মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র- মুসলমানদের সামনে দুই পথ, দেশত্যাগ অথবা মৃত্যু

Tuesday, February 25, 2014

কারনোট: মধ্য আফ্রিকান প্রজতন্ত্রের খ্রিস্টান জঙ্গিরা দেশটির একটি গির্জায় আশ্রয় গ্রহণকারী মুসলমানদের দেশত্যাগ অথবা মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।

উগ্র খ্রিস্টানদের গণহত্যার হাত থেকে রক্ষা পেতে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কারনোটের একটি ক্যাথলিক গির্জায় প্রায় ৮০০ মুসলমান আশ্রয় নিয়েছেন। চলতি মাসের গোড়ার দিকে নিকটবর্তী গুয়েন গ্রামে এক গণহত্যায় অন্তত ৭০ জন মুসলমান নিহত হওয়ার পর তারা গির্জাটিতে আশ্রয় নেন।

এখন খ্রিস্টানরা বলছে, মুসলমানরা গির্জাটি থেকে বেরিয়ে দেশত্যাগ না করলে সেখানে আগুন ধরিয়ে দেবে তারা।

গত ডিসেম্বর খ্রিস্টান জঙ্গিরা সুসংগঠিতভাবে মুসলমানদের বিরুদ্ধে দাঙ্গা শুরু করে। প্রধানত মুসলমানদের নিয়ে গঠিত সেলেকা গেরিলারা ২০১৩ সালের মার্চ মাসে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের তৎকালীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল। ডিসেম্বরে সেলেকা সরকার পদত্যাগ করার পরপরই মুসলমানদের ওপর গণহত্যা অভিযান শুরু হয়।

হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে এরইমধ্যে প্রায় ১০ লাখ মুসলমান দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। উগ্র খ্রিস্টানদের হাতে নিহত হয়েছেন অন্তত ১,০০০ মানুষ। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে ডিসেম্বরেই ফ্রান্স দেশটিতে ১,৬০০ শান্তিরক্ষী মোতায়েন করলেও তারা দাঙ্গা বন্ধের কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে হীরকসহ আরো বেশ কিছু মূল্যবান খনিজ সম্পদ রয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ফ্রান্স এসব সম্পদের লোভে দেশটিতে সেনা পাঠিয়েছে; মুসলমানদেরকে দাঙ্গাকারীদের হাত থেকে রক্ষা করতে নয়। সূত্র: আইআরআইবি

বিদ্রোহীরা দখল নিলে ত্রিপোলি উড়িয়ে দেবেন গাদ্দাফি

Friday, July 15, 2011

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ‘আত্মঘাতী পরিকল্পনা’ নিয়েছেন। বিদ্রোহীরা রাজধানী ত্রিপোলি দখল করে নিলে তিনি এ শহর উড়িয়ে দেবেন। লিবিয়ায় নিযুক্ত রাশিয়ার বিশেষ দূতের বরাত দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার রাশিয়ার একটি সংবাদপত্রে এ খবর প্রকাশিত হয়।

সমঝোতার মাধ্যমে গাদ্দাফিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া ও বিদ্রোহীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আজ শুক্রবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আলোচনায় বসছেন।
লিবিয়ায় নিযুক্ত রাশিয়ার বিশেষ দূত মিখাইল মারগেলভ রাশিয়ার ইজভেস্তিয়া পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমার ধারণা, গাদ্দাফি সরকারের আত্মঘাতী পরিকল্পনা রয়েছে। এখনো তাদের হাতে প্রচুর ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুদ রয়েছে।’ তিনি বলেন, গাদ্দাফির সেনারা এখনো ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপণযোগ্য একটি ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করেনি। তাদের ট্যাংকের জন্য রাখা গোলা ও রাইফেলের গুলি ফুরিয়ে যেতে পারে। কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকের প্রচুর মজুদ রয়েছে।
গত ১৬ জুন ত্রিপোলিতে লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাগদাদি আল মাহমুদির সঙ্গে বৈঠক করেন মারগেলভ। তবে তিনি গাদ্দাফির সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।
আজ ইস্তাম্বুলে লিবিয়ার বিষয়ে আলোচনায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঁলা জুপ্পে, ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হগ ও ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঙ্কো ফ্রাত্তিনি অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। এতে সামরিক জোট ন্যাটোর মহাসচিব আন্দ্রেস ফগ রাসমুসেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাস্টন ও আরব লিগের প্রধান নাবিল আল আরবিরও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এই আলোচনায় অংশ নিতে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে রাশিয়া ও চীনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত নয়।
তুরস্কের একজন কূটনীতিক জানান, ইস্তাম্বুলের আলোচনায় লিবিয়ায় নিযুক্ত জাতিসংঘের দূত আবদুল ইলাহ সম্প্রতি তাঁর ত্রিপোলি ও বেনগাজি সফরের বিষয় তুলে ধরবেন। এ ছাড়া মুসলমানদের জন্য আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে লিবিয়ায় মানবিক সহায়তা বাড়ানো ও বিদ্রোহীদের সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।
লিবিয়ার বিদ্রোহীদের গঠিত অন্তর্বর্তী জাতীয় পরিষদের (টিএনসি) জ্যেষ্ঠ সদস্য মাহমুদ জিবরিল ইস্তাম্বুলের আলোচনায় যোগ দেবেন। তিনি বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নেবেন।
ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাউরিজিও মাসারি বলেন, জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় লিবিয়া পরিস্থিতির রাজনৈতিক সমাধানের পরিকল্পনা এগিয়ে চলছে।
গত মঙ্গলবার ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঁলা জুপ্পে বলেন, ‘আমরা লিবিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তাঁরা আমাদের বলেছেন, গাদ্দাফি ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন। সে বিষয় নিয়ে আলোচনা হোক।’

