নুরুল ইসলাম হত্যা মামলাঃ বিপ্লবের নেতৃত্বেই অপহরণ ও খুন

Friday, July 22, 2011

ক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র আবু তাহেরের ছেলে এ এইচ এম বিপ্লবের নেতৃত্বেই বিএনপির নেতা ও আইনজীবী নুরুল ইসলামকে অপহরণ ও হত্যা করা হয়। তাহেরেরই বাসায় লাশ কেটে টুকরো টুকরো করে বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনাটির এই বর্ণনা নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার রায়ে উল্লেখ রয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন বিচারক এম হাসান ইমাম ২০০৩ সালের ৯ ডিসেম্বর মামলাটির রায় দেন। রায়ে বিপ্লব ও তাঁর ভাই আবদুল জব্বার ওরফে লাভুসহ পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড, বিপ্লবের আরেক ভাই টিপুসহ নয়জনকে যাবজ্জীবন এবং দুজনকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
রায়ে শিমুল কুমার দেবনাথ নামে আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ২০০২ সালের ১৩ মার্চ লক্ষ্মীপুরের আদালতে দেওয়া ওই জবানবন্দিতে নুরুল ইসলামকে অপহরণের প্রস্তুতি থেকে লাশ টুকরো টুকরো করে বস্তায় ভরে মাইক্রোবাসে ওঠানো পর্যন্ত ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।
২০০০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে নুরুল ইসলামকে লক্ষ্মীপুরের বাসা থেকে অপহরণ এবং পরে হত্যা করা হয়।
রায় ঘোষণার সময় চট্টগ্রাম দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ছিলেন কামরুল ইসলাম। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, নুরুল ইসলাম হত্যা মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এর আগেই রাষ্ট্রপতি একজন আসামির সাজা যেভাবে মওকুফ করেছেন, তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থাহীনতা দেখা দিতে পারে।
দণ্ডিত আসামি যাঁরা: দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের রায়ে বিপ্লব ছাড়াও আবদুল জব্বার ওরফে লাভু (তাহেরের পালক ছেলে), আলমগীর হোসেন, জিকো, তানভীর হায়দার চৌধুরী ওরফে রিংকু ও জিয়াউর রহমান ওরফে শিপনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয় আবদুল খালেক, আবদুল গণি, পরাণ, জাকির হোসেন, মেহেদী, টিপু (তাহেরের আরেক ছেলে), মাহফুজ, মারজু ও শিমুলকে। এ ছাড়া পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড হয় দীনেশ ও দুলালের।
রায়ে যা বলা হয়: রায়ে বলা হয়, শিমুলের জবানবন্দি পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, ঘটনার রাত নয়টা থেকে ১১টার মধ্যে আসামি বিপ্লব, লাভু, জিকু, খালেক, গণি, রিংকু, পরাণ, জাকির, মেহেদী, টিপু, মাহফুজ ও মারজু গং তমিজউদ্দিনের মাঠের পেছনে ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে বসে মদ পান করে। এরপর রাত ১২টার মধ্যে বিপ্লবের নেতৃত্বে আসামিরা মাহফুজের গাড়িতে করে নুরুল ইসলামের বাসায় যান। এর ৪৫ মিনিট পর ওই মাইক্রোবাসে করে তাঁরা নুরুল ইসলামকে তুলে আবু তাহেরের বাসায় নিয়ে আসেন। এরপর আসামি টিপু, লাভু, শিপন ও রিংকু আইনজীবী নুরুল ইসলামকে রামদা ও ছেনি দিয়ে কেটে টুকরো টকরো করেন। লাশের টুকরোগুলো দীনেশ, দুলাল ও শিমুলকে বস্তায় ভরার জন্য নির্দেশ দেন বিপ্লব ও লাভু। তাঁরা লাশের টুকরোগুলো বস্তায় ভরে মাহফুজের গাড়িতে ওঠান। এরপর লাশের বস্তা নিয়ে বিপ্লব, লাভু, জিকো, খালেক, গণি, রিংকু, শিপন ও মেহেদী ওই গাড়িতে করে মজু চৌধুরীর হাটের দিকে যান।
রায়ে বলা হয়, সাক্ষী ফাতেমা বেগম (নুরুল ইসলামের প্রতিবেশী) সাক্ষ্যে সুস্পষ্টভাবে বলেন, ঘটনার রাত ১২টা-সাড়ে ১২টার দিকে নুরুল ইসলামের বাসার সামনের কক্ষে বসে কাজ করা অবস্থায় হঠাৎ প্রথমে ফটক ভাঙার শব্দ শোনেন। বাইরে থেকে সন্ত্রাসীরা নুরুল ইসলামকে ঘর থেকে বের হতে বলে। নুরুল ইসলাম ভয়ে ঘরের ভেতর খাটের নিচে আশ্রয় নেন। সন্ত্রাসীরা দরজা ভেঙে সেখান থেকে তাঁকে বের করে নিয়ে আসে। এ সময় নুরুল ইসলাম তাঁকে হত্যা না করতে বিপ্লবকে অনুরোধ করেন। এরপর আসামিরা নুরুল ইসলামকে টেনেহিঁচড়ে বের করে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে দ্রুতগতিতে মাদামের (তাহেরের বাসা) দিকে যায়।
রায়ে বলা হয়, আরেক সাক্ষী নূর মোহাম্মদ পাটোয়ারী হলেন ফাতেমা বেগমের প্রতিবেশী। পাটোয়ারী সাক্ষ্যে বলেন, ঘটনার রাতে বিপ্লবসহ ৮-১০ জনকে নুরুল ইসলামকে অপহরণ করে নিয়ে যেতে দেখেছেন। সাক্ষী হারুনুর রশিদও বলেন, তিনি দেখেছেন, নুরুল ইসলামের চোখ বেঁধে বিপ্লব, লাভু, জাকির, পরাণ, মেহেদী, জিকো, খালেক ও গণি নিয়ে গেছেন।
রায়ে বলা হয়, ‘উপরোক্ত সাক্ষ্য থেকে আসামি শিমুল কুমারের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ঘটনার রাতে আসামি বিপ্লব, লাভু, জিকো, খালেক, গণি, রিংকু, পরাণ, জাকির, মেহেদী, টিপু, শিপন, মাহফুজ এবং অন্যান্য কর্তৃক নুরুল ইসলামকে তাঁর বাসা থেকে অপহরণের ঘটনাটি সুস্পষ্টভাবে সমর্থিত হয়েছে।’
