সাদা ফুল সাদা আগুন by ওমর আলী

Tuesday, August 16, 2011

প্রভুর বাগানে সারা রাত সাদা ফুল ফুটে থাকে
জ্যোৎস্নায় ধবল কিরণ দেয় মিটিমিটি কিংবা নিজেরাই আলোকিত
দু-একটা সাদা ফুল পৃথিবীতে ছিটকে পড়ে
উজ্জ্বল আলো ছড়িয়ে সাদা চুন

সেনা চেরিব হামুরাব্বি তুতান খামেন কিংবা তারও আগে থেকে
পিরামিডগুলো অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকে
তাদের গায়ে সঞ্চরমান সাদা ফুল
স্যাফোর কবিতার মতো জীবন্ত সাদা আগুন যেন
ইউসুফ জুলেখার কিংবা রাধা কৃষ্ণের কিংবা
রোমিও জুলিয়েটের উদগ্র প্রেমের মতো
চণ্ডীদাস ও রজকিনী রামতারা ওরফে রামীর প্রেম
নিকষিত হেম
প্রভুর বাগানে সারা রাত সাদা ফুল ফুটে থাকে
কিছু সাদা ফুল মর্ত্যে ছিটকে পড়ে
ভোর হওয়ার আগ পর্যন্ত ফসফরাসের আলোতে
আলোকিত হয় যেমন সমুদ্রে রাতে কতকগুলো মাছের আলো থাকে
কী সুন্দর সাদা আগুন উড়তে থাকে সারা রাত
সাদা মাছির মতো...

মাহবুব খাঁনের দুইটি কবিতা

Saturday, July 16, 2011

প্রেম তুমি কি?

প্রেম তুমি কি?
শিশির বিন্দু জল
কুয়াশা ডাকা ভোরে
একখন্ড রোদের ঝিলিক।
প্রেম তুমি কি?
হৃদয়ের আহাজারি
কান্নাতে জীবন চলার
ভয়ঙ্কর মহামারি
প্রেম তুমি কি ?
আসলে কিছু নয়
জীবন ধবংস করার চাবিকাঠি। 




এ কবিতা আমার ?

এ কবিতা আমার
পরশ পাথর, নিবেদিত প্রাণ
এ কবিতা আমার
স্মৃতির পাতা, প্রেম ভালোবাসা।
এ কবিতা আমার
আকুল আবেদন, আমার নয়ন ভরা জল।
এ কবিতা আমার
প্রাণের নায়ের বৈঠা
জীবন নদীর জোয়ার ভাটা।
এ কবিতা আমার
পিছন ফিরে দেখা, বিপদে পথ চলা
এলোমেলো কথার মালা
এ কবিতা আমার
বিপন্ন জীবন, স্মৃতির ডায়েরী
এ কবিতা আমার
রিক্ততা, ব্যস্ততা, ব্যকুলতা
শূন্যতা, দুঃখ, গ্লানি হাসি
আনন্দ উল্লাস।
এ কবিতা আমার
সুপ্ত বেদনা, অব্যক্ত উক্তি
কিংবা আর্তনাদ
এ কবিতা আমার
নির্বাক চাহুনী, আত্মহুতি
লন্ড ভন্ড ভালোবাসা, নিঃস্ব আশা
ঠুনকো আশা, প্রেমের প্রাপ্তি
এ কবিতা আমার
হৃদয়ের স্বরলিপি, ব্যর্থতা
অথবা স্বার্থকতা।

মুনাজাত ।। নাহিদা ইয়াসমিন নুশরাত

সিজদা পাওয়ার মত কেউ নেই কভূ
হে আল্লাহ্ ! তুমি ছাড়া
সুবিশাল ঐ পাহাড়ে তাইতো বহে
তোমার প্রেমে ঝরণা ধারা।
তোমার তাস্বীহ জপে গাছ-গাছালী
আকাশ বাতাস সবি,
তোমার নামেই নিত্য উঠে হেসে
পূর্বাকাশে উত্তপ্ত রবি।
হে রহমান! তুমিই তো বিছায়ে দিয়েছ
ধরাতে সবুজের গালিচা,
তোমার তাস্বীহ পড়ে তাই সারাক্ষণ
ঝাউ আর সেগুন বাগিচা,
হে খোদা! তোমার ইশারায় হল
রাত নিকট কালো,
যার মাঝে আছে মুক্তা সদৃশ তারকা
আর কামারের আলো।
হে বিচার দিবসের স্বামী! আমি তোমার
অতি নগন্য এক বান্দাহ্,
তোমার রহমের বারিতে ধুয়ে দাও
আমার সকল গুনাহ্।