খরায় ধুঁকছে সোমালিয়া, অগণিত মৃত্যুর আশঙ্কা

ফ্রিকার পূর্বাঞ্চলে খরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অগণিত মানুষ মারা যেতে পারে। ব্রিটেনের টেলিভিশন চ্যানেল 'চ্যানেল ফোর'কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সোমালিয়ায় কর্মরত এক ত্রাণকর্মী এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। জেন্স ওপারম্যান নামের এ কর্মী শিগগিরই সেখানে আন্তর্জাতিক সাহায্য বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

আফ্রিকার পূর্বাঞ্চলের হর্ন অব আফ্রিকাভুক্ত দেশগুলোতে গত ৬০ বছরের মধ্যে ভয়াবহতম খরা দেখা দিয়েছে। সোমালিয়া, কেনিয়া, ইথিওপিয়া ও জিবুতি খরার আক্রমণে পড়েছে। তবে সোমালিয়ার পরিস্থিতি সবচেয়ে মারাত্মক। খাদ্য ও পানির আশায় লাখ লাখ লোক সেখানে ছোটাছুটি করছে। সোমালিয়ায় 'অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট হাঙ্গার' নামের দাতব্য সংস্থার প্রধান হিসেবে কাজ করছেন ওপারম্যান। চ্যানেল ফোর নিউজকে তিনি জানান, 'সোমালিয়ার পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। মানুষ এখানে অকল্পনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।' সোমালিয়ায় প্রায় ২৮ লাখ লোকের জরুরি মানবিক সাহায্যের প্রয়োজন বলে জানান তিনি। দেশটিতে গড়ে প্রতি তিন শিশুর একটিই অনাহারে দিন কাটাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ওপারম্যান জানান, 'খরা-আক্রান্ত এলাকার ত্রাণকর্মীরা মানুষকে সাহায্য করার ব্যাপারে হিমশিম খাচ্ছে। আমাদের কাছে আসা শিশু ও পরিবারগুলো মানসিক ও শারীরিকভাবে পুরোপুরি বিপর্যস্ত। অনেকেই মারাত্মকভাবে অসুস্থ বা আহত। অনেক লোককেই সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে অনাহারে থাকতে হয়।
ত্রাণ শিবিরগুলোতে আসা লোকদের প্রাণ বাঁচানোই দুষ্কর হয়ে পড়েছে।' সোমালিয়ার দক্ষিণাঞ্চল ও প্রত্যন্ত গ্রামগুলোর খরা পরিস্থিতি মারাত্মক এবং শিশু, গর্ভবতী নারী ও বয়স্ক লোকরাই এর সবচেয়ে বড় শিকার বলে জানান ওপারম্যান।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার প্রধান আন্তোনিও গুতিয়েরেস আফ্রিকার খরাকে 'বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবীয় বিপর্যয়' বলে উল্লেখ করেন গত সোমবার। সোমালিয়ার জঙ্গিগোষ্ঠী আল-শাবাব তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় বিদেশি ত্রাণকর্মী প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অধিকসংখ্যক সাহায্য সংস্থাকে সোমালিয়ায় যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গুতিয়েরেস।
আন্তর্জাতিক সাহায্যের অপরিহার্যতা উল্লেখ করে জেন্স ওপারম্যান বলেন, 'এই পরিস্থিতিকে বিবেচনায় না নিলে আমার আশঙ্কার হচ্ছে, অকল্পনীয় মাত্রায় মৃত্যুর ঘটনা দেখতে হবে আমাদের।'