যাঁরা খালাস পান: বিচারক রায়ে এই মামলার আসামি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান আবু তাহের, তাঁর স্ত্রী নাজমা তাহের, ভায়রা হাসু চেয়ারম্যানসহ ১৫ আসামিকে খালাস দেন।
রায়ে বলা হয়, যদিও তাজুল ইসলাম নামের এক সাক্ষী বলেছেন, আবু তাহের, নাজমা তাহের, হাসু চেয়ারম্যান, বাবর, কাশেম জিহাদী গং নুরুল ইসলামকে অপহরণপূর্বক হত্যা করে লাশ গুম করেছেন। তাজুলের এই বক্তব্য সমর্থন করেছেন সাক্ষী রাশিদা ইসলাম, আইনজীবী মনিরুল ইসলাম ও কবিরুল ইসলাম। যদিও এই সাক্ষীদের জানার উৎস ছিলেন ফাতেমা বেগম। ফাতেমা বেগম স্বয়ং তাঁর সাক্ষ্যে এসব আসামির নাম উল্লেখ করেননি। সাক্ষী তাজুল, রাশিদা ইসলাম ও মনিরুল তদন্ত কর্মকর্তাদেরও এসব আসামির নাম ঘটনার পরপর বলেননি।
রায়ে বিচারক আরও বলেন, ‘আমার বলতে দ্বিধা নেই, রাষ্ট্রপক্ষ আসামি আবু তাহের, নাজমা তাহের, হাসু চেয়ারম্যান, সাজু, মাহবুব, মানিক, আবুল কাশেম জিহাদী, নুরুল আজিম বাবর, রিপন, সুমন, জামাল, কাজল, জাহাঙ্গীর, আবদুল মতিন ও জসিমউদ্দিন ওরফে সাংবাদিক জসিমের বিরুদ্ধে আনীত দণ্ডবিধির ১২০(বি)/৩০২/২০১/৩৪ ধারায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারেনি।’
বিপ্লবের সাজা মওকুফের চিঠি বিচারিক আদালতের নথিতে সংরক্ষণ: বিপ্লবের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ মওকুফ-সংক্রান্ত লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষের চিঠি বিচারিক আদালতের নথিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক রবিউল হাসান গতকাল চিঠিতে ‘দেখিলাম’ লিখে এর নিচে সই করেন। এরপর তা নথিতে সংরক্ষণ করা হয়।
আদালত সূত্র জানায়, বিপ্লবের মৃত্যুদণ্ডাদেশ মওকুফ-সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়। লক্ষ্মীপুর কারা কর্তৃপক্ষ এ-সংক্রান্ত আদেশ ১৪ জুলাই কার্যকর করে। ওই দিন এ-সংক্রান্ত আদেশের চিঠি লক্ষ্মীপুর কারা কর্তৃপক্ষ বিচারিক আদালতে পাঠায়।
প্রথম আলোর রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি জানান, নুরুল ইসলামের ভাই সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল ইসলাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘তিন-চার দিন ধরে প্রতি রাতে নম্বরপ্লেটবিহীন মাইক্রোবাসে করে সন্ত্রাসীরা এসে আমাদের গ্রামের বাড়ির সামনে অবস্থান করছে। এতে আমরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছি।’
যোগাযোগ করা হলে লক্ষ্মীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘নুরুল ইসলামের গ্রামের বাড়িতে রাতে সন্ত্রাসীদের আনাগোনা সম্পর্কে আমি অবগত নই। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব কোন্দল ৫ মাসে ১৫শ' খুন

Monday, June 13, 2011

রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-কোন্দল আর প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। গত ৫ মাসেই সারাদেশে খুন হয়েছেন ১৫'শ জন। ঘটেছে একাধিক রাজনৈতিক সহিংস ঘটনাও। এসব ঘটনায় জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে এসব ঘটনা পুলিশকে জানাতে গিয়েও হয়রানির শিকার হচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। ফলে অভিযোগ ও মামলা করতে এক ধরনের অনীহা দেখা দিয়েছে অনেকের মধ্যেই। এ তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

তবে পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার সংবাদ'কে জানিয়েছেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইউপি নির্বাচনে ২/১টি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে। এখন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়েও ভালো বলে মন্তব্য বরেছেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মে মাসে সারাদেশে ৩২৫ জন খুন হয়েছেন। এরমধ্যে রাজধানীতে ২৩, চট্টগ্রাম শহরে ৫, খুলনা শহরে ৩, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট শহরে ১, ঢাকা বিভাগে ৯৫, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৫, সিলেট বিভাগে ২৬, খুলনায় ৩৪, রাজশাহী বিভাগে ৩৮ রয়েছে। এছাড়াও মে মাসে বড় ধরনের ডাকাতির ঘটনা ৫১, দস্যুতা ৮৭, অপহরণ ৬৫, চুরি সাড়ে ৭শ', অন্য অপরাধ ৭ হাজার ১শ৩৫, চোরাচালানী ৪শ'র বেশি। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এপ্রিল মাসে সারাদেশে ৩২৭ খুনের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ঢাকায় (শহরে) ২২, চট্টগ্রাম শহরে ৮, খুলনা, রাজশাহী বরিশালে ৬, সিলেটে ৩, ঢাকা বিভাগে ১০৭, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৬, সিলেট বিভাগে ১৯ জন, খুলনা বিভাগে ৩৯, রাজশাহী বিভাগে ৬৩ রয়েছে। সূত্রমতে, এপ্রিল মাসে ৩৬ বড় ধরনের ডাকাতি ও ৯০ দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও আরও অনেক ডাকাতি ও দস্যুতার ঘটনা ঘটলেও ঝামেলা এড়াতে অনেকেই থানায় অভিযোগ করেনি। ডাকাতি ছাড়াও অপহরণ ৮২, পুলিশ নির্যাতনের ঘটনা ৭৪ ঘটেছে বলে পুলিশ জানায়। মার্চ মাসে সারাদেশে ৩১৬ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রাজধানীতে ২৬, চট্টগ্রামে ১০, চট্টগ্রাম রেঞ্জে (বিভাগ) ৪৪, সিলেট রেঞ্জে (বিভাগ) ৩০, খুলনা রেঞ্জে ৩১, রাজশাহী রেঞ্জে ৫৯ ঘটনা ঘটছে। সবচেয়ে বেশি খুনের ঘটনা রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ঘটেছে। এছাড়াও মার্চ মাসে ৬২ ডাকাতি, ৮৪ দস্যুতার ঘটনা ঘটছে। এমন আরও অনেক ঘটনা রয়েছে তার অভিযোগ থানায় পেঁৗছেনি। আবার কেউ পুলিশি হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে ডাকাতির পর আবার মামলা করতে বা পুলিশকে জানালে লাভ হবে না বলে মামলা করতে অস্বীকার করে। এ কারণে ডাকাতির অনেক মামলা ধামাচাপা পড়ে যায়।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে সারাদেশে ২৮০ খুনের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ঢাকা ২১, ঢাকা বিভাগে ৬৫, চট্টগ্রামে ৭, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৫, রাজশাহী বিভাগে ৬১ খুনের ঘটনা ঘটেছে। একই মাসে সারাদেশে ৬৩ ডাকাতি, ৯৯ দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে। শিশুসহ অপহরণের ঘটনা ৬৩।
গত জানুয়ারি মাসে সারাদেশে ২শ' ৭৮ খুনের ঘটনা ঘটছে। এরমধ্যে রাজধানীতে ২৬ ও ঢাকা বিভাগে ৮৫, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৫, রাজশাহী বিভাগে ৫৩ খুনের ঘটনা ঘটছে। এছাড়াও ডাকাতি ৬৯ ও দস্যুতা ৯৩।
সূত্র জানায়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কারণে বিভিন্ন ইউনিয়নের আধিপত্যের বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সহিংস ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার কারণে সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর, নরসিংদীর বিভিন্ন জেলায় একাধিক রাজনৈতি সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রতিপক্ষের হাতে খুনের ঘটনা ঘটেছে। অন্য জেলাগুলোতে রাজনৈতিক সহিংস ঘটনা বাড়ছে। নির্বাচন নিয়ে প্রতিদিন ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে উত্তেজনা বিরাজ করছে। একপক্ষের ওপর অন্যপক্ষ হামলা করছে। এতে রাজনৈতিক ও আধিপত্যের সংঘাত বাড়ছে। এসব ঘটনার মামলা হয় না। এতে নিরীহ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। আবার পুলিশ আগের চেয়ে বেপরোয়া হয়ে গেছে। যার কারণে জনগণ থানায় গিয়ে আগের মতো সেবা পাচ্ছেন না। পদে পদে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে লক্ষ্মীপুরের দত্তপাড়া ইউনিয়নে নির্বাচনকে সামনে রেখে আনোয়ার বাহিনীর প্রধান আনোয়ার খুন হয়েছে। খুনের ঘটনায় ৩/৪ জন জড়িত বলে স্থানীয় লোকজন ধারণা করছে। কিন্তু নির্বাচন উপলক্ষে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে প্রতিহিংসার কারণে নিরপরাধী অনেককেই আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবার লক্ষ্মীপুর শহরে ইউপি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় মারপিটের ঘটনায় পুলিশ শামীম বাহিনীর প্রধান শামীমকে গ্রেফতার করেছে। ওই ঘটনার সময় শামীমের সঙ্গে একটি অটোরিকশায় ৩-৪ জন ছিল। অথচ সেই মামলায় নিরপরাধী অনেককেই আসামি করা হয়েছে। যারা ঘটনার সময় দেশেও ছিল না। এমন অভিযোগ রয়েছে। এভাবে দেশের বিভিন্ন জেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে নির্বাচনী সহিংস ঘটনা বাড়ছে। এছাড়াও রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সম্ভব্য ওয়ার্ড কমিশনার প্রার্থীরা আতংকে আছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক হত্যাকা- ছাড়াও পারিবারিক কলহসহ নানা কারণে খুনের ঘটনা ঘটছে। ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি থেমে নেই।
গত মঙ্গলবার দিনদুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ব্যবসায়ীকে গুলি করে ১৫ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। এছাড়াও রাজধানীর বিজয়নগর, উত্তরা, গুলশান, যাত্রাবাড়িতে একাধিক ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
এ ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ২-১টি ঘটনা ঘয়েছে। এছাড়াও নির্বাচনের এক প্রার্থীর লোকজন অন্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করে। মোটরসাইকেলে মহড়া চলে। তবে নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনকারীরর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়। ছিনতাই ও খুনের ঘটনায় থানায় মামলা হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান সংবাদকে জানান, অপরাধ এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। অপরাধিদের ধরার জন্য পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত আছে। মাঝে মধ্যে ২-১টি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলে ও তার ক্লু উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।