তোর জন্য সবটুকু ভালবাসা ।। মুক্তা

২২ শে জুলাই সবাই যখন
Happy Birthday বলবে,
তোর মা আর্শীবাদ হিসেবে
চোখের জল ফেলবে।
তুই যে আমার চোখের মণি
সুখের আশার আলো,
একদন্ড না দেখলে তোকে
লাগেনাতো ভালো।
তোর-ই জন্য আমার যত স্বপ্ন, আশা
তোর জন্য আমার আছে
সবটুকু ভালবাসা।
দুঃখটাকে পিছে ফেলে
তোকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি
বড় হয়ে করবি পূরণ
মায়ের যত আশা;
এ যে আমার তোর জন্য
সবটুকু ভালবাসা।

চাঁদের বুড়ি ।। আয়েশা আক্তার (কাজল)

দূর আকাশে বসে আছে
চাঁদের বুড়ি মা,
তাকে দেখে প্রণাম করে
কচি পাখির ছা।
মিটমিটিয়ে হাসে বুড়ি
কচি পাখি দেখে,
পাখির মনের প্রশ্ন জাগে
বুড়ি কেন হাসে;
তার কি কোন ভুল হয়েছে
প্রণামের আগে।
কিচির মিচির শব্দ করে
উড়ে বেড়ায় আকাশে,
ছন্দ তুলে রঙ্গ করে
মিশে যায় বাতাসে।
এমনি করে ঘুরে ফিরে
ক্লান্ত পাখির ছা,
তাই না দেখে হাসে কেবল
চাঁদের বুড়ি মা।

আমার প্রিয় দেশ ।। তারেক রহমান

এই দেশটি জনম ভরই
চলছে লালন করে,
মায়ের মতো সোহাগ দিয়ে
রাখছে বুকে ধরে।
এই দেশটি শান্ত বড়ই
রাগ করেনা কেউ,
নদীর বুকে খেলে বেড়ায়
শান্ত জলের ঢেউ।
ব্যস্ত থাকে দামাল ছেলে
ক্ষেত খামারের কাজে,
কাজের শেষে বীরের বেশে
ফিরবে আবার ঘরে।
আমার যত স্বপ্ন আছে
এই দেশটি নিয়ে,
সকল স্বপ্ন পুরন হবে
সোনার মানুষ দিয়ে।

মায়ের আদেশ ।। মোহাম্মদ আল মাহী

সৎ পথে চলবে,
দেশটাকে গড়বে।
অন্যায় করবে না
বিপথে যাবেনা।
বড়দের কথা মানবে,
পৃথিবীটাকে জানবে।
মন দিয়ে পড়বে,
ভালো রেজাল্ট করবে।

পেয়ারা চোর ।। মৃদুল হাসান

গাছের ডালে পেয়ারা দেখে
বেহায়া ছেলে ভাবে,
কেমন করে লুকিয়ে গিয়ে
পেয়ারা গুলি খাবে?
রাতের বেলা বুদ্ধি করে
উঠল যখন ডালে
পা পিছলে হুমড়ি খেয়ে
পড়ল টিনের চালে।
সবাই এসে করলো তাকে
প্রচন্ড মার-ধোর,
সেদিন থেকে নাম হলো তার
ব্যর্থ পেয়ারা চোর। 


রায়পুর আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ

এ সংখ্যার কবিতা : আষাঢ় ।। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

নীল নবঘনে আষাঢ়গগনে
তিল ঠাঁই আর নাহি রে ।
ওগো , আজ তোরা যাস নে ঘরের
বাহিরে।
বাদলের ধারা ঝরে ঝর - ঝর ,
আউশের খেত জলে ভর - ভর ,
কালী - মাখা মেঘে ও পারে আঁধার
ঘনিয়েছে দেখ্? চাহি রে।
ওগো , আজ তোরা যাস নে ঘরের
বাহিরে ।
ওই ডাকে শোনো ধেনু ঘনঘন ,
ধবলীরে আনো গোহালে।
এখনি আঁধার হবে বেলাটুকু
পোহালে ।
দুয়ারে দাঁড়ায়ে ওগো দেখ্? দেখি
মাঠে গেছে যারা তারা ফিরিছে কি ?
রাখাল - বালক কী জানি কোথায়
সারাদিন আজি খোয়ালে।
এখনি আঁধার হবে বেলাটুকু
পোহালে ।
শোনো শোনো ওই পারে যাবে ব'লে
কে ডাকিছে বুঝি মাঝিরে।
খেয়া - পারাপার বন্ধ হয়েছে
আজি রে ।
পূবে হাওয়া বয় , কূলে নেই কেউ ,
দু কূল বাহিয়া উঠে পড়ে ঢেউ ,
দরদর বেগে জলে পড়ি জল
ছলছল উঠে বাজি রে ।

