করেন। তাঁরা বিরোধী দলের এসব কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন। এ সমাবেশে পূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, জাসদ নেত্রী শিরীন আক্তারসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে 'যেখানেই শেখ হাসিনা সেখানেই প্রতিবাদ কর্মসূচি'র আলোকে একই সময় বিএনপি-জামায়াত জোটের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ এই বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেন।
শেখ হাসিনা তাঁর উপস্থাপিত শান্তির মডেলে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূরীকরণ, বৈষম্য দূরীকরণ, বঞ্চনার লাঘব, ঝরে পড়া মানুষকে সমাজের মূলধারায় অন্তর্ভুক্তি, মানবসম্পদ উন্নয়ন ত্বরান্বিত ও সন্ত্রাসবাদের মূলোৎপাটন করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এই ছয়টি পরস্পর ক্রিয়াশীল বিষয় শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সারা জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে প্রণীত এই মডেলে গণতন্ত্র এবং উন্নয়নকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সব মানুষকে সমান চোখে দেখা এবং মানবিক সামর্থ্য উন্নয়নের কাজে লাগানোকে তাঁর মডেলের মূল বিষয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, একমাত্র শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই এসব বাস্তবায়ন এবং সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব।
এ লক্ষ্যে প্রতিটি রাষ্ট্রকে আন্তরিকভাবে সঠিক ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানেও এটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে মত প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। শান্তিকেন্দ্রিক উন্নয়ন মডেল প্রয়োগের মাধ্যমে সাত বিলিয়ন মানুষের বিশ্বকে পাল্টে দেওয়া এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুখ-শান্তি নিশ্চিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচারের জন্য একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে তাঁর সরকার। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা ছাড়া শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়_মন্তব্য করে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র আরো শক্তিশালী হবে। 'আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সনদের অনুস্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনার ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ' বলেন তিনি। অতীত ভুলের সংশোধনের এটিই একমাত্র পথ এবং এর মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য সুসংহত হবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের ব্যাপারে নিজের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, 'আমি ব্যক্তিগতভাবে সন্ত্রাসের শিকার।' এ প্রসঙ্গে তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঘটনা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি নাইন-ইলেভেনসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী হামলার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এ ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিচারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'শান্তির জন্য ন্যায়বিচার প্রয়োজন, আর শান্তি হচ্ছে উন্নয়নের পূর্বশর্ত।'
১৯৬৪ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত অন্যায্য কর্মকাণ্ডে বিশ্বে পাঁচ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের প্রাণ হারানোর কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা জোরদার করার মাধ্যমে এ ধরনের অপমৃত্যু রোধ করা যেত।
আন্তর্জাতিক শান্তি এবং নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি আন্তরাষ্ট্র জাতিগত সংঘাত নিরসন, সন্ত্রাসবাদ দমন, আন্তসীমানা অপরাধ দমন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবিলা, দারিদ্র্য বিমোচন, পানি ও জ্বালানি নিরাপত্তা তৈরি এবং ধনী ও গরিবের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য বিলোপ করাও জাতিসংঘের কাজ বলে মত প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিশ্বের প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে উল্লেখ করে বাংলাকে জাতিসংঘের অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে গ্রহণ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের আবেদনের প্রতি সবার সমর্থন কামনা করেন শেখ হাসিনা। বিশ্বের শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে ৩৬টি দেশের ৫২টি মিশনে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত লক্ষাধিক শান্তিরক্ষী পাঠিয়েছে।