দুই ময়নাতদন্তের অমিল খতিয়ে দেখার নির্দেশ

Thursday, February 10, 2011

রীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চামটা গ্রামের কিশোরী হেনার মৃতদেহের দুটি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অমিল খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ জন্য একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করতে স্বাস্থ্যসচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত কমিটিকে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে ভবিষ্যতে ময়নাতদন্তের ক্ষেত্রে ভুল এড়াতে সুপারিশসহ ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও শেখ মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আর যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য ব্যক্তিগত পর্যায়ে পুলিশের মহাপরিদর্শককে নজরদারি রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হেনার পরিবারের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার ও নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আদালতের নির্দেশে গতকাল হাইকোর্টে হাজির হন হেনার বাবা দরবেশ খাঁ ও খালাতো বোন মিনু বেগম। হাজির হন শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন গোলাম সারোয়ার, সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা নির্মল চন্দ্র দাস, চিকিৎসা কর্মকর্তা রাজেশ মজুমদার, গাইনি বিশেষজ্ঞ হোসনে আরা, চিকিৎসক সুলতান আহমেদ, নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল খায়ের, উপপরিদর্শক মো. আসলাম উদ্দিন ও সালিস বৈঠকে নেতৃত্ব দেওয়া ইদ্রিস ফকির। আদালত তাঁদের জবানবন্দি গ্রহণের পর নির্দেশসহ আদেশ দেন।
শুনানিকালে আদালত বলেন, ফতোয়া একটি ফৌজদারি অপরাধ। দেশে ফতোয়া চলবে না। চিকিৎসকদের উদ্দেশে আদালত বলেন, ‘আপনারা একটা মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন।’ এ ধরনের ঘটনা অতীতেও ঘটেছে—এমন মন্তব্য করে আদালত বলেন, গ্রামে-গঞ্জে এ ধরনের মিথ্যা, ভুয়া পোস্টমর্টেম (ময়নাতদন্ত) রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। আদালত উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ওপর একটি মামলার বিচার নির্ভর করে। এ ধরনের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দাখিল করা হলে প্রকৃত আসামিরা পার পেয়ে যাবে, সাজা হবে না। আদালত বলেন, ‘আপনারা যে রিপোর্ট দাখিল করেছেন, তা পুরোপুরি মিথ্যা। পুনরায় ময়নাতদন্ত রিপোর্টের সঙ্গে শরীয়তপুরের চিকিৎসকদের রিপোর্টের ব্যবধান আকাশ আর জমিনের।’
আদালতের আদেশ: হেনার ঘটনায় যাঁরা ফতোয়া দিয়েছেন ও দোররা মেরেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দায়ের এবং মামলার অন্য আসামিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হেনার সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী নড়িয়ার উপপরিদর্শক আসলাম উদ্দিন ও এজাহার নথিভুক্তকারী পরিদর্শক (তদন্ত) মির্জা এ কে আজাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে কী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জানাতে বলা হয়।
এ ছাড়া উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও হাসপাতালের পরিচালক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের প্রতিনিধিসহ আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন করে প্রতিনিধি রাখার কথা বলা হয়েছে। আর ফতোয়ার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি করতে ফতোয়া দেওয়া যে অপরাধ, তা তুলে ধরে প্রচার চালাতে তথ্য মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে মসজিদ, মাদ্রাসাসহ স্থানীয় পর্যায়ে ফতোয়াবিরোধী প্রচার চালানোর জন্য ব্যবস্থা নিতে ধর্ম ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে।
আদালত ইদ্রিস ফকিরকে গ্রেপ্তারের তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বক্তব্য উপস্থাপন: সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আদালতে হাজির হন। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শুনানি হয়। শুনানিতে নিজ নিজ অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তাঁরা।
শুরুতে আদালত সিভিল সার্জনকে দ্বিতীয় দফায় করা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পড়তে বলেন। গোলাম সারোয়ার আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে উল্লেখ করলে আদালত বলেন, ‘আপনারা হেনার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাননি। কিন্তু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করা পুনঃ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে একাধিক আঘাতের চিহ্ন উল্লেখ করা হয়েছে। এটা কীভাবে হলো? হেনার শরীরের আঘাতগুলো (ইনজুরি) কেন আপনারা শনাক্ত করতে পারলেন না?’