আমরা দিতে চাই ।। জান্নাতুল ফেরদাউস সীমা

Saturday, June 4, 2011


আমরা দিতে চাই অন্য এক পৃথিবী
মনের দরজা মেলে যেখানে হেঁটে বেড়ায় অন্য রকম মানুষ
যাদের মাঝে নেই কোন হিংসা নেই কোন অহংকার
আছে শুধু সাম্য, শান্তি আর ভালোবাসা
যারা নিজের চেয়েও বেশী প্রাধান্য দেয় অন্যের সুবিধাকে।


আমরা দিতে চাই অন্য এক আকাশ
যেখানে বইবে দূষিত বায়ূর পরিবর্তে পরিচ্ছন্ন বায়ূ
যে আকাশে ভেসে বেড়াবে সুখি আর শান্তির পায়রা।

আমরা দিতে চাই অন্য রকম বাতাস
যে বাতাসে ভেসে বেড়াবে ঐক্যের সুগন্ধ
যে বাতাসের তাড়নায় নিমিষেই দূর হয়ে যাবে
অশান্তির কালো ছায়া।

আমরা ফুটাতে চাই অন্যরকম ফুল
যে ফুলের সুভাসে বিমোহিত হয়ে যাবে মানুষ
অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকবে বিশ্ববাসী।
আমরা এমন কিছু দেখাতে চাই
যেখানে আকাশ বাতাসে শোনা যায়
মুয়াজ্জিনের আযানের সুর
সর্বদা মানুষ তৎপর থাকে আল্লাহ ও রাসূলের
সন্তুষ্টির জন্য।

আমরা দিতে চাই অন্য রকম পরিবেশ
যেখানে থাকবেনা কান্না হাহাকার
থাকবে না অশ্র“, মানুষ হাসবে
আবার সম্প্রীতির বন্ধন দেখে।

মেহনাজ বিনতে সিরাজ এর দুটি কবিতা

আমার ছেলেবেলা

আসব আমি এই দেশেতে
সবুজ ধানের শীষে
প্রকৃতিরই রূপের মায়ায়
মানব সঙ্গ মিশে।

পুকুর পাড়ে, নদীর তীরে
ঢেউ যে খেলা করে
ভেসে যাবো সেথায় আমি
ডিঙ্গি নাওয়ে চড়ে।


গাছের ছায়া, ফুলের মায়া
মনের সাথে মিশে
স্বপ্ন রঙ্গিন ছায়া তলে
শিশির ভেজা ঘাসে।

বটের ছায়ায়, বকুল তলায়
বকুল ফুলের পরে
ফুলের গন্ধে যায় যে ভেসে
শীতের আমেজ ভোরে।

মাঠে ফলে সোনার ফসল
কৃষাণ ঘরে তোলে
তাইতো আমি ঘুমিয়ে আছি
সবুজ মাঠের কোলে।


মাতা ভক্তি

একদা মায়ের ভীষন অসুখ
বায়োজীদ পড়ার ঘরে
অসুস্থ মা ঘুম নাই চোখে
পানি পিপাসায় মরে।
জ্বরে তো মায়ের গা যায় পুড়ে
ঘুম নাই দুটি চোখে,
মা বললেন একটু পানি
ঢাল বায়োজীদ মুখে।
বায়োজীদ তখন পড়ি কি মরি
যায় কলসির দ্বারে
সেথায় গিয়ে দেখে
এতটুকু পানি নাই কলসিতে পড়ে;
বায়োজীদ তখন গভীর আঁধারে
কূপের কাছে যায়
সেথায় গিয়ে কলসিতে ভরে
পানি নিয়ে আসে তায়।
বায়োজীদ যখন পানি নিয়ে
মায়ের কাছে যায়,
মা তখন ঘুমে বিভোর-
বায়োজীদ দেখতে পায়।
বায়োজীদ ভাবে অসুস্থ মা
ঘুম ভাঙ্গা কি ঠিক হবে!
বায়োজীদ তখন পানি নিয়ে গ্লাসে
দাঁড়ায় শিয়রের আগে।
সকালে মা ঘুম থেকে উঠে
ছেলেকে দেখতে পেয়ে
মায়ের প্রতি ভক্তি দেখে
প্রাণ ভরে দোয়া করে।
ইনি হলেন বিশ্ব ওলী
বায়োজীদ বোস্তামী
তাইতো আজ শপথ করি
তার আদর্শে অনুপ্রাণিত আমি।