জাতিসংঘের শান্তি স্থাপন কমিশনে 'ন্যাম'-এর সমন্বয়কারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সব সময়ই সংঘাত-পরবর্তী সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন এবং প্রতিকারমূলক কূটনীতির পক্ষে অভিমত দিয়ে আসছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে 'দ্য রোল অব দ্য ডিপার্টমেন্ট অব পিস কিপিং মিশন' (ডিপিকেও)-তে পরিকল্পনা এবং কৌশল প্রণয়নে বাংলাদেশের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের কৌশল সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে মিল রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে_মন্তব্য করে ২০১৫ সালের মধ্যে দেশের ১২ মিলিয়ন মানুষকে দারিদ্র্যের কশাঘাত থেকে মুক্ত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নারীর ক্ষমতায়নে তাঁর সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার প্রণীত নারী নীতিমালায় নারীর ক্ষমতায়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ, তাদের সুরক্ষা এবং জেন্ডার সমতা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতি এবং বিভিন্ন সেক্টরে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জাতীয় সংসদে ৬৪ জন এবং স্থানীয় সরকার পরিষদের সংরক্ষিত আসনে ১২ হাজার ৮২৮ জন নারী নির্বাচিত হয়েছেন।
মন্ত্রিসভায় পাঁচজন নারী সদস্যের এবং জাতীয় সংসদের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দুজন নারী চেয়ারপারসনের অন্তর্ভুক্তির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, 'আমি নিজে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বিরোধী দলের নেতা, সংসদ উপনেতা এবং জাতীয় সংসদের একজন হুইপ নারী।'
বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সব সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানে সরকারের দৃঢ়সংকল্পের কথা ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
প্রধানমন্ত্রী ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার কথা পুনর্ব্যক্ত করে এ লক্ষ্যে তাঁর সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা বিশ্বনেতাদের অবহিত করেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের এসব উদ্যোগ সফল করতে এবং জনগণের আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহায়তা কামনা করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, 'উন্নত বিশ্বের বাজারে আমাদের পণ্যের অবাধ প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি, বাণিজ্য বাধা অপসারণ, বৈদেশিক সাহায্যের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবিলায় সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে এসব সহায়তা আসতে পারে।'
গত মে মাসে ইস্তাম্বুলে কৃষি, জ্বালানি অবকাঠামো, পানি, অভিবাসন বিষয়ে যেসব অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে সেগুলোর বাস্তবায়ন স্বল্পোন্নত দেশগুলোর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। দোহা রাউন্ডের সফল সমাপ্তির জন্য মন্তারাই, প্যারিস ও ব্রাসেলসে উন্নয়ন সহযোগীরা যেসব অঙ্গীকার করেছে, তা বাস্তবায়নের এখনই উপযুক্ত সময় বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বিপর্যয়ের কথাও প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এক মিটার বৃদ্ধি পেলে আমাদের এক-পঞ্চমাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাবে। এতে ৩০ মিলিয়ন মানুষ বাস্তুহারা হয়ে পড়বে এবং এটা হবে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহতম মানবিক বিপর্যয়।'
ভবিষ্যৎ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার নিজস্ব অর্থায়নে ৩০০ মিলিয়ন ইউএস ডলারের ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড এবং দাতাদের সহযোগিতায় ১০০ মিলিয়ন ইউএস ডলারের ক্লাইমেট চেঞ্জ রেজিলিয়ান্স ফান্ড প্রতিষ্ঠা করেছে। পাশাপাশি সরকার ১৩৪ দফা অ্যাডাপটেশন অ্যান্ড মাইগ্রেশন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, যার আওতায় নদী খনন, ২০ শতাংশ ভূমির বনায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সক্ষম ফসলের জাত উদ্ভাবনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্ধশতাব্দী ধরে নিজের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং নিজেকে শান্তির পক্ষের একজন নির্ভীক যোদ্ধা দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, 'অসাম্য, অর্থনৈতিক বৈষম্য, বঞ্চনা, দারিদ্র্য, সাম্প্রদায়িকতা, নারী ও ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর অধিকারহীনতা এবং সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে কাজ করে।'
প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যের শুরুতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনের সভাপতি জোসেফ ডেইসকে এবং এ বছর সাধারণ অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য 'আন্তর্জাতিক বিরোধ নিরসনে শান্তিপূর্ণ মধ্যস্থতা' শীর্ষক সময়োচিত প্রতিপাদ্য নির্বাচনের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনকে ধন্যবাদ জানান। এ ছাড়া তিনি বিশ্ব মানচিত্রে স্থান পাওয়া নতুন রাষ্ট্র দক্ষিণ সুদান জাতিসংঘের ১৯৩তম সদস্য হওয়ায় সুদানের জনগণকে অভিনন্দন জানান।
সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, অ্যাম্বাসাডর-এট-লার্জ জিয়াউদ্দিন প্রমুখ।