সিভিল সার্জন বলেন, দুটি টিমের ডাক্তারদের মধ্যে অভিজ্ঞতার তফাত রয়েছে।
এটা কি আপনার ব্যাখ্যা? হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার কত সময় পর হেনার মৃত্যু হয়েছে?
—২৫ জানুয়ারি হেনা হাসপাতালে ভর্তি হয়। ৩০ জানুয়ারি সকাল ১০টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পায়। যখন ছাড়া পায়, তখন হেনা পুরোপুরি সুস্থ ছিল। কিন্তু হেনা মৃত্যুবরণ করে ৩১ তারিখ রাত নয়টায়। ফলে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার এবং মৃত্যুর মাঝে ব্যবধান ছিল ৪৮ ঘণ্টা। সিভিল সার্জন সময় ভুল বলায় তা শুধরে দিয়ে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান বলেন, ৩৪ ঘণ্টা ব্যবধান ছিল।
আদালত সিভিল সার্জনের উদ্দেশে বলেন, তাহলে ভূত এসে মেয়েটিকে (হেনা) মেরে দিল? আদালত সিভিল সার্জনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘আদালতের সঙ্গে প্রতারণার চেষ্টা করলে আপনাকে জেলে পাঠানো হবে। সত্য বললে অনুকম্পা পেতে পারেন।’ আদালত জানতে চান, কে কে ময়নাতদন্ত করেছেন?
সিভিল সার্জন অন্য তিন চিকিৎসকের নাম উল্লেখ করেন।
—আবাসিক চিকিৎসক (মেডিসিন) ও শিশু বিশেষজ্ঞ কি যোগ্য?
—জেলা পর্যায়ে তাঁরাই ময়নাতদন্ত করে থাকেন।
এ পর্যায়ে প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনটি পড়তে বলেন আদালত।
—একটি আঘাতের চিহ্ন ছিল।
ঢাকায় করা দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্টের সঙ্গে এর ভিন্নতা সম্পর্কে মতামত দেন।
—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
দুটি সত্য হতে পারে না। একটি সত্য হলে অন্যটি মিথ্যা হবে। শরীয়তপুরের প্রতিবেদনে ইনজুরি নেই, ঢাকার প্রতিবেদনে ইনজুরি আছে। কত দিন পেশায় আছেন?
—৩১ বছর।
আকাশ-জমিন পার্থক্য হলো কেন? মতামত দেন। সম্পূর্ণ অমিলের কারণ কী? সত্য বলেন। সত্য না বললে কাউকে ছাড়া হবে না।
সিভিল সার্জন চুপ করে থাকেন।
আদালত অপর চিকিৎসকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বৈজ্ঞানিক সরঞ্জামের একটা বিষয় আছে।
মারা গেল কীভাবে?
—সুস্থ হওয়ার পর হাসপাতাল থেকে তাকে (হেনা) ৩০ জানুয়ারি ছাড়া হয়।
হাসপাতাল ত্যাগের সঙ্গে মারা যাওয়ার সময়ের ব্যবধান কত সময়?
—৪৮ ঘণ্টার মতো।
পৌনে একটার দিকে হেনার ঘটনা নিয়ে সংবাদপত্রের প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহ্বুবে আলম। তিনি বলেন, ‘বলা হয়েছে, দাগ না থাকলে আমরা কী করব—বলে সিভিল সার্জন মন্তব্য করেন কীভাবে!’ এ বিষয়ে আদালত সিভিল সার্জনকে বক্তব্য রাখতে বলেন। সিভিল সার্জন বলেন, ‘এটা আমি বলিনি।’ আদালত মন্তব্য করেন, সাংবাদিকেরা মিথ্যা, ভুল তথ্য দেন না। সাংবাদিকেরা যা বলেছেন, তা সত্য হয়েছে। আপনারা যা বলেছেন তা মিথ্যা, ভুল। আদালত জানতে চান, ৩৪ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু কীভাবে হলো, এটা কি স্বাভাবিক? সিভিল সার্জন বলেন, এটা আনন্যাচারাল (অস্বাভাবিক)।
অপর চিকিৎসক হোসনে আরার কাছে প্রতিবেদনের অমিল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুটিতে কোনো মিল নেই। আদালত জানতে চান, কার চাপে ছিলেন? হোসনে আরা বলেন, ‘আমি চিকিৎসায় ছিলাম না।’
সোয়া একটার দিকে আদালত হেনার বোন মিনু বেগমের বক্তব্য শুনতে চান।
আপনি কি হেনার সঙ্গে হাসপাতালে ছিলেন?
মিনু বলেন, ছয় দিন ছিলাম।
হাসপাতাল ছাড়ার সময় হেনা সুস্থ ছিল কি?