এখনো সময় আছে ।। নাহিদা ইয়াসমিন নুসরাত

এখনো সময় আছে তোমার
অন্ধকার হতে বেরিয়ে আসার
ধরার বুকে খোদার বিধান
করতে কায়েম আবার।


এখনো সময় আছে তোমার
হিমালয় পাড়ি দেবার
আবু বকর ওমরের মত
শাসক হবার।

এখনো সময় আছে তোমার
সৃষ্টিকর্তাকে চিনবার
অন্ধকারের অতল গহ্বর হতে
বেরিয়ে আসবার।

এখনো সময় আছে তোমার
সত্য সুন্দরের পথে চলার
আসমান- যমীন সমেত
জান্নাতে যাবার।

এখনো সময় আছে তোমার
নতুন করে শপথ নেয়ার
ঘুণে ধরা নষ্ট সমাজ
নতুন আলোয় গড়ার।

এখনো সময় আছে তোমার
অজ্ঞতা ঘুচাবার
সৃষ্টিকর্তা মহান প্রভূর
প্রিয় বন্ধু হবার।

জিজ্ঞাসা এবং ।। মাকসুদা আমীন মুনিয়া

আমরা কেমন মানুষ ?
চলার পথে হারিয়ে ফেলি হুশ,
একবারও ভাবিনা নিয়ে ভালো মন্দ
এমন কাজ করি যেন মোরা সত্যিই অন্ধ।
মোরা কেমন ভাবুক ?

সকাল বেলার রক্তিম সূর্য আমাদের ভাবায় না,
কোন সে শক্তির বলে বেড়ে চলে
আমাদের জন্য বসে থাকে না।
কেমন বোকা আমরা ?
রাতের চাঁদের স্নিগ্ধ আলোয় অভিভূত হই,
কিন্তু একবারও ভাবিনা
এত পাগল করা জোছনা সে পেলোইবা কৈ!
বলোতো কেমন চিন্তাশীল মোরা ?
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে বিভোর হয়ে থাকি,
অথচ এতই অধম যে বিধাতার শ্রেষ্ঠত্ব
ক্ষমতার সীমাহীনতা গোপন করে রাখি।
আমরা কেমন প্রেমিক ?
ফুলের সৌরভে মাতোয়ারা হয়ে যাই,
অথচ যে তাকে গড়িল সৌরভ ভরিয়া
তাঁকে ভাবিবার সময় নাহি পাই।
মোরা কেমন বিবেকবান ?
যাঁর খাই, যাঁর পরি
যাঁর দয়ার বেড়ে যাই, জীবন তরী
চলার প্রতিপদে তাঁরই অশুকরিয়া করি।
এসো ভাঙ্গি ভুল
ভাঙ্গি অসত্য আছে যত
নড়িবনা একটি চুল
আসুক পথে বাঁধা বিপদ শত।
এসো করি প্রার্থনা বিধাতার কাছে
করেন যেন তিনি ক্ষমা
ভুল- ভ্রান্তি, পাপ যত আছে
পরকালে যেন থাকে না কিছু জমা।

দুটি ডানা ।। তারেক রহমান

আমার যদি পাখির মত
থাকতো দুইটি ডানা,
উড়ে যেতাম নীল আকাশে
করতো কে আর মানা?