লিবিয়ায় হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

Wednesday, March 2, 2011

লিবিয়ায় সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির কয়েকটি নৌবহর ও বেশ কিছু সামরিক বিমান এরই মধ্যে লিবিয়ার চারপাশে অবস্থান নিতে শুরু করেছে। পরে বড় ধরনের সামরিক হামলার প্রয়োজন হলে রাশিয়াকেও এর সঙ্গে যুক্ত করা হবে। জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে গত সোমবার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অন্যদিকে লিবিয়া ছাড়তে উদগ্রীব বিদেশিরা তিউনিসিয়া সীমান্তে জড়ো হচ্ছে। এরই মধ্যে এই সীমান্ত দিয়ে ৭৫ হাজার বিদেশি লিবিয়া ছাড়লেও গতকালের পরিস্থিতি ছিল রীতিমতো উদ্বেগজনক। গতকাল এই সীমান্তে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় দুই হাজার বিদেশি জড়ো হয়। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশিও আছেন।
লিবিয়ার ওপর নৌ ও বিমান আক্রমণের বিশেষ পরিকল্পনার কথা গতকাল পেন্টাগন ঘোষণা করেছে। এরই মধ্যে লিবীয় নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে উৎখাতের জন্য লিবীয় সীমান্তে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি বাড়াতে শুরু করেছে। তাদের নৌ ও বিমানবাহিনী লিবিয়ার চারপাশে অবস্থান নিচ্ছে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র কর্নেল ডেভ লাপান গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, 'এ মুহূর্তে আমরা একাধিক পরিকল্পনা নিয়ে
ভাবছি। তবে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও মহড়া অব্যাহত আছে। এরপর সবচেয়ে উপযোগী পরিকল্পনা অনুসারে আমরা সামনে অগ্রসর হব।'
এর আগে দেশটিতে সামরিক হামলা চালিয়ে গাদ্দাফি যাতে তাঁর বিরোধীদের নির্যাতন-নিপীড়ন চালাতে না পারেন সে জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় নেতারা লিবিয়ায় একটি নিরাপদ আকাশসীমা বা নো ফ্লাই জোন গঠনে একমত হন। ন্যাটোর সামরিক বিমানগুলোকে এ কাজের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও সম্ভাব্য বিমান হামলার পরিকল্পনায় রাশিয়াকেও পক্ষভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার কিছু যুদ্ধবিমান এ মুহূর্তে লোহিত সাগর এলাকায় রয়েছে এবং সেগুলোকে এ ক্ষেত্রে কাজে লাগানো হতে পারে বলেও আভাস দিয়েছেন লাপান। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে সাক্ষাতের পর লিবিয়ার ওপরে সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
লিবিয়ার শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির সঙ্গে বিপ্লবীদের সংঘাতের কারণে দেশটি থেকে হাজার হাজার বিদেশি ও লিবীয় তিউনিসিয়া সীমান্তে পাড়ি জমাচ্ছে। প্রতি ঘণ্টায় সেখানে হাজার হাজার বিদেশি ও উদ্বাস্তু প্রাণ বাঁচানোর আশায় জড়ো হচ্ছে। বিবিসি জানিয়েছে, পরিস্থিতি ভীষণ উদ্বেগজনক। প্রতি ঘণ্টায় সেখানে দুই হাজারের বেশি শরণার্থী জড়ো হচ্ছে। এদের অধিকাংশই বিদেশি। এদের মধ্যে মিসরীয়, চীনা এবং বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক কমিশনের হাইকমিশনার মেলিসা ফ্লেমিং জানিয়েছেন, গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার মানুষ লিবিয়া ছেড়ে তিউনিসিয়ায় ঢুকে পড়েছে। গতকাল পরিস্থিতি ছিল ভীষণ উদ্বেগজনক। গতকাল সেখানে প্রায় ২০ হাজারের বেশি শরণার্থী জড়ো হয় যাদের অধিকাংশেরই কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। এদের অধিকাংশই মিসরীয়। এ ছাড়াও এদের মধ্যে চীনা ও বাংলাদেশি শরণার্থী রয়েছে। মিসরীয়রা অভিযোগ করেছে, তাদের ব্যাপারে মিসর সরকারের কোনো নজরদারি নেই। শরণার্থীদের অনেকেই একবস্ত্রে চলে এসেছে। তিউনিসিয়া সীমান্তে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দেখা দেওয়ায় শীতের পোশাকের অভাবে তাদের অনেকেই জীবনের ঝুঁকিতে আছে। এর সঙ্গে খাবারের কষ্টও আছে প্রচণ্ড। সীমান্তটিতে শরণার্থীদের জন্য ত্রাণকেন্দ্র খোলা হলেও সেখানে খাবার সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।
এদিকে লিবীয় নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি বিদেশি প্রচারমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আবারও বলেছেন, তাঁর জনগণ এখনো তাঁকেই পছন্দ করে। ত্রিপোলিতে তাই তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ ওঠার প্রশ্নই আসে না। তিনি এখনো এই সংকট সৃষ্টির জন্য আল-কায়েদাকে দায়ী করে যাচ্ছেন।
গাদ্দাফির অনুগত লিবীয় বিমানবাহিনী গাদ্দাফির হাতছাড়া হয়ে যাওয়া অংশগুলো পুনরুদ্ধারে গতকাল সামরিক মহড়া দিয়েছে। পশ্চিম লিবিয়ার তিউনিসিয়া সীমান্তের কাছে নালুত শহরের ওপর দিয়ে কমপক্ষে দুটি যুদ্ধবিমানকে টহল দিতে দেখা গেছে। যুদ্ধবিমান থেকে একটি অস্ত্র গুদামের ওপর বোমা হামলা চালানো হয়। সে সময় সেখানকার অধিবাসীরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে এবং লিবীয় নেতার বিরুদ্ধে গগনবিদারী স্লোগান দেয়। তবে সেখানকার বিপ্লবী নেতারা দুটি যুদ্ধবিমানের পরিবর্তে দুটি হেলিকপ্টার দিয়ে আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে একটি সংবাদসংস্থাকে জানিয়েছেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন গতকাল লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দেশটি এখন গৃহযুদ্ধের মুখোমুখি এবং এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি লিবিয়ায় একটি নিরাপদ আকাশসীমা তৈরির পক্ষে মত দেন এবং দেশটির শান্তিরক্ষায় ব্রিটিশ সৈন্য পাঠানোর দরকার হলে ব্রিটেন তার জন্য তৈরি বলেও জানিয়েছেন তিনি।
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন গতকাল বলেছেন, গাদ্দাফি তাঁর জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে দেশ শাসনের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছেন। তিনি আরো বলেন, 'লিবিয়ার এই শাসক তাঁর জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। এর অর্থ জনগণ আর তাঁর পক্ষে নেই। তাই লিবিয়ায় তাঁর পরিবর্তন খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। জনগণ আর তাঁকে চাইছে না। আমরা জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দেশটির জনগণ পরিবর্তন চায়, সেই পরিবর্তন বাস্তবায়নে জাতিসংঘ লিবীয় জনগণকে সহযোগিতা করে যাবে। গাদ্দাফির উচিত জনগণের মনোভাব বোঝা এবং এক্ষুনি তাঁর পদ থেকে সরে যাওয়া।' গতকাল ওয়াশিংটনের হলোকাস্ট জাদুঘরের সামনে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন, 'তিউনিসিয়া, মিসর, বাহরাইন থেকে ইয়েমেন পর্যন্ত বা এর চেয়েও বেশি এলাকাজুড়ে জনগণ এখন নতুন অধিকার ও নতুন স্বাধীনতার পক্ষে। এসব এলাকার রাষ্ট্রনায়ক ও সরকারপ্রধানদের আমি বরাবরই অনুরোধ করে আসছি জনগণ কি বলতে চায় সেটা ভালো করে শুনুন। অযথা রক্তপাত না ঘটিয়ে তাদের দাবিগুলো মেনে নিন অথবা দরকারি সংস্কারের চেষ্টা করুন। নইলে এর পরিণতি শুভ নাও হতে পারে।'
বারাক ওবামার সঙ্গে লিবিয়ার সংকট উত্তরণে তাঁর খোলামেলা কথা হয়েছে এবং তিনি জানান এ বিষয়ে তিনি সন্তুষ্ট। বান কি মুন আজ বুধবারের সাধারণ অধিবেশনে সব সদস্য রাষ্ট্রকে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান।
এর আগে জাতিসংঘের মহাসচিব গত সোমবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে তাঁর ওভাল অফিসে বৈঠকে মিলিত হয়ে লিবিয়ায় প্রয়োজনীয় সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং লিবীয় জনগণের মানবাধিকার অক্ষুণ্নের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। সে সময়ে লিবিয়ার পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একজন ঊর্ধ্বতন সমন্বয়ক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকের পর লিবিয়ায় সামরিক আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
বৈঠক সম্পর্কে জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সুসান রাইস বলেন, 'লিবীয় নেতা এখনো বোকার স্বর্গে বাস করছেন এবং তাঁর মানবাধিকারবহির্ভূত আচরণগুলোর জন্য সারা বিশ্ব কেমন উদ্বিগ্ন হয়েছে সেটা এখনো বুঝতে পারছেন না তিনি। রাইস বলেন, 'বৈঠকে লিবিয়ার জনগণকে গাদ্দাফির অপশাসন থেকে বাঁচাতে সামরিক শক্তি প্রয়োগের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।' সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ, এএফপি, বিবিসি, জি নিউজ, দ্য হিন্দু অনলাইন।