অল্প সুস্থ ছিল। ধরে ধরে নিয়ে যেতে হয়, হাঁটতে পারছিল না। বাড়িতে নেওয়ার পর বিছানায় পড়ে ছিল। রুহুল খান (আসামি মাহাবুবের বাবা) নাম কেটে (হাসপাতাল থেকে) দেওয়ার জন্য বলেছে। ডাক্তাররা ভালো করে চিকিৎসা করেনি।
ডাক্তারদের বলেছিলেন?
—সে পুরো সুস্থ হয়নি।
এরপর আদালত উপপরিদর্শক আসলামকে সুরতহাল প্রতিবেদন পাঠ করতে বলেন। আসলাম সুরতহাল প্রতিবেদন পাঠ করেন। আদালত বলেন, সিআরপিসির ১৭৪ ধারায় সুরতহাল প্রতিবেদনের কথা বলা রয়েছে। কিন্তু আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় কি বলা রয়েছে কার সঙ্গে প্রেম ছিল এটা সুরতহাল প্রতিবেদনে আসবে? মাহাবুবের সঙ্গে হেনার প্রেম ছিল, এটা সুরতহাল প্রতিবেদনে কেন লিখেছেন? লাশের শরীরে কোনো ইনজুরি আছে কি না, সেটা বের করার দায়িত্ব আপনার। আপনি তদন্ত না সুরতহাল প্রতিবেদন করতে গেছেন, সত্য কথা বলেন। আসলাম বলেন, মিথ্যা বলিনি। আদালত প্রশ্ন করেন, কাকে বাঁচানোর জন্য এটা করেছেন? তিনি নিশ্চুপ থাকেন।
এরপর আদালত স্থানীয় ইউপি মেম্বার ইদ্রিস ফকিরকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য ডাকেন। আদালত বলেন, সংবাদপত্রে প্রতিবেদন বেরিয়েছে, আপনি এ মৃত্যুর ঘটনাটি টাকার মাধ্যমে আপসরফা করতে চেয়েছিলেন।
ইদ্রিস বলেন, ‘আমি হেনার চিকিৎসার জন্য তার পিতা দরবেশ খাঁকে ২০-৫০ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য মাহাবুবের পিতাকে বলেছিলাম। কোনো আপসের প্রস্তাব দেইনি।’
এই পর্যায়ে আদালত হেনার পরিবারের সদস্যদের ডাকেন। হেনার পিতা দরবেশ খাঁ ইদ্রিস ফকিরকে দেখিয়ে বলেন, ‘তিনি হেনার মৃত্যুর ঘটনাটি সাড়ে তিন লাখ টাকায় আপসরফার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আমি থানায় গিয়ে এজাহার দায়ের করেছি।’
আদালত বলেন, ‘আপনি কি নিজ হাতে এজাহার লিখেছেন?’
—আমি মুখে ঘটনা বলেছি, থানার লোক সেটা লিখেছে।
এজাহার আপনাকে পড়ে শোনানো হয়েছে?
—না। আমি লেখাপড়া না জানায় শুধু টিপসই দিয়েছি।
আদালত নড়িয়া থানার ওসির কাছে জানতে চান, দরবেশ খাঁকে কেন এজাহার পড়ে শোনানো হয়নি? এজাহারে ধর্ষণ-সম্পর্কিত কোনো তথ্যও নেই। ওসি বলেন, ‘আমি ওই দিন থানায় দায়িত্বে ছিলাম না। দায়িত্বে ছিলেন পরিদর্শক এ কে আজাদ। তবে ইদ্রিস ফকির সালিসে জড়িত ছিলেন।’
এ পর্যায়ে দরবেশ খাঁ বলেন, ‘আমি থানায় বলেছি আমার মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ওই মেম্বার (ইদ্রিস ফকির) বলে, মেয়েকে ১০১টা ও ছেলেকে ২০১টা মার। মারা যাওয়ার আগে মিটমাট করার কথা বলে মেম্বার টাকা দিতে চায় সাড়ে তিন লাখ।’
আদালত বলেন, ‘সাত লাখ টাকা মেম্বার আপনাকে দিতে চেয়েছেন না?’ দরবেশ বলেন, না, সাড়ে তিন লাখ।
এ পর্যায়ে আদালত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে জানতে চান, সুরতহাল রিপোর্টে প্রেমের কাহিনি আইন অনুসারে আসে কি না?
—না।
কেন ইদ্রিসকে গ্রেপ্তার করা হয়নি?
—খুঁজে পাইনি। ঢাকায়ও চেষ্টা করা হয়েছে। এফআইআরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন-সংক্রান্ত আইনের ৯ ধারা কেন উল্লেখ করা হয়নি?
—উনি (দরবেশ খাঁ) যা বলেছেন, তা লেখা হয়েছে।
উনি (দরবেশ) বলেছেন, তাঁকে পড়ে শোনানো হয়নি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কে?