কোকোর দুর্নীতি জাতিসংঘ ও বিশ্বব্যাংকের হ্যান্ডবুকে

Sunday, January 23, 2011

জাতিসংঘ ও বিশ্বব্যাংকের একটি যৌথ প্রকাশনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর কয়েক লাখ ডলার আত্মসাতের প্রসঙ্গ স্থান পেয়েছে।

জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি) এবং বিশ্বব্যাংকের সমন্বিত উদ্যোগ-স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি ইনিশিয়েটিভের প্রস্তুত করা একটি পুস্তিকায় সিমেন্স কম্পানির কাছ থেকে কোকোর ঘুষ গ্রহণের অভিযোগকে 'জাতীয় মুদ্রা সরানোর' উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
'অ্যাসেট রিকভারি হ্যান্ডবুক_এ গাইড ফর প্র্যাকটিশনার্স' নামের পুস্তিকাটি গত ১৬ ডিসেম্বর ভিয়েনায় প্রকাশ করা হয়। ২৭০ পৃষ্ঠার পুস্তিকায় বলা হয়েছে_ঘুষ, অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন দুর্নীতির কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলো প্রতিবছর দুই হাজার থেকে চার হাজার কোটি ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এর মধ্যে গত ১৫ বছরে মাত্র ৫০০ কোটি ডলার উদ্ধার করে ক্ষতিগ্রস্ত দেশে ফিরিয়ে দেওয়া গেছে। বেহাত হওয়া অর্থ উদ্ধার প্রচেষ্টা জোরদার করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে ওই পুস্তিকায়।
পুস্তিকার ৩৬ ও ১৭৯ পৃষ্ঠায় বাংলাদেশে সিমেন্স কম্পানির সঙ্গে আরাফাত রহমান কোকোর অনৈতিক আর্থিক যোগসাজশের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। ৩৬ নম্বর পৃষ্ঠায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান করে দেখেছে, সিমেন্স বিভিন্ন দেশে সরকারি কাজ পেতে জনপ্রশাসন কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে কনসালট্যান্টদের ঘুষ দেওয়া হতো। কনসালট্যান্টরা এর বিনিময়ে সরকারি কর্মকর্তা ও সিমেন্স কর্তৃপক্ষের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করেছেন। আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ ও ভেনিজুয়েলায় এ ধরনের ব্যাপক দুর্নীতির দায়ে সিমেন্সকে শেষ পর্যন্ত ৪৫ কোটি ডলার জরিমানা করা হয়।
পুস্তিকার ১৭৯ পৃষ্ঠায় বলা হয়, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছেলেকে ঘুষ হিসেবে বিদেশি একটি কম্পানির দেওয়া অর্থ ২০০৯ সালে বাজেয়াপ্ত করার পদক্ষেপ নেয় যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের যুক্তি ছিল, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আমেরিকান মুদ্রার বিনিময় কাজটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থরক্ষাকারী ব্যাংকের মাধ্যমেই হতে পারে। ঘুষ দেওয়া প্রতিষ্ঠানটি (সিমেন্স) বিদেশি হলেও সেটি নিউইয়র্ক স্টক এঙ্েেচঞ্জে নিবন্ধিত, আর তাই প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের আইনের ঊধর্ে্ব নয়।
এর আগে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০০৯ সালের ৮ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ ৩০ লাখ ডলার পুনরুদ্ধারের জন্য আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছে। কোকো এই অর্থ জার্মানির প্রতিষ্ঠান সিমেন্সের কাছ থেকে গ্রহণ করে সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি ব্যাংকে জমা রাখেন।
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত গত ৩০ নভেম্বর কোকো ও সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী আকবর হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেন সাইমনের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার মামলায় অভিযোগ গঠন করেছেন। এর কয়েক দিনের মধ্যেই পুস্তিকাটি প্রকাশিত হলো। কোকো ও সাইমনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ৯ লাখ ৩২ হাজার ৬৭২ ডলার ও সিঙ্গাপুরে ২৮ লাখ ৮৪ হাজার ৬০৪ ডলার পাচারের অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশন (এসিসি) গত বছরের ১৭ মার্চ কাফরুল থানায় মামলাটি দায়ের করে।
প্রসঙ্গত, চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে আরাফাত রহমান কোকো এখন থাইল্যান্ডে আছেন।

ব্যাগবোকে মানবাধিকার লঙ্ঘন সম্পর্কে জাতিসংঘের হুঁশিয়ারি

Wednesday, January 19, 2011

ইভরি কোস্টে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা দখল করে থাকা ল্যঁরা ব্যাগবো ও অন্যান্য কর্মকর্তার মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতিসংঘের উর্ধতন এক কর্মকর্তা।

শুক্রবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার নাভি পিলাই জেনেভায় এক বিবৃতিতে বলেন, ব্যক্তিগতভাবে বাগবো ও অন্যান্য কর্মকর্তা মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন বলে চিঠি পাঠিয়ে তাদেরকে হুঁশিয়ার করা হয়েছে।