বিমান থেকে জনতার ওপর বোমা

Tuesday, February 22, 2011

লিবিয়ায় বিক্ষোভ-সহিংসতা ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। দেশের পূর্বাঞ্চল সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারী ও বিদ্রোহী সেনাদের দখলে চলে গেছে। বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত লিবিয়ার রাষ্ট্রদূতেরা বিক্ষোভকারীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে পদত্যাগ করেছেন। এদিকে বিক্ষোভ দমনে ট্যাংক-যুদ্ধবিমানসহ সামরিক বহর মোতায়েন করেছেন দেশটির নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি। যুদ্ধবিমান থেকে বোমাও ফেলা হয়েছে বিক্ষোভকারীদের ওপর।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে গাদ্দাফি বিক্ষোভকারীদের গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য নিজের সমর্থকদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। খবর এএফপি, রয়টার্স, বিবিসির। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা টেলিভিশন জানায়, গত সোমবার রাতে ও গতকাল সকালে রাজধানী ত্রিপোলি ও দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বেনগাজিতে যুদ্ধবিমান থেকে বোমা ফেলা হয়। এ ছাড়া হেলিকপ্টার ও ট্যাংক থেকে গুলি ছোড়া হচ্ছে।
ত্রিপোলির বাসিন্দা আবদেল মোহাম্মদ সালেহ একটি বিদেশি টেলিভিশনকে বলেন, যা ঘটছে তা অকল্পনীয়। যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার থেকে একের পর এক বোমা ফেলা হচ্ছে। অনেক মানুষ মারা গেছে।
পূর্বাঞ্চলীয় শহর আল-বায়দার এক বাসিন্দা টেলিফোনে রয়টার্সকে জানান, সোমবার রাতে গাদ্দাফি-সমর্থকদের নির্বিচার গুলিতে তাঁর ভাইসহ ২৬ জন নিহত হয়। এ ছাড়া ট্যাংক ও যুদ্ধবিমান থেকে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে।
ওই শহরের আরেক বাসিন্দা মাহরি বলেন, ‘চাই বা না চাই, আমাদের এখন মরতেই হবে। এটা পরিষ্কার যে, আমাদের মরা-বাঁচায় তাদের কিছু যায়-আসে না। এটা গণহত্যা।’ শুধু ত্রিপোলি, বেনগাজি, আল-বায়দা নয়, দেশজুড়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলে পড়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও গাদ্দাফির সমর্থকেরা।
পূর্বাঞ্চলীয় তবরুক শহর থেকে রয়টার্সের এক সাংবাদিক জানান, ওই অঞ্চলের বেশির ভাগ এলাকা বিদ্রোহীদের দখলে চলে গেছে। সেখান থেকে সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর হ্যানি সাদ মারজা বলেন, ‘পুরো পূর্বাঞ্চল এখন গাদ্দাফির নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এখানে জনগণ ও সেনাবাহিনী হাতে হাত ধরে এগিয়ে যাচ্ছে।’
ফাসলুম জেলা থেকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে ‘ভাড়াটে খুনিদের’ নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তারা নির্বিচারে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি ছুড়ছে। তাজুরা জেলা থেকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সেখানেও বন্দুকধারীরা নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে।
ভারতে লিবিয়া দূতাবাস থেকে পদত্যাগকারী রাষ্ট্রদূত আল-এসাওয়ি জানান, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বোমা হামলা চালাতে সরকার যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে। এ ছাড়া বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলার জন্য সরকার বিদেশি নাগরিকদের ভাড়া করছে।
এর আগে জাতিসংঘে নিয়োজিত লিবিয়ার উপরাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম দাব্বাসি জানান, গাদ্দাফি নিজের দেশের মানুষের বিরুদ্ধে গণহত্যা শুরু করেছেন।
তবে গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল ইসলামের দাবি, বিক্ষোভকারীদের ওপর নয়, বিদ্রোহী সেনাসদস্যদের লক্ষ্য করেই যুদ্ধবিমান থেকে বোমা ফেলা হয়েছে।
এদিকে, গতকাল স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন গাদ্দাফি। কোনো অবস্থাতেই পদত্যাগ করবেন না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা আমার দেশ। নিজের শেষ রক্তবিন্দু ঝরে পড়া না পর্যন্ত আমি লড়াই করে যাব। পিতৃপুরুষের এই মাটিতে আমি শহীদ হব।’
বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালাতে নিজের সমর্থকদের নির্দেশ দিয়ে গাদ্দাফি বলেন, ‘ওই ইঁদুরগুলোকে ধরে ফেল। রাস্তায় নেমে আস, তাদের যেখানে পাওয়া যায় সেখানেই গুঁড়িয়ে দাও।’
বিক্ষোভকারীরা ‘শয়তানের স্বার্থসিদ্ধির’ জন্যই কাজ করছে জানিয়ে গাদ্দাফি বলেন, যারা বিক্ষোভ করছে, তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে।
ত্রিপোলিসহ গোটা লিবিয়ার অবস্থা গতকাল ছিল থমথমে। ত্রিপোলিতে তেমন কোনো বড় বিক্ষোভ হয়নি। তবে রাজপথে ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে টহল দেয় পুলিশ ও সেনাবাহিনী। বেনগাজি পুরোপুরি বিদ্রোহীদের দখলে। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের পক্ষে যোগ দিয়েছেন।
ত্রিপোলির বাসিন্দা লিসা গোল্ডম্যান বলেন, ‘গাদ্দাফি যা খুশি তা-ই করতে পারেন, কোনো কিছুতেই তাঁর বাধে না। আমরা জানি, তিনি উন্মত্ত। তার পরও এটা খুবই দুঃখজনক যে, তিনি নিজের দেশের মানুষ মারছেন। নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের কচুকাটা করছেন।’