মেঘের দেশে হাওয়ায় ভেসে
যেতাম কত শত,
রং ছড়াতাম কখনোবা
রংধনুদের মত।

গাছের ডালে হাওয়ার তালে
হতো যাওয়া আসা,
স্বপ্নচারী সবুজ পাতার
পেতাম ভালোবাসা।

উড়ে যেতাম ইচ্ছে হলে
ফুল পরীদের হাটে,
সোনার থালায় যেথায় থাকে
ফুল ছড়ানো মাঠে।

গল্পের রাত স্মৃতি হয়ে থাক ।। মুক্তা

বাবা যখন ক্যান্সার রোগে জরাজীর্ণ
রাতটা জেগে বসেছিলাম
শুধু-ই বাবার জন্য।
বাবার মাথায় বুলিয়েছিলাম যখন হাত
বাবা বলে মুক্তিযুদ্ধের গল্পটা শুনে রাখ।
রাত জেগে শুনেছিলাম, বাবার যুদ্ধের ইতিহাস
শুনে- যেন মনে হলো, কথাগুলো বাবা কেন
আরো আগে করলেন না ফাঁস ?
যুদ্ধ তো নয় সে মহাযুদ্ধ
দেশকে বাঁচাতে রক্তও দিলেন বেশ।
ডান হাতে পেয়েছিলেন বুলেটের আঘাত
তারপরও শত্র“দের দিয়েছিলেন পাল্টা জবাব।
উনিশ শত একাত্তরের যুদ্ধের নয় মাস পরে
বাবা ফিরে এসেছিলেন দেশে
এরই মাঝে কাটিয়েছিলেন
বছর কয়েক ঘুরে ঘুরে- দেশ আর বিদেশ।
দুই হাজার নয় সালে, সাতাশ এপ্রিল
মরণ ব্যাধি ক্যান্সার- করে দিল জীবনটা শেষ।
জাতীয় পর্যায়ে যখন দিল মর্যাদা
গর্বে আমার শুধু বুকটা ভরে যায়।
সরকারী লোক যখন বাবাকে- করছে স্যালুয়েট
বাবার সব দুঃখ- কষ্ট যেন পেলুয়েট।
মরণের পরেও বাবা আছে জীবিত
সবার মুখে শুনি যখন বাবার স্মৃতি অকপট।
বাবা তুমি আছো এখন শুধুই স্মৃতি হয়ে
তোমার এ মুক্তিযুদ্ধের গল্প,
এই দেশ ভুলবে কি করে?
বাবা তোমাকে ভোলা তো যায় না
এই স্মৃতির তুলনা তো কোন কিছুইতেই হয়না।

বয়সের খেলা ।। মোহাম্মদ আল মাহী

বয়সটা যখন “শূণ্য”
ছিলাম সবার কাছে অনন্য
বয়স যখন ‘এক’
নানা আপু বলে উঁকি দিয়ে
তোর বাবাকে দেখ।
বয়সটা যখন হয়েছিল পূর্ণ ‘এক’
পাপা আবার বিদেশেতে
করলো যে নধপশ।

বয়সটা যখন হয়েছিল হলো ‘ছয়’
ফিরে এসে দেখল বাবা
ছেলেতো ‘পাপা’ কয়।
চলছিল যখন বয়স ‘সাত’
চুকালাম ‘নানা’ ডাক।
বয়সটা যখন ‘আট’
হারালাম পাপা ডাক।
বয়স চলছে এখন ‘নয়’
মাঝে মাঝে স্মৃতিগুলো
শুধুই কথা কয়।
একি পৃথিবীর রীতি
সব কিছু আমার কাছে
শুধুই যে স্মৃতি।

বিস্ময় ।। গাজী গিয়াস উদ্দিন

Saturday, April 30, 2011

বিস্ময়
গাজী গিয়াস উদ্দিন

অথই জলরাশির হাবুডুবুর পাশে যে আশ্রয় ও নিরাপত্তা
দাবানলের দাউদাউর পাশে অক্ষত থেকে
মনুষ্যত্বহীন পশুত্বের অভিশাপের পাশে এ পবিত্রতা
হিংস্র শ্বাপদ সংকুল ভয়ংকর ছোবল থেকে
সুনামির মতো মহাদূর্যোগের আশংকায়

আমার জীবন ও কর্মের এ সুরক্ষা এ নিরাপদ বিস্ময়;
শৈশব থেকে বার্ধক্যের দিকে কালের এ শ্লথ গতি
চির জীবন যৌবনের এ স্বপ্নদোল আকাংখা যুবতী
জায়াপুত্র আত্মজা সহায় সম্মান প্রাচুর্য ঐশ্বর্য প্রতিযোগিতায়
বসবাসের সকল রোদ বৃষ্টি সবুজ বেষ্টিত প্রার্থনার কসমঃ
আমি তৃপ্ত আপ্লুত, আমি বিস্মিত অভিভূত হরদম।
আমি শুণ্য আমি প্রকান্ড আমি মানুষ ও দৌতার মহাধন
সুরের মাঝে অসুরের বিরুদ্ধে
আমি মৃত্যুকে করি আলিঙ্গন।
১৮/০৩/১১