ওদিকে নতুন বছর উপলক্ষে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে ক্ষমতা না ছাড়ার প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করে ব্যাগবো বলেন, আইভোরিয়ানরা তাদের ভোটে আমাকে যে স্থান দিয়েছেন সেখানে আমি থাকবো। আমরা হার মানবো না।

গত ২৮ নভেম্বরের দ্বিতীয় দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আলাসানে ওয়াত্তারাকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করে জাতিসংঘ সমর্থিত নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন। কিন্তু সে ফল প্রত্যাখ্যান করে সাংবিধানিক পরিষদের সমর্থনে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ব্যাগবো।

ওয়াত্তারার কোছে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট ইকোওয়াস বার বার আহ্বান জানিয়ে আসলেও তা নাকচ করছেন ব্যাগবো।

আইভরি কোস্টে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর চলছে হত্যা, নির্যাতন, আটক ও দমন-পীড়ন। জাতিসংঘের তথ্যমতে, নির্বাচনের পর সহিংসতায় দেশটিতে এ পর্যন্ত প্রায় ২০০ জনের মৃতু্য হয়েছে। গৃহযুদ্ধের মুখে পড়ার ভয়ে দেশ ছেড়ে প্রতিবেশী লাইবেরিয়ায় পালিয়ে গেছে অসংখ্য মানুষ।

পিলাই বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের আওতায় তাদের কর্মকাণ্ডের ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য ব্যক্তিগতভাবে তারা দায়ী থাকবেন এবং বিচারের মুখোমুখি হবেন_এ বিষয়টি তাদের স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে। জাতিসংঘের এ হুঁশিয়ারি বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান ব্যাগবোর এক মুখপাত্র।

আইভরি কোস্টে জাতিসংঘের গাড়িতে আগুন দিল বাগবোর সমর্থকেরা

Saturday, January 15, 2011

ইভরি কোস্টের স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট লরা বাগবোর সমর্থকেরা গত বৃহস্পতিবার রাজধানী আবিদজানে জাতিসংঘের গাড়িবহরে হামলা চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। আইভরি কোস্টের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতাকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীকে লক্ষ্য করে বাগবোর ক্রমবর্ধমান সমালোচনার প্রেক্ষাপটে এ হামলা চালানো হলো।

হামলার ঘটনায় ওয়াশিংটন ও জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের পক্ষ থেকে কঠোর নিন্দা জানানো হয়। জাতিসংঘ জানায়, বাগবো বাহিনীর এ আগ্রাসন যুদ্ধাপরাধের শামিল। গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর আইভরি কোস্টে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়। নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাগবো ও বিরোধী নেতা আলাসেন ওয়াতারা উভয়েই নিজেদের বিজয়ী বলে দাবি করেন। তবে জাতিসংঘ ওয়াতারাকে দেশটির বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের সঙ্গে বাগবোর উত্তেজনা বাড়ছে।
জাতিসংঘের মুখপাত্র মার্টিন এক বিবৃতিতে জানান, মহাসচিব বান কি মুন আইভরি কোস্টের ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বাগবোর অনুগত নিয়মিত-অনিয়মিত সেনা ও সমর্থকেরা জাতিসংঘের গাড়িতে হামলা চালাচ্ছে এবং আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার সকালের দিকে আবিদজানে এ রকম ছয়টি ঘটনা ঘটে। সেখানে জাতিসংঘ মিশনের গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এমনকি আবিদজানে অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে বলে জাতিসংঘের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
আইভরি কোস্টে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাগবোর সমর্থকদের হামলায় জাতিসংঘের দুটি গাড়ি পুড়ে যায় এবং একটি অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্য তিনটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় ওই অ্যাম্বুলেন্সে করে অসুস্থ এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল।’ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাগবোর শিবির বর্তমানে জাতিসংঘ ও শান্তিরক্ষী বাহিনীর শত্রুশিবিরে পরিণত হয়েছে। আগে তারা মৌখিক অপপ্রচার চালাত। কিন্তু এখন সরাসরি হামলা চালাচ্ছে।’
আইভরি কোস্টে নিয়োজিত জাতিসংঘের কর্মকর্তা বলেন, পরিস্থিতি দিন দিন উসকানিমূলক হয়ে উঠছে। বাগবোর অনুসারী সেনারা তাঁদের কৌশল পাল্টে জনতাকে জাতিসংঘের সেনাদের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলছেন। তাঁরা জনতাকে জাতিসংঘের গাড়িতে হামলা চালাতে উৎসাহিত করছেন।
জাতিসংঘের কর্মকর্তারা আরও জানান, জনতার ওপর গুলি চালাতে বাগবো জাতিসংঘের সেনাদের উসকানি দিচ্ছেন, যাতে দেশে জাতিসংঘের সেনাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁরা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। রয়টার্স, এএফপি।

বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি শুরু করতে পারবে ইরাক

Friday, January 14, 2011

রাকের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। ১৯ বছর আগে সাদ্দামের শাসনামলে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। এর ফলে দেশটি এখন বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যেতে পারবে। এ ছাড়া তেলের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচিও বাতিল করা হয়েছে।
গত বুধবার নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের সর্বসম্মতিতে এই সিদ্ধান্ত হয়। ইরাকের রাজনৈতিক অগ্রগতির স্বীকৃতি হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৫ সদস্যবিশিষ্ট জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ একটি প্রস্তাবে পরমাণু, রাসায়নিক ও জীবাণু বোমা তৈরির কর্মসূচি থেকে ইরাককে বিরত রাখাসংক্রান্ত একটি নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেছে। এর ফলে দেশটির বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি গ্রহণের পথ উন্মুক্ত হলো। সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি করছেন—এই অজুহাত তুলে ২০০৩ সালে ইরাকে আগ্রাসন চালায় যুক্তরাষ্ট্র। যদিও ইরাক থেকে সেই ধরনের কোনো অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি মার্কিন বাহিনী। এর আগে ১৯৯১ সালে ইরাক প্রতিবেশী রাষ্ট্র কুয়েত দখল করে নিলে দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নিরাপত্তা পরিষদ। সাদ্দামের পতনের পর ২০০৩ সালে অবশ্য বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও গতানুগতিক কিছু অস্ত্রসংক্রান্ত কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।
নিরাপত্তা পরিষদের অপর একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে ইরাকের খাদ্য কেনার জন্য তেলের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় সাদ্দাম হোসেন ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত খাদ্য ও ওষুধ কেনার জন্য তেল বিক্রি করেন। এ ছাড়া এতে ইরাকের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তৃতীয় প্রস্তাবে ইরাকের উন্নয়ন তহবিলের মেয়াদ আরও ছয় মাসের জন্য বাড়ানো হয়েছে। দেশটির তেল ও রাজস্ব বিভিন্ন বিষয় পরিচালনার জন্য ২০০৩ সালে ওই তহবিল গঠন করা হয়।
খাদ্য কেনার জন্য তেল বিক্রিসংক্রান্ত প্রস্তাবের ক্ষেত্রে ফ্রান্স ভোট দানে বিরত থাকে। তবে অন্য সব প্রস্তাব সর্বসম্মতিতে পাস হয়।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, যে পরিস্থিতিতে ইরাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, এখন দেশটির পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন।
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইরাকের গণতান্ত্রিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন। বান কি মুন বলেন, ইরাকের ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগ ইরাককেই নিতে হবে। দেশটিকে কুয়েতের সঙ্গে সীমানা নিশ্চিত করা ও যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও উদ্যোগ নিতে হবে।
বাগদাদ এখনো তার তেল বিক্রির শতকরা পাঁচ ভাগ অর্থ যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে কুয়েতকে দিয়ে যাচ্ছে। কুয়েত যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ইরাকের কাছ থেকে দুই হাজার ২০০ কোটি ডলার দাবি করেছে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, ইরাকে ভয়াবহ হামলার সংখ্যা কমে গেছে। তিনি আরও বলেন, ইরাক এখন স্থিতিশীল ও নিজের ওপর আস্থাশীল একটি জাতিতে পরিণত হচ্ছে।
ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসায়ের জেবারি বলেন, ইরাকের নতুন সরকার কুয়েতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করাকে গুরুত্ব দেবে। তিনি বলেন, ‘আগের শাসনামলে যুদ্ধ ও অবিশ্বাসের কারণে ইরাকের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল তা থেকে আমরা বেরিয়ে আসব।’ বিবিসি, এএফপি, এপি অনলাইন।
 
Support : Dhumketo ধূমকেতু | NewsCtg.Com | KUTUBDIA @ কুতুবদিয়া | eBlog
Copyright © 2013. News 2 Blog 24 - All Rights Reserved
Template Created by Nejam Kutubi Published by Darianagar Publications
Proudly powered by Dhumketo ধূমকেতু