গাদ্দাফি দাবি করেছেন, বিক্ষোভের মুখে তিনি দেশ ছেড়ে যাননি, রাজধানী ত্রিপোলিতেই আছেন। গাদ্দাফির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তিনি (গাদ্দাফি) দেশ ছাড়বেন না এবং পদত্যাগও করবেন না। শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবেন। গত সোমবার বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলির ঘটনায় লিবিয়া সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।
গাদ্দাফির ৪১ বছরের শাসনের অবসান ঘটাতে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তুমুল বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে লিবিয়ার মানুষ। এতে এ পর্যন্ত তিন শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। এর মধ্যে সোমবার রাজধানী ত্রিপোলিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিতে মারা যায় ৬০ জনের বেশি।
সোমবার রাত দুইটার দিকে হঠাৎ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখা যায় গাদ্দাফিকে। একটি ভাঙাচোরা ভবনের পাশ থেকে তিনি গাড়িতে গিয়ে উঠছেন। এ সময় বৃষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য মাথার ওপর একটি ছাতা ধরে আছেন। টেলিভিশন জানায়, গাদ্দাফিকে সরাসরি দেখানো হচ্ছে। এর আগে গুজব ছড়িয়ে পড়ে তিনি ভেনেজুয়েলায় পালিয়ে গেছেন।
টেলিভিশনে এক মিনিটের মতো কথা বলেন গাদ্দাফি। তিনি বলেন, ‘আমি গ্রিন স্কয়ারে তরুণদের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি।’ এই স্কয়ারটি ত্রিপোলির উপকণ্ঠেই অবস্থিত। সেখানে ওই দিন বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়।
গাদ্দাফি আরও বলেন, ‘এ কথা প্রমাণ করার জন্যই এসেছি যে আমি ত্রিপোলিতেই আছি, ভেনেজুয়েলায় নয়।’
গাদ্দাফির অন্যতম শীর্ষ সহযোগী নূরি আল-মিসমারি প্যারিসে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গাদ্দাফি ক্ষমতা থেকে সরেও দাঁড়াবেন না, দেশও ছাড়বেন না। শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবেন।
এদিকে হাজার হাজার বিদেশি ত্রিপোলি ছাড়ার চেষ্টা করছে। দেশটির বিভিন্ন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হাজার হাজার চীনা নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লিবিয়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন।
তুরস্ক তাদের প্রায় তিন হাজার নাগরিককে সরিয়ে নিতে লিবিয়ার বন্দরনগর বেনগাজিতে তিনটি জাহাজ পাঠিয়েছে। ইতিমধ্যে বিমানে করে তারা প্রায় এক হাজার জনকে দেশে নিয়ে গেছে। গতকাল ফ্রান্স তার নাগরিকদের সরিয়ে নিতে একটি বিমান পাঠায়। কিন্তু সেটি ত্রিপোলিতে নামতে না পারায় মাল্টায় অবতরণ করে। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের সরিয়ে আনতে বিমান পাঠাচ্ছে।
লিবিয়ার সাবেক উপনিবেশিক শাসক ইতালি বিমানবাহিনীর তিনটি সি-১৩০ বিমান পাঠাচ্ছে। প্রায় দেড় হাজার ইতালীয় লিবিয়ায় আছে।
মিসরের সঙ্গে লিবিয়ার সীমান্ত এখন বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে। এর আগে ওই সীমান্ত থেকে সীমান্তরক্ষীদের প্রত্যাহার করে নেয় লিবিয়া।
লিবিয়ায় অবস্থানকারী মিসরীয়রা ইতিমধ্যে লিবিয়া ছাড়তে শুরু করেছে। মিসর জানিয়েছে, নাগরিকদের দেশে নিয়ে আসতে তারা কমপক্ষে চারটি বিমান পাঠাচ্ছে।
আল-জাজিরা টেলিভিশন জানায়, বিক্ষোভকারীদের ওপর শক্তি প্রয়োগের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন দেশটির বিচারমন্ত্রী মুস্তাফা আবদুল জলিল। তিনি বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশ এবং জাতিসংঘ ও আরব লিগে নিযুক্ত লিবিয়ার কূটনীতিকেরা পদত্যাগ করে বিক্ষোভকারীদের পক্ষ নিয়েছেন।
গত সোমবার টেলিফোনে গাদ্দাফির সঙ্গে কথা বলেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। এরপর তিনি জানান, লিবিয়া-পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। মুন বলেন, ‘আমি তাঁকে (গাদ্দাফি) বলেছি, সভা-সমাবেশ, বাকস্বাধীনতা এবং মানবাধিকার অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।’
জাতিসংঘের মানবাধিকারের প্রধান নাভি পিল্লাই বলেছেন, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবেই গণ্য হবে।
লিবিয়া-পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল কায়রোতে জরুরি বৈঠকে বসেন আরব লিগের কূটনীতিকেরা। পরে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, লিবিয়ার সরকার বিক্ষোভকারীদের দাবি পূরণ না করা পর্যন্ত লিবিয়াকে সংস্থার বৈঠকে অংশ নিতে দেওয়া হবে না।
শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলির ঘটনায় লিবিয়া কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘লিবিয়া সরকারের উচিত দেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা ও সভা-সমাবেশের অধিকারসহ সর্বজনীন অধিকারের প্রতি সম্মান জানানো। অন্যায় রক্তপাত এখনই বন্ধ করার সময়।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মন্ত্রীরা এক বিবৃতিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