ঝড়ের দিনে বিদ্যুৎ কর্মী ।। তাজুল ইসলাম

ঝড়ের দিনে বিদ্যুৎ কর্মী
তাজুল ইসলাম

ঝড়ো দিনের ঝড়ো হাওয়া, গুড়ুম গুড়ুম ডাক
আমায় ডেকে বলে,ওরে নাওয়া-খাওয়া রাখ ।

নাওয়া-খাওয়া বন্ধ করে, প্রস্তুত হয়েছি যেই
চারদিকে সবই আছে,তবু কি যেন কি নেই ।

বন্ধ হলো কলকারখানা,বন্ধ লাইট-ফ্যানএবার লড়াই করতে হবে,লড়াই ধ্যান-জ্ঞান ।

মুচকি হাসে গাছপালা আর বৃষ্টি ঝড়ো হাওয়া
অনেক লড়াই করে গেল,সমস্যাটাকে পাওয়া ।

সমাধানটা করার পরে যা ছিলোনা এলো
আমার গায়ে ময়লা কাপড়,চুল এলোমেলো ।

কেউবা হাসে,কেউবা বলে,কে করে এই কাজ?
আমিও হাসি, ভালবাসি এটাকেই খুব আজ ।

স্বাধীনতা ।। শারমিন সুলতানা

স্বাধীনতা
শারমিন সুলতানা


স্বাধীনতা স্বাধীনতা
যারা আনলো ভাই,
তাদের কাছে সালাম আমার
পৌঁছে দিতে চাই।

স্বাধীনতা আনতে গিয়ে
রক্ত দিল যারা,
তাদের জন্য দোয়া করি
যারা সর্বহারা।

স্বাধীনতার জন্য যারা
দিল তাদের প্রাণ,
তাইতো মানুষ গেয়ে যায়
তাদের ত্যাগের গান।

তারেক রহমান'র দু'টি কবিতা

একটি ফুল

একটি ফুল ফুটল যখন
ডাকলো দূরের পাখি
একটি শিশুর ঘুম ভেঙ্গেছে
মেলে দু’টি আঁখি।

সূর্যি মামা উঠে যখন
ছড়িয়ে দিলো আলো
ভোরের আলো উঠলো হেসে
দূর হলো সব কালো।

একটি ফুল ফুটলো যখন
সবুজ পাতার আড়ে
উঠলো কেঁদে ছোট্ট শিশু
বদ্ধ ঘরের দ্বারে।


একটি ফুল ফুটলো যখন
জাগলো ভ্রমর মাছি
কাজের মানুষ লাগছে কাজে
এসে কাজে কাজে।


আমাদের গ্রাম

আমার কেবল ইচ্ছে করে
বিলের ধারে থাকতে,
ধানের ক্ষেতে লুকিয়ে থেকে
পাখির মত ডাকতে।
ধানের ওপর ঢেউ খেলে
যায় বাতাস কাহার দেশে,
যে দেশেতে ভোরের
দোয়েল কিছি মিছি ডাকে।
যখন ঘুরে দাঁড়াই বাতাসের মধ্য খানে
তখনি বাজে কানে একটি সাড়া,
মা আমার ঢেঁকিতে ধানভানে।
ধান ক্ষেত ঘেরা সীমাহীন মাঠে মাঠে
এই সব ছোট ছোট গ্রাম।
কই মাছ কান বেয়ে ওঠে যায়
ভাসমানো পুকুর থেকে জল ভরা মাঠে,
আমরা সবাই জানি ছোট বেলা থেকে।
সবুজ ধানের ক্ষেতে পাকা ফসলের গন্ধ,
যে ক্ষেত আমরা দেখেছি বহু দিন ভরে।
সোনালী ধানের পাশে অসংখ গ্রাম
আমাদের এই সোনার দেশ,
সোনার ধান জন্মালো এই সব গ্রামে,
এই গ্রাম আমার জম্ম ভূমি।
 
Support : Dhumketo ধূমকেতু | NewsCtg.Com | KUTUBDIA @ কুতুবদিয়া | eBlog
Copyright © 2013. News 2 Blog 24 - All Rights Reserved
Template Created by Nejam Kutubi Published by Darianagar Publications
Proudly powered by Dhumketo ধূমকেতু