—প্রথমে আসলাম দেখেছেন। এখন এ কে আজাদকে তদন্ত কর্মকর্তার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এটা অনেকটা শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দেওয়ার মতো। এরপর আদালত আদেশ দেন।
প্রসঙ্গত, ২ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোতে ‘মেয়েটির জন্য কারও মায়া হলো না!’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই দিন প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সহসভাপতি সীমা জহুর। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদেশ দেন। এরপর ৭ ফেব্রুয়ারি আদালত দোররা মারার পর নিহত শরীয়তপুরের হেনা আক্তারের লাশ তুলে পুনরায় ময়নাতদন্ত করতে নির্দেশ দেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে ময়নাতদন্ত করা হয়। পরে তা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের মাধ্যমে আদালতে জমা দেওয়া হয়।
আমাদের শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানান, মামলার প্রধান আসামি মাহাবুবকে গতকাল শরীয়তপুর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরই মধ্যে মামলাটি সিআইডিতে ন্যস্ত করা হয়েছে। ফলে সিআইডির পরিদর্শক মনিরুজ্জামান মাহাবুবের সাত দিনের রিমান্ড চান। জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম অশোক কুমার দত্ত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
হেনা হত্যা মামলাটি পরিচালনার জন্য স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা মাদারীপুর লিগ্যাল এইড অ্যাসোসিয়েশন একজন আইনজীবী নিয়োগ করেছে। সংস্থাটি মামলার যাবতীয় ব্যয় বহনের ঘোষণা দিয়েছে। সংস্থাটির শরীয়তপুর জেলা সমন্বয়কারী আবদুল আউয়াল বলেন, ‘মামলাটি সরকারপক্ষ পরিচালনা করবে। কোনো গাফিলতি যাতে না থাকে, সে জন্য এ হত্যা মামলাটি পরিচালনা করার জন্য আমরা একজন আইনজীবী নিয়োগ করেছি।’
সিআইডির পরিদর্শক মনিরুজ্জামান জানান, মাহাবুবকে সিআইডির হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে।

লাগামছাড়া অপরাধ গাছাড়া প্রশাসন

Sunday, February 6, 2011

বেশ কিছুদিন হলো দেশজুড়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড লাগামছাড়া হয়ে উঠেছে। অপরাধীদের বেপরোয়া বিচরণ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে জনমনে। কিন্তু অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকারের উচ্চবাচ্য ও মরিয়া চেষ্টা-সবই বিফলে যাচ্ছে। উপরন্তু সংশ্লিষ্ট প্রশাসনে গাছাড়া ভাব দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবও প্রকট।

অপরাধ-আতঙ্ককে সম্প্রতি আরো ভয়াবহ করে তুলেছে রাজনৈতিক সন্ত্রাস। বিভিন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে প্রার্থীদের নিজেদের মধ্যকার বিরোধে হানাহানির ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন স্থানে ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়েও অস্ত্রধারীরা চালিয়ে যাচ্ছে বেপরোয়া কর্মকাণ্ড। এরই মধ্যে সংঘটিত লোমহর্ষক কয়েকটি হত্যা, ডাকাতিসহ নানা অপরাধ দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে করেছে প্রশ্নবিদ্ধ। এর পাশাপাশি পারিবারিক খুন-খারাবি যোগ করেছে আতঙ্কের আরেক মাত্রা। শুধু রাজধানীতেই গত এক মাসে ঘটেছে এক ডজন চাঞ্চল্যকর অপরাধ। পুলিশের গোয়েন্দা শাখাসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
চলমান বাস্তবতা আর গোয়েন্দাদের গোপনীয় প্রতিবেদনে যা-ই বলা হোক না কেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দাবি করছেন, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অপরাধ নির্মূলে সরকার বদ্ধপরিকর। কিন্তু তাঁদের এ ধরনের বক্তব্য সাধারণ মানুষকে খুব বেশি আশ্বস্ত করতে পারছে না। অনেকেরই ভাষ্য, অপরাধের মাত্রা আর ধরন কোন পর্যায় পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে, সেটা তাদের কাছে স্পষ্ট নয়।
মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের আগে নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্ব দিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়কে। সরকারের প্রথম বছরে আইনশৃঙ্খলা কিছুটা হলেও সহনীয় পর্যায়ে ছিল। কিন্তু সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রের মহড়া, অপরাধীদের প্রকাশ্য তৎপরতা, খুন, রাহাজানি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ নানা চাঞ্চল্যকর অপরাধ প্রশ্নবিদ্ধ করছে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে। অপরাধীদের রাজনৈতিক প্রশ্রয়, র‌্যাব-পুলিশের বিরোধ ও সমন্বয়হীনতায় কর্মকাণ্ডে শিথিলতা, চাঞ্চল্যকর অপরাধ ও মামলার নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাবসহ নানা ঘটনা অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য সহায়ক হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন গতকাল শনিবারও সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছেন, বেশির ভাগ অপরাধ হচ্ছে ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে। এর বাইরে যা কিছু ঘটছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা সুন্দরভাবে সামাল দিচ্ছে। সম্প্রতি সংঘটিত নানা অপরাধের আসামিদের দ্রুত সময়ে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সুরেই কালের কণ্ঠকে গতকাল পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, খুন, ডাকাতির কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। যা ঘটছে এর বেশির ভাগই ব্যক্তিগত বিরোধের সূত্র ধরে। তাই সামাজিকভাবে এসব বিরোধ নিষ্পত্তি করা গেলে অপরাধ কমার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপরও কাজের চাপ কমে আসবে।