রক্তাক্ত লিবিয়ায় আক্রান্ত শতাধিক বাংলাদেশি by মেহেদী হাসান

Monday, February 21, 2011

মুয়াম্মার গাদ্দাফির শাসনামলের অবসানের দাবিতে চলা জনবিক্ষোভে লিবিয়ার পরিস্থিতি এখন অগি্নগর্ভ। গাদ্দাফির অনুগত লোকজন গুলি চালিয়ে সরকারবিরোধীদের হত্যা করছে। চরম অরাজক অবস্থার মধ্যে লিবিয়ায় কর্মরত শতাধিক বাংলাদেশিসহ বেশ কয়েকটি দেশের তিন শর মতো নাগরিক আক্রান্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

লিবিয়ায় বেনগাজিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের অনেকে 'জিম্মি' হওয়ার কথা গতকাল টেলিফোনে দেশে তাদের স্বজনদের জানায়। অবশ্য ত্রিপোলিতে বাংলাদেশ দূতাবাস এর সত্যতা নাকচ করেছে। দূতাবাস সূত্র অবশ্য স্বীকার করেছে, লিবিয়ার পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। খোলা তলোয়ার, ছুরি নিয়ে রাস্তায় নেমেছে বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বাংলাদেশিদের উদ্ধার এবং প্রয়োজনে দেশে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে।
সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, গতকাল সোমবার জঙ্গিবিমান থেকেও বিক্ষোভকারীদের ওপর বোমা হামলা চালানো হয়। গাদ্দাফির সমর্থকরাও ভবনের ছাদ থেকে চোরাগোপ্তা হামলা চালাচ্ছে। তবে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালাতে গাদ্দাফি সরকারের দেওয়া নির্দেশ অমান্য করে বিমানবাহিনীর কিছু কর্মকর্তা দুটি জঙ্গিবিমান নিয়ে মালটায় পালিয়ে যান। রাত পৌনে ২টার দিকে জানা যায়, ত্রিপোলিতে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে।
এদিকে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে গাদ্দাফি পালিয়ে ভেনিজুয়েলার পথে রয়েছেন বলেও মনে করছেন
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ। তবে ভেনিজুয়েলা কর্তৃপক্ষ খবরটি অস্বীকার করেছে। লিবিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, গাদ্দাফি দেশেই আছেন। বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের প্রতিবাদে ইতিমধ্যে লিবিয়ার বিচারমন্ত্রীসহ বেশ কিছু ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। জাতিসংঘে নিযুক্ত লিবিয়ার উপরাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম দাব্বাসি পদত্যাগ করে গাদ্দাফিকেও পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, লিবিয়ায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে চলা সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা ২৩৩ ছাড়িয়ে গেছে। চীন, ভারত ও আরব লিগে লিবিয়ার শীর্ষস্থানীয় তিনজন কূটনীতিক মুয়াম্মার গাদ্দাফির প্রতি অনাস্থা জানিয়ে পদত্যাগ করে অন্য কূটনীতিকদেরও পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের একজন আল জাজিরাকে বলেছেন, গাদ্দাফি হয়তো লিবিয়া ছেড়ে পালিয়েছেন এবং তাঁর ছেলেদের মধ্যে কর্তৃত্ব নিয়ে বন্দুকযুদ্ধ চলছে। গাদ্দাফিপুত্র সাইফ আল ইসলাম গতকাল রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে সতর্ক করে বলেন, বিক্ষোভকারীদের কারণে তাঁর বাবার শাসনের অবসান হলে গোটা দেশে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে এবং এর মাধ্যমে লিবিয়া ধ্বংস হবে। সরকারের সংস্কার প্রস্তাব না মানলে লিবিয়াজুড়ে রক্তের নদী বয়ে যাবে বলেও হুমকি দেন তিনি।
ক্ষমতায় টিকে থাকতে নির্বিচার শক্তি প্রয়োগের নীতি নিয়েছেন মুয়াম্মার গাদ্দাফি। অন্যদিকে একনায়কতান্ত্রিক শাসনের অবসানের জন্য মরিয়া হয়ে রাস্তায় বিক্ষোভ করছে গাদ্দাফিবিরোধী পক্ষ। সম্প্রতি মিসরে গণবিক্ষোভের পর হোসনি মুবারকের ক্ষমতা ছাড়ার ঘোষণায় লিবিয়ার বিক্ষোভকারীরাও উৎসাহিত হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তাদের একটি অংশ মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জিম্মি করছে বলে বিভিন্ন বার্তা সংস্থার খবরে জানা গেছে। গতকাল সোমবার সিএনএন, ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সিসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে লিবিয়ায় পরিচালিত একটি কোরীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১৫ বাংলাদেশি ও তিন কোরীয় শ্রমিকের আহত হওয়ার খবর প্রচার করে। আহত বাংলাদেশিদের মধ্যে দুজন ছুরিকাহত হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানায় সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ।
দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বাইক জু হাইয়ুনের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, গত রবিবার রাত ১১টার দিকে ত্রিপোলির পশ্চিমে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫০০ লিবীয় বিক্ষোভকারী ভাঙচুর করে চলে যায়। কয়েক ঘণ্টা পর তারা আবার ফিরে এলে প্রতিষ্ঠানটির শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। ওই প্রতিষ্ঠানে এক হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি ও প্রায় ৫০ জন কোরীয় নাগরিক কর্মরত।
বাংলাদেশের অনলাইন সংবাদ সংস্থা বিডিনিউজ গতকাল রাতে লিবিয়ায় শতাধিক বাংলাদেশিকে জিম্মি করার খবর প্রচার করে। তাদের মধ্যে ১৫ জন আহত হয়েছে বলে জানানো হয়। সংবাদ সংস্থাটি জানায়, লিবিয়ায় দমন-পীড়নের মুখে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা তিন শর বেশি বিদেশিকে জিম্মি করেছে, যার মধ্যে শতাধিক বাংলাদেশি রয়েছে। লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় শহর বেনগাজি থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার পূর্বে দারনা সিটিতে কয়েক দিন ধরে তারা আটক রয়েছে বলে একজন বাংলাদেশি জিম্মি জানিয়েছেন। জিম্মিরা ধারণা করছে, নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতেই বিদেশিদের আটক করা হয়েছে।
দারনা সিটিতে জিম্মিদের অন্যতম মানিকগঞ্জ জেলার শফিউদ্দিন বিশ্বাস গতকাল দুপুরে টেলিফোনে বিডিনিউজকে বলেন, 'গত শুক্রবার বিকেলে ৩০-৪০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি আমাদের ক্যাম্প অফিস থেকে জিম্মি করে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে একটি মসজিদে নিয়ে যায়। পরের দিন স্থান পরিবর্তন করে পাশের দুটি কমিউনিটি সেন্টারে আমাদের আনা হয়েছে।' আরেক জিম্মি ফরিদপুরের আবদুল আজিজ টেলিফোনে বলেন, 'আমাদের আটকে রাখা হয়েছে। প্রথম কয়েক দিন সারা দিন দুটি করে রুটি খেতে দেওয়া হয়েছে। সামান্য হলেও পানি দিয়েছিল। কিন্তু রবিবার থেকে পানি পাচ্ছি না। এখন পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় গতকাল দুপুর ১২টা) কোনো খাবার দেওয়া হয়নি। আমাদের কাছে সামান্য পানি আছে, সেটাই খাচ্ছি।'
আবদুল আজিজ আরো বলেন, 'আমাদের ফোন করতে দিচ্ছে না। তবে ফোন এলে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কথা বলতে দিচ্ছে। তারা এখনো কিছু দাবি করেনি। শুধু বলছে, গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে, এখন আমাদের শাসন চলবে।'