পুলিশ ও র‌্যাব কর্মকর্তাদের অনেকেই বলেছেন, ক্রসফায়ার ও গুপ্তহত্যা নিয়ে ধারাবাহিক সমালোচনার মুখে র‌্যাব এখন অনেকটাই সতর্কভাবে এবং ধীরে কাজ করছে। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রত্যাশিত পদোন্নতিসহ সুযোগ-সুবিধা না বাড়ায় পুলিশ বিভাগের অনেকের মধ্যেই এখন কর্ম-অনীহা স্পষ্ট। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাজেও সমন্বয়হীনতা রয়েছে যথেষ্ট। গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিংয়ে বিশেষ এলাকার প্রাধান্য কোণঠাসা করে রেখেছে অনেক কর্মকর্তাকে। আবার সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে সাহস দেওয়া হলেও পুলিশ কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবে পড়ে অনেক সময় অপরাধমূলক ঘটনায় সমঝোতার পথ বেছে নিতে হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো মনিটরিং করার কথা থাকলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব না দেওয়ায় তদন্তকারীরাও দায়সারা জবাব নিয়ে হাজির হচ্ছেন ঊর্ধ্বতনদের কাছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক বিবেচনায় বড় বড় মামলা থেকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত আসামিদের ছাড় দেওয়ার ঘটনাও পুলিশকে তাদের কাজ থেকে পিছপা করছে। সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যেই এক ধরনের শৈথিল্যভাব অপরাধীদের বেপরোয়া করে তুলছে বলে অনেকের মত।
কিন্তু র‌্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মোহাম্মদ সোহায়েল সমন্বয়হীনতা ও কর্মশিথিলতার অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, নিয়মিত টহল ছাড়াও র‌্যাবের বিভিন্ন ইউনিট ছিনতাই, চাঁদাবাজির ঘটনা প্রতিরোধেও কাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেই তারা কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, বড় ধরনের অপরাধমূলক ঘটনায় র‌্যাব কার্যকর ভূমিকা রাখছে। জঙ্গি দমন ও চরমপন্থীবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি র‌্যাব অন্যান্য অপরাধী গ্রেপ্তারেও সফলতা পেয়েছে।
বর্তমানে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আয়োজন এবং একুশের বইমেলা নিয়ে রাজধানীতে পুলিশ বাহিনী ব্যতিব্যস্ত। এরই মধ্যে ঘটে চলেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অপরাধ। গত এক মাসে রাজধানীতেই খুন হয়েছে ২৯ জন। এর মধ্যে তিনটি জোড়া খুন; যদিও ১৮টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ব্যক্তিগত কারণ বা বিরোধের জের ধরে, রাজনৈতিক কারণেও ঘটেছে দুটি। ডাকাতির ঘটনায় নিহত হয়েছে দুজন এবং ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে মারা গেছে একজন। অন্য হত্যাকাণ্ডগুলোর কারণ এবং অপরাধী শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
অনেকেই মনে করছে, অপরাধমূলক নানা ঘটনাকে পুলিশ ব্যক্তিপর্যায়ের বলে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় বড় ধরনের অপরাধেও পুলিশের দায়সারা মনোভাবের অভিযোগ রয়েছে, যার কারণে সার্বিক পরিস্থিতি অনেকটাই অস্থির হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন : অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, পারিবারিক বা সামাজিক বন্ধন অনেক দুর্বল হয়ে পড়ছে বলেই খুনসহ নানা অপরাধমূলক ঘটনা ঘটছে। মানসিক অস্থিরতা থেকে সামন্য কারণেই হত্যাকাণ্ড ঘটছে। এটি অপরাধের পাশাপাশি সামাজিক অবক্ষয়কেও প্রকাশ করে। সুস্থ সামাজিক পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির মাধ্যমে এ ধরনের সামাজিক অবক্ষয় প্রতিহত করা সম্ভব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আজিজুর রহমান বলেন, ‘পারিবারিক ও সামাজিক কারণে অনেকে হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। চরম মানসিক অস্থিরতা থেকে এ ধরনের অপরাধের সৃষ্টি। ঘটনার সময় হত্যাকারীর চেতনাবোধ লোপ পায়। মানুষের জন্য তাদের মনে ভালোবাসা থাকে না।’
টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান সাদী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কোনো ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অপরাধের কাজে জড়িয়ে নিজেকে নিরাপদ বা ভালো মনে করলে অপরাধী ওই অপরাধ বারবার করে। অপরাধ-সহায়ক পরিবেশে মানসিক বিকাশ অল্প বয়সেই অপরাধপ্রবণতা তৈরি করতে পারে। বর্তমানে যুবসমাজের মধ্যে মানসিক অস্থিরতা বেশি। অস্থিরতার কারণে হত্যাকে কেউ বড় অপরাধ বলে ভাবতে পারে না। তাই সামান্য কারণেই হত্যাকাণ্ড ঘটছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে অপরাধের কৌশল পাল্টায়। তবে সুস্থ সামাজিক পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির মাধ্যমে এ ধরনের সামাজিক অবক্ষয় প্রতিহত করা সম্ভব।’
 
Support : Dhumketo ধূমকেতু | NewsCtg.Com | KUTUBDIA @ কুতুবদিয়া | eBlog
Copyright © 2013. News 2 Blog 24 - All Rights Reserved
Template Created by Nejam Kutubi Published by Darianagar Publications
Proudly powered by Dhumketo ধূমকেতু