লিবিয়ায় বাংলাদেশিদের অবস্থা জানতে গতকাল বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে ৫টার দিকে কালের কণ্ঠ কার্যালয় থেকে টেলিফোনে ত্রিপোলিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দূতাবাস কর্তৃপক্ষ জানায়, লিবিয়ায় পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তিন দিন আগে তারা নিয়ন্ত্রণকক্ষ খুলেছে। ওই নিয়ন্ত্রণকক্ষে দায়িত্বরত প্রশাসনিক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, দিনরাত সব সময়ই বাংলাদেশিদের সঙ্গে দূতাবাসের যোগাযোগ হচ্ছে। জিম্মি করা বলতে যা বোঝায় সে ধরনের কোনো ঘটনার তথ্য দূতাবাসের জানা নেই। তবে কয়েকজন শ্রমিক অসুবিধার মধ্যে আছে। লিবিয়ায় আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে একশ্রেণীর সুবিধাবাদী লুটপাট চালাচ্ছে।
বাংলাদেশি শ্রমিকরা কী ধরনের অসুবিধার মধ্যে আছেন, জানতে চাইলে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশিরা কাজ করেন_এমন একটি প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভকারীরা হামলা চালিয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ পালিয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীদের হামলায় কোনো বাংলাদেশির মারাত্মক আহত হওয়ার খবর দূতাবাসের জানা নেই।
লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, শুধু বাংলাদেশি নয়, সেখানে ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড ও কোরিয়ার নাগরিকরাও হামলার শিকার হয়েছে। পরিস্থিতি এখন কারো নিয়ন্ত্রণে নেই। রাস্তায় খোলা তলোয়ার ও ছুরি নিয়ে নেমেছে বিক্ষোভকারীরা। সর্বত্র থমথমে পরিস্থিতি রয়েছে। দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। টেলিফোন যোগাযোগও সীমিত করা হয়েছে। এর পরও বাংলাদেশ দূতাবাস জরুরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলে বাংলাদেশিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
দূতাবাস সূত্র আরো জানায়, বিক্ষোভে উত্তাল বেনগাজিতে প্রায় ছয় হাজার এবং পুরো লিবিয়ায় প্রায় ৪০ হাজার বাংলাদেশি রয়েছে। তাদের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোয় বাংলাদেশিদের ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, জানতে চাইলে দূতাবাস সূত্র জানায়, পরিস্থিতি অনুযায়ী সব সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা চলছে। সূত্র আরো জানায়, বাংলাদেশ এখানে একা কিছু করবে না। লিবিয়ায় অন্য দেশগুলোর দূতাবাসগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে দেশটির অভিবাসনবিষয়ক আইনও। প্রয়োজনে সবাইকে জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারের চিন্তাভাবনাও করা হবে।
বাংলাদেশিদের উদ্ধার করে লিবিয়ায় তুলনামূলক নিরাপদ কোনো স্থানে রাখা হবে নাকি দেশে ফেরত পাঠানো হবে_এ প্রশ্ন করলে দূতাবাস সূত্র জানায়, বিষয়টি পরিস্থিতি এবং ওই বাংলাদেশিদের প্রত্যাশার ওপর নির্ভর করবে। লিবিয়ায় চলমান পরিস্থিতির কোনো প্রভাব বাংলাদেশ দূতাবাসের ওপর পড়েছে কি না_এ প্রশ্নে সূত্রটি জানায়, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস এলাকার পরিস্থিতি এখনো বেনগাজি বা অন্য এলাকাগুলোর মতো হয়নি। তবে পরিস্থিতি ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মধ্যে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।
গণবিক্ষোভের মুখে গত ১৪ জানুয়ারি তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট বেন আলীর পলায়ন এবং গত ১১ ফেব্রুয়ারি মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের ৩০ বছরের শাসনামলের অবসানের পর লিবিয়াসহ বিভিন্ন আরব দেশে রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিক্ষোভ চলছে। বর্তমানে বিক্ষোভে উত্তাল লিবিয়ায় প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফি চার দশক ধরে ক্ষমতাসীন। ১৯৬৯ সালে তরুণ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে লিবিয়ার রাষ্ট্রক্ষমতার দখল নেন গাদ্দাফি। তখন থেকেই দেশটি তাঁর শাসনে চলছে। করুণ পরিণতির আশঙ্কায় গাদ্দাফি দৃশ্যত মরণ কামড় দিয়ে এখন ক্ষমতা ধরে রাখতে চাইছেন। অন্যদিকে তাঁকে উৎখাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিক্ষোভকারীরা। ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক ও টুইটারে সংগঠিত হয়ে গত বৃহস্পতিবারকে 'ক্ষোভের দিন' নাম দিয়ে সরকার পতনের দাবিতে বিক্ষোভ করে কয়েক হাজার মানুষ। বিক্ষোভকারীদের ওপর গাদ্দাফির অনুগত বাহিনীর হামলা ও গুলিতে হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
ত্রিপোলির বাসিন্দারা এএফপিকে জানিয়েছে, রাজধানীর রাস্তায় রাস্তায় গতকাল সকালে তুমুল বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে। এরই মধ্যে চলছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ।
নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাত্র চার দিনে (১৭ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি) লিবিয়ায় অন্তত ২৩৩ জন নিহত হয়েছে। সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিভাগের পরিচালক সারাহ লিহ হুইটসন বলেছেন, লিবিয়ায় মানবিক বিপর্যয় ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। দেশটি (লিবিয়া) তথ্য আড়াল করার চেষ্টা করলেও বর্বর হত্যাকাণ্ড আড়াল করতে পারবে না।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, চীন ও ভারতে নিযুক্ত লিবিয়ার জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক এবং আরব লিগে নিযুক্ত লিবিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি গাদ্দাফি প্রশাসনের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন। বেইজিংয়ে লিবিয়া দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব হোসেইন সাদিক আল মুস্তারি পদত্যাগের পর গতকাল কাতারভিত্তিক আল জাজিরা টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অন্য কূটনীতিকদেরও পদত্যাগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, 'গাদ্দাফি হয়তো ইতিমধ্যে লিবিয়া ছেড়েছেন এবং তাঁর ছেলেদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ চলছে।' আরব লিগে নিযুক্ত লিবিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি আবদেল মোনেম আল-হোনি পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, বিদ্রোহে যোগ দিতেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গতকাল রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেন, বিক্ষোভের পেছনে বিদেশি ষড়যন্ত্র রয়েছে। সরকারের দেওয়া সংস্কার প্রস্তাব আগ্রাহ্য করা হলে রক্তের বন্যা বয়ে যাবে। এ পর্যন্ত মাত্র ৮৪ জন নিহত হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, 'সরকারের দেওয়া সংস্কার প্রস্তাবে রাজি না হলে আমরা কেবল ৮৪ জনের জন্য শোক পালন করব না। এ সংখ্যা হাজার ছাড়াবে। লিবিয়াজুড়ে রক্তের নদী বইবে।'
সংঘাত বন্ধের আহ্বান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের : ফ্রান্স, জার্মানি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ফিলিপাইন অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের জন্য লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন এক বিবৃতিতে উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলোর সরকারকে শক্তিপ্রয়োগ বন্ধ ও জনগণের মৌলিক চাহিদাগুলোর প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান।

ব্যাগবোকে মানবাধিকার লঙ্ঘন সম্পর্কে জাতিসংঘের হুঁশিয়ারি

Wednesday, January 19, 2011

ইভরি কোস্টে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা দখল করে থাকা ল্যঁরা ব্যাগবো ও অন্যান্য কর্মকর্তার মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতিসংঘের উর্ধতন এক কর্মকর্তা।

শুক্রবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার নাভি পিলাই জেনেভায় এক বিবৃতিতে বলেন, ব্যক্তিগতভাবে বাগবো ও অন্যান্য কর্মকর্তা মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন বলে চিঠি পাঠিয়ে তাদেরকে হুঁশিয়ার করা হয়েছে।

ওদিকে নতুন বছর উপলক্ষে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে ক্ষমতা না ছাড়ার প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করে ব্যাগবো বলেন, আইভোরিয়ানরা তাদের ভোটে আমাকে যে স্থান দিয়েছেন সেখানে আমি থাকবো। আমরা হার মানবো না।

গত ২৮ নভেম্বরের দ্বিতীয় দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আলাসানে ওয়াত্তারাকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করে জাতিসংঘ সমর্থিত নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন। কিন্তু সে ফল প্রত্যাখ্যান করে সাংবিধানিক পরিষদের সমর্থনে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ব্যাগবো।

ওয়াত্তারার কোছে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট ইকোওয়াস বার বার আহ্বান জানিয়ে আসলেও তা নাকচ করছেন ব্যাগবো।

আইভরি কোস্টে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর চলছে হত্যা, নির্যাতন, আটক ও দমন-পীড়ন। জাতিসংঘের তথ্যমতে, নির্বাচনের পর সহিংসতায় দেশটিতে এ পর্যন্ত প্রায় ২০০ জনের মৃতু্য হয়েছে। গৃহযুদ্ধের মুখে পড়ার ভয়ে দেশ ছেড়ে প্রতিবেশী লাইবেরিয়ায় পালিয়ে গেছে অসংখ্য মানুষ।

পিলাই বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের আওতায় তাদের কর্মকাণ্ডের ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য ব্যক্তিগতভাবে তারা দায়ী থাকবেন এবং বিচারের মুখোমুখি হবেন_এ বিষয়টি তাদের স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে। জাতিসংঘের এ হুঁশিয়ারি বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান ব্যাগবোর এক মুখপাত্র।
 
Support : Dhumketo ধূমকেতু | NewsCtg.Com | KUTUBDIA @ কুতুবদিয়া | eBlog
Copyright © 2013. News 2 Blog 24 - All Rights Reserved
Template Created by Nejam Kutubi Published by Darianagar Publications
Proudly powered by Dhumketo ধূমকেতু